Press "Enter" to skip to content

ওয়াহাবীদের সৃষ্ট সংশয়ের অপনোদন- ৫

মূল : আলী আসগার রেজওয়ানী

অনুবাদ : আবুল কাসেম

কবর জিয়ারত 

ইসলামী ইতিহাসের পরিক্রমায় মুসলমানগণ কবর জিয়ারতকে শুধু বৈধই মনে করেন নি;বরং আল্লাহর ওলীদের কবর জিয়ারতের উদ্দেশে সফরকে মুস্তাহাব জানেন এবং এ বিষয়ে তাদের মধ্যে ইজমা (শারয়ী ঐকমত রয়েছে। কিন্তু প্রথমবারের মতো এ বিষয়টিকে ইবনে তাইমিয়া নিষিদ্ধ ও অবৈধ ঘোষণা করেন এবং এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে হারাম বলে ফতোয়া দেন। তার পরবর্তীকালে তার শিষ্য ও চিন্তার প্রচারকগণ ফতোয়ার পক্ষাবলম্বন করেন এবং তা প্রতিষ্ঠার ব্রত নেন। মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাব ও তার অনুসারীরা কবর জিয়ারতকে হারাম বলে মনে করে এবং এ ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। যেহেতু এ বিষয়টির বিশেষ ধর্মীয় প্রভাব রয়েছে সেহেতু বিষয়টির বৈধতার বিষয়ে আমরা এখানে পর্যালোচনা করব।

কবর জিয়ারত সম্পর্কে ওয়াহাবীদের ফতোয়া

১। ইবনে তাইমিয়া বলেছেন,‘মহানবী (সা.) হতে বর্ণিত কবর জিয়ারত সম্পর্কিত সকল হাদীস শুধু জাইফই (দুর্বল) নয় বরং জাল ও বানোয়াট।’(মিনহাজুস সুন্নাহ,২য় খণ্ড,পৃ. ৪৪১)

আসকালানী ইবনে তাইমিয়া হতে বর্ণনা করেছেন যে,‘তিনি একচেটিয়াভাবে নবী ও ওলীদের কবর জিয়ারতকে হারাম বলে ঘোষণা করেছেন। এমনকি নবী ও ওলীদের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ও এজন্য প্রস্তুতি গ্রহণকেও নিষিদ্ধ বলেছেন।’(ইরশাদুস সারি,২য় খণ্ড,পৃ. ৩২৯)

ইবনে তাইমিয়া তাঁর ‘আত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ’ গ্রন্থে বলেছেন,‘কবর জিয়ারত সম্পর্কিত মহানবী (সা.) হতে বর্ণিত হাদীস দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য। এ কারণেই সিহাহ্ সিত্তাহ্  ও সুনান লেখকদের কেউই এই হাদীসগুলি বর্ণনা করেন নি। তাঁদের মধ্যে যারা জাইফ (দুর্বল) হাদীস বর্ণনায় অভ্যস্ত তাঁরাই কেবল এমন হাদীস বর্ণনা করেছেন যেমন দারে কুতনী,বাজ্জার ও অন্যান্যরা।’(আত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ,পৃ. ৭২)

তিনি অন্যত্র বলেছেন,‘কবর জিয়ারত সম্পর্কিত মহানবীর সকল হাদীস দুর্বলই শুধু নয় মিথ্যা ও বানোয়াটও বটে।’(আত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ,পৃ. ১৫৬)

২। আবদুল আজীজ ইবনে বিজবায বলেছেন,‘সকলের জন্য জিয়ারত বিশেষত মহানবী (সা.) ও তাঁর সঙ্গে শায়িত দুই সঙ্গীঁর (সাহাবী) কবর জিয়ারত করা মুস্তাহাব। কিন্তু জিয়ারতের নিয়ত করা এবং জিয়ারতের নিয়তে সফর ও সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা বৈধ নয়। কারণ মহানবী (সা.) বলেছেন,‘তোমরা কবর জিয়ারত কর,কারণ তা তোমাদের আখেরাতের (ও মৃত্যুর) কথা স্মরণ করিয়ে দেয়,কিন্তু জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা বৈধ নয়।’(মাজমুয়াতু ফাতওয়া লি বিন বায,২য় খণ্ড,পৃ. ৭৫৪-৭৫৫)

৩। ওয়াহাবীদের ফতোয়া ও ধর্মীয় বিধি-বিধান সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর প্রদানের জন্য গঠিত স্থায়ী কমিটি তাদের একটি ফতোয়ায় এভাবে বলেছেন,‘আল্লাহর নবিগণ ও সৎকর্মশীল বান্দাসহ অন্যান্য মুসলমানের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা বৈধ নয়। বরং তা বিদআত বলে পরিগণিত।’(আল লাজনাতুদ দায়িমাহ লিল বুহুসিল ইলমিয়া ওয়াল ইফতাহ,ফতোয়া নং ৪২৩)

উপরিউক্ত ফতোয়াসমূহ হতে বোঝা যায়,কবর জিয়ারতের বৈধতার বিষয়ে ওয়াহাবীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে। ওয়াহাবী চিন্তাধারার পথিকৃত ইবনে তাইমিয়া সম্পূর্ণরূপে কবর জিয়ারতকে নিষিদ্ধ বলেছেন। কিন্তু একই ধারার সাম্প্রতিক আলেমগণ কবর জিয়ারতকে ঐ ক্ষেত্রে অবৈধ ও বিদআত বলেছেন যখন কেউ তার বাসস্থান হতে কবর জিয়ারতের নিয়তে বের হবে। কিন্তু যদি কেউ হজ্জ্ব করতে যেয়ে মহানবীর কবরও জিয়ারত করে আসে তবে সেক্ষেত্রে কোন অসুবিধা নেই।

পবিত্র কোরআন ও কবর জিয়ারত

পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে বর্ণিত বিবরণ হতে আল্লাহর ওলীদের কবর জিয়ারত বৈধ ও মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করা যায়। আমরা এখানে এরূপ কয়েকটি আয়াতের প্রতি ইশারা করব।

১। মহান আল্লাহ মহানবীকে মুনাফিকদের কবরের নিকট দণ্ডায়মান হতে নিষেধ করে বলেছেন: وَ لا تقم علی قبره “আপনি তাদের (মুনাফিকদের) কবরের নিকট দণ্ডায়মান হবেন না।”

উপরিউক্ত আয়াতটিতে মুনাফিকদের ব্যক্তিত্ব ও মূল্যহীনতার দিকে লক্ষ্য করে তাদের মৃত্যুর পর দাফনের মুহূর্তে অথবা পরবর্তীকালে তাদের কবরের নিকট জিয়ারতের উদ্দেশ্যে দাঁড়াতে নিষেধ করা হয়েছে।

বাইদ্বাভী তাঁর ‘আনওয়ারুত্ তানযীল’(আনওয়ারুত তানযীল,১ম খণ্ড,পৃ. ৪১৬) গ্রন্থে এবং আলূসী তাঁর ‘রুহুল মায়ানী’ (রুহুল মায়ানী,১০ম খণ্ড,পৃ. ১৫৫) তাফসীরে উপরিউক্ত আয়াতের তাফসীরে বলেছেন তাদের কবরের নিকট দাঁড়ানোর অর্থ দাফনের সময় অথবা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে।

মুনাফিক ও কাফিরের কবরের নিকট জিয়ারতের উদ্দেশ্যে দাঁড়ানো নিষিদ্ধ হওয়া হতে বোঝা যায় মুমিন ও মুসলমানের কবরের নিকট দাঁড়ানো ও তাদের জিয়ারত করা বৈধ এবং এতে কোন অসুবিধা নেই।

২। মহান আল্লাহ আসহাবে কাহফের বিষয়ে ও তাঁদের প্রতি মানুষদের সম্মান প্রদর্শনের ধরণ কী হওয়া উচিত তা নিয়ে যে দ্বন্দ্ব হয়েছে তার উল্লেখ করে বলেছেন,

(إِذْ يَتَنَازَعُونَ بَيْنَهُمْ أَمْرَهُمْ فَقَالُوا ابْنُوا عَلَيْهِمْ بُنْيَانًا رَبُّهُمْ أَعْلَمُ بِهِمْ قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا عَلَى أَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ عَلَيْهِمْ مَسْجِدًا)

“যখন তারা নিজেদের মধ্যে তাদের (সম্মান প্রদর্শনের) বিষয়ে পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হল এবং তারা (একদল) বলেছিল: তাদের (কবরের) উপর সৌধ নির্মাণ করব। তাদের প্রতিপালক তাদের বিষয়ে অধিক অবগত। তাদের কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রবল হল তারা বলল: আমরা অবশ্যই তাদের উপর (কবরস্থানে) মসজিদ নির্মাণ করব।” (সূরা কাহ্ফ: ২১)

মুফাসসিরগণ বলেছেন,‘অনেকের মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব হতে বোঝা যায় তারা মুসলমান ও একত্ববাদী ছিল। তাদের মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাবও এ লক্ষ্যে ছিল যে,সবসময় যেন লোকজন সেখানে যায় এবং তাদের (আসহাবে কাহ্ফ)  মাজারও জিয়ারতের স্থানে পরিণত হয়।’

কবর যিয়ারত সম্পর্কিত হাদীসসমূহ

মহানবী (সা.) কবর জিয়ারতের কেবল নির্দেশই দান করেন নি,বরং তিনি নিজেও কবর জিয়ারতে যেতেন যাতে করে এ বিষয়টি জায়েয ও মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়টি ব্যবহারিক ক্ষেত্রেও প্রমাণিত হয়। আমরা তাই কবর জিয়ারতের বৈধতার বিষয়টি হাদীস এবং মহানবীর অনুসৃত কর্ম (সীরাত) উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই পর্যালোচনা করছি।

ক) হাদীসসমূহে কবর জিয়ারতের বৈধতার দলিল :  ইসলামী শরীয়তে কবর জিয়ারত বৈধ হওয়ার বিষয়টিতে তিনটি পর্যায় লক্ষণীয়।

প্রথম পর্যায় : এ পর্যায়ে পূর্ববর্তী শরিয়তের বৈধতার বিষয়টিই বহাল ছিল।

দ্বিতীয় পর্যায় : ইসলামের প্রাথমিক যুগে কোন কোন গোষ্ঠী বিশেষত আহলে কিতাবের অনুসারীদের শিরক বা অংশীবাদমিশ্রিত বিশ্বাস যা তারা তাদের মৃত ঐশী ব্যক্তিবর্গের বিষয়ে পোষণ করত (যেমন কবরের উপর সিজদা করা) রোধ করার লক্ষ্যে তৎকালীন সময়ের জন্য তা নিষিদ্ধ করা হয়।

তৃতীয় পর্যায় : এই পর্যায়ে পুনরায় কবর জিয়ারতকে বৈধ (জায়েয) করা হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন,‘আমি তোমাদের জন্য কবর জিয়ারতকে নিষিদ্ধ করেছি,কিন্তু এখন হতে তা তোমাদের জন্য বৈধ করা হল তবে  জিয়ারতের সময় এমন কথা বলো না যাতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।’(আল মোজামুল কাবির, তাবরানী, ১১তম খণ্ড, পৃ. ২০২, হাদীস নং ১১৬৫৩)

খ) মহানবী (সা.)-এর অনুসৃত কর্মপদ্ধতিতে কবর জিয়ারত:

১। বুরাইদা আসলামী মহানবী (সা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে,তিনি বলেছেন: ‘আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু আমাকে আমার মাতার কবর জিয়ারতের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তোমরা তোমাদের মৃতদের কবর জিয়ারত কর। কারণ তা তোমাদের আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।(সহীহ মুসলিম, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৬৬, হাদীস নং ১০৭, কিতাবুল জানায়িয)

২। হাকিম নিশাবুরী বুরাইদাহ হতে বর্ণনা করেছেন যে,মহানবী সহস্র ফেরেশতাসহ তাঁর মাতার কবর জিয়ারত করেন। সেদিনের ন্যায় এত অধিক ক্রন্দন করতে আমি তাঁকে কখনোই দেখি নি। (মুসতাদরাকে হাকিম,১ম খণ্ড,পৃ. ৫৩১,হাদীস নং ১৩৮৯)

আবু হুরাইরা বলেছেন,‘মহানবী (সা.) তাঁর মাতার কবর জিয়ারত করার সময় এতটা ক্রন্দন করেছিলেন যে,অন্যরা তাঁর কান্নায় প্রভাবিত হয়ে কাঁদতে শুরু করেছিল।’(মুসতাদরাকে হাকিম, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫৩১, হাদীস নং ১৩৯০)

৩। তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ্ বলেছেন,‘আমরা রাসুলের সাথে শহীদদের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মদীনা হতে বের হলাম। যখন আমরা ‘হাররে ওয়াকিম’ নামক স্থানে পৌঁছালাম কয়েকটি কবর লক্ষ্য করে তাঁকে বললাম : হে আল্লাহর নবী! এগুলো কি আমাদের মুসলিম ভ্রাতাদের কবর? তিনি বললেন : এ কবরগুলো আমার সাহাবীদের। যখন আমরা শহীদদের কবরের নিকট পৌঁছালাম তিনি বললেন : এ কবরগুলো আমাদের ভ্রাতৃবর্গের।’(সুনানে ইবনে দাউদ,২য় খণ্ড,পৃ..২১৮,হাদীস নং ৩৫৭,কিতাবুল মানাসিক,জিয়ারতে কবর অধ্যায়)

৪। মুসলিম হযরত আয়েশা হতে বর্ণনা করেছেন যে,মহানবী (সা.) শেষ রাত্রে জান্নাতুল বাকীর গোরস্তানে যেয়ে এভাবে সালাম করতেন ‘আস্ সালামু আলা দারে কাওমি মুমিনীন।’(সহীহ মুসলিম, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৬৩, হাদীস নং ১০২, কিতাবুল জানায়িয)

৫। ইবনে আবি শাইবাহ বলেছেন,‘মহানবী (সা.) প্রতি বছরের শুরুতে ওহুদের শহীদদের কবরের নিকটে গিয়ে এভাবে সালাম দিতেন,‘আসসালামু আলাইকুম বিমা সাবারতুম ফানি’ মা উকবাদ্দার।’(মুসতাদরাকে হাকিম, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫৩৩, হাদীস নং ১৩৯৬)

গ) পূর্ববর্তীগণের জীবন ও কর্মধারায় কবর জিয়ারত : সাহাবী, তাবেয়ী ও ইসলামী উম্মাহর আলেমগণের জীবন ও কর্মধারায় আমরা কবর জিয়ারতের প্রচলন লক্ষ্য করি। এখানে আমরা এরূপ ব্যক্তিবর্গের এরূপ কর্মের নমুনা পেশ করছি।

১। হযরত ফাতিমাতুয যাহরা (আ.) ও কবর জিয়ারত: হাকিম নিশাবুরী তাঁর নিজস্ব সনদ সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে,তিনি মহানবীর জীবদ্দশায় প্রতি শুক্রবার হযরত হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিবের (ওহুদের যুদ্ধে শহীদ রাসূলের চাচা) কবর জিয়ারতে যেতেন। সেখানে নামাজ পড়তেন এবং ক্রন্দন করতেন। (মুসতাদরাকে হাকিম,১ম খণ্ড,পৃ. ৫৩৩,হাদীস নং ১৩৯৬)

২। খলিফা উমর ইবনে খাত্তাব এবং কবর জিয়ারত : মুহিবুদ্দিন তাবারী বর্ণনা করেছেন যে,হযরত উমর কয়েকজন সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে হজ্জ্বে যাওয়ার সময় পথে একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি তার কাছে সাহায্য চাইল। তিনি হজ্জ্ব হতে ফেরার সময় ঐ স্থানে পৌঁছে উপরিউক্ত ব্যক্তির খোঁজ খবর জানতে চাইলেন। তাকে বলা হলো সে মৃত্যুবরণ করেছে। এ কথা শুনে তিনি দ্রুত তার কবরের নিকট যেয়ে নামাজ পড়লেন ও সেখানে বসে ক্রন্দন করলেন। (আর রিয়াদুন নাদ্বরাহ,২য় খণ্ড,পৃ. ৩৩০)

৩। হযরত আয়েশা ও কবর জিয়ারত : ইবনে আবি মালিকা বলেছেন : একদিন হযরত আয়েশা  কবরস্থানে প্রবেশ করলেন আমি তাঁকে প্রশ্ন করলাম : কেন কবরস্থানে প্রবেশ করছেন? তিনি বললেন : আমার ভাই আবদুর রহমানের কবর জিয়ারত করতে। আমি বললাম : মহানবী (সা.) কি কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেন নি? তিনি বললেন : তিনি নিষেধ করেছিলেন,কিন্তু পরে অনুমতি দিয়েছেন। (মুসতাদরাকে হাকিম, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫৩২, হাদীস নং ১৩৯২)

৪। হযরত আলী (আ.) ও কবর জিয়ারত : খাব্বাব ইবনে আরত প্রাথমিক মুসলমানদের একজন তিনি কুফায় বসবাসকালীন সময়ে গুরুতর অসুস্থতার কারণে হযরত আলীর সঙ্গে সিফ্ফিনের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেন নি। যখন ইমাম আলী (আ.) সিফ্ফিন হতে ফিরে এসে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ শুনলেন তখন তাঁর কবরের নিকট গিয়ে জিয়ারত করলেন। (উসদুল গাবাহ,২য় খণ্ড,পৃ. ১৪৩)

৫। মুহাম্মদ ইবনে হানাফীয়াহ ও কবর জিয়ারত: ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.) শাহাদাত বরণের পর মুহাম্মদ ইবনে হানাফীয়াহ তাঁর কবরের নিকট পৌঁছলে তাঁর কণ্ঠরোধ হয়ে আসল। কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হলে তিনি ইমাম হাসানের প্রশংসা করতে লাগলেন। (আকদুল ফারিদ,৩য় খণ্ড,পৃ. ১৩)

৬। আবু খাল্লাল ও কবর জিয়ারত : স্বীয়যুগে হাম্বলী ফিকাহর ইমাম আবু খাল্লাল বলেছেন,‘যখনই আমি কোন সমস্যায় পড়তাম হযরত মূসা ইবনে জাফরের (আ.) নিয়ত করতাম এবং তাঁর উসিলায় আল্লাহর নিকট চাইতাম। আল্লাহর ইচ্ছায় আমার সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।’ (তারিখুল বাগদাদ, ১ম খণ্ড, পৃ. ১২০)

৭। ইবনে খোজাইমা ও কবর জিয়ারত : আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুয়াম্মাল বলেছেন : আহলে হাদীসের ইমাম আবি বাকর ইবনে খোজাইমা,ইবনে আলী সাকতী ও স্বনামধন্য কয়েকজন আলেমের সঙ্গে হযরত আলী ইবনে মূসা আর রেজার কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। লক্ষ্য করলাম ইবনে খোজাইমা এমনভাবে আলী ইবনে মূসার কবরের প্রতি সম্মান ও বিনয় প্রদর্শন করলেন যে,আমরা হতভম্ব হলাম। (তাহজীবুত তাহজীব, ৭ম খণ্ড, পৃ. ৩৩৯)

আহলে সুন্নাতের আলেমদের ফতোয়া

১। ইবনে ইদ্রিস শাফেয়ী বলেছেন: ‘কবর জিয়ারতে কোন সমস্যা নেই। তবে জিয়ারতের মুহূর্তে এমন কিছু বলা যাবে না যাতে মহান আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।’ (মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার, শাফেয়ী, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২০৩, কবর জিয়ারত অধ্যায়)

২। হাকিম নিশাবুরী বলেছেন : ‘কবর জিয়ারত মুস্তাহাব সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।’ (মুসতাদরাকে হাকিম,৩য় খণ্ড,পৃ. ৩৭৭)

৩। শেখ মানুসর আলী নাসেফ বলেছেন : ‘আহলে সুন্নাতের আলেমদের দৃষ্টিতে কবর জিয়ারত করা মুস্তাহাব। (মুসতাদরাকে হাকিম,৩য় খণ্ড,পৃ. ৩৭৭)

৪। ইবনে হাজম,আবু হামিদ গাজ্জালী এবং আবদুর রহমান জায়িরী হতে বর্ণিত হয়েছে তাঁরা মৃত ব্যক্তির জিয়ারতকে মুস্তাহাব মনে করতেন। (আল মুহাল্লা,৫ম খণ্ড,পৃ. ১৬০,মাসআলা ৬০০; ইহইয়াউল উলুম, ৪র্থ খণ্ড, পৃ.  ৫২১; আল ফিকহ আলা মাযাহিবিল আরবায়া, ১ম খণ্ড, পৃ ৫৪০)

আল কোরআনের দৃষ্টিতে মহানবীর কবর জিয়ারত

মহানবীর কবর জিয়ারতের বৈধতার বিষয়টি প্রমাণকারী কয়েকটি আয়াত রয়েছে,যেমন :

( وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَحِيمًا)

“আর যদি তারা (মুনাফিকরা) নিজেদের উপর জুলুম করার পর তোমার (রাসূলের) নিকট আসত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত সেই সাথে রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন তবে তারা আল্লাহকে ক্ষমাকারী ও দয়াবান হিসেবে পেত।”( সূরা নিসা : ৬৪)  অবশ্য কোন কোন মুফাসসিরের মতে উপরিউক্ত আয়াত মহানবীর  জীবদ্দশার সাথে জড়িত অর্থাৎ যেসব ব্যক্তি নিজের উপর অন্যায় করার পর তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে অন্যায় (গুনাহ) স্বীকার করে তাঁকে তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানাত এবং তিনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন তখন আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দিতেন। কিন্তু এ বিষয়টি মহানবীর  মৃত্যুর পরও প্রমাণযোগ্য।

সাবকী তাঁর ‘শিফাউস সিকাম’ গ্রন্থে বলেছেন,‘যদিও আয়াতটি রাসূল (সা.)-এর জীবদ্দশার সাথে সম্পর্কিত তদুপরি মৃত্যুর সাথে সাথে তাঁর এ মর্যাদার পরিসমাপ্তি ঘটে নি। এ কারণে বলা যায় সকলের জন্যই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার এ পদ্ধতির সর্বজনীনতা রয়েছে,তাই আলেমগণ উপরিউক্ত আয়াত হতে সর্বজনীনতা বুঝে থাকেন এবং রাসূলের  কবরের নিকট উক্ত আয়াত পাঠ করা মুস্তাহাব। (শিফাউস সিকাম,পৃ. ৮১-৮২)

সাবকীর বক্তব্যে সর্বজনীনতার যে কারণটি উল্লেখ করা হয়েছে তার ব্যাখ্যায় বলতে চাই গুনাহকারী ব্যক্তিকে রাসূলের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শটি তাঁর শাফায়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং নিঃসন্দেহে তাঁর মৃত্যুর পরও গুনাহকারীদের জন্য এরূপ মাধ্যমের (স্বয়ং নবী অথবা আল্লাহর কোন ওলীর শাফায়াতের) প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর কবর জিয়ারতে যাওয়া ও তাঁর মধ্যস্থতায় আল্লাহর নিকট চাওয়ায় কোন সমস্যা নেই।

সুফিয়ান ইবনে আম্বার উতবা হতে (যাঁরা উভয়েই ইমাম শাফেয়ীর হাদীসের শিক্ষক) বর্ণনা করেছেন : আমি মহানবীর কবরের নিকট বসেছিলাম এ সময় একজন বেদুইন আরব রাসূল (সা.)-এর কবরের নিকট এসে বলল : হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উপর আমার সালাম। অতঃপর সূরা নিসার উপরিউক্ত আয়াতটি পাঠ করে বলল : হে নবী! আমি আপনার নিকট এসে আমার গুনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আল্লাহর নিকট আপনাকে শাফি (মধ্যস্থতা ও সুপারিশকারী) হিসেবে পেশ করছি। এ কথা বলে সে ক্রন্দন করতে লাগল এবং রাসূলের শানে কবিতা আবৃত্তি করল। (ওয়াফা উল ওয়াফা,সামহুদী,৪র্থ খণ্ড,পৃ. ১৩৬১)

সামআনী একই রকম ঘটনা হযরত আলী হতে বর্ণনা করেছেন। (ওয়াফা উল ওয়াফা,সামহুদী, ২য় খণ্ড,পৃ. ৬১২)  তিনি বলেছেন,‘যদি এই কর্ম সঠিক ও বৈধ না হতো তবে সাহাবিগণ,বিশেষত হযরত আলী (আ.) ঐ স্থানে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন নিষেধ করলেন না?

হাদীসের দৃষ্টিতে মহানবী (সা.)-এর কবর জিয়ারত

আহলে সুন্নাতের হাদীস গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সহীহ্ হাদীস পাওয়া যায় যা রাসূলের কবর জিয়ারত মুস্তাহাব হওয়াকে প্রমাণ করে। এখানে এরূপ কয়েকটি হাদীসের উল্লেখ করছি।

১। দারে কুতনী সহীহ্ সূত্রে আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর হতে বর্ণনা করেছেন যে,মহানবী (সা.) বলেছেন,‘যে কেউ আমার কবর জিয়ারত করবে তার জন্য শাফায়াত (সুপারিশ) করা আমার জন্য আবশ্যক হবে।’(সুনানে দারে কুতনী, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৭৮; সুনানুল কুবরা, বায়হাকী, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৪৫)

২। দারে কুতনী সহীহ্ সূত্রে রাসূল (সা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে,তিনি বলেছেন,‘যে কেউ হজ্জ্ব করার পর আমার কবর জিয়ারত করতে আসবে সে যেন আমার জীবদ্দশায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করল। (সুনানে দারে কুতনী, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৭৮, হাদীস নং ১৯২)

৩। বায়হাকী সহীহ্ সূত্রে আনাস ইবনে মালিক হতে বর্ণনা করেছেন,মহানবী (সা.) বলেছেন,‘যে কেউ দুই হারামে (মক্কা ও মদীনায়) মৃত্যুবরণ করবে সে নিরাপত্তা লাভকারীদের (আল্লাহর আজাব হতে) অন্তর্ভুক্ত হিসেবে কিয়ামত দিবসে পুনরুত্থিত হবে এবং যে কেউ আমাকে ইখলাসের সাথে (নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর উদ্দেশ্যে) জিয়ারত করবে,সে কিয়ামতের দিন আমার সাথে থাকবে।’(আত তাজুল জামে লিল উছুল, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৯০)

৪। ইবনে আদী আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে,মহানবী (সা.) বলেছেন,‘যে কেহ আল্লাহর ঘর (কাবা) জিয়ারত করল ও হজ্জ্ব সম্পাদন করল,কিন্তু আমার কবর জিয়ারত করল না,সে আমার প্রতি অবিচার করল (অর্থাৎ আমার প্রতি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করল না।’(ওয়াফা উল ওয়াফা, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৩৪২)

৫। আনাস ইবনে মালিক মহানবী (সা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে,তিনি বলেছেন,‘যে কেউ আমার মৃত্যুর পর আমাকে জিয়ারত করল সে যেন আমার জীবদ্দশায় আমাকে জিয়ারত করল। যে কেউ আমার কবর জিয়ারত করল তার শাফায়াত (সুপারিশ) করা আমার জন্য কিয়ামতের দিন অপরিহার্য হয়ে পড়বে এবং কোন স্বচ্ছল ব্যক্তি ও সুস্থ ব্যক্তি আমার কবর জিয়ারত হতে বিরত থাকলে তার জন্য কিয়ামতে কোন ওজরই গৃহীত হবে না। (শিফাউস সিকাম,পৃ. ৩৭)

সাহাবীদের জীবন ও কর্মে রাসূল (সা.)-এর কবর জিয়ারত

আমরা সাহাবী,তাবেয়ী ও ইসলামের প্রথম সারির অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের কর্মধারায় মহানবীর কবর জিয়ারতের রীতি লক্ষ্য করি। এরূপ কয়েকটি নমুনা এখানে উপস্থাপন করছি।

১। হযরত ফাতিমাতুজ যাহরা (আ.) : হযরত আলী (আ.) বলেছেন : মহানবীর দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর ফাতিমা জাহরা (আ.) তাঁর পিতার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এক মুঠো কবরের মাটি নিয়ে নিজ চোখে স্পর্শ করলেন এবং ক্রন্দনরত অবস্থায় নিম্নোক্ত কবিতাটি আবৃত্তি করলেন (সীরাতে জাইনী দাহলান,২য় খণ্ড,পৃ. ৩১০। ইরশাদুস সারী,৩য় খণ্ড,পৃ. ৩৫২)

ماذا علی من شمّ تربة احمد

ان لا يشمّ علی الزمان غوالیا

صبت علیَّ مصائب لو أنها

صبَّت علی الایام عدن لیالیا

২। হযরত বেলাল (রা.) : হযরত বেলাল রাসূল (সা.)-এর ইন্তেকালের পর সিরিয়ায় হিজরত করেন। একরাত্রে তিনি মহানবী (সা.)-কে স্বপ্নে দেখলেন যে,তিনি তাঁকে বলছেন,‘হে বেলাল! আমার প্রতি দায়িত্বের ক্ষেত্রে এটি তোমার কিরূপ অবহেলা? তোমার কি আমাকে জিয়ারতের সময় আসে নি? হযরত বেলাল অস্থির হয়ে ঘুম থেকে জাগলেন ও দ্রুত প্রস্তুত হয়ে বাহনে আরোহণ করে মদীনার দিকে যাত্রা করলেন। মদীনায় পৌঁছেই তিনি রাসূলের কবরের নিকট গিয়ে ক্রন্দন করতে লাগলেন ও নিজের গণ্ডদেশ কবরের উপর রাখলেন। (উসদুল গাবাহ,১ম খণ্ড,পৃ. ২৮৯;মুখতাছারু তারিখে দামেস্ক,৪র্থ খণ্ড,পৃ. ১১৮)

৩। আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর : সামহুদী বর্ণনা করেছেন,‘আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর যখনই কোন সফর হতে ফিরতেন রাসূলের কবরের নিকট গিয়ে সালাম দিতেন। (ওয়াফাউল ওয়াফা,৪র্থ খণ্ড,পৃ. ১৩৪০)

৪। হযরত আবু আইয়ুব আনসারী : হাকিম নিশাবুরী বর্ণনা করেছেন,‘একদিন মারওয়ান ইবনে হাকাম মহানবীর কবরের নিকট গিয়ে দেখল এক ব্যক্তি রাসূলের কবরের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে রয়েছে (ও ক্রন্দন করছে)। মারওয়ান ঐ ব্যক্তির ঘাড় ধরে উঠিয়ে বলল,‘জান তুমি কি করছ?’ কিন্তু পরক্ষণেই তাকিয়ে দেখল তিনি রাসূলের প্রসিদ্ধ সাহাবী আবু আইয়ুব আনসারী। আবু আইয়ুব আনসারী তার দিকে তাকিয়ে বললেন,‘আমি কোন পাথরের নিকট আসি নি,আমি আল্লাহর রাসূলের নিকট এসেছি। (মুস্তাদরাকে হাকিম,৪র্থ খণ্ড,পৃ. ৫৬০,হাদীস নং ৮৫৭১)

আহলে বাইতের পবিত্র ইমামগণের কবর জিয়ারত মুস্তাহাব হওয়ার দলিল

রাসূলের পবিত্র আহলে বাইতের ইমামগণ তাঁদের অনুসারীদের তাঁদের কবরসমূহ জিয়ারত করতে বলেছেন। এরূপ কয়েকটি হাদীস এখানে উল্লেখ করছি।

১। শেখ তূসী ইমাম আলী ইবনে মূসা (আ.) হতে বর্ণনা করেছেন যে,তিনি বলেছেন,‘প্রত্যেক ইমামেরই তাঁর অনুসারীদের উপর অধিকার ও প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এই প্রতিশ্রুতি তাঁদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে পূর্ণরূপে পালিত হয়। (তাহজীবুল আহকাম, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৭৮-৭৯, হাদীস নং ৩)

২। মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম ইমাম বাকির (আ.) হতে বর্ণনা করেছেন যে,তিনি বলেছেন,‘আমাদের অনুসারীদের ইমাম হুসাইন ইবনে আলীর কবর জিয়ারতের উপদেশ দিচ্ছি। কারণ প্রতিটি মুমিনের জন্য ইমাম হুসাইনের ইমামতের সাক্ষ্য প্রদান ও তাঁর স্বীকারোক্তি মহান আল্লাহর পক্ষ হতে ওয়াজিব করা হয়েছে।’ (বিহারুল আনওয়ার, ৯৮তম খণ্ড, পৃ. ৩; আমালী, শেখ সাদুক, পৃ. ১১৬)

৩। আলী ইবনে মাইমুন বলেছেন,‘ইমাম সাদিক (আ.) হতে শুনেছি,‘যদি তোমাদের মধ্য হতে কোন ব্যক্তি এক হাজার বার হজ্জ্ব পালন করে,কিন্তু ইমাম হুসাইনের কবর জিয়ারত না করে,আল্লাহর অধিকারসমূহের একটি অধিকারকে পালন করে নি (অর্থাৎ ত্যাগ করেছ)।’এরূপ কেন হবে সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন,‘প্রতিটি মুসলমানের উপর ইমাম হুসাইনের অধিকার রয়েছে।’ (বিহারুল আনওয়ার, ৯৮তম খণ্ড, পৃ. ৫)