Press "Enter" to skip to content

৬২৪ সাল ও বদরের যুদ্ধ

৬২৪ সালের ১৩ মার্চ মঙ্গলবার দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজান মদিনা থেকে ৮০ মাইল দূরে আরবের হেজাজ অঞ্চলে বদর যুদ্ধ (غزوة بدر) সংঘটিত হয়। যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর কমান্ডার—ইন—চিফ ছিলেন স্বয়ং আল­াহর রসূল (সা.)। সার্বিক নেতৃত্বের জন্য মোসায়েব ইবনে উমায়েরের হাতে সাদা পতাকা অর্পণ করা হয়। হযরত হামজা বিন আবদুল মোত্তালিব (রা.) ও আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) বহন করছিলেন কালো পতাকা। মুসলিম বাহিনীর ডান ও বাম পার্শ্বদেশের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যথাক্রমে জোবায়ের ইবনে আওয়াম ও মিকদাদ ইবনে আমর এবং পশ্চাদ্ভাগের দায়িত্ব পালন করেন কায়েস ইবনে আবি। আবু জেহেল ছিল (আমর ইবনে হিশাম) কোরায়েশ কমান্ডার এবং উৎবা ইবনে রাবিয়া ও উমাইয়া ইবনে খালাফ ছিল তার সহযোগী। মুসলিম সৈন্য সংখ্যা ছিল ৩১৩—৩৫০ জন। তাদের মধ্যে মোহাজির ৮২, আউস গোত্রের ৬১ এবং খাজরাজ গোত্রের ১৭০ জন। শত্র“ কোরায়েশ সৈন্য ছিল সাড়ে ৯ শো থেকে এক হাজার। মুসলমানদের ঘোড়া ছিল দুটি। অন্যদিকে কোরায়েশদের একশো। মুসলমানদের উট ছিল ৭০টি এবং কোরায়েশদের ১৭০টি। যুদ্ধে ১৪ জন মুসলিম মুজাহিদ শহীদ হন।
অন্যদিকে কোরায়েশ পক্ষে নিহত হয় ৭০ জন এবং বন্দি হয় ৭০ জন। মদিনার অদূরে একটি কূপের নাম ছিল বদর। সেখানে একটি গ্রামও ছিল। সেই সূত্রে এ কূপের আশপাশের জায়গাকে বলা হতো বদর প্রান্তর।
বদর প্রান্তরে মিথ্যার সঙ্গে সত্যের সংঘর্ষ হয় এবং সংঘর্ষে সত্য বিজয়ী হয়। বদর ছিল কাফেরদের সঙ্গে মুসলমানদের প্রথম যুদ্ধ। এ যুদ্ধ ছিল মক্কার কোরায়েশ প্রতিপক্ষদের সঙ্গে আল­াহর রসূলের (সা.) সংঘাতের একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। ইসলামের ইতিহাসে এ যুদ্ধকে আল­াহর সহায়তায় একটি বিজয় হিসেবে উলে­খ করা হয়। পবিত্র কোরআনে যে কটি যুদ্ধের কথা উলে­খ করা হয়েছে বদর তাদের অন্যতম। ৬২৩ থেকে ৬২৪ সালের মধ্যে মক্কার কোরায়েশ ও মদিনার আনসারদের মধ্যে বেশকিছু খণ্ডযুদ্ধ হয়। বদর যুদ্ধে সুশৃঙ্খল মুসলিম বাহিনী আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নেয় এবং কাফেরদের ব্যূহ ভেঙ্গে ফেলতে সক্ষম হয়। যুদ্ধে মুসলমানদের প্রধান প্রতিপক্ষ আবু জেহেল নিহত হয়। নেতা হিসেবে আল­াহর রসূলের (সা.) অবস্থান দৃঢ় হয় এবং আরব উপদ্বীপে মুসলমানরা একটি শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। এ যুদ্ধের বিজয় মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। যুদ্ধে পরাজিত হলে দুনিয়া থেকে ইসলাম মুছে যেতো। ইসলাম প্রচার শুরু করলে আল­াহর রসূল (সা.) কোরায়েশদের বিরোধিতার মুখোমুখি হন। মক্কা ছিল তখন আরব উপদ্বীপে অন্যতম ধনী ও সমৃদ্ধ নগরী। কোরায়েশরা মুসলমানদের চেয়ে তিনগুণ বেশি সৈন্য নিয়োগ করে। বদর যুদ্ধ হযরত আলী ইবনে আবি তালিবকে (রা.) মুসলমানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তিনি একা মক্কার ২২ জন কোরায়েশ সৈন্যকে হত্যা করেন। বাদবাকি মুসলিম সৈন্যরা হত্যা করে ৫৮ জন কাফের।
পটভূমিঃ
৫৭০ সালে কোরায়েশ বংশে বিশ্বনবী (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। ৬১০ সালে বিশ্বনবী (সা.) হেরা পর্বতের গুহায় ওহী লাভ করার পর কোরায়েশদের মধ্যে তৌহিদের বাণী প্রচার করা নাগাদ মুসলমানরা গোপনে ধর্মকর্ম পালন করতো। কোরায়েশরা ইসলাম প্রচারের প্রথম ১৩ বছরে মুসলমানের প্রতি অসহিষ্ণু আচরণ করে এবং তাদের প্রতি নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। মক্কায় বার্ষিক হজ্জের ওপর একান্তভাবে নির্ভরশীল কোরায়েশরা তাদের নিজেদের ধর্ম এবং অর্থনৈতিক সুুবিধা রক্ষায় ৬২২ সালে নবীর (সা.) অনুসারীদের ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে এবং ধর্ম পালনে বাধা দিতে শুরু করে। আল­াহর রসূল (সা.) তার বহু অনুসারীকে মক্কা থেকে ৩২০ কিলোমিটার দূরে প্রতিবেশি মদিনায় হিযরত করার নির্দেশ দেন। অল্প কিছুদিন পর তিনি নিজেও মদিনায় হিযরত করেন। এ ঘটনা ইতিহাসে হিযরত নামে পরিচিত। হিযরতের পরপর কোরআনে প্রথমবার মুসলমানদের অস্ত্রধারণের অনুমতি দেয়া হয়। মদিনায় এসে নবী (সা.) মক্কার বিরুদ্ধে তিনটি ব্যাপক সামরিক কৌশল গ্রহণ করেন। প্রথমত. তিনি মদিনার আশপাশের গোত্রগুলোর সঙ্গে শান্তিচুক্তি সম্পাদন করেন। দ্বিতীয়ত. কোরায়েশ ও তাদের মিত্রদের তথ্য সংগ্রহে গুপ্তচর নিয়োগ করেন। তৃতীয়ত. মদিনার পাশ দিয়ে সিরিয়াগামী বাণিজ্য কাফেলায় অভিযান চালানোর এবং তাদের বাণিজ্যিক রুট ব্যাহত করার নির্দেশ দেন।
৬২৩ সালের নভেম্বর বা ডিসেম্বরে বিশ্বনবী (সা.) সিরিয়া অভিমুখী মক্কার একটি বিরাট কাফেলার বিরুদ্ধে অভিযানে ২০০ সৈন্যের একটি বাহিনীর নেতৃত্ব দেন। এ কাফেলায় কোরায়েশদের অনেক মূল্যবান সম্পদ ছিল। মুসলিম বাহিনীতে উট ছিল ৩০টি। নবী (সা.) এ বাহিনী নিয়ে জুল উশাইরা পর্যন্ত অগ্রসর হন। কিন্তু মুসলিম বাহিনী পেঁৗছানোর কয়েকদিন আগে কোরায়েশরা সে পথ অতিক্রম করে চলে যায়। এ অভিযান গাজওয়ায়ে উশাইরা নামে পরিচিত। শিগগির কারজ বিন জাবিরের নেতৃত্বে মক্কাবাসীরা মদিনার বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালায় এবং মুসলমানদের গবাদি পশু নিয়ে পালিয়ে যায়।
৬২৪ সালের জানুয়ারিতে নবী (সা.) কোরায়েশদের সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে আবদুল্লাহ বিন জাহাশের নেতৃত্বে ১২ জন মোহাজিরের একটি গ্রুপ পাঠান। আবদুল­াহ বিন জাহাশ ও তার দল ন্যাড়া মাথায় হজ্জযাত্রীর ছদ্মবেশে রওনা দেন। নবী (সা.) আবদুল্লাহ বিন জাহাশের হাতে একটি চিঠি দিয়ে বলেছিলেন, দুদিনের পথ অতিক্রান্ত হওয়ার আগে তিনি যেন এ চিঠি পাঠ না করেন। নির্দেশ অনুযায়ী আবদুল­াহ বিন জাহাশ দুদিনের পথ অতিক্রান্ত হওয়ার পর চিঠি পাঠ করেন। চিঠিতে নবী (সা.) তাকে মক্কা ও তায়েফের মধ্যবতীর্ নাখলায় অবস্থান নিতে বলেন। এখানে অবস্থান নিয়ে কোরায়েশদের গতিবিধি সম্পর্কে তাকে মদিনায় রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। চিঠি পাঠ করে আবদুল­াহ বিন জাহাশ অগ্রসর হন। তবে পথে উট হারিয়ে যাওয়ায় সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস ও উৎবা ইবনে গাজওয়ান পেছনে পড়ে যান। আবদুল­াহ বিন জাহাশ নাখলা পেঁৗছে একটি কোরায়েশ কাফেলা দেখতে পান। কাফেলায় আবদুল­াহ ইবনে মুগিরার দুই ছেলে উসমান ইবনে আবদুল­াহ ও নৌফেল ইবনে আবদুল­াহ, মুগিরার মুক্ত দাস আমর ইবনে হাদ্রামি ও হাকিম ইবনে কায়সান ছিলেন। দিনটি ছিল রজব মাসের শেষ দিন। রজব মাসে আরব দেশে যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ থাকায় আবদুল­াহ বিন জাহাশ দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান। তিনি দেখতে পান যে, এ কাফেলা মক্কার হারাম শরীফে প্রবেশ করলে তাদের ওপর আক্রমণ চালানো যাবে না। এমন এক নাজুক পরিস্থিতিতে তিনি তাদের ওপর আক্রমণ চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। তীরের আঘাতে আমর ইবনে হাদ্রামি নিহত এবং উসমান ইবনে আবদুল­াহ ও হাকিম ইবনে কায়সান বন্দি হন। অন্যদিকে নৌফেল ইবনে আবদুল­াহ পালিয়ে যান। রজব মাসে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করে। আরব দেশে রজব মাসে যুদ্ধ বিগ্রহ ও হত্যাকাণ্ড নিষিদ্ধ ছিল এবং এ সময় রক্তপাত ছিল আরব ঐতিহ্যের পরিপন্থী। আবদুল­াহ বিন জাহাশের দল মদিনা ফিরে গেলে প্রাথমিকভাবে নবী (সা.) তাদের সিদ্ধান্ত অনুমোদনে অস্বীকৃতি জানান, তাদেরকে ভর্ৎসনা করেন এবং কোরআনের ২:২১৭ নম্বর আয়াত নাজেল হওয়া নাগাদ গণিমতের মালামাল গ্রহণে বিরত থাকেন। নবী (সা.) বলেন, আমি তোমাদেরকে নিষিদ্ধ মাসে যুদ্ধ করার অনুমতি দেইনি। তিনি কাফেলা থেকে অর্জিত সম্পদ ও বন্দিদের গ্রহণে অসম্মতি প্রকাশ করেন। রজব মাসে আক্রমণ করায় কোরায়েশরা মুসলমানদের কটুক্তি করতে শুরু করে। এ সময় অবতীর্ণ কোরআনের আয়াতে বলা হয়, পবিত্র মাস লংঘন করার চেয়ে মক্কার লোকদের অত্যাচার আরো বেশি নিকৃষ্ট। এ আয়াত নাজেল হওয়ার পর আল্লাহর রসূল (সা.) কাফেলা ও বন্দিদের গ্রহণ করেন।
উসমান ইবনে আবদুল­াহ ও হাকিম ইবনে কায়সানের মুক্তি দাবি করে কোরায়েশরা বাতার্ পাঠায়। তাদের মুক্তির বিনিময়ে পণ্য প্রদানের প্রতিশ্রম্নতি দেয়া হয়। কিন্তু সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস ও উৎবা ইবনে গাজওয়ান তখনো ছিলেন নিখেোজ। কোরায়েশদের হাতে তাদের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকায় আল্লাহর রসূল (সা.) তাদের প্রস্তাবে সম্মত হননি। এক সময় তারা ফিরে আসেন এবং আল্লাহর নবী পণ্যের বিনিময়ে উসমান ও হাকিমকে মুক্তি দেন। বন্দিদের মধ্যে হাকিম ইবনে কায়সান ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মদিনায় থেকে যান। ইতিপূর্বে গাজওয়ায়ে উশাইরা থেকে রক্ষা পাওয়া কোরায়েশ কাফেলা সিরিয়া থেকে মক্কা ফেরার পথে আল্লাহর রসূল (সা.) তাদের তথ্য সংগ্রহে তালহা ইবনে ওবায়দিল্লা ও সাঈদ ইবনে জাইদকে উত্তরে পাঠান। তারা হাওয়া নামে একটি জায়গায় গিয়ে কোরায়েশ কাফেলার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। কাফেলা এ স্থান অতিক্রম করার সময় তারা মদিনায় ফিরে ঘটনা অবহিত করেন। এ কোরায়েশ কাফেলায় এক হাজার উট এবং ৫০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা মূল্যের মালামাল ছিল। কাফেলায় রক্ষী ছিল ৪০ জন। এ কাফেলার ওপর আক্রমণ চালানোর নির্দেশ দিয়ে বিশ্বনবী (সা.) বদরের উদ্দেশে রওনা হন। নাখলায় মক্কার কাফেলার ওপর মুসলমানদের হামলা বদর যুদ্ধে প্ররোচনা দেয়।
বদর অভিমুখে অগ্রযাত্রাঃ
৬২৪ সালের এপ্রিলে মদিনায় খবর পেঁৗছে যে, আবু সুফিয়ান মুসলমানদের বিরুদ্ধে মক্কা থেকে অস্ত্রশস্ত্রসহ সিরিয়ায় একটি কাফেলার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নবী (সা.) ১৭ রমজান ৩১৩ জন মুজাহিদ সমবেত করেন এবং আবু সুফিয়ানের কাফেলাকে ধাওয়া করার জন্য বদরের উদ্দেশে রওনা হন। মদিনা থেকে ৪০ মাইল দূরে রাওহা নামে একটি জায়গায় পেঁৗছে তিনি তাঁবু ফেলেন। মক্কার গুপ্তচররা আবু সুফিয়ানকে মুসলমানদের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করে। এ খবর পেয়ে আবু সুফিয়ান এ রাস্তা বাদ দেন এবং সমুদ্রের উপকূল ধরে কাফেলা নিয়ে এগিয়ে চলেন এবং সহায়তা চেয়ে মক্কায় বাতার্বাহক পাঠান। আবু জেহেল আবু সুফিয়ানের অনুরোধের জবাব দেন এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি বাহিনী সমবেত করেন। সবাই বদর প্রান্তরে পেঁৗছে জানতে পারেন যে, আবু সুফিয়ান তার বাণিজ্য কাফেলা নিয়ে অন্য পথে চলে গেছেন এবং কোরায়েশদের একটি বড় সৈন্যদল মাঠের অন্য প্রান্তে এসে তাঁবু খাটিয়েছে। বাণিজ্য কাফেলা নিরাপদে মদিনা অতিক্রম করার পরও আবু জেহেল যুদ্ধ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়নি। নবীর (সা.) বাহিনীতে ছিলেন হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.), হযরত আলী (রা.), হযরত হামজা (রা.), মোসাইব ইবনে ওমায়ের (রা.), জুবায়ের বিন আওয়াম (রা.), আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.) ও আবুজর গিফারি (রা.)। হযরত হামজা (রা.) মাথায় উটপাখির পালক ব্যবহার করায় তিনি ছিলেন অতি মাত্রায় দৃশ্যমান। তিনি হযরত জায়েদ ইবনে হারিছের (রা.) সঙ্গে একই উটে আরোহণ করেন। মুসলমানরা ৭০টি উট ও দুটি ঘোড়া নিয়ে আসে। তার মানে ছিল তাদেরকে হয়তো হাঁটতে হবে নয়তো প্রতিটি উটে তিন থেকে চারজন আরোহণ করতে হবে। ভবিষ্যৎ খলিফা উসমান (রা.) তার অসুস্থ স্ত্রী রোকেয়ার যত্ন নেয়ার জন্য পেছনে অবস্থান করেন। ক্রীতদাস হিসেবে মুক্তি না পাওয়ায় হযরত সালমান ফারসি (রা.) কাফেলায় যোগদান করতে পারেননি।
কোরায়েশ কাফেলাঃ
আক্রমণের আশঙ্কায় কোরায়েশ কাফেলার নেতা আবু সুফিয়ান যাত্রাপথে বিভিন্ন কাফেলার কাছ থেকে মুসলিম বাহিনীর সম্ভাব্য অভিযানের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করেন। এভাবে তিনি মুসলমানদের অভিযানের কথা জানতে পারেন। তাই সাহায্য চেয়ে তিনি বার্তাবাহক হিসেবে জমজম ইবনে আমির গিফারিকে মক্কায় পাঠান। আমির গিফারি দ্রুত মক্কা পেঁৗছান এবং প্রচলিত আরব রীতি অনুযায়ী উটের নাক চাপড়ান, আসন উল্টে দেন, গায়ের জামা ছিঁড়ে ফেলেন এবং উটে বসে ঘোষণা করেন, মুসলমানরা মক্কার কাফেলায় আক্রমণ চালাতে পারে। তিনি তার ঘোষণায় বলেন, কোরায়েশ কাফেলা আক্রান্ত। আবু সুফিয়ানের সঙ্গে তোমাদের সম্পদ রয়েছে। তার ওপর আক্রমণ চালানোর জন্য মোহাম্মদ ও তার সঙ্গীরা এগিয়ে আসছে।
মক্কার বাহিনীঃ
জমজম ইবনে আমির গিফারির এ ঘোষণায় মক্কায় ব্যাপক আলোড়ন ওঠে। দ্রুত ১৩০০ সৈন্যের একটি বাহিনী গঠন করা হয়। ৯ জন সম্ভ্রান্ত কোরায়েশ এ বাহিনীর রসদ যোগানোর দায়িত্ব নেন। আমর ইবনে হিশাম (আবু জেহেল), ওয়ালিদ ইবনে উৎবা, শাইবা ও উমাইয়া ইবনে খালাফসহ বহু কোরায়েশ অভিজাত মক্কার সৈন্যবাহিনীতে যোগদান করেন। আবু জেহেল এ বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যুদ্ধে যোগদানে তাদের কারণ ছিল ভিন্ন ভিন্ন। কেউ যোগদান করেন কাফেলায় তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায়। অন্যরা নাখলায় নিহত ইবনে আল—হাদ্রামির হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ করতে চাইছিলেন। আবার কেউ কেউ যোগদান করেন মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহজে জয়লাভের আশায়। মক্কার বাহিনীতে অসংখ্য উট, ১০০ ঘোড়া ও ৬০০ লৌহবর্ম ছিল। এ বাহিনীর জন্য প্রতিদিন ৯/১০টি করে উট জবাই করা হতো। আবু লাহাব নিজে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তবে তিনি তার কাছে ঋণগ্রস্ত আসি ইবনে হিশাম ইবনে মুগিরাকে পাঠান। উমাইয়া ইবনে খালাফ প্রথমে যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এতে উকবা ইবনে আবু মুসাইত তাকে নারী হিসেবে লজ্জা দেন। লজ্জা পেয়ে তিনি যুদ্ধে যোগ দেন। তবে কোরায়েশদের মধ্যে বানু আদি গোত্রের কেউ এ যুদ্ধে যোগ দেয়নি। অন্যদিকে আবু সুফিয়ান ক্রমাগত খবরাখবর সংগ্রহ করছিলেন। বদরের কাছে পেঁৗছার পর মাজদি ইবনে আমর নামে একব্যক্তির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। তার কাছ থেকে তিনি মদিনার বাহিনী সম্পর্কে তেমন কিছু জানতে পারেননি। তবে মাজদি তাকে জানান, তিনি একটি টিলার পাশে দুজন উষ্ট্রারোহীকে মশকে পানি পূর্ণ করতে দেখেছেন। সতর্কতা হিসেবে আবু সুফিয়ান সেখানে যান এবং উটের গোবর ভেঙ্গে দেখেন। গোবর থেকে প্রাপ্ত খেজুরের বিচি দেখে তিনি বুঝতে পারেন যে, এসব খেজুর মদিনার। মদিনার খেজুর দেখে তিনি মদিনার বাহিনী সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়ে যান। পরে তিনি কাফেলা নিয়ে সমুদ্র উপকূলের দিকে ইয়ানবুতে চলে যান। বদরের দক্ষিণে জুফায় পেঁৗছে কোরায়েশরা আবু সুফিয়ানের কাছ থেকে একটি বার্তা পায়। বাতার্য় বলা হয়, কাফেলা নিরাপদে আছে। তাই তাদের অগ্রসর হওয়ার পরিবর্তে মক্কায় ফিরে যাওয়া উচিত। এ খবর পাওয়ার পর মক্কার বাহিনীর অধিকাংশ ফিরে যাওয়ার পক্ষে মত দেয়। কিন্তু বাহিনী প্রধান আবু জেহেল যুদ্ধ না করে ফিরে যাওয়ার বিরোধিতা করেন। ব্রিটিশ মহিলা ইতিহাসবিদ কারেন আর্মস্ট্রংয়ের মতে, এ সময় মক্কার সৈন্যবাহিনীতে ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়। হাকিম ইবনে হিজাম ও বানু জোহরা গোত্রের প্রধান আখনাস ইবনে শারিক আবু জেহেলকে ফিরে যেতে বলেন। আবু জেহেল বললেন, তিনি যুদ্ধ না করে ফিরে যাবেন না। উৎবা ফিরে যাবার পরামর্শ দিলে আবু জেহেল তাকে ধিক্কার দিয়ে বলেন, তার ছেলে মুসলমানদের পক্ষে থাকায় তিনি তাকে বাঁচানোর জন্য এমন পরামর্শ দিচ্ছেন। উৎবার পুত্র আবু হুজাইফা ইবনে উৎবা প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আবু জেহেল নাখলায় নিহত আমর হাদ্রামির ভাই আমির ইবনে হাদ্রামির কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন যে, উৎবা যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে যেতে চায়। তাই তার ভাইয়ের মৃত্যুর বদলা নেয়া সম্ভব নয়। এ কথা শোনার পর আমির ইবনে হাদ্রামি শরীরে ধূলোবালি মেখে এবং পরনের কাপড় ছিঁড়ে বিলাপ করতে শুরু করেন। তার বিলাপে যুদ্ধ বন্ধে হাকিম ইবনে হিজামের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
আবু জেহেল অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দেন। অধিকাংশ পক্ষে না থাকায় আখনাস ইবনে শারিক বানু জোহরা গোত্রের তিন শো সদস্য নিয়ে মক্কা ফিরে যান। মক্কার বাহিনীতে তখন সৈন্য সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার। পরবর্তীতে বানু জোহরা গোত্রের সদস্যরা আখনাস ইবনে শারিকের এ সিদ্ধান্তে আনন্দ প্রকাশ করে। আর্মস্ট্রংয়ের মতে, এসব গোত্র আশঙ্কা করছিল যে, মুসলমানদের ধ্বংস করে দিয়ে আবু জেহেল ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চান। বানু হাশিম গোত্র যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করতে চেয়েছিল। কিন্তু আবু জেহেল তাদেরকে অবস্থান করতে বাধ্য করেন। এসব বিপর্যয় সত্ত্বেও আবু জেহেল লড়াই করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তিনি উদ্ধতভাবে ঘোষণা করেন যে, বদরে না গিয়ে আমরা পিছু হটবো না। এ সময় আবু সুফিয়ান ও আরো কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি মক্কার মূল সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে মিলিত হন।
মুসলিম পরিকল্পনাঃ
মুসলমানরা মক্কার বাহিনীর অগ্রযাত্রার খবর পায়। মুসলিম বাহিনী মূলত কাফেলা আক্রমণের জন্য গঠন করা হয়েছিল। ব্যাপক যুদ্ধের জন্য তারা প্রস্তুত ছিল না। মুসলমানরা কোরায়েশদের মুখোমুখি না হয়ে মদিনায় ফিরে যেতে পারতো। কিন্তু ফিরে গেলে কোরায়েশদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতো এবং তারা অগ্রসর হয়ে মদিনা আক্রমণ করতে পারতো। অন্যদিকে মুসলিম বাহিনীর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ মদিনার আনসাররা আকাবার শপথ অনুযায়ী মদিনার বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করতে বাধ্য ছিল না এবং অভিযানের ব্যয়ভার ছিল তাদের ওপর বেশি। মক্কার কোরায়েশ বাহিনীর যাত্রা করার সংবাদ পেয়ে নবী (সা.) অবিলম্বে ওয়ার কাউন্সিলের বৈঠক ডাকেন। মদিনা সনদের আওতায় মদিনার আনসারদের যুদ্ধে যোগদান অথবা যুদ্ধে যোগদানে অস্বীকৃতি জানানোর অধিকার ছিল। হযরত আবু বকর (রা.) ওঠে দাঁড়ান এবং সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বলেন, ‘কোরায়েশ প্রধান ও বীররা এ সৈন্যবাহিনীতে যোগদান করেছে। তারা এখনো ঈমান আনেনি। তাদের ঐশ্বর্যে্যর অভাব নেই। অন্যদিকে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়া ছাড়া মদিনা থেকে এসেছি। হযরত আবু বকর বলতে চাইছিলেন, তাদের যুদ্ধ করা উচিত নয় এবং মদিনায় ফিরে যাওয়া উচিত। ঐতিহ্য অনুযায়ী নবী (সা.) হয়তো আবু বকরের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারতেন অথবা তাকে বসে যাওয়ার জন্য বলতে পারতেন। হযরত উমর (রা.) হযরত আবু বকরের মতো একই ধরনের মত প্রকাশ করেন। হযরত মিকদাদ (রা.) তাদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল (সা.)! আমাদের হৃদয় আপনার সঙ্গে। আপনি আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করুন। বনি ইসরাইল হযরত মুসাকে (আ.) যা বলেছিল আমরা আপনাকে তা বলবো না। হযরত মুসা বনি ইসরাইলকে জিহাদ করার নির্দেশ দিলে তারা বলেছিল, হে মুসা তুমি আর তোমার আল্লাহ জিহাদ করো। আমরা এখানে বসে থাকবো। আমরা বলবো সম্পূর্ণ বিপরীত কথা। আল্লাহর নির্দেশে জিহাদ করুন। আমরা আপনার সঙ্গে আছি এবং লড়াই করবো। আমরা আপনার ডানে, বামে, সামনে পেছনে সবদিক থেকে লড়াই করবো।’
নবীজি মোহাজির মিকদাদের (রা.) কথা শুনে আনন্দিত হন এবং আনসারদের বক্তব্য শুনতে চান। আনসারদের মধ্য থেকে খাজরাজ গোত্রের দলপতি হযরত সা’দ ইবনে আবু ওবায়দা (রা.) ওঠে দাঁড়িয়ে নবীজিকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর রসূল। আমরা আপনার নির্দেশ পালনে ওয়াদাবদ্ধ। আপনি যেখানে যাবেন আমরা ঠিক সেখানে যাবো। কাফেরদের সঙ্গে শক্তিপরীক্ষার প্রয়োজন হলে আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে আপনার পাশে দাঁড়াবো। শান্তি ও সমরে সর্বক্ষণ আমরা আপনার প্রতি অনুগত। আল্লাহর কসম আপনি নির্দেশ দিলে আমরা সমুদ্রেও ঝাঁপিয়ে পড়বো।’
তারপর মুসলমানরা বদর অভিমুখে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখে। ১১ মার্চ নাগাদ উভয় সৈন্যবাহিনী বদর থেকে একদিনের দূরত্বে অবস্থান করছিল। অগ্রবতীর্ মুসলিম যোদ্ধারা বদরে মক্কাবাসীদের পানির দুটি আধার দখল করে নেয়। সবাই বদর প্রান্তরে পেঁৗছে শুনতে পান যে, আবু সুফিয়ান তার বাণিজ্য কাফেলা নিয়ে অন্য পথে চলে গেছে। পরদিন নবী (সা.) বদর অভিমুখে দ্রুতগতিতে অগ্রযাত্রার নির্দেশ দেন এবং মক্কাবাসীদের সামনে এসে হাজির হন। এখানে পেঁৗছার পর নবী (সা.) ও হযরত আবু বকর (রা.) প্রতিপক্ষের খবর সংগ্রহে বের হন। এ সময় তারা একজন বৃদ্ধ লোককে দেখতে পান। নবী (সা.) তাকে মুসলিম ও কোরায়েশ উভয় বাহিনী সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। লোকটি দুটি বাহিনী সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেয়। সেদিন সন্ধ্যায় হযরত আলী ইবনে আবি তালিব, জোবায়ের ইবনে আওয়াম ও সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাসকে তথ্য সংগ্রহে পাঠানো হয়। তারা বদরের কূয়ায় দুজন পানি সংগ্রহকারীকে বন্দি করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, তারা মক্কার বাহিনীর সদস্য এবং তাদের জন্য তারা পানি সংগ্রহ করছে। নবী (সা.) তখন নামাজ আদায় করছিলেন। উপস্থিত মুসলমানরা তাদের কথায় সন্দেহ করে। তাই তাদের মারধর করে একই প্রশ্ন করা হয়। এবার তারা জবাব দেয় যে, তারা কোরায়েশ বাহিনীর নয়, আবু সুফিয়ানের কাফেলার লোক। একথা জানতে পেরে আল্লাহর রসূল (সা.) ক্ষুদ্ধ হন। তিনি বলেন, তারা সত্য কথা বলছিল। তারপরও তাদের মারধর করা হয়। তিনি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তারা উপত্যকার শেষ প্রান্তের একটি টিলা দেখিয়ে বলে যে, কোরায়েশরা তার পেছনে অবস্থান করছে এবং প্রতিদিন তাদের জন্য ৮/২০টি করে উট জবাই করা হয়। একথা শোনার পর নবী (সা.) বললেন, তাদের সংখ্যা ৯০০ থেকে এক হাজার হবে। বন্দিরা কোরায়েশ বাহিনীর সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের নাম বলে। তিনি তাদের নাম শুনে বললেন, ‘মক্কা তার কলিজার টুকরোগুলো তোমাদের সামনে নিক্ষেপ করছে।’
আল্লাহর রসূল (সা.) বদরের যে প্রান্তে অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন সেখানে বৃষ্টির নেতিবাচক কোনো প্রভাব ছিল না। এ প্রান্তর উদওয়াতুদ দুনিয়া নামে খ্যাত। দক্ষিণ প্রান্তর উঁচু এবং এ জায়গাটি উদওয়াতুল কাছওয়া নামে পরিচিত। উদওয়াতুদ দুনিয়ায় পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ ছিল এবং সব সময় বাণিজ্য কাফেলা এখানে বিশ্রাম গ্রহণ করতো। মুসলিম সেনাপতি হুবাব ইবনে আল—মঞ্জির আল্লাহর রসূল (সা.)কে বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল (সা.)! আমরা যদি শত্র“র নিকটবতীর্ কূপের কাছে অবস্থান নেই তাহলে ভালো হবে। সেখানে পানির চৌবাচ্চা তৈরি করা হলে আমাদের এবং চতুষ্পদ প্রাণীগুলোর সার্বক্ষণিক পানির ব্যবস্থা হবে। বদরের কূপগুলো ছিল ইয়ালইয়াল নামে পরিচিত উপত্যকার পূর্বাংশে। উপত্যকার পশ্চিমাংশ ছিল আকানকাল নামে একটি পাহাড় পরিবেষ্টিত। পূর্বদিক থেকে মুসলিম বাহিনী এসে পেঁৗছলে নবী (সা.) প্রাথমিকভাবে প্রথম কূপের পাশে অবস্থান গ্রহণ করেন। সাহাবী হুবাব ইবনে আল—মঞ্জির জানতে চান নবী (সা.) নিজের ইচ্ছায় নাকি আল­াহর নির্দেশে জায়গাটি বেছে নিয়েছেন। নবী (সা.) নিজের পছন্দের কথা জানালে হুবাব কোরায়েশ সৈন্যবাহিনীর নিকটবতীর্ কূপ দখল এবং অন্যান্য কূপ বন্ধ করে দেয়ার পরামর্শ দেন। নবী (সা.) তার পরামর্শ মেনে নেন এবং দ্রুত বদরের দিকে অগ্রযাত্রার নির্দেশ দেন যাতে প্রতিপক্ষ কূপ দখল করতে না পারে। রাতে মুসলমানরা থামে এবং হুবাব ইবনে আল—মঞ্জিরের পরামর্শে চৌবাচ্চা তৈরি করে অবশিষ্ট কূপ বন্ধ করে দেয়।
মুসলমানরা পরিকল্পনা অনুযায়ী কূপ দখল করে নেয়ার পর সা’দ ইবনে মোয়াজের পরামর্শে যুদ্ধক্ষেত্রের উত্তর—পূর্বে একটি টিলার ওপর আল্লাহর রসূলের (সা.) জন্য একটি তাঁবু নির্মাণ করা হয়। এখান থেকে ভালোভাবে যুদ্ধের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যেতো। মক্কা থেকে কোরায়েশ সৈন্যবাহিনী কিভাবে অগ্রযাত্রা করেছিল সে ব্যাপারে তেমন কিছু জানা যায়নি। এখানে কয়েকটি বিষয় উলে­খযোগ্য। সে সময় আরব সৈন্যবাহিনী তাদের অভিযানে পুরুষদের উৎসাহদানে মহিলা ও শিশুদের নিয়ে আসতো। কিন্তু মক্কার কোরায়েশ বাহিনী তাদের সঙ্গে মহিলা ও শিশুদের নিয়ে আসেনি। কোরায়েশরা হেজাজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তাদের কোনো মিত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এতে মনে হচ্ছে, আবু সুফিয়ানের কাফেলা রক্ষায় মক্কাবাসীরা এসব বাদ দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে এসেছিল। মুসলমানদের সংখ্যা কম হওয়ায় তারা দ্রুত ও সহজে বিজয় লাভের ধারণা করেছিল।
সাহাদত হোসেন খান।
তথ্যসূত্র: ‘ট্রয় থেকে ইরাক: দুনিয়া কাঁপানো যুদ্ধ।