Press "Enter" to skip to content

কিতবে ও সুন্নতের বিস্তৃতিতে নবীগণ (আঃ) ও আল্লাহর সৎনিষ্ঠ বান্দাদের স্মরণে অনুষ্ঠান পালন

লেখক ঃ আল্লাম সাইয়্যেদ মুর্তাজা আসকারী
অনুবাদ ঃ মোঃ মাঈনউদ্দিন তালুকদার

সম্মান প্রদর্শন মোস্তাহাব বলে যারা বিশ্বাস করেন তাদের দলিল সমূহ ঃ
নবগিণের (আঃ) স্মরণ ও সম্মান প্রদর্শন যাদের কাছে প্রিয় ও পন্থন্দনীয় তারা যুক্তি প্রদর্শন করে বলেন ! হজ্জের অধিকাংশ মানাসেখ বা অনুষ্ঠানাদি হলো আল্লাহর নবী ও অলীগণের স্মরণ। এর কয়েকটি উদাহরণ নিম্নে উল্লেখ করব ঃ
ক) মাকামে ইব্রাহীম (আঃ)-এর স্থান
মহান আল্লাহ বলেন ঃ
وَ اتَّخِذُوا مِن مَقا مِ اِبرا هيمَ مُصَلّي
তোমরা মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান রূপে গ্রহণ কর। (বাকারা-১২৫)
সহী বোখারীতে এশটি রেওয়ায়েত আছে, যার
সংক্ষিপ্ত বর্ণনা এরূপ ঃ
ইব্রাহীম ও ইসমাঈল (আঃ) যখন কাবা গৃহ নির্মান করছিলেন, ইসমাঈল (আঃ) পাথর আনছিলেন এবং ইব্রাহীম (আঃ) নির্মাণ করছিলেন যখন দেয়াল উঁচু হয়ে গিয়েছিল তখন ইসমাঈল (আঃ) ( প্রিয়া পিতার পায়ের নীচে দেয়ার জন্য ) এ পাথরটি ১ এনেছিলেন। ইব্রাহীম (আঃ) এর উপর দাঁড়িয়ে নির্মান কাজ এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং ইসমাঈল (আঃ) ও তাঁর (ইব্রাহীম (আঃ) ) হাতে পাথর তুলে দিচ্ছিলেন।২
এর পরবর্তী রেওয়ায়েতে এসেছে ঃ
দেয়াল উঁচ্চতালাভ করলো ও ইব্রাহীন (আঃ) পাথর গুলো স্থানান্তরে অপারগ হয়ে পড়েছিলেন। ফলে উক্ত স্থানের একটি পাথরের উপর দাঁড়ালেন এবং ইসমাঈল (আঃ) পাথর গুলো তাঁর হাতে তুলে দিচ্ছিলেন।

পবিত্র আল্লাহ ( যেমনটি সুস্পষ্ট) মানুষকে আদেশ দিয়েছেন যাতে আল্লাহর পাবিত্র তরের ইব্রাহীম (আঃ)-এর পদস্থল থেকে কল্যাণ খোঁজে এবং একে নিজেদের নামাযের স্থানে পরিণত করে। এর ফলে ইব্রাহীম (আঃ) এর স্মরণ পুনরুজ্জীবিত হয় এবং এতে আল্লাহর প্রতি কোন শিরকের চিহৃও নেই ।
খ) সাফা ও মারওয়া মহান আল্লাহ বলেন ঃ
اِنَّ الصِّفاوَ المَرو ةَ مِن شَعائِرِالله فَمَن حَجَّ البَيت اَوِ اعتَمَر فلا جُناحَ عَليه اَن يطَّوَّفَ بِهِما

নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্তর্ভুক্ত সুতরাং যে কেউ কাবা গৃহের হজ্জ কিংবা উমরা সম্পন্ন করে, সে এ দু’টির মধ্যে মা’ঈ করলে তার কোন পাপ নেই। (সূরা বাকারা—১৫৮)
বোখারীতে এ সম্পর্কে একটি রেওয়াযেত আছে যার সারসংক্ষেপ এরূপ ঃ
যখন ইব্রাহীম (আঃ) হাজেরাকে , পুত্র ইসমাঈলের সাথে মক্কায় রেখে যান এবং তাঁদের খাবার পানি শেষ হয়ে গিয়েছিল । হযরত হাজেরা ও তাঁর সন্তান ইসমাইল (সাঃ) তৃষ্ণার্ত হলেন এবং ইসমাঈল (আঃ) পিপাসার কাতরা ছিলেন। হযরত হাজেরা বিষম বেদনায়) সাফার দিকে গেলেন যাতে ঐ অবস্থাটি দেখতে না হয়। অতঃপর এর উঁচু স্থানে গেলেন এবং চারদিকে তাকাচ্ছিলেন ( এ আশায় যে) হয়তোবা কাউকে দেখতে পাবেন। যেহেতু কাউকেই পাননি সাফা থেকে নেমে আসলেন এবং সমতল ভূমিতে পৌঁছলে পরিশ্রমী কারো মত চেষ্টা ও তৎপরতা চালাচ্ছিলেন যতক্ষন না সমতল ভূমি পার হয়ে মারওয়াতে পৌঁছলেন। অতঃপর মারওয়ার উঁচূস্থানে গেলেন এবং চারদিকে তাকালেন হয়তোবা কাউকে দেখতে পাবেন। যেহেতু সেখানেত কাউকে পেলেন না এ এরূপে তিনি সাত বার আসা—যাওয়া করেছিলেন। ইবনে আব্বাস বলেনঃ আল্লাহর রাসূল বলেছেন ঃ সাফা ও মারওয়ার মধ্যে মানুষের এ সা’ঈ হলো হযরত হাজেরার সেই সা’ঈয়ের স্মরণ।৩

মহান আল্লাহ সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সঈিকে হজ্জের একটি মানসিক করেছেন যাতে হযরত হাজেরার সাঈয়ের স্মরণ হয় এবং তার মহান কাজের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন হয়। সাফা ও মার ও য়াব মধ্যবর্তী সমতল স্থানে হাজীদের দ্রুত চলা বা দ্রুতহাটার মোসাহার ও ঐ স্থানে হযরত হাজেরার দ্রুত চলার ও চেষ্টাশীল দ্রুত হাটার স্মরন।
গ) জামারায় পাথর নিক্ষেপ বা শয়তানের প্রতি পাথর নিক্ষেপ ঃ
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বাল ও তাালোসী নিজেদের মোসনাদে মহানবী (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি (সাঃ) বলেন ঃ জিব্রাইল (আঃ) ইব্রাহীম (আঃ) কে জামারায়ে আকাবা’৪ এর দিকে নিলেন এবং তাঁকে (আঃ) শয়বানকে দেখলেন। ইব্রাহীম (আঃ) শয়তানের দিকে সামটি পাথর নিক্ষেপ করলেন, ফলে সে পালিয়ে গেল। অতঃপর তাঁকে (আঃ) “ৎামারায়ে উস্তাতে৫ নিলেন (পুনরায় ) শয়তানকে দেখিয়ে দিলেন। তিনি (আঃ) সেখানে ও সাতটি পাথর নিক্ষেপ করে শয়তানকে তাড়িয়ে দিলেন। অতঃপর ‘ৎামারায়ে কুমওয়া ৬ তে এলেন এবং শয়তানকে দেখানোর পর সাতটি পাথর নিক্ষেপ করে শয়তানকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দিলেন।৭

মহান আল্লাহ এভাবে ইব্রাহীম (আঃ)-এর পাথর নিক্ষেপকে সম্মানিত করেছেন এবং তাঁর (আঃ) স্মরণ পুনরুজ্জীবিত রাখার জন্য জামারাসমূহে পাথর নিক্ষোকে হজ্জের অনুষ্ঠানিকতার অন্তভুক্ত করেছেন।
ঘ) কোরবাণী বা ত্যাগ ঃ
এহান আল্লাহ ইব্রাহীম (আঃ) ও ইসমীল (আঃ) সম্পর্কে বলেন ঃ
فَبَشَّر ناهُ بِغُلامٍ حَليمٍ()فَلَمّا بَلَغَ مَعَهُ اُلسَّعيَ قالَ يا بُنَيَّ إري فِي المَنامِ أنّي أذبَحُکَ فَانظُر ماذا تَري قالَ يا أبَتِ اُ فعَل ما تُؤمَرُ سَتَجِدُني إن شاءَ اللهُ مِنَ اُلصّابِرينَ () فَلَمّا أسلَما وَ تَلَّهُ لِلجَبينِ () وَ نادَيناهُ أن يا إبراهيمُ() قَد صَدَّقتَ اُلرُّؤ يا إنّا کَذلِکَ نَجزِي اُلمُحسِنين() إنَّ هذا لَهُوَ البَلاءُ المَبينُ () وَ فَدَيناهُ بِذِبحٍ عَظيمٍ ()
অতঃপর আমরা তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম। অতঃপর সে যখন তাঁর পিতার সাথে কাজ করার মত বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম বললো, বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে আমি যবেহ করছি, এখন তোমার অভিমত কী ? সে বললো,‘ হে আমার পিতা ! আপনি যা আদিষ্ট” হয়েছেন তা-ই করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। যখন তারা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করলো এবং ইব্রাহীম তাঁর প্রত্রকে কাত করে শায়িত করলো তখন আমরা তাকে আহবান করে বললাম, হে ইব্রাহীম ! প্রকৃতপক্ষে তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করলে ! এ ভাবেই আমি সৎকর্ম পরায়নদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চয়ই এাঁ ছিল এক স্পষ্ট পরীক্ষা। এবং আমরা তাকে ছেড়ে দিলাম এক মহান কুরবানীর বিনিময়ে।
(সূরা সাফফাত ১০১—১০৭)

এরূপে মহান আল্লাহ এ কোরবানীর স্মৃতিকে জীবিত রাখার জন্য ; ইসমাইলের পরিবর্তে তিনি যে দুম্বা প্রেরণ করেছেন তার স্মৃতি জীবিত রাখার জন্য ও ঐ স্মৃতিকে সম্মানার্যে দুম্বা কোরবানী করাকে হজ্জের একটি আনুষ্ঠানিকতার অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং হাজ্জীদেরকে বলেন যাতে মিনায় কুরবানী করে। আর এ কুরবানীর মাধ্যমে মহান আল্লাহর নিকট ইব্রাহীম (আঃ)-এর আত্নসমর্পনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

হ্যাঁ, মাকামে ইব্রাহেিম (আঃ) কল্যাণ ও সৌভাগ্য ইব্রাহীম (আঃ)-এর পদস্থল থেকে বিস্তৃতি লাভ করেছে। তাই মহান আল্লাহ “ বাইতুল্লাহিল হারামের ” (অর্থাৎ কাবায়) ঐ স্থানকে নামাযস্থল বানানো ও ইব্রাহীম (আঃ)-এর স্মৃতি জীবিত রাখার জন্য আদেশ দেশ।
পরবর্তী অংশে মানবকুলের পিতা হযরত আদম (আঃ) থেকে বরকত ও সৌভাগ্য ছড়িয়ে পড়া সম্পর্কে আলোচনা করব। হযরত আদম (আঃ) থেকে কল্যাণ ছড়িয়ে পড়া ও তার স্মতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন ঃ
কিছু কিছু বর্ণনায় এসেছে যে, মহান আল্লাহ যিলহজ্জ মাসের নবম দিবসে আরাফাতের ময়দানে হযরত ,আদম (আঃ) কে ক্ষমা করেছিলেন। অতঃপর জিব্রাইল (আঃ) তাঁকে সূর্যাস্ত কালীন সময়ে মাশআরুল হাবামের দিকে পরিচালনা করেন। আদম (আঃ)যিলহজ্জ মাসের দশম রাত্রিতে সেখানে অবস্থান এবং দোয়া ও তওবা কবুল করার জন্য মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে বিনীদ্র রাত্রি যাপন ‘করেছিলেন। অতঃপর প্রভাত হওয়ার পর মিনার দিকে রওয়ানা করেছিলেন এবং দশম দিবসে মাথা মুন্ডন করেছিলেন যাতে তওবা কবুল ও পাপ থেকে মুক্তি লাভের আলামত হয়ে থাকে। মহান আল্লাহ ও এ দিবসকে আদম (আঃ) ও তাঁর সন্তানদের জন্য খুশীর দিন বা ঈদের দিনরূপে গণনা করেছেন। আর অদম (আঃ) যা কিছু করেছিলেন, ইতিহাসে সর্বদা সে গুলোকে তাঁর সন্তানদের জন্য ও হজ্জের আনুষ্ঠানি কতার অন্তর্ভুক্ত করেছেন । যেমন ঃ নাম দিরসের আসরের সময় আরাফায় তাদের তওবা কবুল করেন, দশম রাত্রিতে ‘মশআরুল হারামে হাজীরা দোয়া ও আল্লাহর যিকিরে কাটার এবং যখন দশম দিবস হয় তখ মিনায় নিজেদের মাথা মুম্ভন করেন। অতঃপর এ আমল ও মানাসিকের সাথে যা কিছু ইব্রাহীম (আঃ) ও ইসমাঈল (আঃ) ও হাজেরা সম্পাদন করেছিলেন তা যুক্ত হয়েছে এবং হজ্জের অনুষ্ঠানিকতা ঐ গুলোর মাধ্যমে পরিপূর্ণ হয়েছে।
অতএব, হজ্জের আমলগুলো সবই ঐ সময় গুলো ও স্থানগুলো থেকে কল্যাণ কামনা যাতে আল্লাহর সৎ ও উপযুক্ত বান্দারা যাপন করেছিলেন। আর হজ্জের এ সমস্ত অনুষ্ঠানাদি হলো ইতিহাসে সর্বদা তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন।
পরর্বতী অংশে কোন স্থানের অশল্যাণ ও দূর্ভাগ্য বিস্তৃতি লাভের কিছু উদাহরণ তুলে ধরব ।
কোন অকল্যানের স্থান থেকে এর অধিবাসীর উপর অশল্যাণ ছড়িয়ে পড়া ঃ
বোখারী মুসলিম ও আহমদ বিন হাম্বাল বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) যে বছর তাবুকের
যুদ্ধে যাচ্ছিলেন, সৈন্যদেরকে নিয়ে হিজর ভূমিতে অবতরণ করলেন যা ছিলো সামূদ গোত্রের ’ গৃহগুলোর এশটির নিকটবর্তী । রাসূলের সাথীরা সামূদ গোত্রের লোকজন যে ক’প থেকে পানি করতো তা থেকে পানি নিয়ে
রুটির কাই প্রস্তুত ও মাংস রান্নার পাত্রগুলো উনানে তুললেন। আল্লাহর রাসূল তাদেরকে পাত্রের খাবার গুলো দূরে ফেলে দিতে ও কাইগুলো উটগুলোকে দিতে নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তাদেরকে নিয়ে সালেহ নবীর উটনী যে কুপ থেকে পানি পান করতো সে কুপের নিকট গেলেন এবং সেখানে নামলেন। রাসূল (সাঃ) যে সকল স্থানে কোন গোত্রের উপর শাস্তি এসেছিল সে সকল স্থানে যাওয়ার ব্যাপারে সাবধান করে দেন এবং বলেন ঃ
إنّي أخشي اَن يُصيبَکُم مِثلَ ما اَصا بَهُم فَلا تَدخُلوا عَلَيهم
আমি এ ব্যাপারে সংকিত যে, তোমাদের উপর ও তা আপতিত হবে যা তাদের উপর এসেছিল ; সুতরাং তাদের জায়গায় যে ও না ।৮
সহী’ মুসলিমের রেওয়ায়েতটি নিম্নরূপ ঃ
وَ لا تَدخُلوا مَساکن الَّذينَ ظَلَموا اَنفُسَهم اِلاّ اَن تَکُو نُوا با کين.. حَذَراً اَن يُصيبَکُم مِثلَ ما أصا بَهُم. ثُمَّ زَجَرَ وَ اَسرَعَ حَتي خَلَّفها.
যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছে তাদের গৃহে প্রবেশ করোনা যদিনা ক্রন্দন করো যাতে তাদের উপর যা আপতিত হযেছে তা থেকে নিরাপদ থাকতে পারো। অতঃপর দ্রুত ঐ স্থান পিছনে ফেলে চলে যান।
সহী বোখারীর বর্ণনায় এসেছে যে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এরপর নিজের মাথা ঢেকে ঐ স্থান থেকে দ্রুত প্রস্থান করেন।
মুসনাদে আহমাদের অন্য এক রেওয়ায়েতে এসেছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বাহনে আরোহণরত অবস্থায় নিজের রেদা ( এক প্রকার চাঁদর দিয়ে মাথা ঢেকে নেন।৯ কোন স্থানে সৌভগ্য ও দূর্ভাগ্যের উৎস ও কারণ ঃ
‘সামূদ গোত্রের ’ ১০ পানি ক’পসমূহ ও আবাস স্থলের অশল্যাণ তা ব্যতীত আর কিছু নয় যা এ গোত্র দ্বারা সংগঠিত হয়েছিল এবং তাদের নিকট থেকে তাদের পানি ক’পসমূহে ও আবাসস্থল সমূহে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং যতদিন পযর্ন্ত আল্লাহ চাইবেন বাকী থাকবে ।
সালেহ (আঃ)-এর উঁনীর পানি পানস্থলের সোভাগ্য ও বরকত তা ব্যতীত আর কিছুই ছিলোনা যা ঐ উঁনীর পানি পানের মাধ্যমে এর ফযিলত ও বরকত এ কূপে বিস্তৃতি লাভ করেছিল এবং সর্বশেষ নবী (সাঃ)-এর সময় পর্যন্ত মহান যতক্ষণ চাইবেন অবশিষ্ট থাকবে।
অনুরূপ, সে সকল বিষয় বস্তু থেকে বরকত ও কল্যানের বিস্তৃতি যা মহান আল্লাহর সৎ ও যোগ্য বান্দদের উপর বিশেষ সময় যেমন জুম্মার দিবসে দেয়া হয়েছিল।
জুম্মার দিবসের কল্যাণ ও সৌভাগ্য ঃ
সহী মুসলিমে এক বর্ণনায় এসেছে যে, বলা হয়,
اِنَّ الله خَلَق آدمَ يَومَ الجُمُعة وَ اَدخَلَه الجَنَّة يَومَ الجُمُعة
মহান আল্লাহ আদম (আঃ) কে জুম্মার দিবসে সৃষ্টি করেছিলেন এবং জুম্মার দিবসেই তাকে বেহেশতে প্রবেশ করিয়ে ছিলেন।১১
এ সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্ব ইত্যাদি মহান আল্লাহর সে সকল অনুগ্রহের মধ্যে যা তিনি জুম্মার দিবসে তাঁর বান্দাদের জন্য দান করেছেন এবং জুম্মার দিবসের কল্যাণকে চিরস্থায়ী ও সর্বকালের জন্য স্থাপন করেছেন।
রমযান মাসের বরকত
شَهرُرَمَضان الَّذي اُنزِلَ فيه القُرآن هُديً للنّاسِ وَ بَيِّناتٍ مِنَ الهُي وَالفُر قان ً
ওমযান মাস, সে মাসে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শণ ও (সত্যাসত্যের) পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।
(সূরা,বাকারা -১৮৫)
অনুরূপ বলেন ঃ
اِنّا اَنزَ لنا هُ في لَيلَةِ القَدرِ() وَما اَدريکَ ما لَيلَةُ القَدر() لَيلَةُ القَدرِ خَيرُ مِن الفِ شَهرٍ….
আমরা একে ( কুরআন) কদরের বাত্রিতে নাযিল করেছিলাম , জান কি কদরের রাত্রি কী ? কদরের রাত্রি হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ট………
(সূরা ক্বাদর -১-৩)
অতত্রব, কদরের রাত্রি যাতে সর্বশেষ নবী (সাঃ)-এর উপর কুরআন নাযিল হয়েছিল তার বরকত ও কল্যাণ রমযান মাসের প্রতিটি দিন ও রাত্রিতে বিস্তৃত হয়েছে এবং এ কল্যাণই এ মাসে এ রাত থেকে ইতিহাসে চিরদিনের জন্য স্থায়িত্ব লাভ করেছে।

আল্লাহর নির্বাচিত বান্দেিদর স্মরণ ও তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ফযিলত সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়ার পর এ ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করবো যে, তাদের স্মবন ও স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আমাদের উদ্দেশ হলো ( যেমন ঃ রাসুলের (সাঃ) জন্মের রাত্রিতে ) রাসূলের (সাঃ) সঠিক ও অবিকৃত সিরাত ও পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা। অনুরূপ, আল্লাহর রাস্তায় খাদ্য দান এবং এর সত্তয়ার আল্লাহর রাসূলের জন্য হাদিয়া করা। তবে শর্ত হলো যে, বেদআত এবং কোন কোন সূমবীদের আবিস্কৃত পন্থা যা শরীয়ত পরিপন্থী তা কঠোরভাবে পরিহার করতে হবে।