ক্বারী মাওলানা মীর রেজা হোসাইন শহীদ
এম, এম, হাদীস
আল্ আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম
হাটহাজারী, চট্টগ্রাম
মহান আল্লাহ তা’য়ালা কর্তৃক নাযিলকৃত পবিত্র ঐশী গ্রন্থ আল কোরআন। এর বিধান মোতাবেক সকল কাজ আঞ্জাম দেয়া সকল মুমিনের জন্যে ফরজ। রোজা এমনি একটি ফরজ কাজ, যা কোরআনের বিধান মোতাবেক পালন না করলে রোজার মত একটি ফরজ কাজ একজন মুমিনের আমল থেকে বাদ পড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, যেরূপ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যাতে তোমরা মোত্তাকি হতে পার”। (সূরা বাক্বারাঃ ১৮৩)
উপরের আয়াত থেকে নিশ্চিতভাবে জানা যায়, রোজা তাকাওয়া অর্জনের উপায়। সূরা বাক্বারার ২নং আয়াতে আমরা দেখতে পাই, “এটা সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নাই, মোত্তাকিদের জন্যে রয়েছে পথনির্দেশ”। অর্থাৎ, কোরআন মোত্তাকিদের জন্য হেদায়েত স্বরূপ। যেহেতু রোজা পালনে তাকওয়া অর্জন হয়, তাই রোজার সময়সুচি, নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধান সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে কি বলেছেন তা জানা প্রত্যেকের জন্য ফরজ। নতুবা এর বিপরীত হয়ে গেলে সঠিক ফলাফল পাওয়া যাবে না। আল্লাহর দেয়া বিধান মোতাবেক রোজা পালন করা না হলে ফলাফল ইতিবাচক হতে পারে না। ফলে আল্লাহ তার বান্দার উপর সন্তষ্ট হতে পারেন না। সুতরাং আল্লাহকে সন্তষ্ট করতে হলে আল্লাহর বিধান মানতে হবে, আর আল্লাহর বিধান একমাত্র ঐশী গ্রন্থ আল কোরআনেই বিশেষভাবে, নির্ভূলভাবে, অবিকৃতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেনঃ “অতঃপর তোমরা রোজা পুর্ণ কর রাত পর্যন্ত..”। (সূরা বাক্বারাঃ ১৮৭)
এ আয়াতে ‘ইলাল লাইল’ শব্দ দ্বারা রোজা পুর্ণ করার সময়কে সুস্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে এবং এ সময়টি হল “রাত পর্যন্ত”। এখন প্রশ্ন হল “রাত” এর সংজ্ঞা কি বা পরিচয় কি? মহান আল্লাহ তায়ালা রাত এর পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেনঃ ‘রাতের শপথ যখন উহা আচ্ছন্ন করে নেয়’। (সুরা আল লাইল, আয়াত ০১) রাতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে “যখন আচ্ছন্ন করে” অর্থাৎ স্বাভাবিক চোখে কিছু দেখা যায় না। তার ঠিক আগের অবস্থাটি হল “সন্ধ্যা বা শাফাক্ব, তার ঠিক আগের অবস্থাটি ‘বিকাল’ বা ‘আছর’ তার ঠিক আগের অবস্থাটি হল ‘মধ্যাহ্ন’ বা ‘জোহর’ তার আগের অবস্থাটি হল ‘ফজর’ বা ‘সকাল’, তার আগের অবস্থাটি হল ‘ভোর’ বা ‘সুবেহ’ ইত্যাদি। আমরা স্বাভাবিকভাবে ‘রাত’ বলতে যা বুঝি তা-ই ‘রাত’। পবিত্র কোরআনের ১৬২ (একশত বাষট্টি) স্থানে রাত বা লাইল শব্দটির উল্লেখ আছে এবং রাত এর সংজ্ঞা ও পরিচয় দেয়া রয়েছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ‘সময়’ সম্পর্কে যে সকল শব্দ উল্লেখ করেছেন তম্মধ্যে দিন, রাত, সন্ধ্যা, ভোর, মধ্যাহ্ন, বিকাল ইত্যাদি উল্লেখ করেছেন। দিনের আরবি ‘নাহার’ রাত মানে ‘লাইল’ সন্ধ্যা মানে ‘শাফাক্ব’ ভোর মানে ‘সুবেহ্’ মধ্যাহ্ন মানে ‘জোহর’ বিকাল মানে ‘আছর’ ইত্যাদি। পবিত্র কোরআনে সর্বত্র এ শব্দসমুহের উল্লেখ রয়েছে। এ শব্দগুলোর অর্থ ও পরিচয়ও মহান আল্লাহ তায়ালাই বর্ণনা করে দিয়েছেন।
বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশে যে সময়টিতে রোজা সমাপ্ত করা হয় অর্থাৎ ইফতার করা হয় এ সময়টি হল ‘সন্ধ্যা’ বা ‘শাফাক্ব’। “…….রোজা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত…” রাত পর্যন্ত পৌঁছুতে হলে ‘সন্ধ্যা’ সময়টি পার করতে হবে, তারপরই রাতে পৌছা যাবে, সন্ধ্যা পার না করে তো আর রাত পর্যন্ত পৌঁছা যাবে না। বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ক্যালেন্ডার, মসজিদ, মাদ্রাসা এতিমখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের ক্যালেন্ডারে ইফতারের যে সময়সূচি দেয়া থাকে তাতে তো কোরআনের নির্দেশিত সময় মানা হচ্ছে না বলে দেখা যায়। সকল ক্যালেন্ডারেই যে সময়টি ইফতারের জন্য দেয়া থাকে তা সন্ধ্যার মধ্যে পড়ে; রাত পর্যন্ত পৌঁছায় না। রাত পর্যন্ত না পৌঁছার কারণে কি রোজা অপূর্ণ থেকে যায় না? সময় হওয়ার পূর্বেই যদি কিছু খেয়ে ফেলা হয় অর্থাৎ ইফতার করে ফেলা হয় তাহলে কি রোজা ভেঙ্গে গেল না? আল্লাহ তায়ালার হুকুমকে না মেনে নিজেদের খেয়াল খুশি মত কাজ করলে আল্লাহ তায়ালা সন্তষ্ট হবেন কেন? আল্লাহ তায়ালা যা বলেছেন, তা মান্য কর এবং যেভাবে করতে বলেছেন, সেভাবে করাই আল্লাহর ইবাদাত; এতে ব্যত্যয় করার কোন সুযোগ নেই। তাহলে তা হবে আল্লাহব্যতীত অন্য কিছুর ইবাদাত করা, যা মুশরিকগণ করে থাকে। নিম্নের চিত্রে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে দেয়া হলঃ
মহান আল্লাহ তায়ালা দিন ও রাত সহ ২৪ ঘন্টার মধ্যবর্তী সময়ের বিভিন্ন ভাগের বা বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন নাম ব্যবহারের মাধ্যমে সে সকল সময়কে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া বাংলা ভাষাতেও ‘রাত’-এর আরবী যে ‘লাইল’ তা বাংলা ভাষাভাষী মানুষের নিকট বহুল প্রচলিত ও বহুল ব্যবহৃত। এ অঞ্চলের প্রতিটি মুসলমানের নিকট ‘লাইলাতুল বরাত’ মানে যে ‘ভাগ্য রজনী’, ‘লাইলাতুল ক্বদর’ মানে যে ‘মহিমান্বিত রজনী’ তা সুপরিচিত। ‘লাইল’ অর্থ কোন ভাবেই ‘সন্ধ্যা’কে বা ‘সূর্যাস্তের সময়কে’ মনে করে না। বাংলা ভাষায়ও এমন ধরনের অর্থ প্রকাশ করে না। বরং ‘সন্ধ্যা’কে পবিত্র কোরআনে ‘শাফাক্ব’, ‘সুর্যের অস্তকালীণ’ সময়কে গুরুবিস্ বলে অভিহিত করা হয়েছে। এ সময়গুলো অবশ্যই ‘রাত’ নয়। রাত আসবে সন্ধ্যা পার হওয়ার পর। সুতরাং সন্ধ্যা পার করার পরই রাত আসে এবং রাত আসার পরই রোজা পূর্ণ হয়ে থাকে। সন্ধ্যার সময় কোন খাদ্য খেলে অর্থাৎ রোজা ভঙ্গ হওয়ার মত কোন কাজ করলে অবশ্যই রোজা পুর্ণ হবে না এবং আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার দায়ে দায়ী হতে হবে নিঃসন্দেহে। ‘প্রভাতকাল’ বা ‘ভোর’ সম্পর্কে সূরা মুদাসসিরের ৩৪নং আয়াতে ‘সুবহ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। সূর্যাস্তের সময়কে ‘গুরুবিস শামস’ বলে সূরা ত্বাহার ১৩০নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে যে রক্তিম আভা বা লালিমার সৃষ্টি হয় এবং যা সাধারণতঃ ঋতুভেদে ১৮ থেকে ২৬ মিনিট বিদ্যমান থাকে সেই সময়কে সুরা ইনশাক্বাক্ব এর ১৬ নং আয়াতে শাফাক্ব বলে উল্লেখ করা হয়েছে যার বাংলা অর্থ হল ‘সন্ধ্যা’ বা ইংরেজিতে ঊাবহরহম। শাফাক্বের পূর্ণ সমাপ্তির পরই যে ‘লাইল’ বা ‘রাত’ শুরু হয় তাও সূরা ইনশিক্বাক্ব এর ১৬ ও ১৭ নং আয়াতে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, “আমি শপথ করি সন্ধ্যাকালীন লাল আভা ও রাতের”। এখানে মহান আল্লাহ ‘সন্ধ্যা’ ও ‘রাত’কে আলাদাভাবে দেখিয়ে বর্ণনা করেছেন। রাত সম্পর্কে মহান আল্লাহ সুরা বনী ইসরাঈলের ১২ নং আয়াতে বলেনঃ “আমি রাত ও দিবসকে করিয়া দিয়াছি দুটি নিদর্শন, অতঃপর রাত্রির নিদর্শনকে নিশপ্রভ এবং দিবসের নিদর্শনকে উজ্জ্বল করিয়া দিয়াছি; যেন তোমরা তোমাদের রবের দেয়া জীবিকা অন্বেষণ করতে পার”। সুরা ইয়াসীনের ৩৭ নং আয়াতে বলা হয়েছেঃ “আর তাদের জন্য আরেকটি নিদর্শন হল রাত, আমিই তার থেকে দিনকে অপসারণ করি, তখনই তো তারা অন্ধকারে পতিত হয়”। সূরা আস্এর ৩ নং আয়াতে বলা হয়েছেঃ “দিনের শপথ যখন সূর্যকে প্রখরভাবে প্রকাশ করে”। ৪ নং আয়াতে বলা হয়েছেঃ “রাতের শপথ যখন সে সূর্যকে আচ্ছাদিত করে।” সূরা লাইল এর ১ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “রাতের শপথ যখন সে আচ্ছন্ন করে” এবং ২ নং আয়াতে বলা হয়েছেঃ “শপথ দিনের যখন সে আলোকিত করে”। এমনিভাবে অসংখ্য আয়াতে রাতের ব্যাখ্যা ও পরিচয় দেয়া হয়েছে। লেখার কলেবর বৃদ্ধি না করে শুধুমাত্র কয়েকটি সূরার নাম ও আয়াত নং উল্লেখ করা হল, যেমনঃ সূরা দোহার আয়াত নং ২; সূরা ফোরকানের আয়াত নং ৫, ৪৭, ৬২, সূরা নুরের আয়াত নং ২৪, ৩৬, ৪৪; সূরা নাযিয়াতের আয়াত নং ২৯ এবং সূরা বনী ইসরাঈলের আয়াত নং ৭৮। উল্লেখিত সমস্ত আয়াত থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, ‘লাইল’ বা ‘রাত’ হল এমন একটি সময় যা পরিপূর্ণভাবে অন্ধকারে আচ্ছাদিত থাকে। এ সময়ে দিনের আলোর অংশবিশেষও উপস্তিত থাকে না। ‘সন্ধ্যা’র সময়টিতে কিছু আলো ও কিছু অন্ধকার বিদ্যমান থাকে, তাইতো এ সময়টি দিনও নয় রাতও নয়, বরং ইহা ‘সন্ধ্যা’ বা ‘শাফাক্ব’ বা ঊাবহরহম। শাফাক্ব বা আছল বা আছিল বা গুরুবি শামস দ্বারা কোন অবস্থাতেই ‘লাইল’ বা ‘রাত’ বুঝায় না। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন; সন্ধ্যায় বা শাফাক্ব বা গুরুবিশ শামস পর্যন্ত নয়। অতএব বর্তমানে প্রচলিত সময়ে যে ইফতার করা হয় তা কোরানে বর্ণিত মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশের পরিপন্থি।
শেষ নবী হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) এর পবিত্র হাদিস শরীফেও এর সত্যতা পাওয়া যায়। যেমনঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ জুন-২০০৭ প্রকাশিত পবিত্র হাদিস গ্রন্থ মুয়াত্তা ইমাম মালিক এর ১ম খন্ডের ৩৫৮ পৃষ্ঠায় পরিচ্ছেদ ৩, “বিলম্ব না করিয়া ইফতার করা” প্রসঙ্গে ৮ নং রেওয়াতে বলা হয়েছে, “হুমাইদ ইবনে আবদুর রাহমান (রা.) থেকে বর্ণিত, উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) এবং উসমান ইবনে আফফান (রা.) উভয়ে মাগরিবের নামায পড়তেন এমন সময় রাত্রির অন্ধকার দেখতে পেতেন, আর ইহা ছিল ইফতার করার পূর্বে। অতঃপর তারা উভয়ে ইফতার করতেন। আর ইহা ছিল রমজান মাসে”। আল কোরআনের পর সর্বোত্তম ও সবচেয়ে বেশী নিভর্রযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হাদিসগ্রন্থ আধুনিক প্রকাশনীর প্রকাশিত সহিহ আল বোখারীর দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ২৫৬-২৫৭, হাদিস নং ১৮১৬ এ উল্লেখ করা হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে আওফ থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সাঃ) বলেছেন, “যখন দেখবে যে, পূর্ব দিক থেকে রাতের আন্ধকার ঘনিয়ে আসবে তখন ইফতার করবে”। ১৮১৫ নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, “সূর্যাস্তের পরে যখন পূর্বদিক থেকে অন্ধকার হয়ে আসবে এবং দিনের আলো পশ্চিম দিক থেকে চলে যাবে তখন রোজাদারদের জন্য ইফতারের সময় হয়”। একই গ্রন্থের ১৮১৮ নং হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, “নবী করিম (সাঃ) বলেছেন, যতদিন লোকেরা সত্ত্বর ইফতার করবে ততদিন পর্যন্ত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবে না।” এ কথার অর্থ এ নয় যে, “সময় হওয়ার আগেই সত্ত্বর ইফতার করতে নবী (সাঃ)বলেছেন।” এ হাদিসের দ্বারা আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেল যে, রাত একটি র্দীর্ঘ মেয়াদের সময়, রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করতে বলা হয়েছে, তাহলে রাতের কোন সময়টিকে ইফতারের সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এ প্রশ্ন এসে যায়। বর্ণিত হাদিস দ্বারা এ প্রশ্নের উত্তর এসে যায়; অর্থাৎ রাত হওয়ার পর সত্ত্বর ইফতার করতে নবী (স.) বলেছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় যে, মহান আল্লাহ তায়ালা ও নবী (সা.) তাঁদের বান্দা ও উম্মতকে অনেক ভালবাসেন, সারাদিন কোন কিছু না খেয়ে রোজা রাখার কারণে যে কষ্ট রোজাদারগণ করেছেন, এ কষ্ট যাতে অধিক বৃদ্ধি না পায়, সে জন্য রোজা পূর্ণ হওয়ার পর আর কষ্ট না বাড়িয়ে সত্ত্বর ইফতার করার জন্য উৎসাহিত করেছেন। রোজার পূর্ণতার জন্য অবশ্যই সন্ধ্যা পার করে রাত পর্যন্ত পৌঁছে তার পর ইফতার করতে হবে।
পবিত্র কোরআনের সূরা আল বালাদের ১৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করেছে, তারাই হল হতভাগা” এবং ২০ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “তারা পরিবেষ্টিত হবে অবরুদ্ধ অগ্নিতে।” সুরা আল বাক্বারার ১৮১নং আয়াতে বলা হয়েছে, “অতঃপর ইহা অর্থাৎ কোরআন মানার পর যদি কেউ তা পরিবর্তন করে, তবে যারা পরিবর্তন করবে অপরাধ তাদেরই।”
“বর্তমানে বংলাদেশে যে সময়ে ইফতার করা হচ্ছে তাতে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাচ্ছে, রোজা পূর্ণ হচ্ছে না। সন্ধ্যা পার করে অর্থাৎ পশ্চিম আকাশের লাল আভা চলে যাওয়ার পর রাতের আগমন হলে তারপর ইফতার করতে হবে”।
প্রচলিত সময় হতে ঋতু ভেদে ১৮ থেকে ২৬ মিনিট পর লাল আভা চলে গেলে ইফতারের প্রকৃত সময় শুরু হবে।
অতএব, হে মহা পরাক্রমশালী প্রভু, কোরআনের মালিক ও বিধান দাতা, উপরোক্ত বর্ণনা ও বিশ্লেষণের আলোকে আমল করা ও হক্ব পথে চলার সুযোগ দিন, আমিন।








