Press "Enter" to skip to content

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর প্রভাব

যে দোয়া প্রত্যাখ্যিত হয় না :  ইমাম সাদেক (আ.) থেকে বর্ণিত,

“لا يرد دعاء اوله بسم الله الرحيم”

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দ্বারা যে দোয়া শুরু করা হয় তা প্রত্যাখ্যিত হয়না। (বিহারুল আনওয়ার,আল্লামা মাজলিসি,৯০তম খণ্ড,পৃ.-৩১৩,প্রকাশনায় আল ওফা, বৈরুত,লেবানন;মুসতাদরাকে ওয়াসায়েল,মুহাদ্দেস নুরী,৫ম খণ্ড,পৃ.৩০৪,প্রকাশনায় মুয়াস্সাসে আলে বাইত,কুম;আদ দাওয়াত,কুতুব উদ্দিন রাওয়ানদি,পৃ.-৫৩ প্রকাশনায় মাদ্রসা ইমাম মাহদী (আ.) কুম ইরান)

জাহান্নাম থেকে অব্যহতি :

“اذا قال المعلم للصبى بسم الله الرحمن الرحيم وقال الصبى بسم الله الرحمن الرحيم كتب الله برائة لأبويه و برائة للمعلم”

  যখন শিক্ষক কোন শিশুকে উদ্দেশ্য করে বলে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”এবং ঐ শিশুও বলে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”আল্লাহ তা’আলা তার পিতামাতা এবং তার শিক্ষকের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির ফরমান জারী করেন।

বিসমিল্লাহর সাহায্যে পানির উপর দিয়ে চলাচল : পর্যটন,পরিভ্রমণ এবং পরিক্রম হযরত ঈসা(আ.)এর শরীয়তে ইবাদতেরই একটা অংশ ছিল। এই পর্যটন পরিভ্রমণ ও পরিক্রমের কোন এক সফরে,ঈসা (আ.) একজন বেটে লোকের সাথে সাগরের কিনারে আসলেন। ঈসা(আ.)বললেন “بسم الله بصحة منه” আর্থাৎ আল্লাহর নামে যার উপর আমার পরিপূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেই  তিনি পানির উপর দিয়ে পথ চলতে শুরু করলেন কিন্তু পানিতে নিমজ্জিত হলেন না।

বেটে লোকটাও একই বাক্য বলে পানিতে ডুবে না গিয়ে বরঞ্চ তার উপর দিয়ে হেটে যেতে লাগল। পথিমধ্যে বেটে লোকটিকে আত্ম অহংকার চেপে বসল এবং নিজে নিজে বলতে লাগল আমি ঈসার চেয়ে কোন অংশে কম,ঈসা কিসে আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ? কেননা আমিও পানির উপর দিয়ে পথ চলছি।

যখনই এমন কলুষিত চিন্তা করতে লাগল,তার পা দূর্বল হয়ে গেল এবং ডুবে যাওয়ার উপক্রম হল। সে চিৎকার করতে লাগল “হে ঈসা আমাকে উদ্ধার কর”।

ঈসা (আ.) তার হাত ধরলেন এবং তাকে মুক্তি দিলেন। তাকে জিজ্ঞেস করলেন কি হল যে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলে ?

সে বলল আমি চিন্তা করলাম তুমি কিসে আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ?

ঈসা (আ.) আমাকে বললেন,হ্যাঁ আল্লাহ তোমার জন্য যে স্থান নির্ধারণ করেছেন তা অতিত্রুম করেছ। আল্লাহ তোমার উপর রাগান্বিত হয়েছেন। সে তার ভ্রান্ত চিন্তাধারা এবং আত্ম অহংকারের জন্য তওবা করল। তখন সে প্রথমবারের মত ঈসা (আ.) এর সাথে সাগরের উপর দিয়ে পথ চলতে লাগল। (আল কফি,আল্লামা কুলাইনি,২য় খণ্ড,পৃ.-৩০৬,প্রকাশনায় দারুল কুতুবে ইসলামী, তেহরান)

শয়তানের পলায়ন : নবী (সা.) বর্ণনা করেছন,যখনই বান্দা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম তেলাওয়াত করে শয়তান তার নিকট থেকে পলায়ন করে। (লায়ালী আল-আখবার,মোহাম্মদ নবী তাওসিদকানী,৩য় খণ্ড,পৃ-৩৩৫)

ফেরেশতার সহযাত্রী নাকি শয়তানের : রাসূল (সা.) থেকে বর্ণিত,

“إِذَا رَكِبَ رَجُلٌ الدَّابَّةَ فَسَمَّى رَدِفَهُ مَلَكٌ يَحْفَظُهُ حَتَّى يَنْزِلَ وَ مَنْ رَكِبَ وَ لَمْ يُسَمِّ رَدِفَهُ شَيْطَانٌ فَيَقُولُ تَغَنَّ فَإِنْ قَالَ لَا أُحْسِنُ قَالَ لَهُ تَمَنَّ فَلَا يَزَالُ يَتَمَنَّى حَتَّى يَنْزِلَ.”

 যখন কোন মানুষ আল্লাহর নাম নিয়ে কোন বাহনের উপর আরোহণ করে তখন ফেরেশতাও তার পেছনে আরোহণ করেন এবং বাহন থেকে নামা পর্যন্ত তার রক্ষণাবেক্ষণ করেন। আর যদি আরোহণ করার সময় আল্লাহর নাম না নেয়,শয়তান তার পেছনে আরোহী হয় এবং তাকে বলে গান গাও। আর যদি বলে আমি জানিনা,তখন বলে কামনা কর। তখন সে বাহন থেকে নামা পর্যন্ত অব্যাহত ভাবে কামনা করতে থাকে। (আত তাহযিব,শেখ তুসী,৬ষ্ঠ খণ্ড,পৃ.-১৬৫,প্রকাশনায় দারুল কুতুবে ইসলামী, তেহরান;আল কফি,আল্লামা কুলাইনি,৬ষ্ঠ খণ্ড,পৃ.-৫৪০,প্রকাশনায় দারুল কুতুবে ইসলামী, তেহরান)

বেহেশতের লাইসেন্স : নবী (সা.) থেকে বর্ণিত- বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর লাইসেন্স ব্যতিত কেউ বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। এভাবে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য লেখা থাকবে। তিনি বলবেন: তাকে বেহেশতের উচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত কর,যেনো ফল-ফলাদির ডালপালাসমূহ ঝুলন্ত, বেহেশতবাসির নিকটবর্তী এবং হাতের নাগালের মধ্যে থাকে। (বিহারুল আনওয়ার,আল্লামা মাজলিসি,৮ম খণ্ড,পৃ.-২১১,প্রকাশনায় আল ওফা,বৈরুত, লেবানন)

উনিশ রকমের অগ্নিশিখা থেকে মুক্তি : আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণিত – যে কোন ব্যক্তি দোযখের ১৯ রকমের অগ্নিশিখা থেকে মুক্তি পেতে চায় ,অবশ্যই যেন ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’বলে। কেননা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর মধ্যে ১৯ টি অক্ষর আছে। আল্লাহ তা’আলা প্রতিটি অক্ষরকে ঐ অগ্নিশিখা সমূহের প্রতিটির জন্য ঢাল স্বরূপ স্থাপন করেছেন। (মুসতাদরাকে ওয়াসায়েল,মুহাদ্দেস নুরী,৪র্থ খণ্ড,পৃ.-৩৮৭,প্রকাশনায় মুয়াস্সাসে আলে বাইত,কুম)

পৃথিবীতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর নিরাপত্তা : ইমাম আলী (আ.) থেকে বর্ণিত- “যখন বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”নবী (সা.) এর উপর অবতীর্ণ হয়,নবী (সা.) বলেছেন-  প্রথমবার যখন এই আয়াত হযরত আদম(আ.)এর উপর অবতীর্ণ হল তিনি বলেছিলেন যতদিন পর্যন্ত আমার সন্তানেরা এই আয়াত তেলাওয়াত করবে তারা আল্লাহর আযাব থেকে নিরাপদ থাকবে”।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর ওসিলায় পানি অতিক্রম : জনাব সৈয়দ শাফী বরূজেদ্দী তার ‘রওজাতুল বাহিয়্যাহ’গ্রন্থে  লিখেছেন: সৈয়দ মুর্তাজা আলামুল হুদার প্রতি আস্থাশীল ব্যক্তিদের বলেছেন যে, তার বাসা পুরান বাগদাদে ছিল এবং তার একজন ছাত্রের বাসা ছিল নতুন বাগদাদে। পথের দূরত্বের কারণে সে সৈয়দের ক্লাসে ঠিকমত অংশগ্রহন করতে পারত না। কেননা সকালে সেতু পার হতে হতে সৈয়দের ক্লাস শেষ হয়ে যেত অথবা ক্লাসের কিছু অংশ অতিবাহিত হয়ে যেত। অত:পর ছাত্রটি সৈয়দের নিকট ব্যপারটি খুলে বলল এবং আবেদন জানাল ক্লাস দেরীতে শুরু করার জন্যে । সৈয়দ মুর্তজা একটি দোয়া লিখে বললেন- এই দোয়াটি  সব সময় তোমার সাথে রেখো যখনই এসে দেখবে সেতু পারাপারের জন্যে প্রস্তুত হয়নি,তখন পানির উপর দিয়ে চলতে শুরু কর এবং এ পাশে চলে এসো,ভয় পেওনা ডুবে যাবেনা! কিন্ত এই দোয়া কখনো খুলবেনা এবং তার ভিতরে কি আছে দেখবে না। অত:পর ছাত্রটি কিছুদিন সেই নির্দেশ মোতাবেক আসছিল তাকে সেতু পারাপারের অপেক্ষায় থাকতে হত না।সে পানির উপর দিয়ে হেটে যাচ্ছিল অথচ তার পা পানিতে ডুবছিল না এবং সময়মত ক্লাসে উপস্থিত হচ্ছিল। একদিন সে ভাবল এটা কি এমন দোয়া যে,এতোটাই অলৌকিক? কাগজটা খুলে ফেলল দেখতে পেল লেখা আছে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”। পুনরায় দোয়াটা মুড়িয়ে নিজের সাথে রেখে দিল। এরপর সে পূর্বের দিন গুলোর ন্যয় পানি অতিক্রম করে যেতে চাইল,কিন্ত তার পা পানিতে রাখা মাত্রই ডুবে যেতে লাগল। সে তার পা পিছনে সরিয়ে নিল। দেখল সে আর পানির উপর দিয়ে পথ চলতে পারছে না। (রওজাতুল বাহিয়্যাহ,সৈয়দ শাফী বরূজেদ্দী)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর শিক্ষা (শিখিয়ে দেওয়া) : শেখ মুর্তজা আনসারীর একজন ছাত্র বর্ণনা করেছেন- যখন শিক্ষা জীবনের প্রাথমিক স্তর শেষ করে উচ্চ শিক্ষার্থে পবিত্র নাজাফে গেলাম। তখন শেখের শিক্ষা সভায় উপস্থিত হতাম,তার পাঠের বিষয়বস্তু কিছুই বুঝতে পারতাম না এমন পরিস্থিতিতে খুবই মর্মাহত হলাম। এমতাবস্থায় হযরত আলী (আ.)এর শরণাপন্ন হলাম। রাতে স্বপ্নে হযরতের খেদমতে উপস্থিত হলাম,হযরত আলী (আ.)“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”আয়াতটি আমার কানে তেলাওয়াত করলেন। সকালে যখন শেখের শিক্ষা সভায় উপস্থিত হলাম,তার (দারস)পাঠ দান বুঝতে পারছিলাম। আস্তে আস্তে আমার উন্নতি হতে লাগল। ক‘দিন পর এমন অবস্থা হল যে,আমি ঐ শিক্ষা সভায় উপস্থিত হয়ে (বিভিন্ন বিষয়ে)আলোচনা করতাম। একদিন মিম্বারের নিচে থেকে শেখের সাথে অনেক বিষয়ে আলোচনা করলাম এবং সমস্যা তুলে ধরলাম। ঐ দিন পাঠ শেষে শেখ আনসারীর খেদমতে পৌঁছলাম। তিনি আমার কানে আস্তে করে বললেন! যিনি তোমার কানে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”তেলাওয়াত করেছেন তিনি আমার কানে“ওয়ালাদ-দ্বোয়াল্লিন”পর্যন্ত তেলাওয়াত করেছেন। এটা বলেই তিনি চলে গেলেন। আমি এই ঘটনায় অত্যন্ত আশ্চার্যান্বিত হলাম। বুঝতে পারলাম যে,শেখের অনেক কেরামত রয়েছে,কেননা এ পর্যন্ত  কারো কাছেই এ বিষয়টি ব্যক্ত করিনি ।  (শেখ আনসারীর জিবনী)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর জন্য শয়তানের ভোগান্তি :- একদিন নবী (সা.) পথ অতিক্রম করছিলেন,পথিমধ্যে তিনি দেখতে পেলেন যে,শয়তান অত্যন্ত জীর্ণ শীর্ণ ও রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। তাকে জিজ্ঞেস করলেন তোমার এ অবস্থা কেন ? বলল: হে আল্লাহর রাসূল আপনার উম্মতের কারণে অনেক কষ্ট ভোগ করছি এবং অত্যন্ত চাপের মধ্যে আছি। নবী (সা.) বললেন : আমার উম্মত তোমার সাথে কি করেছে ? বলল- হে আল্লাহর রাসূল আপনার উম্মতের ছয়টি বৈশিষ্ট্য রয়েছে,যে বৈশিষ্টগুলো দেখা বা সহ্য করার মত শক্তি আমার নেই। প্রথমত : যখনই পরস্পর মিলিত হয় সালাম করে। দ্বিতীয়ত: একে অপরের সাথে করমর্দন করে। তৃতীয়ত: যে কোন কাজ করতে চাইলে ‘ইনশা আল্লাহ’বলে। চতুর্থত: গুনাহ সমূহের জন্য তওবা করে । পঞ্চমত: আপনার নাম শোনামাত্র  দরুদ পাঠ করে। ষষ্ঠত: যে কোন কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে। (দস্তনহই আজ কোরআন কারীম,শহীদ আমীর মীর খলাফ ও কাসেম মীর খালাফ,পৃ.-৭৫)

বিসমিল্লাহ এর প্রতি নূহ(আ.)এর শরণাপন্ন হওয়া : হযরত নূহ(আ.)ঐ ভয়ানক ও কঠিন তুফানে নৌকায় আরোহণের সময়,প্রবল স্রোতের যার প্রতিটি মূহুর্ত ছিল চরম বিপদ জনক। এবং নৌকা থামার সময়ও মুখে বিসমিল্লাহ বলেছিলেন।  (তাফসীরে ইবনে কাছির,সূরা হুদ আয়াত নং-৪১)

সেতু পারাপারের সময় বিসমিল্লাহ বলা : ইমাম সাদেক (আ.) থেকে বর্ণিত,

“انّ على ذروة كل جسر شيطاناً، فاذا انتهيت اليه، فقل: بسم الله يرحل عنك”

প্রতিটি সেতুর উপরেই শয়তান থাকে। যখন সেতুর নিকট পৌঁছাবে বলবে,বিসমিল্লাহ যেন শয়তান তোমার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। (আল কফি,আল্লামা কুলাইনি,৪র্থ খণ্ড,পৃ.-২৮৭,প্রকাশনায় দারুল কুতুবে ইসলামী, তেহরান)

দস্তরখানায় ফেরেশতা : ইমাম সাদেক (আ.) রাসূল (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন – যখন খাবারের জন্য দস্তরখানা বিছানো হয় তখন চার হাজার ফেরেশতা তার আশে পাশে সমবেত হয়। যদি বান্দা বিসমিল্লাহ বলে,ফেরেশতারা বলে : আল্লাহ তোমাদের উপর এবং তোমাদের খাবারে বরকত দান করুক। এবং শয়তানকে সম্বোধন করে বলে যে,এই ফাসেক দূর হও। এদের উপর তোমার কোন কর্তৃত্ব নেই। আর যদি বিসমিল্লাহ না বলা হয়, তখন ফেরেশতারা শয়তানকে বলে এই ফাসেক এসো এবং এদের সাথে খাবার খাও।

খাবারের পর যখন দস্তরখানা উঠানো হয় এবং আল্লাহকে স্মরণ না করা হয়,ফেরেশতারা বলে : মানুষকে আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন আর তারা তাদের প্রভূকে ভূলে গেছে। (আল মোহসেন,আহমাদ বিন খালেদ বারকি,২য়খণ্ড,পৃ.-৪৩২,প্রকাশনায় দারুল কুতুবে ইসলাম কুম,ইরান)

সুন্দর করে লিপিবদ্ধ করা : রাসূল (সা.) বলেছেন –

“من كتب بسم الله الرحمن الرحيم فجوّده تعظيماً غفر الله له”

যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ তা’আলার সন্মানার্থে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”সুন্দর করে লিখল আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিল। (মুসতাদরাকে ওয়াসায়েল,৪র্থ খণ্ড,পৃ.-৩৭১;মুনিয়্যাতুল মুরিদ,পৃ.-৩৫০;বিহারুল আনওয়ার,আল্লামা মাজলিসি,৮৯তম খণ্ড,পৃ.-৩৫,প্রকাশনায় আল ওফা,বৈরুত,লেবানন)

আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা : মানুষ অবশ্যই তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে। কাজ ছোট হোক আথবা বড় হোক। বিসমিল্লাহ এর অনুগ্রহে আমাদের আমলসমূহ পবিত্রতা লাভ করবে। প্রত্যেকটি কাজে বিসমিল্লাহ বলার ফলাফল অবশ্যম্ভাবী।

ইমাম হাসান আসকারী (আ.) থেকে বর্ণিত :

“بسم الله اى استعين على امورى كلها بالله”

বিসমিল্লাহ বলার অর্থ প্রতিটি কাজে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা। (ওয়াসায়েলুস শীয়া,হুর আমেলী,৭ম খণ্ড,পৃ.-১৬৯,প্রকাশনায় মুয়াস্সাসে আলে বাইত,কুম;আত্-তাওহীদ,শেখ সাদুক পৃ.-২৩০,প্রকাশনায় জামেউল মুদাররেসিন,কুম;বিহারুল আনওয়ার,আল্লামা মাজলিসি,৮৯তম খণ্ড,পৃ.-৩৫,প্রকাশনায় আল ওফা,বৈরুত,লেবানন)

দুঃখ শোক দূরীভূত করে : আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন  -যে ব্যক্তি কোন কারণে দুঃখ পেয়ে নিষ্ঠার সাথে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”বলে এবং একাগ্রচিত্তে  আল্লাহর দিকে ধাবিত হয়,সে নিম্নের দুটোর মধ্যে যে কোন একটি ফলাফল লাভ করবে।

(১) তার পার্থিব চাহিদাগুলো মিটবে।

(২) অথবা তার চাহিদাগুলো আল্লাহর নিকট সঞ্চিত থাকবে। আর এটা স্পষ্ট যে, যা কিছু আল্লাহর নিকট আছে তা সর্বোত্তম এবং চিরস্থায়ী। (বিহারুল আনওয়ার, আল্লামা মাজলিসি,৮৯তম খণ্ড, পৃ.-২৩৩-২৪৫,প্রকাশনায় আল ওফা,বৈরুত,লেবানন)

সূরা বারাআতের প্রথমে বিসমিল্লাহ উল্লেখ না করার কারণ : আলী (আ.) বলেছেন –

“لم تنزل بسم الله الرحمن الرحيم على رأس سورة برائة لأنّ بسم الله للأمان و الرحمة و نزلت برائة لرفع الامان و السيف فيه”

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সূরা বারাআতের প্রথমে আবতীর্ণ হয়নি। কেননা বিসমিল্লাহ নিরাপত্তা এবং রহমতের জন্য। আর সূরা বারাআত নিরাপত্তা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য (অঙ্গিকার ভঙ্গকারী কাফেরদের থেকে) অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর মধ্যে তরবারী (জিহাদ) নিহিত আছে। (তাফসীরে আছ ছাফী,২য় খণ্ড,পৃ.-৩১৮)

জাহান্নামের আগুন দূরীভূত হওয়া : রাসূলে আকরাম (সা.) বলেছেন,কিয়ামতের দিন আল্লাহর কিছু বান্দাদের আদেশ করা হবে,দোযখের আগুনে প্রবিষ্ঠ হও। যখন তারা জাহান্নামের নিকটবর্তী হয়ে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”বলে পা দোযখে রাখবে,দোযখের আগুন সত্তর হাজার বছরের পথের সমান তার থেকে দূরে সরে যাবে। (মিনহাজুস সাদেকীন,১ম খণ্ড,পৃ.৩৩)

বেহেশতের দরজায় বিসমিল্লাহ :  আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন –

“لمّا اسرى بى الى السّماء رأيت على باب الجنة… بسم الله الرحمن الرحيم الصدقة بعشرة”

মেরাজের রাত্রিতে আমি বেহেশতের দরজার উপর দেখলাম লেখা রয়েছে “ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সদকার চেযে দশগুন বেশী পুরুস্কারের সমান।

পাপ সমূহ নিশ্চিহ্ন হওয়া : কিয়ামতের দিন বান্দাকে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করা হবে এবং  পাপপূর্ণ আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে। আমলনামা নেবার সময় পৃথিবীতে কর্মসমূহ সম্পাদনের অভ্যাস অনুযায়ী যখন সে বিসমিল্লাহ বলে আমলনামা হাতে নেবে তখন সেটাকে সাদা দেখতে পাবে যেন তার পাপসমূহের কিছুই তাতে লেখা হয়নি।

সে বলবে : এখানে কিছু লেখা নেই যে পড়ব।

ফেরেশতারা বলবে :এই আমলনামার পূরোটাতেই তোমার পাপাচার ও খারাপ কাজসমূহ লেখা ছিল। কিন্ত“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”বলার বরকতে,তোমার পাপসমূহ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এবং পরম করুণাময় আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। (মিনহাজুস সাদেকীন,১ম খণ্ড,পৃ.৩৩)

সর্বোত্তম পুরুস্কার : নবী (সা.) বলেছেন – যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম তেলাওয়াত করবে,তার প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে চার হাজার পূণ্য লেখা হবে এবং হাজার গুনাহ বিনষ্ট করে ফেলা হবে। আর তাকে মর্যাদার চার হাজার স্তর উপরে নিয়ে যাওয়া হবে।  (মুসতাদরাকে ওয়াসায়েল,মুহাদ্দেস নুরী,৪র্থ খণ্ড,পৃ.-৩৮৭,প্রকাশনায় মুয়াস্সাসে আলে বাইত,কুম,ইরান)

আল্লাহর নামের মহত্ম : নবী করিম (সা.) থেকে বর্ণিত যদি কেউ “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”লিখিত কোন কাগজ আল্লাহ এবং তার পবিত্র নামের সন্মানার্থে,মাটি থেকে তুলে নেয়, আল্লাহর নিকট সে সত্যবাদীদের শ্রেণীভূক্ত হিসেবে গণ্য হবে এবং তার পিতা মাতার গুনাহসমূহ  হ্রাস করে দেয়া হবে যদিও সে মুশরেক হয়।  (এরশাদুল কুলুব,দেইলামী,১ম খণ্ড,পৃ. ১৮৫,শরীফ রাজী,কুম;মাজমুয়াতু ওয়ারাম, ওয়ারাম বিন আবি ফিরাস,১ম খণ্ড,পৃ.৩২,মাকতাবাতুল ফাকিহ,কুম,ইরান)