Press "Enter" to skip to content

ইসলামের দৃষ্টিতে নামাযে হাত বাঁধা এবং খোলার বিধান

লেখক : নাজমুদ্দীন তাবসী

অনুবাদক : মজীদুল ইসলাম শাহ

নামাযে হাত খোলা এবং বাঁধা এটা এমন একটি প্রশ্ন যা সব সময় মানুযের মস্তিষ্কে ভেসে ওঠে সেটি হল এই যে, নামাযে হাত বাঁধা জায়েয, কি জায়েয নয়?

খেলাফ, গুনিয়া, এবং দুরুস এই সমস্ত পুস্তক গুলিতে বর্ণিত হয়েছে যে, শিয়া মতানুযায়ী নামাযে হাত বাঁধা জায়েয নয়।

সৈয়দ মুর্তাযা নিজের পুস্তক আল ইন্তেসারে দাবী করেছেন হাত বাঁধা জায়েয নয় এবং উক্ত বিষয়ের উপর আহলে বায়েত(🙂 থেকে অনেক রেওয়ায়েতও বর্ণনা করেছেন। আহলে সুন্নাতের মধ্যেও ইমামে মালিক এবং কিছু ফোকহা হাত বাঁধাকে মাকরুহ বলে জানতেন শুধু তাই নয় তাবেইন এবং কিছু সাহাবা থেকে বর্ণনা হয়েছে যে, তাঁরা নামাযে হাত খোলার পক্ষে বিশ্বাস পোষণ করতেন।  (বেদায়াতুল মুজতাহিদ ১:১৩৬)

আহলে সুন্নাতের মধ্যে উক্ত বিষয় সম্পর্কে মতভেদ পাওয়া যায়। হযরত মুহম্মাদ(🙂 এর নামায সম্পর্কে সঠিক রেওয়ায়েত আছে যেমন ভাবে ইবনে রাশাদ এই সত্যতার দিকে ইশারা করেছেন। যে, হযরত মুহম্মাদ(🙂 নামাযের সময় হাত বাঁধতেন না।

ইবরাহিম নাখহী (যিনি আহলে সুন্নাতের চারজন খলিফার পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন) হাত খুলে নামায পড়ার পক্ষপাতি ছিলেন।

ঠিক এমন ভাবে তাবেয়ী হাসান বাসরী যাকে আহলে সুন্নতরা ‘শিক্ষা ও আমলে’ সেই যুগের সরদার হিসেবে গ্রহণ করত তিনিও হাত ছেড়ে নামায পড়তেন। ইবনে সিরিন, লেস বিন সায়াদ, আব্দুল্লাহ ইবনে যোবায়ের যারা সাহাবী ও মালেকী মাযহাবে বিখ্যাত ছিলেন। তারা এবং পশ্চিমী বাসীরাও (হাত ছেড়ে নামায পড়া) এই উক্তির বিশ্বাসী ও এই উক্তির উপর আমল করতেন।  (সায়রে আলামুল নাবলা ৪:৫৭১)

 আহলে সুন্নতদের তিনটি মতামত

আহলে সুন্নতদের মধ্যে নামাযে হাত বাঁধার সম্পর্কে তিনটি ভিন্ন মতামত পাওয়া যায়।

১- হাত বেঁধে নামায পড়া মাকরুহ। ২- হাত বেঁধে নামায পড়া অপছন্দ কর্ম নয় এবং হাত না বাঁধাও মুসতাহাব নয়। ৩- মুসতাহাব ।  (আল বায়ান ওয়াত তাহসিল খ:১ পৃ:৩৯৪)

এখনও পযর্ন্ত আমরা আহলে সুন্নাতদের এমন কোনো পুস্তকের সন্ধান পাইনি যার মধ্যে লেখা আছে যে হাত বেঁধে নামায পড়া ওয়াজিব। এখানে ওয়াজিবের সম্পর্ক শুধু মাত্র সাধরণ মানুষের দিকে দেওয়া হয়েছে।  (আল ফিকুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতেহ খ:৪ পৃ:৮৭৪, আল মাজমু খ:৩ পৃ:৩১৩, আল মাবসুত সারাখসী খ:১ পৃ:২৩)

আহলে সু্ন্নাতদের পুস্তকে উক্ত বিষয় সম্পর্কে যে রেওয়ায়েত ও সুত্র গুলো বর্ণনা হয়েছে যদিও রেওয়ায়েত গুলো দুর্বল তার সংখ্যা ২০ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে তার মধ্যে একটি রেওয়ায়েত আবু হাযিম থেকে সহীহ বুখারীতে বর্ণনা হয়েছে। কিন্তু যেমন ভাবে আয়নী, শৌকানী এবং অন্যান্য ফুকাহরা এই বিষয়ে ব্যাখ্যা করেছেন যে, উক্ত হাদীস গুলোর মধ্যে মুরসাল ও মুনকাতে হওয়ার সন্দেহ পাওয়া যায়। (সহীহ বুখারী খ:১ পৃ: ১৩৫, উম্দাতুল কারী ফি শারহে সহীহ বুখারী খ:৫ পৃ:২৮০, নেইলুল আওতার খ:২ পৃ:১৭৮)

ঠিক এই ভাবে দ্বিতীয় হাদীস সহীহ বুখারীতে আবুঅয়েল থেকে বর্ণনা হয়েছে এবং উক্ত হাদীসেও মুরসাল ও মুনকাতে হওয়ার সন্দেহ পাওয়া যায়। তার কারণ আলকামা যে রেওয়ায়েত নিজের পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন সেটা মুরসাল, যার সঠিক হওয়ার উপর ইবনে হাজার পরিষ্কার ভাবে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন।  (তাহযীব আল তাহযীব খ:৮ পৃ: ৩১৪)

এবং অন্য রেওয়ায়েত গুলোর সম্পর্কে বলা যেতে পারে যে, আহলে সুন্নাতের নিকট সেই হাদীস গুলো দুর্বল বলে বর্ণনা করা হয়েছে এবং আসহাবে সুনান ও জয়ামে ও ‘উলমায়ে রেজাল’ এটাকে স্বীকার করেছেন তাই উক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের উপর বিশ্বাস করা যায় না। এই কারণে নামাযে হাত বাঁধার উপর কোনো প্রমাণ ও দলিল পাওয়া যায় না।

এছাড়া এটা এক ধরনের আমল ও কর্ম যা নামাযে জায়েয হওয়ার উপর কোনো রকম প্রমাণ নেই। এই কারণে হাত বাঁধা জায়েয এবং সুন্নাত বা নামাযের আদব এই নিয়ত করে নামায আদায় করা অবশ্যই হারাম। কেননা হাত বেঁধে নামায আদায় করা জায়েয এই বিষয়ে শরিয়তে কোনো দলিল ও প্রমাণ পাওয়া যায়নি কিন্তু হাত বাঁধা থেকে বিরত রাখার জন্য বহু হাদীস বর্ণনা হয়েছে।  (মিসবাহুল ফাকিহ খ:১ পৃ: ৪০১)

আহলে বায়েত(🙂 এই ধরনের কর্ম থেকে নিষেধ করেছেন তাছাড়া নামাযে হাতের উপর হাত রাখা এটা এক ধরনের আমল যা নামাযের মধ্যে জায়েয নয়। যেমন ভাবে ইবনে রুশদ্ উক্ত বিষয়ের জায়েয না হওয়ার উপর পরিষ্কার ভাবে ইশারা করেছেন।

আর ইমামগণ এই কর্মকে (تکفیر) তাকফীর বলে ধারণা করেন। এই কর্ম রসূল(:)’র সুন্নাত নয়, কারণ এই কর্ম অগ্নিপুজারীদের মধ্যে প্রচলিত ছিল যা পরিষ্কার ভাবে বোঝা যায়।  (আয়নায়ে আয়ীনে মাযদিসনী পৃ:২০)

নামাযে হাত বাঁধা সম্পর্কে আহলে সুন্নাত ফুকাহদের মধ্যে বিভিন্ন মতবাদ পাওয়া যায় যে, হাত নাভির উপরে রাখা ঠিক, না নাভির নীচে? ডান হাত বাম হাতের উপর, না বাম হাত ডান হাতের উপর রাখা উচিত?

এখানে একটা প্রশ্ন ভেসে ওঠে যে, এমন একটা কর্ম যার গুণ বা পদ্ধতি নির্দিষ্ট নয়, সেই কর্ম কিভাবে সুন্নাতে মুয়াক্কেদা হতে পারে? এবং এটা কিভাবে হতে পারে যে, যে সাহাবীগণ মুস্তাহাব নামায, জানাযার নামাযে, ঈদের নামায ও পাঁচ ওয়াক্তের নামায রসূল(:)’র ইক্তেদায় আদায় করতেন, সেই সাহাবীদের কাছে (হাত বেঁধে নামায আদায় করা) এই পদ্ধতি কিভাবে গোপন থাকতে পারে?

এই সমস্ত সাক্ষ্য ও প্রমাণ থেকে বোঝা যায় যে, এই সমস্ত জিনিস রসূল(:)’র যুগে ছিল না। এই কারণে বলা যেতে পারে যে, যেমন নামাযে হাত বাঁধা, ‘নামাযে তারাবিহ’ জামাতের সঙ্গে আদায় করা, আযানে ‘আসসালাতো খায়রুম মিনান নাওম’ প্রবেশ করানো, ‘হাইয়া আলা খায়রিল আমাল’ আযান থেকে সরানো, ‘মুতয়াতুল হজ্’ ও ‘মুতয়াতুন নিকাহ’ হারাম করা এবং হাদীস লেখা থেকে নিষেধ করা এই সমস্ত বিষয় রসূল(🙂’র যুগে ছিল না পরবর্তীকালে এই বিষয় গুলোকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

আহলে বায়েত(:)’র রেওয়ায়েত

আহলে বায়েত(🙂 থেকে বহু রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে যেখানে নামাযে হাত বাঁধাকে নিষেধ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, এই সমস্ত কর্ম অগ্নিপুজারীদের তোমরা এই কর্ম করো না:

১- (عن احدهما علیهما السلام قلت: الرجل یضع یده فی الصلاة ،وحکی الیمنی علی الیسری؟ فقال: ذلک التکفیر، لا تفعل.)

অর্থ: রাবী বলছেন: আমি ইমাম বাকের ও সাদিক(🙂’র মধ্যে এক জনের কাছে প্রশ্ন করলাম যে, এক ব্যক্তি নামাযে হাত বাঁধে আর বলা হল যে, ডান হাত বাম হাতের উপর রাখে। ইমাম বললেন: এটা একটি অবিশ্বাসী কর্ম একর্ম করো না।  (ওসায়েলুশ শিয়া খ:৭ পৃ: ২৬৬ বাব ১৫, মুয়াস্সেসায়ে আহলে বায়েত; মিরাতুল উকুল খ: ১৫ পৃ:৭৪)

আল্লামা মাজলিসী এই হাদীস বর্ণনা করার পর বলছেন: এই হাদীস ‘হাসান’ এবং ‘সহীহ’র সমতুল্য। আর ‘তাকফির’ এর অর্থ হচ্ছে হাতের উপর হাত রাখা যা আহলে সুন্নাতেরা করে থাকে। এবং এটা থেকে নিষেধ করার কারণ হল এটাকে হারাম করা হয়েছে যেমন ভাবে আমাদের বেশির ভাগ ওলেমাদের বিশ্বাস এইটাই।

২- (عن ابی جعفرعلیه السلام: وعلیک بلاقبال علی صلاتک…ولاتکفّرفانّما یفعل ذلک المجوس)

অর্থ: ইমাম বাকের(🙂 বলছেন: নামাযের সময় কিবলার দিকে মুখ কর…এবং অবিশ্বাসী কর্ম করো না কারণ এটা অগ্নিপুজারীদের কর্ম।  (ওসায়েলুশ শিয়া খ: ৫ পৃ: ৫১১ বাব ১৭, হাদীস ২ পৃ: ৪৬৩; মিরাতুল উকুল খ: ১৫ পৃ: ৭৪)

৩- (علی بن جعفر قال: قال اخی: قالعلی بن الحسین علیه السلام: وضع الرجل احد یدیه علی الاخری فی الصلاة عمل، ولیس فی الصلاة عمل)

অর্থ: আলী বিন জাফর বলেছেন আমার ভাই ইমাম মুসা কাযিম(🙂 বললেন যে, ইমাম যায়নুল আবেদিন(🙂 বলেছেন: নামাযে এক হাতকে অপর হাতের উপর রাখা এক ধরনের আমল আর নামাযে কোনো ধরনের আমল করা জায়েয নয়।  (ওসায়েলুশ শিয়া খ:৫ পৃ: ৫১১ বাব ১৭, হাদীস ২ পৃ:৪৬৩; মিরাতুল উকুল খ: ১৫ পৃ:৭৪)

৪- (علی بن جعفر(عن اخیه موسی بن جعفر)وسالته عن الرجل یکون فی صلاته ایضع احد یدیه علی الاخری بکفّه او ذراعه؟ قال:لایصلح ذلک، فان فعل فلایعود له)

অর্থ: আলী বিন জাফর নিজের ভাই ইমাম মুসা কাযিম(🙂’র সম্পর্কে বলেছেন যে, আমি তার কাছে এমন এক ব্যক্তির সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম যিনি নামাযের অবস্থায় আছেন সে কি নিজের হাতকে কুনই বা বাহুর উপরে রাখতে পারে? ইমাম বললেন: এই কাজ ঠিক নয় যদি এই কাজ করে থাকে তাহলে তাকে পুনরাবৃত্তি যেন না করে।  (ওসায়েলুশিয়া খ:৫ পৃ: ৫১১ বাব ১৭,হাদীস ২ পৃ:৪৬৩; মিরাতুল উকুল খ: ১৫ পৃ:৭৪)

৫- (عن علی علیه السلام فی حدیث اربعماة:قال: لا یجمع المسلم یدیه فی صلاته و هو قائم بین یدی الله عزّوجلّ ، یتشبّه باهل الکفر یعنی المجوس)

অর্থ: ইমাম আলী(🙂 হাদীসে ‘আরবায়ামেয়া’ নামক গ্রন্থে বলেছেন: মুসলমানদের জন্য জায়েয নয় যে, যখন তারা নামাযের জন্য আল্লাহর দরবারে দাঁড়াবে নিজের হাতকে গুটিয়ে নেবে কারণ তারা নিজেদের এই কর্মের দ্বারা আহলে কুফর অর্থাৎ অগ্নিপুজারীদের মতো হয়ে যাবে।  (ওসায়েলুশিয়া খ:৫ পৃ: ৫১১ বাব ১৭,হাদীস ২ পৃ:৪৬৩; মিরাতুল উকুল খ: ১৫ পৃ:৭৪) 

৬- (عن ابی عبدالله علیه السلام فی حدیث: انّه لمّا صلّی قام مستقبل القبلة، منتصبا، فارسل یدیه جمیعا علی فخذیه قد ضمّ اصابعه)              অর্থ: ইমাম সাদিক(🙂’র সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন ইমাম নামাযের জন্য দাঁড়াতেন তখন কিবলার দিকে মুখ করে নিজের হাতকে রানের উপরে রাখতেন আর আঙ্গুলগুলোকে জড়ো করে নিতেন।  (ওসায়েলুশ শিয়া খ:৫ পৃ: ৫১১ বাব ১৭, হাদীস ২ পৃ: ৪৬৩; মিরাতুল উকুল খ: ১৫ পৃ: ৭৪)

৭- (عن ابی جعفر علیه السلام: قال: اذا قمت الی الصلاة فلا تلصق قدمک بالاخری…واسد منکبیک وارسل یدیک ولا تشبّک اصابعک ولیکونا علی فخذیک قبالة رکبتیک… لا تکفّر فانما یفعل ذلک المجوس)

অর্থ: ইমাম বাকের(🙂 বলেছেন: যখন নামাযের জন্য দাঁড়াবে তখন নিজের পা কে মিলাবে না, কাঁধকে ঝুকিয়ে নাও, হাত খুলে রাখো, আঙ্গুল গুলোকে এক ওপরের উপরে রাখবে না, এবং নিজের হাতকে রানের উপরে রাখো…এবং অবিশ্বাসী কর্ম করো না তার কারণ এসব অগ্নিপুজারীদের নিয়ম কানুন। (ওসায়েলুশিয়া খ:৭ পৃ:২৬৭ বাব ১৫ হাদীস ৭)

৮- (المجلسی عن الجامع البزنطی عن ابی عبدالله علیه السلام:فاذا قمت فی صلاتک فاخشع فیها…ولا تکفّر)

অর্থ: আল্লামা মাজলিসী জামেয় বাযানতী থেকে ইমাম জাফর সাদিক(🙂’র সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম বললেন: যখন নামায আদায় করার ইচ্ছে হবে তখন মনোযোগ ও বিনয়ের সাথে নামায আদায় করবে আর অবিশ্বাসী কর্ম করবে না।  (বেহারুল আনওয়ার খ:৮৪ পৃ:১৮৬ হাদীস ১; মুসতাদরাকুল ওসায়েল খ:৫ পৃ:৪২০)

৯- (القاضی نعمان المصری عن جعفر بن محمد علیه السلام انّه قال: اذا کنت قائما فی الصلاة فلا تضع یدک الیمنی، فانّ ذلک تکفیر اهل الکتاب، ولکن ارسلهما ارسلا ، فانّهاحری ان لایشغل نفسک عن الصلاة)

অর্থ: কাযী নমান মিসরী ইমাম সাদীক(আ:)’র থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম বললেন: যখন নামাযের জন্য দাঁড়াবে সেই সময় নিজের ডান হাতকে বাম হাতে বা বাম হাত ডান হাতের উপর রাখবে না, কারন এটা আহলে কিতাবদের কাজ তোমরা হাত খুলে রাখো। সুতরাং তোমাদের জন্য এটাই ভাল যে, তোমরা নিজেকে নামায ছাড়া অন্য আমলের দিকে নিয়ে যেও না।  (দায়ায়েমুল ইসলাম খ:১ পৃ:১৫৯; মুসতাদরাকুল ওসায়েল খ:৫ পৃ:৪২০)

১০- (عن ابی جعفرعلیه السلام قال: قلت له (فصلّ لربک ونحر)؟ قال: النحرالاعتدال فی القیام ان یقیم صلبه و نحره . وقال: ولا تکفّر ، فانّما یصنع ذلک المجوس)

অর্থ: ইমাম বাকের(🙂 থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ইমামের কাছে প্রশ্ন করা হল যে, (فصلّ لربک ونحر) এর উদ্দেশ্য কি? ইমাম বললেন: (نحر) এর অর্থ হল কেয়ামের সময় ভারসাম্যকে বজায় রাখা ঠিক এমন ভাবে যেন পিঠ আর গলা যেন সোজা হয়ে থাকে, আরও বললেন: অবিশ্বাসী কর্ম থেকে দুরে থাকো কারণ এ গুলো অগ্নিপুজারীদের নিয়ম কানুন।  (উসুলে কাফী খ:৩ পৃ:৩৩৭)

শিয়া ফকিহদের মতামত

১- শেখ মুফীদ(🙂 বলেছেন: নামাযে হাত ছেড়ে রাখা এই বিষয়ে শিয়ারা এক মত। এবং শিয়ারা আহলে কিতাবদের মতো (تکفیر) অর্থাৎ এক হাতকে অন্য হাতের উপর রাখাকে জায়েয মনে করেন না। শুধু তাই নয় যারা এই ধরনের বিদআত কর্ম করে থাকে তারা সুন্নাতে রসূল এবং আইম্মাগণের সুন্নাতকে অস্বীকার করে।  (কিতাবুত তাযকেরা খ:৩ পৃ:২৫৩)

২- সৈয়দ মুর্তাযা(🙂 বলেছেন: ওই সমস্ত কর্ম যে গুলোর সম্পর্কে ধারণা করা হয় যে, এই কর্ম গুলো শিয়াদের থেকে নির্ধারিত হয়েছে। তার মধ্যে থেকে একটি হল নামাযে হাত না বাঁধা কারণ ইমামিয়া ছাড়া অন্য ফির্কাদের বিশ্বাস হল নামাযে হাত বাঁধা মাকরুহ। তহাভি ‘ফকিহদের’ মতভেদকে বর্ণনা করে বলেছেন: ইমামে মালিকের দৃষ্টিতে যদি মুসতাহাব নামাযে রুকু দীর্ঘ হয়ে যায়, তাহলে ওই সময় হাত বাঁধা জায়েয কিন্তু আমার দৃষ্টিতে হাত না বাঁধা সর্বত্তোম।  (আল ইনতেসার পৃ:২২)

৩- শেখ তুসী(🙂: নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর বা বাম হাত ডান হাতের উপর রাখা জায়েয নয়। ইমামে মালিক থেকে দুটি রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে যার মধ্য থেকে একটি হল ইমামে শাফেয়ীর কথা অনুযায়ী নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা জায়েয। এবং ইবনে কাসিম থেকে যে রেওয়ায়েত এসেছে তাতে হাত খুলে রাখাকে উত্তম বলা হয়েছে।

আর ইমামে মালিকের কথা অনুযায়ী মুসতাহাব নামাযে যখন কেয়াম দীর্ঘ হয়ে যাবে তখন হাত বাঁধা জায়েয, আর যদি দীর্ঘ না হয় তাহলে জায়েয নয়। কিন্তু ওয়াজিব নামাযে এসব জায়েয নয়। ঠিক এই ভাবে লায়েস বিন সায়াদেরও এই উক্তি যে, যদি ক্লান্তবোধ হয় তাহলে হাত বাঁধা ঠিক, আর যদি ক্লান্তবোধ না হয় তাহলে হাত বাঁধা ঠিক নয়। এবং ইমামে মালিকেরও একই উক্তি।

আমাদের প্রমাণ: আমাদের ইজমা আছে যে, নামাযে হাত বাঁধা যা নামাযকে বাতিল করে দেয় এই উক্তিতে ইমামিয়া ফিরকাদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। তাছাড়া নামাযের কোনো অংশকে প্রমাণ করার জন্য শরয়ী প্রমাণের দরকার হয় আর সেই প্রমাণ শরীয়তে নেই, তাই সতর্কতামুলক নামাযে হাত বাঁধা থেকে বিরত থাকা উত্তম। কারণ এতে সন্দেহ নেই যে, ঐরকম নামায যাতে হাত বাঁধা হয়নি সেটা সম্পূর্ণ ঠিক এবং দ্বিতীয় কথা এই যে, নামায সঠিক হয়েছে কি না তা থেকে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।  (আল খেলাফ খ:১ পৃ:১০৯)

৪- শেখ বাহায়ী(🙂: (تکفیر) তাকফীর’র অর্থ হচ্ছে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা যা আহলে সুন্নাতেরা করে থাকেন এবং বেশির ভাগ ফকিহরা এর হারাম হওয়ার কারণে নিষেধ করেছেন।

প্রশ্ন: তাকফীরের দ্বারাই কি নামায বাতিল হয়ে যায়?

বেশীর ভাগ ওলেমাগণ বলেছেন তাকফীরের দ্বারাই নামায বাতিল হয়ে যায় শুধু তাই নয় শেখ তুসী ও সৈয়দ মুর্তাযা এই বিষয়ের উপর ইজমা বলে নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন।   (আল হাবলুল মাতিন পৃ:২১৪; মালাযাল আখিয়ার খ:৩ পৃ:৫৫৩)

নামাযে হাত বাঁধা কোথা থেকে শুরু হয়?

বিভিন্ন ইতিহাস থেকে পাওয়া যায় যে, নামাযে হাত বাঁধা হযরত ওমর(🙂’র বিদআত সৃষ্টি যা তিনি আজমী বন্দিদের নিকট থেকে নিয়েছেন।

মহাক্কিকে নাজাফী থেকে বর্ণিত:

(حکی عن عمرلمّا جیء باساری العجم کفّروا امامه ،فسال عن ذلک ،فاجابوه: بانّا نستعمله خضوعا و تواضعا لملوکنا ،فاستحسن هو فعله مع الله تعالی فی الصلاة ،و غفل عن قبح التشبّه بالمجوس فی الشرع)

অর্থ: যখন দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর(🙂’র কাছে আজমী বন্দিদেরকে নিয়ে আসা হল তখন তারা খলিফার সামনে নিজের হাতকে অপর  হাতের উপর রাখলো। খলিফা তাদেরকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলেন তারা বলল আমরা আমাদের বাদশাহর সামনে বিনয় দেখানোর জন্যে এই ভাবে করে থাকি, খলিফার এই কর্মটি পছন্দসই মনে হল এবং নামাযে আল্লাহর নিকট এইভাবে করতে শুরু করলো কিন্তু অসচেতন ছিল যে, শরিয়তে অগ্নিপুজারিদের কোনো জিনিসকে প্রবেশ করানো জায়েয নয়! কিন্তু উক্ত বিষয়ের উপর ইতিহাসের পুস্তকে আমরা কোনো রকম প্রমাণের সন্ধান পাইনি।

আহলে সুন্নাত ফকিহদের মতামত

১- মাদুনাতুল কুবরা (ইবনে কাসীমের কথা আনুযায়ী ইমাম মালিকের মতামত):

ইমাম মালিক নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখার সম্পর্কে বলেন যে, এটা আমার দৃষ্টিতে ‘ওয়াজিব নামাযে’ জায়েয নয়। ইমাম মালিক এটাকে মাকরুহ বলেছেন, কিন্তু মুসতাহাব নামাযে জায়েয করেছেন, যে গুলোতে রুকু দীর্ঘ হয়।  (মাদুনাতুল কুবরা খ:১ পৃ:৭৬)

২- কুরতুবী বলেন: নামাযে এক হাত অপর হাতের উপর রাখা সম্পর্কে ওলেমাদের মধ্যে মতভেদ পাওয়া যায়। ইমামে মালিক ওটাকে ‘ওয়াজিব নামাযে’ মাকরুহ বলেন কিন্তু ‘মুসতাহাব নামাযে’ জায়েয বলেন। (جمهور اهل سنّت) অর্থাৎ আহলে সুন্নাতের সমষ্টিগত মতামত এই যে, এক হাতকে দ্বিতীয় হাতের উপর রাখা এটা একটি মুসতাহাব কর্ম। তাদের এই মতভেদের কারণ হল যে, রসূল(🙂’র নামাযের সম্পর্কে ওই প্রমাণিত চিহ্ন যার মধ্যে কোনো ধরনের রসূল(🙂’র নামাযে হাত বাঁধার সম্পর্কে ইঙ্গিত করা হয়নি। অন্য দিকে মানুষদেরকে আদেশ দেওয়া হল। আবু হামিদের রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে যে, রসূল(🙂 এই ধরনের আমল করতেন।

এই কারণে কিছু মানুষের মতামত এই যে, যে সমস্ত রেওয়ায়েত ও চিহ্ন গুলিতে নামাযে হাত বাঁধার প্রমাণ পাওয়া যায় তাতে ওই রেওয়ায়েত সম্পর্ক একটি অতিরিক্ত জিনিসের দিকে আহবান করা হয়েছে, যার মধ্যে হাত বাঁধার প্রমাণ পাওয়া যায় না সুতরাং সেই অতিরিক্ত জিনিসকেও সম্পাদন করা আমাদের প্রতি ওয়াজিব।

ঠিক এই ভাবে কিছু মানুষ বলেন যে, ওই চিহ্ন গুলির উপর আমল করা যাক যার মধ্যে অতিরিক্ত কোনো জিনিস নেই, কারণ ওই রেওয়ায়েত গুলোর সংখ্যা অনেক বেশী। এই কারণে নামাযে হাত বাঁধা জায়েয নয় এবং এটা আল্লাহ তায়ালার কাছে সাহায্য চাওয়ার একটি দ্বার এবং ইমাম মালিক এই কারণে মুসতাহাব নামাযে হাত বাঁধাকে জায়েয বলেছেন কিন্তু ওয়াজিব নামাযে হাত বাঁধাকে নিষেধ করেছেন।   (বেদায়েতুল মজতাহিদ খ:১  পৃ:১৩৬, ইবনে রুশদে কারতাবী মৃত্য ৫৯৫ হিজরী)

৩- কিতাবে বায়ান ও তাফ্সীল: এই পুস্তকে লেখা আছে আমি নামাযে হাত বাঁধার সম্পর্কে নিজের শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করলাম: ওয়াজিব বা মুসতাহাব নামাযের কেয়ামের সময় ডান হাত বাম হাতের উপরে রাখা কি ঠিক?

মুহম্মাদ ইবনে রুশদ বলেছেন: ইমাম মালিকের এই উক্তি (ডান হাত বাম হাতের উপরে রাখা আমার নজরে কোনো সমস্যা নেই ) বিনা কোনো পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনায় ওয়াজিব বা মুসতাহাব নামাযে হাত বাঁধা জায়েয এটা পরিষ্কার ভাবে বোঝা যায়। এবং মুদবেনাতুল কুবরায় ইবনে কাসীমের রেওয়ায়েতে এই ভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, নামাযে হাত না বাঁধাই উত্তম। কারণ ওই রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে যে, আমি ওয়াজিব নামাযে হাত বাঁধাকে জায়েয মনে করি না। ইবনে মালিক এটাকে মাকরুহ মনে করেন কিন্তু মুসতাহাব নামাযে কেয়াম দীর্ঘ হওয়ার কারণে যদি ক্লান্ত বোধ হয়, তাহলে হাত বাঁধা জায়েয এবং অন্য রেওয়ায়েত গুলোতে (হাত বাঁধাকে মাকরুহ মনে করে) এই বাক্য পাওয়া যায়নি, যদি এই বাক্যকে বিলুপ্ত মনে করি তাহলে জানা যায় যে, ইমাম মালিকের মাযহাব অনুযায়ী হাত বাঁধা থেকে বিরত থাকা অতি উত্তম কারণ তার এই উক্তি (لا اعرف ذلک فی الفریضة)

’র অর্থ হল আমি ওয়াজিব নামাযে মুসতাহাব বা সুন্নত হওয়ার কারণে হাত বাঁধাকে জায়েয মনে করি না।

এবং যেখানে এটা বলা হয়েছে যে, যদি মুসতাহাব নামাযে কেয়াম দীর্ঘ হওয়ার কারণে ক্লান্ত বোধ হয়, সেই সময় ক্লান্তবোধ দুর করার জন্যে হাত বাঁধলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি ওয়াজিব নামাযে কেয়াম দীর্ঘ হয়, তাহলে জায়েয নয় এখান থেকে এটা বুঝা যায় যে, যদি মুস্তাহাব নামাযে কেয়াম দীর্ঘ না হয় তাহলে সেই সময় হাত বাঁধা জায়েয নয়। আর যদি এই বাক্য (کان یکره) থাকে তাহলে আসল অর্থ স্পষ্ট হয়ে যায়; কারণ মাকরুহ বাক্যের অর্থ হল এমন একটি কর্ম যা না করলে সাওয়াব বা নেকী পাওয়া যায় এবং যদি করা হয় তাহলে কোনো গুনাহ নেই।  (আল বায়ান ওয়াত্তাফসীল খ:১ পৃ:৩৯৪; মিরকাতুল মুফাতী কারী খ:২ পৃ:৫০৮)

৪- নাওয়াভী বলেছেন: নামাযে হাত বাঁধা আমাদের মাযহাবে সুন্নত…ইবনে মানযার আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের হতে হাসান বাসরী ও নাখয়ী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত মুহম্মাদ(🙂 নামাযে হাত খুলে রাখতেন, বাঁধতেন না। কাযী আবু তাইয়াব ও ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন এবং লায়েস ইবনে সায়াদও বলেছেন যে, হযরত মুহম্মাদ(🙂 নামাযে হাত খুলে রাখতেন কিন্তু যখন কেয়াম দীর্ঘ হয়ে যেত তখন অল্প আরামের জন্য ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখতেন। কিন্তু ইবনে কাসীম ইমাম মালিক থেকে হাত খোলাকে বর্ণনা করেছেন এবংএইটাই বিখ্যাত । তাছাড়া সমস্ত সাহাবা বা মানব সমষ্টি এই উক্তিকে গ্রহণ করেন এবং তারা নামাযে মাসী (ভুলে যাওয়া মানুষের নামায) থেকে বরাদ দেয় যেখানে হযরত মুহম্মাদ(🙂 তাদেরকে নামায শিখিয়ে ছিলেন কিন্তু সেখানে হাত বাঁধা সম্পর্কে কিছু বলেননি…।  (আল জুমুয় খ:৩ পৃ:৩১৩)

এই কারণে উক্ত বিষয় সম্পর্কে তিন ধরনের মতামত পাওয়া যায়:

প্রথমত: ওয়াজিব ও মুস্তাহাব নামাযে হাত বাঁধা জায়েয। এর অর্থ হচ্ছে হাত বাঁধা মাকরুহও নয় আবার হাত বাঁধা মুস্তাহাবও নয়। এই উক্তি ওই রেওয়ায়েত (নামাযে মাসী) থেকে বুঝা যায়।

দ্বিতীয়ত: মাকরুহ, ওয়াজিব ও মুস্তাহাব নামাযে হাত না বাঁধা মুস্তাহাব কিন্তু যদি মুস্তাহাব নামাযে কেয়াম দীর্ঘ হয়ে যায় তাহলে হাত বাঁধা জায়েয, ইমাম মালিকের মতে মাকরুহও নয় মুস্তাহাবও নয় এ কথা মোদাভেনাতুল কুবরায় বর্ণনা করা হয়েছে।

তৃতীয়ত: ওয়াজিব এবং নাফেলা নামাযে হাত বাঁধা মুস্তাহাব এবং না বাঁধা মাকরুহ। এ উক্তিও ইমাম মালিকের, যা মাতরুফ ইবনে মাজশুনের রেওয়ায়েতে বর্ণনা করেছেন। (সেয়রে আলাম আলনাবলা খ:১০ পৃ:৩৬০, আল বেয়ান ওয়াতাহসীল খ:১ পৃ:৩৯৪; মিরকাতুল উসুল কারী খ:২ পৃ:৫০৮)

৫- আয়নী: ইবনে মানযর আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের হতে হাসান বাসারী ইবনে সিরীন হতে বর্ণনা করেছেন যে তারা নামাযে হাত খুলে রাখতেন, ঠিক এই ভাবে ইমামে মালিকও নামাযে হাত খুলে রাখতেন এবং কেয়াম দীর্ঘ হওয়ার সময় ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতেন।

ঠিক এই ভাবে লেয়েস ইবনে সায়াদ বলেন: উযায়ীর কথা অনুযায়ী হাত বাঁধা ও খোলা বিষয়টা মানুষের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে তার অর্থ হল দুই ভাবে পড়া যেতে পারে।  (উম্দাতুল কারী ফি শারহে সহীহ বুখরী খ:১ পৃ:২৭৮, আল মুগনী খ:১ পৃ:৪৭২)

৬- শওকানী দারে কুতনী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে মানযার, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের; হতে হাসান বাসারী এবং নাখয়ীর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তারা নামাযে হাত খুলে রাখতেন ডান হাতের উপর বাম হাত রাখতেন না। নাওয়াভী, লায়েস ইবনে সায়াদ থেকে মাহদী কিতাবুল বাহরে কাসীমিয়া নাসীরিয়া আর বাকেরিয়া থেকে আর ইবনে কাসীম মালিক থেকে এই ভাবে বর্ণনা করেছেন।  (নেয়লুল আওতার খ:২ পৃ: ১৮৬, আল জুমুহ খ:৩ পৃ: ৩১১, আল মুগনী খ:১ পৃ: ৫৪৯, শরহে কাবীর খ:১ পৃ:৫৪৯, আল মাবসুত সারখাসী খ:১ পৃ:২৩, আল আলাল মাযাহিবুল আরবায়া খ:১ পৃ:১৫১)

৭- যোহায়লী বলেন: মালেকী মাযহাব ছাড়া ওলেমাদের সামষ্টিক মত এই যে নামায আদায়কারীদের জন্য তাকবীরের পরে নিজের ডান হাত বাম হাতের কব্জির উপর রাখা মুসতাহাব।

৮- ইমাম মালিক: মালেকী মাযহাবের উক্তি এটা যে, নামাযের মর্যাদার জন্য হাত খুলে রাখা উত্তম আর মুস্তাহাব নামাযে বিনা কোনো প্রয়োজনে হাত বাঁধা মাকরুহ।

এবং তিনি, মালেকী মাযহাবের বাস্তবতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: মালেকী মাযহাবে নামাযে হাত বাঁধা মাকরুহ হওয়ার ফাতওয়া দেওয়ার কারণ হয় যে এটা বিশ্বাস নষ্ট করা কাজ, আর এটা এমন কর্ম যা হযরত মুহম্মাদ(🙂 থেকে কোন প্রমাণ নেই কিংবা সাধারন মানুষের বিশ্বাস যে নামাযে হাত বাঁধা ওয়াজিব বা এমন বিশ্বাস রাখা যুদ্ধ করার সমতুল্য।  (আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতে খ:২ পৃ:৮৭৪)

আহলে সুন্নাতের রেওয়ায়েত

১- البخاری:(…عن ابی حازم، عن سهل:قال: کان النّاس یوءمرون ان یضع الرجل الیدالیمنی علی ذراعه الیسری فی الصلاة . قال ابوحازم: لا اعلمه الاّ ان ینمی ذلک النبی(ص) قالاسماعیل: ینمی ذلک، ولم یقل ینمی).                                                                                           

অর্থ: সহীহ বুখারী:…আবু হাযীম সাহাল ইবনে সায়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন: জনগনকে এই অনুমতি দেওয়া হল যে, তারা যেন নামাযে নিজের ডান হাত বাম হাতের উপর রাখে। আবু হাযিম বলেছেন: আমার সন্দেহ নেই যে, এই কাজ হযরত মুহম্মাদ(স:) ছাড়া অন্যের দিকে সংযুক্ত করা হয়েছে। ইসমাইল বলেছেন: সম্পৃক্ত করা হল। কিন্তু এটা বলা হয়নি যে, এই সম্পৃক্ত কে করেছে?  (সহীহ বুখারী খ:১ পৃ:১৩৫, মুতা ইমামে মালিক খ:১ পৃ:১৫৮)

রেওয়ায়েতের অর্থ সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা ও গবেষণা:

এটা জানা নেই যে, কে মানুষদেরকে নামাযে হাত বাঁধার অনুমতি দিয়েছেন? যেমন ভাবে এই হাদীসের বর্ণনাকারী হাযীমও নিশ্চিত নন যে, হযরত মুহম্মাদ(স:) এই অনুমতি দিয়েছেন। সেই কারণে হাযীম বলেন: আমি জানি না, কিন্তু হতে পারে এই অনুমতি হযরত মুহম্মাদ(স:) দিয়েছেন।

অতএব এই হাদীস মুরসাল। এই হাদীসের নির্দেশনা পরিষ্কার করে দেয় যে, এই হাদীসে সংশয়ও আছে, যেমন ভাবে আয়নী এবং শওকানীও এই হাদীসের ব্যাখ্যাকারী এবং অন্য ব্যাখ্যাকারীদের বর্ণনা থেকে বোঝা যায়।

ক)- আয়নী: উক্ত হাদীসে  (یمنی) বাক্য (ی) যাম্মা আর (م) ফাতহা আরবী ব্যকরন অনুযায়ী মাজহুলের সিগা কিন্তু (ی) ফাতহা মালুমের সিগা কখনো পড়া হয়নি। এই কারণে উক্ত হাদীসটি মুরসাল। কারণ আবু হাযীম নির্ধারিত করেনি যে, কে সম্পৃক্ত করেছে? আর যদি মালুমের সিগা হয় তাহলে উক্ত হাদীস মুত্তাসিল হবে। (উম্দাতুল কারী খ:৫ পৃ:২৭৮)

অতএব এই ধরনের হাদীস যার মধ্যে বহু রকমের সম্ভাবনা পাওয়া যায় সেই হাদীস থেকে কোনো কর্মের সুন্নাত হওয়াকে প্রমাণ করা যায় না এবং সেই কর্মকে নিশ্চিত রুপে হযরত মুহম্মাদ(স:)’র দিকে সম্পৃক্ত করাও যায় না।

খ)- সিয়ুতী: ইসমাইল বলেন: (یمنی) ((ی)যাম্মা আর (م)’র উপর ফাতহা) মাজহুলের সিগা, আর এটা বলেননি: (یمنی) শব্দ মালুমের সিগা। আর ইসমাইল হচ্ছেন ইবনে আবী আনাস।   (আল তাওশী আলা আল জামেয়ুস সহীহ বুখারী খ:১ পৃ:৪৬৩)

গ)- শওকানী: কিছু মানুষ এই হাদীসটিকে ভুল মনে করেন। কারণ নিজে আবু হাযীম এই হাদীস সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন…আর যদি এই হাদীস মারফু অর্থ সঠিক হত, এবং হযরত মুহম্মাদ(স:) থেকে বর্ণনা হত, তাহলে আবু হাযীমের ‘(لا اعلمه) আমি জানি না’ একথা বলার প্রয়োজন হত না।

২- صحیح مسلم:(زهیربن حرب، حدّثنا عفان، حدّثنا همام، حدّثنا محمد بن جحادة، حدّثنی عبدالجباربن وائل ومولی لهم، انّهما حدثاه عن ابیه وائل بن حجر، انّه رای النبّی(ص) رفع یدیه حین دخل فی الصلاة ، کبّروصفّ همام حیال اذنیه ، ثمّ التحف بثوبه ، ثمّ وضع یده الیمنی علی الیسری.)

অর্থ: সহীহ মুসলিম…যুহায়ের ইবনে হারব, আফফান থেকে, ও হামাম থেকে, ও মুহম্মাদ ইবনে জাহাদা থেকে, ও আব্দুল জাব্বার ইবনে ওয়েল থেকে, ও আলকামা ইবনে ওয়ায়েল থেকে, এবং তার দাস ওয়ায়েল ইবনে হাজার থেকে রেওয়ায়েত করেছেন যে, আমি হযরত মুহম্মাদ(🙂 কে দেখেছি তিনি যখন নামায পড়ছিলেন নিজের হাত কর্ণ পর্যন্ত উচুঁ করে তকবীর বললেন তার পর হাত লুকিয়ে নেওয়ার পর ডান হাত বাম হাতের উপর রাখলেন…।  (সহীহ মুসলীম খ:১ পৃ:১৫০, দারে কুতনী খ:১ পৃ:২৮৬ হাদীস ৮ ও ১১)

উক্ত হাদীসের সংকেত সম্পর্কে কিছু আলোচনা:

উক্ত হাদীসের বিষয়ে এটা বলা অত্যন্ত প্রয়োজন যে, এই হাদীসের সংকেত উজ্জ্বল নয়। তার কারণ হযরত মুহম্মাদ(🙂’র বর্তমান সুন্নাতের সম্পর্কে বলা হয়েছে। যা থেকে নির্ধারণ করা যায় না যে, এই আমল ওয়াজিব বা মুস্তাহাব হওয়ার কারণে বা নিজের ইচ্ছা বা নিরুপায় অবস্থায় করা হয়েছে। দ্বিতীয় এই যে, একর্ম করার কারণ কি? সেই কর্ম কি শরয়ী আমল মনে করে করা হয়েছে, না অন্য কোনো কারণ ছিল বা যাতে আবা আরবরা যেটি নিজের পষাকের উপর পরে থাকে। কাঁধ থেকে পড়ে না যায় সেই জন্যে এই কাজ করা হয়েছিল?

দলিল সম্পর্কে অলোচনা:

উক্ত রেওয়ায়েতের দলিলের বৈধতার বিষয়ে বলা যেতে পারে যে, উক্ত রেওয়ায়েতটি হল মুর্সাল। কারণ রেওয়ায়েত বর্ণনাকারী আলকামা ইবনে ওয়ায়েল নিজের পিতার কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু এখানে অলোচ্য বিষয় এই যে, আলকামার পিতা আলকামার জন্মের পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন। তাহলে এখান থেকে পরিষ্কার ভাবে বোঝা যায় যে, উক্ত রেওয়ায়েত আলকামা নিজের পিতার কাছ থেকে কখনোই শুনেন নি। কারণ যখন তার পিতা মৃত্যুবরণ করেন তখন তিনি এই পৃথিবীতে ছিলেন না। কি করে হতে পারে একজন মানুষ তার জন্মের পূর্বে সে তার পিতার কথা শুনতে পারে! আলকামাতো কোনো ইমাম বা নবীও ছিলেন না, তাহলে কি ভাবে সম্ভব হতে পারে? তাই এ রেওয়ায়েত সম্পূর্ণ ভুল।

ইবনে হাজার থেকে বর্ণিত: আসকারী ইবনে ময়ীন থেকে বর্ণনা করেছেন: আলকামা যে রেওয়ায়েতটি নিজের পিতার কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন সেটা হল মুর্সাল।  (তাহযীব আল তাহযীব খ:৮ পৃ:৩১৪)

কিছু মানুষ বলেন যে, আলকামা খুবই ছোট ছিল, সেই অবস্থায় নিজের পিতার নামাযকে কিভাবে উপলব্ধি করতে পারে?

সুতরাং দুই দিক থেকে ফলাফল একটাই সামনে আসে সেটা হল এই যে, যে নিজের পিতার নামাযকে উপলব্ধি করতে পারে না, সে এই হাদীসকে কিভাবে উপলব্ধি করতে পারে! তাছাড়া এই শব্দ (مولی لهم) ‘র অর্থ হল তার দাস, রেওয়ায়েতের দলিলে আছে, যার সম্পর্কে এটা কেউ জানেনা যে, সেই দাস কে? (হতে পারে এখানে মাওলা থেকে উদ্দেশ্য ওলায়ে যামান জারিরা হতে পারে বা অন্য কেও হতে পারে)

৩- الموطّا: (حدّثنی یحیی بن مالک ، عن عبدالکریم بن ابی المخارق البصریّ انّه قال: من کلام النبوّة ((اذا لم تستحیی فافعل ماشئت ووضع الیدین احداهما علی الاخری فی الصلاة (یضع الیمنی علی الیسری) وتعجیل الفطر…)).

অর্থ: মুয়াত্তা: ইয়াহয়াহ ইবনে মালিক, ইবনে আনাস আব্দুল করীম ইবনে আবিল মখারাক বাসারী থেকে বর্ণনা করেছেন: নবুওয়াতের মুল্যবান কথার মধ্যে থেকে একটি হল যদি লজ্জা না থাকে তাহলে যা ইচ্ছা তাই করো আর নামাযে এক হাতকে অপর হাতের উপর রাখো…।

ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত: (یضع الیمنی علی الیسری) ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা এটা মালিক ইবনে আনাসের নিজস্ব কথা এটা কোনো হাদীসের অংশ নয়।  (মুয়াত্তা ইমামে মালিক খ:১ পৃ:১৫৮, সহীহ বুখারী খ:২ পৃ:২৬৩, কিতাবুল আন্বিয়া)

উক্ত রেওয়ায়েতের দলিল সম্পর্কে আলোচনা:

উক্ত রেওয়ায়েতের সনদে আব্দুল করিম ইবনে আবীল মখরাকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যিনি  এমন একজন ব্যক্তি যার সম্পর্কে মুয়াম্মার আবু আয়ুব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল করীম নির্ভরযোগ্য নয় এবং আব্দুর রহমান তার পরহেযগার না হওয়ার কারণে তাকে অভিযুক্ত করেছেন। এছাড়া আহমাদ ইবনে অহমাদ ও ইবনে মুঈন তাকে (ضعیف) দুর্বল বলেছেন। ইবনে হব্বান (کثیرالوهم) অর্থাৎ খুব বেশী সন্দেহকারী ও (کثیرالخطا) অর্থাৎ খুব বেশী ত্রুটিকারী ও অপ্রতিরোধ গণ্য করেছেন…। এবং ইবনে আব্দুল বর বলেছেন তার দুর্বল হওয়ার উপর ইজমা আছে এই কারণে ইমাম মালিক ওই সমস্ত রেওয়ায়েত যা আহকামের ব্যপারে ছিল সেটি গ্রহন করেন নি শুধু মাত্র গ্রহন করেছেন মুস্তাহাব গুলোকে।  (তাহযিবুল কামাল খ:১২ পৃ:১১, তাহযিবুত তাহযিব খ:১৬ পৃ:৩২৬)

৪- নাসর ইবনে আলী, আবু আহমাদ থেকে ও আলা ইবনে যোরয়া ইবনে আব্দুর রাহমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের থেকে শুনেছি তিনি বলতেন:

(صفّ القدمین ووضع الید علی الید من السنة) নামাযে পা দুটোকে জড়ো করে রাখো আর এক হাত দ্বিতীয় হাতের উপরে রাখা সুন্নাত।  (সুনানে আবু দাউদ খ:১ পৃ:২০১)

কিছু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু:

ক)- উক্ত রেওয়ায়েত এবং ইবনে যুবায়েরের নামাযের রেওয়ায়েতটি হল এক অপরের বিপরীত, যাতে বলা হয়েছে যে, তিনি নামাযে হাত খুলে রাখতেন।

খ)- উক্ত রেওয়ায়েত হযরত মুহম্মাদ(🙂’র দিকে সম্পৃক্ত করা হয়নি।

গ)- উক্ত রেওয়ায়েতের সনদে আলা ইবনে সালেহ তামিমী আসাদী কুফীর কথা বলা হয়েছে যার সম্পর্কে বুখারী বলেন: তার রেওয়ায়েত গ্রহণযোগ্য নয়। ইবনুল মাদিনী বলেন: তিনি অবৈধ রেওয়ায়েত গুলোকে বর্ণনা করেছেন…।  (তাহযিবুত তাহযিব খ:৮ পৃ:১৬৪, সনানে আবী দাউদ খ:১ পৃ:২০১)

৫- মুহম্মাদ ইবনে বুকার ইবনে রায়য়ান, হাশীম ইবনে বাশীর থেকে তিনি হুজ্জাজ ইবনে আবী যায়নাব, তিনি আবু উসমান নাহদী আর তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করছেন:

(انّه کان یصلّی فوضع یده الیسری علی الیمنی، فراه النبّی(ص) فوضع یده الیمنی علی الیسری)

অর্থ: তিনি নামায পড়ার সময় নিজের বাম হাত ডান হাতের উপর রাখতেন, হযরত মুহম্মাদ(🙂 এই অবস্থা দেখে তার ডান হাত বাম হাতের উপর রাখলেন।  (সনানে আবু দাউদ খ:১ পৃ:২০০, সনানে ইবনে মাজা খ:১ পৃ:২৬৬)

উক্ত হাদীসের সনদে হাশীম ইবনে কাসীমের কথা বলা হয়েছে, যে ব্যক্তির হাদীসে কম বেশী ও মিশ্রিত করার ব্যপারে বদনাম ছিল এবং শুধু তাই নয় নিজের শেষ জীবনে স্মরণ শক্তিও হারিয়ে ফেলেছিল।

ইয়াহইয়াহ ইবনে মঈন বলেন: জ্ঞান তো তার মধ্যে ছিলনা, যা ভাবতো তাই মুখ দিয়ে বাহির করতো।  (তাহযিবুত তাহযিব খ:১১ পৃ:৫৬)

এই ব্যক্তির সম্পর্কে বহু কিছু বলা হয়েছে এই কারণে তার রেওয়ায়েত গুলো গ্রহণযোগ্য নয়।

ঠিক এই ভাবে উক্ত রেওয়ায়েতের সনদে হুজ্জাজ ইবনে আবী যায়নাব সালমী (আবু ইউসুফ সাইকাল ওয়াসতী)’র কথা বলা হয়েছে যাকে আহলে সুন্নাতদের নিকটে (ضعیف) দুর্বল বলা হয়েছে।

আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: আমি তার রেওয়ায়েতের দুর্বল হওয়ার কারণে ভয় পাই।

নাসায়ী বলেন: সে দুর্বল (শক্তিশালী নয়) এবং দারে কুতনী বলেন: সে হাফিয ও শক্তিশালী নয়। (তাহযিবুত তাহযিব খ:৩ পৃ:৩১৮)

৬- মুহম্মাদ ইবনে মেহবুব, হাফস ইবনে গাইয়াস থেকে তিনি আব্দুর রাহমান ইসহাক থেকে তিনি যিয়াদ ইবনে যেয়েদ থেকে তিনি আবী জাহিফা থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন হযরত আলী(আ:) থেকে:

(السنة وضع الکفّ علی الکفّ فی الصلاة تحت السرة)

অর্থ: নামাযে এক হাতের তালু অপর হাতের তালুর উপর রাখা সুন্নাত।  (সনানে আবু দাউদ খ:১ পৃ:২০১, দারে কুতনী খ:১ পৃ:২৮৬, সনানে কুবরা খ:২ পৃ:৪৩)

উক্ত হাদীসের সনদে যিয়াদ ইবনে যেয়েদের কথা বলা হয়েছে যাকে অজ্ঞাত বলে ঘোষণা করা হয়েছে যেমন ভাবে আসকালানীর কথা আবুহাতীম সেটা পরিষ্কার ভাবে বর্ণনা করেছেন। ‘তাহযিবুত তাহযিব’ পুস্তকেও বর্ণনা করা হয়েছে যে, যিয়াদ ইবনে যেয়েদ আসম কুফীর সম্পর্কে আবু হাতীম বলেছেন: সে অজ্ঞাত ব্যক্তি। আবু দাউদও তার কাছ থেকে হযরত আলী(আ:)’র একই রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন, যেখানে হযরত আলী(আ:) বলেছেন: নামাযে নাভীর নিচে হাতের উপর হাত রাখা সুন্নাত।  (তাহযিবুত তাহযিব খ:৩ পৃ:৩১৮)

বুখারী বলেছেন: উক্ত রেওয়ায়েতের সম্পর্কে গভীর ভাবে চিন্তা বা গবেষণা করার দরকার আছে। তাছাড়া উক্ত রেওয়াতের সনদে আব্দুর রাহমানের নাম বর্ণনা করা হয়েছে তাঁর দুর্বল হওয়ার সম্পর্কে ওলেমাদের ঐক্য মত আছে।  (তাহযিবুল কামাল খ:১১ পৃ:৯৯)

৭- মুহম্মাদ ইবনে কেদামা (ইবনে আয়ীন), আবী তালুত আব্দুস সালাম থেকে ও আবু জারীর যাবী থেকে এবং সে নিজের পিতার কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন:

(رایت علیا یمسک بیمینه علی الراسغ فوق السّرة)

অর্থ: আমি হযরত আলী(🙂 কে দেখলাম তিনি নিজের ডান হাতের কব্জিকে বাম হাত দিয়ে নাভীর নিচে ধরেছিলেন।

উক্ত রেওয়ায়েতের সনদে আবু তালুত অর্থাৎ আব্দুস সালাম নাহদীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার সম্পর্কে ইবনে সায়াদ বলেন: আব্দুস সালাম নাহদী রেওয়ায়েত বর্ণনাতে দুর্বল ছিলেন। (সুনানে আবু দাউদ খ:১ পৃ:২০১, নেয়লুল আওতার খ:২ পৃ:১৮৮)

এছাড়া উক্ত রেওয়ায়েতের সনদে ইবনে জারীর যাবীরের কথা বলা হয়েছে, তার সম্পর্কে ইবনে হাজার বলেন: আমি ‘মিযানুল এতেদাল’ পুস্তকটিতে যাহাবীর হাতের লেখা দেখলাম। আব্দুস সালাম নাহদী অজ্ঞাত ছিলেন।  (তাহযিবুত তাহযিব খ:২ পৃ:৬৭)

৮- মুসাদ্দাদ… , আব্দুর রাহমান ইবনে ইসহাক কুফী থেকে ও সাইয়ার আবী হাকাম থেকে ও আবু ওয়ায়েল থেকে ও আবু হরাইরা থেকে বর্ণনা করে বলেছেন:

(اخذ الاکف علی الاکف فی الصلاة من السنة)

অর্থ: নামাযে এক হাতের তালু অন্য হাতের উপর রাখা সুন্নাত। (সনানে আবু দাউদ খ:১ পৃ:২০১, নেয়লুল আওতার খ:২ পৃ:১৮৮)

ঠিক এই ভাবে দারে কুতনী অল্প মতভেদের সাথে লিখেছেন: নামাযে হাতের তালু অন্য হাতের উপর রাখা সুন্নাত।  (সনানে দারে কুতনী খ:১ পৃ:৮৪)

এখানে এটা বলে দেওয়া প্রয়োজন যে, এই রেওয়ায়েতের সনদে আব্দুর রাহমান ইবনে ইসহাক কুফীর কথা বলা হয়েছে, যাকে ‘ওলেমায়ে রেজাল’ (ضعیف) দুর্বল বলে ঘোষণা করেছেন।

ইবনে মঈন বলেছেন: আব্দুর রাহমান ইবনে ইসহাক কুফী একজন দুর্বল, মূল্যহীন ও ক্ষুদ্র ব্যক্তি। ইবনে সায়াদ, ইয়াকুব ইবনে সুফীয়ান, আবু দাউদ, নাসায়ী এবং ইবনে হাব্বান তাকে দুর্বল বলেছেন এবং বুখারী বলেন এর সম্পর্কে গভীর চিন্তা ও গবেষণার প্রয়োজন আছে।  (তাহযিবুত তাহযিব খ:৬ পৃ:১২৪)

এছাড়া আবু হরাইরা এই আমলের সম্পৃক্ত হযরত মুহম্মাদ(স:)’র দিকে দেয়নি। এই ধরনের অনুরুপ বিষয় বহু আছে, যার সম্পর্কে গবেষণা করার পরে জানা গেল যে, সে এই আমল হযরত মুহম্মাদ(স:)’র কাছ থেকে শুনেনি কিন্তু কেউ তার সঙ্গে বর্ণনা করেছে এবং আবু হরাইরাও সেই ব্যক্তির নাম নেইনি। উদাহরন স্বরুপ এই হাদীস:(من اصبح جنبا فلا صیام له)  যে ব্যক্তি সকাল পর্যন্ত জানাবতের অবস্থায় থাকবে তার রোযা হবে না।(فانّه لمّا حوقق علیه قال: اخبرنیه مخبر ولم اسمعه من رسول الله(ص))

অর্থ: যখন তার কাছে জিজ্ঞাসা করা হল যে, তুমি নিজে এই হাদীস হযরত মুহম্মাদ(🙂’র কাছ থেকে শুনেছো, তখন বললেন: না আমাকে কেউ বলেছে।  (তারীখে দামীশ্ক খ:১৯ পৃ:১২২, আল বেদায়া ওননেহায়া খ:৮ পৃ:১০৯, সেয়রে আলামুন নাবলা খ:২ পৃ:৬০৮)

৯- আবু তওবা হায়সামী (ইবনে হামীদ) থেকে, ও সৌর থেকে, ও সুলায়মান ইবনে মুসা থেকে ও তাউস থেকে বর্ণনা করছেন যে, তিনি বলেন:

(کان رسول الله(ص)یضع یده الیمنی علی یده الیسری ، ثمّ یشدّ بینهما علی صدره، وهوفی الصلاة)

অর্থ: হযরত মুহম্মাদ(🙂 নামাযের সময় নিজের ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতেন:  (সনানে আবু দাউদ খ:১ পৃ:২০১)

কিছু প্রতিবন্ধকতা

ক)- উক্ত রেওয়ায়েতটির রাভী হলেন তাউসে তাবেয়ী যে হযরত মুহম্মাদ(🙂 কে দেখেনি এই কারণে উক্ত রেওয়ায়েতকে মুরসাল বলা হয়েছে।

খ)- উক্ত রেওয়ায়েতের সনদে হায়সাম ইবনে হামীদের কথা বলা হয়েছে, যাকে আবু দাউদ এবং আবু মুসাহ্হার (তাঁর পুরো নাম আব্দুল আলা ইবনে মুসাহ্হার গাস্সানিদ মাশকী তিনি ১৪০ হিজরী থেকে ২১৮ হিজরী পর্যন্ত ছিলেন) (ضعیف) দুর্বল বলেছেন। আবু মুসহ্হার বলেন: হায়সাম ইবনে হামীদ হাদীস শিক্ষায় অভিজ্ঞ এবং হাফীয ছিল না, আমি তার কাছ থেকে হদীস বর্ণনা করি না এবং তাকে দুর্বল মনে করি।  (তাহযীবুত তাহযীব খ:১১ পৃ:৮২)

১০- তিরমিযী আবুল আহওয়াস থেকে ও সামাক ইবনে হারব থেকে ও কাবীসাহ ইবনে হালব থেকে এবং তিনি নিজের পিতার কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলছেন:

(کان رسول الله(ص) یومّنا فیاخذ شماله بیمینه)

অর্থ: হযরত মুহম্মাদ(🙂 জামাতের সঙ্গে নামায পড়ালেন কিন্তু নিজের বাম হাতকে ডান হাত দিয়ে ধরে রেখেছিলেন।  (জামেয়ুত তিরমীযি খ:২ পৃ:৩২)

উক্ত রেওয়ায়েতের সনদে কাবিসাহ ইবনে হালব (কাবিসাহ ইবনে ইয়াযিদ তায়ী)’র কথা বলা হয়েছে আর মাদিনী ও নাসায়ীর কথা অনুযায়ী তিনি একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ছিলেন।  (তাহযীবুত তাহযীব খ:৭ পৃ:২৪৭, তাহযীবুল কামাল খ:১৫ পৃ:২২১)

১১- ইবনে মাজা আলী ইবনে মুহম্মাদ থেকে ও আব্দুল্লাহ ইবনে ইদরীস ও বাশার ইবনে মাবাযে যারীর ও বাশার ইবনে মুফায্যাল ও আসীম ইবনে কলায়েব ও নিজের পিতার কাছ থেকে ও ওয়ায়েল ইবনে হাজার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি হযরত মুহম্মাদ(🙂 কে নামাযের অবস্থায় দেখলাম তিনি নিজের ডান হাত বাম হাত দিয়ে ধরে রেখেছিলেন।  (সনানে ইবনে মাজা খ:১ পৃ:২৬৬)

এখানে একথা বলে দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন যে, ‘ইবনে মাজা’ এর বেশির ভাগ রেওয়ায়েত (ضعیف)  দুর্বল। ইবনে হাজার বলেন: তার কিতাব সুনানে পূর্ণঙ্গ এবং অধ্যায় ও আগন্তুকে ভাল কিন্তু তার বেশীর ভাগ রেওয়ায়েত (ضعیف) দুর্বল শুধু তাই নয় আমি শুনেছি সিররী বলেন: যখনি এই কিতাবে কোন রেওয়ায়েত বর্ণনা করা হয় তখনি ওই রেওয়ায়েতটি কয়েক ভাবে দুর্বল বলে বোঝা যায়।

আবু যারয়ে বলেন: (لیس فیه الانحوسبعة احادیث) এই কিতাবটির মধ্যে শুধু মাত্র সাতটি সহীহ  হাদীস আছে…।  (তাহযীবুত তাহযীব খ:৯ পৃ:৪৬৮)

যাহাবী বলেন: সুনানে ইবনে মাজার মধ্যে ওই সমস্ত রেওয়ায়েত ভরে আছে যার কোন দলীল নেই আমার মনে হয় ওই রেওয়ায়েত গুলোর সংখা প্রায় এক হাজার। (সেয়রে আলামুল নাবলা খ:১৩ পৃ:২৭৯)

ঠিক এই ভাবে আবু দাউদ, আসিম ইবনে কোলায়েব যিনি নিজের পিতা ও দাদার কাছ থেকে যে রেওয়ায়েত গুলো বর্ণনা করেছিল সেগুলোকে গ্রহনযোগ্য নয় বলে বলেছেন। (তাহযীবুল কামাল খ:১৫ পৃ: ৪১২) (عاصم بن کلیب عن ابیه عن جده لیس بشیئ)

১২- দারমী আবু নাঈম থেকে ও যয়াহের থেকে ও আবু ইসহাক থেকে ও আব্দুল জাব্বার ইবনে ওয়ায়েল থেকে ও নিজের পিতার কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন:

(رایت رسول الله (ص)یضع یده الیمنی علی الیسری قریبا من الرّسغ)

অর্থ: আমি রসুল(🙂 কে নিজের ডান হাত বাম হাতের কব্জির কাছে রাখতে দেখেছি।  (সেয়রে আলামুল নাবলা খ:১৩ পৃ:২৭৯)

এখানে এটা বলে দেওয়া প্রয়োজন যে, আব্দুল জাব্বার ইবনে ওয়ায়েল নিজের পিতার কাছ থেকে এই রেওয়ায়েত শুনেনি তার কারন ওর পিতা ওর জন্মের আগে মৃত্যু বরন করেছিলেন।

ইবনে হান্নান (আল সাক্কাত) পুস্তকে লিখেছেন: যে মানুষ এই সন্দেহ করে যে, ইবনে ওয়ায়েল নিজের পিতার কাছ থেকে এই রেওয়ায়েত শুনেছে এটা শুধু মাত্র সন্দেহ ছাড়া অন্য কোন জিনিস নয় তার কারন ইবনে ওয়ায়েল তখন তার মায়ের পেটে ছিল যখন তার পিতা মারা যায়।

ইবনে সায়াদ বলেন: …ইবনে ওয়ায়েলের সম্পর্কে একদিকে এটা বলা হয় যে, সে নিজের পিতার কাছ থেকে শুনেছে আর একদিকে বলা হয় যে, শুনেনি!

আবু হাতেম, ইবনে জারির তাবারী, জারিরী, ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান, ইয়াকুব ইবনে শায়বা, দার কুতনী, হাকিম আর তার থেকে আগে ইবনে মাদানী ইত্যাদি ইত্যাদি এই ধরনের কথা উল্লেখ করেছেন।  (তাহযীবুল তাহযীব খ:৬ পৃ: ৯৬)

১৩- দারেকুতনীতে আবু মুহম্মাদ, সাঈদ আলী ইবনে মুসলীম থেকে ও ইসমাইল ইবনে আবান ওর্রাক থেকে ও মান্দল থেকে ও ইবনে আবি লায়লা থেকে ও কাসীম ইবনে আব্দুর রহমান থেকে ও নিজের পিতার কাছ থেকে আর ও আব্দুল্লা ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করছেন:

(انّ النّبی کان یاخذ شماله بیمینه فی الصلاة)

অর্থ: হযরত মুহম্মাদ(🙂 নামাযে নিজের বাম হাতকে ডান হাত দিয়ে ধরে রাখতেন।  (দারেকুতনী খ:১ পৃ:২৮৩ হাদীস ১)

উক্ত হাদীসের সনদে মান্দল অর্থাৎ (ইবনে আলী আনযী) আছে যে ব্যক্তি আহলে সুন্নাতের নিকট (ضعیف) দুর্বল বলা হয়েছে এছাড়া বুখারী ও তাকে দুর্বল বলেছেন এবং নাসাই বলেন: ও দুর্বল। ইবনে সায়াদ বলেন: তার মধ্যে দুর্বলতা পাওয়া যায়। জুরজানী বলেন: তার রেওয়ায়েত দুর্বল কারন সে অগ্রহনযোগ্য ও দুর্বল রেওয়ায়েত গুলোকে বর্ণনা করেন। ইবনে কানে আর দারেকুতনী বলেন: ও দুর্বল। ইবনে হান্নান বলেন: ওর স্মরণ শক্তি কম হওয়ার কারণে মুরসাল রেওয়ায়েত গুলোকে মারফু ও মওকুফ রেওয়ায়েত গুলোকে মাসনাদ বলে গন্য করতেন। সুতরাং সত্য এটাই যে তার রেওয়ায়েত গুলোকে পরিত্যাগ করা হক্ব।

এছাড়া তাহাভী বলেন: ও রেওয়ায়েত বর্ণনা করার কোন রকম যোগ্য নয় এবং তার রেওয়ায়েত থেকে ইস্তেদলাল করা সম্ভব নয়।  (তাহযীবুল তাহযীব খ:১ পৃ:২৬৬)

১৪- দারে কুতনীতে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহম্মাদ ইবনে আব্দুল আজিজ, শুজা ইবনে মুখাল্লাদ থেকে ও মানসুর থেকে ও মুহম্মাদ ইবনে আবান আনসারী থেকে ও উম্মুল মুমেনীন আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন হযরত আয়েশা(🙂  বলেন:

(ثلاثة من النبوّة …ووضع الید الیمنی علی الیسری فی الصلاة)

অর্থ: নবুয়তের বৈশিষ্ট্যসমূহ তিনটি : …(তার মধ্যে থেকে একটি) নামাযের সময় ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা।  (দারে কুতনী খ:১ পৃ:২৮৪ হাদীস ২)

উক্ত হাদীসের সনদে মুহম্মাদ ইবনে আবানের কথা বলা হয়েছে যে ব্যক্তি আয়েশার কাছ থেকে এই হাদীস বর্ণনা করতেই পারে না সুতরাং এই রেওয়ায়েত মুরসাল।  (দারে কুতনী খ:১ পৃ:২৮৪)

যাহাবী বুখারী থেকে বর্ণনা করে লিখেছেন তিনি বলেন: (لا یعرف له سماع منها) স্পষ্ট নয় যে, ও আয়েশা থেকে এই রেওয়ায়েত শুনেছে। (মিযানুল য়েতেদাল খ:৩ পৃ:৪৫৪)

ঠিক এই ভাবে হায়শাম (ইবনে মানসুর) যিনি এই রেওয়ায়েতের সনদে উপস্থিত আছেন যার (ضعیف) দুর্বল হওয়ার সম্পর্কে আগে আলোচনা করেছি।  (তাহযীবুল তাহযীব খ:১১ পৃ:৫৬)

১৫- দারে কুতনী, ইবনে সাঈদ থেকে ও যিয়াদ ইবনে আয়ূব থেকে ও নাসর ইবনে ইসমাইল থেকে ও ইবনে আবি লায়লা থেকে ও আতা থেকে ও আবু হুরায়রা থেকে আর ও হযরত মুহম্মাদ(🙂 থেকে বর্ণনা করেছেন হযরত মুহম্মাদ(স:) বলেন:

(امرنا معاشرالانبیاء…ونضرب بایماننا علی شمائلنا فی الصلاة)

অর্থ: আমদের আম্বিয়াগন কে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে যেন আমরা নামাযে নিজের ডান হাত বাম হাতের উপর রাখি।  (দারে কুতনী খ:১ পৃ:২৮৪ হাদীস ৩)

উক্ত হাদীসের সনদে নাযর ইবনে ইসমাইল অর্থাৎ (আবু মোগার্রা) আছে। আহমাদ, নাসাঈ, আর আবু যারয়া তার সম্পর্কে বলেন: ও নির্ভরযোগ্য নয় এই কথার অনুযায়ী ইবনে মঈন ও তাকে দুর্বল বলেছেন।

ইবনে হান্নান বলেন: তার ভুল স্পষ্ট এবং তার সন্দেহ ও চিন্তা ধারা অনেক বেশী সুতরাং তাকে পরিত্যাগ করাই উত্তম।

হাকিম নিশাপুরী বলেন: নাযর ইবনে ইসমাইল আহলে সুন্নাতদের নিকট ও নির্ভরযোগ্য নয়। সাজী বলেন: নাযর ইবনে ইসমাইলের রেওয়ায়েত গুলো অচেনা ও গরিব আছে। (তাহযীবুল তাহযীব খ:১০ পৃ:৩৮৮)

১৬- দারে কুতনী, ইবনে সিক্কিন থেকে ও আব্দুল হামীদ ইবনে মুহম্মাদ থেকে ও মুখাল্লাদ ইবনে ইয়াযিদ থেকে ও আতা থেকে ও ইবনে আব্বাস থেকে ও হযরত মুহম্মাদ(স:) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বললেন:  (امرنا معاشرالانبیاء…ونمسک بایماننا علی شمائلنا فی الصلاة)

অর্থ: আমাদের আম্বিয়াগণ কে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে যেন আমরা নামাযে নিজের ডান হাত বাম হাতের উপর রাখি।  (দারে কুতনী খ:১ পৃ:২৮৪ হাদীস ৩)

উক্ত হাদীসের সনদে তালহা অর্থাৎ (ইবনে আমর ইবনে উসমান হাযারমী কুফী) আছে যাকে সমস্ত ওলায়েমায়ে রেজাল দুর্বল বলে ঘোষণা করেছেন।

আহমাদ বলেন: তালহা এমন একজন ব্যক্তি যার সমাজে কোন গুরুত্ব নেই এবং তার রেওয়ায়েত গুলোকে পরিত্যাগ করা হয়েছে।

ইবনে মঈন বলেন: তালহার সমাজে কোন স্থান নেই এবং সে দুর্বল। এবং জুরজানী বলেন: তার রেওয়ায়েত থেকে কেউ রাযী নয়।

আবু হাতেম বলেন: প্রভাবশালী নয় এবং আহলে সুন্নাতের নিকট দুর্বল বলে গন্য করা হয়েছে। আবু দাউদ বলেন: ও দুর্বল। নাসাঈ বলেন: তার হাদীস গুলোকে পরিত্যাগ করা হয়েছে। বুখারী বলেন: তার কোন গুরুত্ব নেই। ইয়াহইয়া ইবনে মঈন তার সম্পর্কে বিপরীত দৃষ্টি রাখে। ইবনে সায়াদ বলেন: তার হাদীস গুলো খুবই দুর্বল।

ইবনে মাদিনী বলেন: সে দুর্বল এবং তার কোন স্থান নেই। আবুযারয়া, আজলী, দারে কুতনী বলেন: সে দুর্বল। ফাসভী তাকে ওই ব্যক্তির সাথে তুলনা করেছেন যার রেওয়ায়েতের দিকে কেউ লক্ষ্য করে না।

ইবনে হাব্বান বলেন: তালহা কোন গ্রহনযোগ্য ওলেমাদের কাছ থেকে রেওয়ায়েত বর্ণনা করেনি কিন্তু ওই জিনিস গুলো বর্ণনা করেছেন যা লেখা জায়েয নয় আর তার ওই সমস্ত রেওয়ায়েত গুলোকে আশ্চর্যজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।  (তাহযীবুল তাহযীব খ:৫ পৃ:২১)

১৭- দারে কুতনী মুহম্মাদ ইবনে মখাল্লাদ থেকে ও মুহম্মাদ ইবনে ইসমাইল হাস্সানী থেকে ও ওয়াকী থেকে ও ইয়াযিদ ইবনে যিয়াদ ইবনে আবী জাহাদ থেকে ও আসীম জাহদারী থেকে ও আকবা ইবনে যাহির থেকে ও হযরত আলী(আ:) থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন:

(فصلّ لربّک وانحر) এর সম্পর্কে বললেন: ((وضع الیمین علی الشمال فی الصلاة এর অর্থ হল নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা।  (তাহযীবুল তাহযীব খ:১১ পৃ:১১৪)

উক্ত রেওয়ায়েতের সনদে ওয়াকী আছে যার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ওয়াকী পাঁচশো রেওয়ায়েতে ভুল করেছে।  (দারে কুতনী খ:১ পৃ:২৮৫)

এছাড়া মারুযী বলেন: ওয়াকী নিজের শেষ বয়সে মুখস্ত হাদীস বর্ণনা করতো এবং সেই হাদীসের অক্ষর বদলে ফেলতো, সুতরাং সে শুধু মাত্র হাদীসের তাৎপর্যই বর্ণনা করতো এবং সে আরবী ভাষাও জানতো না। (তাহযীবুল তাহযীব খ:১১ পৃ:১১৪)

১৮- দারে কুতনী আহমাদ ইবনে মুহম্মাদ ইবনে জাফার জোযী থেকে ও মাযর ইবনে মুহম্মাদ থেকে ও ইয়াহইয়া ইবনে মঈন থেকে ও মুহম্মাদ ইবনে হাসান ওয়াসতী থেকে ও হুজ্জাজ ইবনে আবী যায়নাব থেকে ও আবুসুফিয়ান থেকে ও জাবীর থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন:

(مرّرسول الله (ص) برجل وضع شماله علی یمینه…مثله)

অর্থ: হযরত মুহম্মাদ(🙂 এক ব্যক্তির নিকট থেকে যাচ্ছিলেন যে ব্যক্তি নিজের ডান হাত বাম হাতের উপর রেখেছিল…তারপর হযরত মুহম্মাদ(🙂  তার ডান হাত ধরে বাম হাতের উপর রাখলেন। (দারে কুতনী খ:১ পৃ:২৮৭ ও ১৩ হাদীস ১৪, মুসনাদে আহমাদ খ:৩ পৃ:৩৮১)

উক্ত হাদীসের সনদে হুজ্জাজ ইবনে আবী যায়নাবের কথা বলা হয়েছে যার দুর্বল হওয়ার কথা পূর্বে বর্ণনা করেছি।

১৯- দারে কুতনী আরএক জায়গায় হুজ্জাজ ইবনে আবী যায়নাব থেকে বরাত হয়ে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন আর এই রেওয়ায়েত টিও আগের রেওয়ায়েতের মতো যা ইবনে আবী যায়নাবের কারণে দুর্বল ঘোষনা করা হয়েছে।  (দারে কুতনী খ:১ পৃ: ২৮৭ ও ১৩ হাদীস ১৪)

২০- হাসান ইবনে খাযর, মুহম্মাদ ইবনে আহমাদ আবুল আলা থেকে ও মুহম্মাদ ইবনে সাওয়ার থেকে ও আবু খালিদ আহমাদ থেকে ও হামিদ থেকে ও আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন:

(کان رسولالله(ص) اذا قام فی الصلاة ، قال: هکذا وهکذا عن یمینه وعن شماله)

অর্থ: হযরত মুহম্মাদ(🙂 যখনই নামাযের জন্য দাঁড়াতেন তখন নিজের ডান বা বাম দিকের লোকেদের এটাই বলতেন যে এই ভাবে এই ভাবে দাঁড়াবে… (দারে কুতনী খ:১ পৃ: ২৮৭ হাদীস ১৫)

উক্ত রেওয়ায়েতের সনদে আবু খালিদ আহমাদ (সুলায়মান ইবনে হায়য়ান আযদী) এর কথা বলা হয়েছে যার হাফিয ও স্মরণশক্তির মালিক হওয়ার সম্পর্কে কিছু ওলেমা আপত্তি জানিয়েছেন।

ইবনে মঈন বলেন: আবু খালিদ আহমাদ হুজ্জাত নয়, আবু বাকার বাযায নিজের পুস্তক সুনানে বলেছেন: আবু খালিদ আহমাদ ওই ব্যক্তিদের মধ্যে নয় যার রেওয়ায়েত হুজ্জাত হতে পারে কারণ এবিষয়ে ওলেমাদের ঐক্য মত যে, ও হাফিয ছিল না। ঠিক এই ভাবে আয়ামাশ ও অন্যদের কাছ থেকে রেওয়ায়েত বর্ণনা করতো যার রেওয়ায়েতের দিকে কেউ দেখতো না।  (তাহযীবুল তাহযীব খ:৪ পৃ:১৬০)

এছাড়া এই হাদীস এবিষয়ে আলোচ্য নয় কারণ উক্ত হাদীসে বলা হয়েছে যে, হযরত মুহম্মাদ(স:) নিজের ডান বা বাম দিকের মানুষদের বললেন যে, এই এই ভাবে দাঁড়াবে, কিন্তু একথা আর নামাযে হাত বাঁধার কথার মধ্যে কোন মিল নেই।

২১- আহমাদ ইবনে হাম্বল, মুহম্মাদ ইবনে হাসানে ওয়াসতী (মাযনী) থেকে ও আবু ইউসুফ হুজ্জাজ থেকে ও ইবনে আবী যায়নাব সায়কাল থেকে ও আবু সুফিয়ান থেকে ও জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন।

(مرّرسول الله(ص) برجل وهو یصلی وقد وضع یده الیسری علی الیمنی فانتزعها ووضع الیمنی علی الیسری)                                                                                      

অর্থ: হযরত মুহম্মাদ(🙂  একজন ব্যক্তিকে দেখলেন যে নিজের বাম হাত কে ডান হাতের উপর রেখেছিল, হযরত মুহম্মাদ(🙂 সঙ্গে সঙ্গে তার ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে দিলেন।  (মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল খ:৩ পৃ:৩৮১)

১)- এটি সেই দারে কুতনীর আঠার নম্বর হাদীস।

২)- এই হাদীসের সনদে ও আবু ইউসুফ হুজ্জাজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যার সম্পর্কে ওলেমায়ে রেজাল বিশেষ ভাবে চিন্তা করেছেন।

আহমাদ ইবনে হাম্বল আবু ইউসুফ হুজ্জাজের সম্পর্কে বলেন: তার রেওয়ায়েত দুর্বল হওয়ার কারণে আমি ভয় পাই, ইবনে মাদিনী বলেন: ও দুর্বল।

নাসাই বলেন: ও নির্ভরযোগ্য নয়, দারে কুতনী বলেন: না ও তো রেওয়ায়েত বর্ণনাতে নির্চরযোগ্য ছিল আর না হাফীয ছিল।   (তাহযীবুল তাহযীব খ:২ পৃ:১৭৭, সেয়রে আলামুন নাবলা খ:৭ পৃ:৭৫)

ঠিক এই ভাবে এই রেওয়ায়েতের সনদে মুহম্মাদ ইবনে হাসান ওয়াসতীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে যার সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে এবং ইবনে হাব্বান তাকে খুব বেশী দুর্বল হিসেবে বলেন: ও হাদীসের সনদে কম বেশী করতেন।  (তাহযীবুল তাহযীব খ:৯ পৃ:১০৪)

ওই সমস্ত রেওয়ায়েত যে গুলোকে নামাযে হাত বাঁধার দলিল হিসেবে ব্যবহার করা হয় সেগুলোর  মধ্যে সংকেত এবং সনদ হিসেবে দুর্বল ও প্রতিবন্ধকতার গন্ধ পাওয়া যায়।

১- প্রথম রেওয়ায়েত যেটা বুখারী থেকে বর্ণিত তার সংকেতে প্রতিবন্ধকতা ছাড়া তার মধ্যে মুরসাল হওয়ার সন্দেহ পাওয়া যায় তাছাড়া এই হাদীসের সম্পর্ক হযরত মুহম্মাদ(স:)’র দিকে দেওয়া (যেমন ভাবে আইনী ও শওকানী এটাকে সুস্পষ্ট করেছে) এর প্রমাণও পাওয়া যায় না।

২- দ্বিতীয় রেওয়ায়েত যেটা সহীহ মুসলিম থেকে বর্ণিত যার সনদে আলকামা ইবনে ওয়ায়েলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যে ব্যক্তি নিজের পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এই রেওয়ায়েতও মুরসাল কারন তার পিতা তার জন্মের পূর্বে মারা যায়।

৩- তৃত্বীয় রেওয়ায়েত যেটাকে ইবনে মালিক বর্ণনা করেছেন যার সনদে ইবনে আবীল মখারমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যে ব্যক্তিকে দুর্বল বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

৪- চতুর্থ রেওয়ায়েত যেটাকে আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন যার রাবীদের মধ্যে একজন আলাবিন সালেহ আছেন যার রেওয়ায়েতের দিকে কেউ তাকায় না অর্থাৎ গ্রহনযোগ্য নয়। যেমন ভাবে বুখারী ও তার সম্পর্কে পরিষ্কার ভাবে বলেছেন এবং এই রেওয়ায়েত ইবনে যুবায়েরের রেওয়ায়েতের ও বিপরীত।

৫- পঞ্চম রেওয়ায়েত এটাকেও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন যার সনদে হায়শামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যে ব্যক্তি রেওয়ায়েতের মধ্যে ভেজাল ও কম বেশী করতেন, এবং শেষ জীবনে স্মরণ শক্তিও হারিয়ে ফেলে ছিলেন। ঠিক এই ভাবে এই রেওয়ায়েতের রাবী হুজ্জাজ ও আছে যাকে দুর্বল বলা হয়েছে।

৬- ষষ্ঠ রেওয়ায়েত এটাকেও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন যার সনদে যিয়াদ ইবনে যেয়েদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যিনি অজ্ঞাত, এছাড়া এই রেওয়ায়েতে আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাকও আছে যার দুর্বল হওয়ার উপর ওলেমাদের ঐক্যমত রয়েছে।

৭- সপ্তম রেওয়ায়েত টিও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন যার সনদে তালুতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যার হাদীস গুলো দুর্বল। ঠিক এই ভাবে যিব্বি ও এর সনদে আছে যে ব্যক্তি অজ্ঞাত ও অচেনা।

৮- অষ্টম রেওয়ায়েত টিও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন যার সনদে আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যিনি দুর্বল।

৯- নবম রেওয়ায়েত টিও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন যার সনদে হায়শামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যে দুর্বল, এছাড়া এই রেওয়ায়েত কে মুরসাল ও বলা হয়েছে কারন তাউস তাবেয়ী এর সনদে আছে যে ব্যক্তি না হযরত মুহম্মাদ(স:) দেখেছে আর না তার কাছ থেকে রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছে।

১০- দশম রেওয়ায়েতটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন যার সনদে কাবিসার নাম উল্লেখ করা হয়েছে যে ব্যক্তি অচেনা।

১১- একাদশ রেওয়ায়েতটি ইবনে মাজা বর্ণনা করেছেন যদিও সুনানে ইবনে মাজার রেওয়ায়েত সাতটি ছাড়া সবটাই দুর্বল, এছাড়া এর রাবী আসিম ইবনে কুলায়েব যাকে দুর্বল বলা হয়েছে।

১২- দ্বাদশ রেওয়ায়েতটি দারমী বর্ণনা করেছেন যার সনদে আব্দুল জাব্বারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যে নিজের পিতার কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন সুতরাং এই রেওয়ায়েত মুরসাল তার কারণ হল আব্দুল জাব্বার পৃথিবীতে আসার পূর্বে তার পিতার মৃত্যু হয়ে যায় অতএব সে কিভাবে নিজের পিতার কাছ থেকে রেওয়ায়েতটি শুনতে পারে।

১৩- ত্রয়োদশ রেওয়ায়েতটি দারে কুতনী বর্ণনা করেছেন যার সনদে মান্দলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যে ব্যক্তি দুর্বল।

১৪- চতুর্দশ রেওয়ায়েত এটাকে দারে কুতনী বর্ণনা করেছেন যার সনদে মুহম্মাদ ইবনে আবান আনসারীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে যে ব্যক্তি হযরত আয়েশা(র:) থেকে রেওয়ায়েতটি বর্ণনা করেছেন কিন্তু এটা ঠিক নয়। আতএব এই রেওয়ায়েত মুরসাল এছাড়া এই রেওয়ায়েতের সনদে হায়শাম আছে যে ব্যক্তি দুর্বল।

১৫- রেওয়ায়েত এটাও দারে কুতনী বর্ণনা করেছেন যার সনদে নাযর ইবনে ইসমাইলের নাম উল্লেখ করা হায়েছে যে ব্যক্তি দুর্বল।

১৬- রেওয়ায়েতের সনদে তালহার নাম উল্লেখ করা হয়েছে যাকে সমস্ত ওলেমাগণ দুর্বল বলেছেন।

১৭- এই রেওয়ায়েতটি দারেকুতনী বর্ণনা করেছেন যার সনদে ওয়াকীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে যে ব্যক্তি পাঁচশো হাদীসের মধ্যে ত্রুটি করেছে।

১৮-ও ১৯- এই রেওয়ায়েতটি দারে কুতনী বর্ণনা করেছেন এই দুইটি রেওয়ায়েতের সনদে হুজ্জাজ ইবনে আবী যায়নাবের নাম উল্লেখ হয়েছে যে ব্যক্তি দুর্বল।

২০- এই রেওয়ায়েতটিও দারে কুতনী বর্ণনা করেছেন আর রেওয়ায়েতের সনদে আবুখালিদ আহমাদের নাম আছে যার সম্পর্কে অনেক কিছু বলা হয়েছে এবং তার হাদীস গুলোও গ্রহনযোগ্য নয়।

২১- এটা ওই আঠারো নম্বর রেওয়ায়েত যেটাকে দারেকুতনী দ্বিতীয়বার বর্ণনা করেছেন এবং তার সনদে আবু ইউসুফ হুজ্জাজের নাম আছে যাকে দুর্বল বলা হয়েছে।

এই কারণে ওই সমস্ত দলিল যার উপর বিশ্বাস করে নামাযে হাত বাঁধার সম্পর্ক হযরত মুহম্মাদ(স:)’র দিকে দেওয়া যায় তার কোন অস্তিত্ব থাকে না। এবং খুবই অবাকের বিষয় যে, বুখারী ও মুসলীমও এই ধরনের রেওয়ায়েতের উপর চিন্তা ভাবনা না করে নিজেদের পুস্তকে জায়গা দিতে এড়িয়ে গিয়েছেন। এবং এখান থেকে বুঝা যায় যে বুখারী ও মুসলীম নিজেদের পুস্তকে এই হাদীস গুলোকে বর্ণনা না করে এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, এই হাদীস গুলো সহীহ নয় এগুলো জাল হাদীস।

এছাড়া কিছু সাহাবায়ে কেরাম এবং মাযহাবের ইমাম যেমন যবায়ের, ইমামে মালিক, ইবনে সিরিন, হাসান বাসারী, এবং নাখয়ী ইত্যাদি…এই হাদীস গুলোকে সঠিক বলে বলেন নি এবং নামাযে হাত খোলার আকিদা রাখতেন। এই ভাবে মাযহাবে আহলে বাইতে ও যেমন ভাবে রেওয়ায়েত এবং ফাতওয়া থেকে স্পষ্ট যে, নামাযে হাত বাঁধা না জায়েয এবং শরিয়তের বিপরীত বলা হয়েছে।

অতএব এটা বলা ঠিক যে, নামাযে হাত বাঁধা সুন্নাতের বীপরিত এবং বেদআত থেকে অনেক নিকট।