Press "Enter" to skip to content

শিয়া বর্ষপঞ্জিকা (আরবী বর্ষে বিভিন্ন দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি) – ৭

প্রসঙ্গ: রজব মাস

সংঙ্কলন ও অনুবাদ: এস, এ, এ

১লা রজব

ইমাম বাকের (আ.)এর জন্ম দিবস

বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ)এর মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের ৫৭ বছর পর বরকতময় রজব মাসের প্রথম দিন রোজ শুক্রবার ধরনী আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বনবীর পবিত্র আহলে বাইতের অন্যতম সদস্য ইমাম মোহাম্মাদ বাকের (আঃ)। তার বাবা ছিলেন ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) এবং তাঁর মাতা ছিলেন ফাতেমা বিনতে ইমাম হাসান। ইমাম বাকের (আ.) ছিলেন প্রথম ইমাম, যিনি বাবা মা উভয়ের দিক থেকেই ছিলেন আলাভি।

ইসলামের ইতিহাসে সেটি ছিলো এক সোনালী মুহুর্ত। তিনি ছিলেন ইমাম সাজ্জাদ (আঃ) এর সন্তান এবং সবাই তাঁকে বাকের বলেই চিনতো। ইমাম জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রসার ঘটাতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে তাকে বাকের বা প্রস্ফুটনকারী বলে অভিহিত করা হতো। জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তার অগাধ পাণ্ডিত্য ছিলো এবং জ্ঞানবিজ্ঞানের অনেক জটিল রহস্য তিনি উন্মোচন করেছেন।সে সময়ের বিখ্যাত পণ্ডিতরা ইমাম বাকের (আঃ) এর সমূদ্রসম জ্ঞানের কাছে ছিলেন বিন্দুসম পানির মতো।

বিশিষ্ট মুসলিম মনিষী শেখ তুসি ইমাম বাকের (আঃ) এর ছাত্র সংখ্যা ৪৬২ জন বলে উল্লেখ করেছেন। তৎকালীন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, দার্শনিক ও পণ্ডিত ব্যক্তিরা জ্ঞানের দীক্ষা নেয়ার জন্য ইমামের সমীপে উপস্থিত হতেন। এক্ষেত্রে জাবির বিন ইয়াজিদ, জুহরি, আবু হানিফা, আনাস বিন মালিক এবং শাফিঈ’র নাম উল্লেখ করা যায়, যারা ইমামের জ্ঞানভাণ্ডার থেকে শিক্ষালাভ করেছেন। মোহাম্মাদ বিন তালহা শাফিঈ ইমাম বাকের (আঃ) সম্পর্কে লিখেছেন: “তিনি ছিলেন জ্ঞানের প্রস্ফুটনকারী। তিনি সংক্ষেপে অর্থবহ কথা বলতেন এবং তাঁর মনের জানালা ছিলো উন্মুক্ত। কাজে কর্মে তিনি ছিলেন পবিত্র মানুষ। মহান চরিত্রের অধিকারী ছিলেন তিনি। আল্লাহর আদেশ পালনই ছিলো তার ব্রত। তিনি ছিলেন আল্লাহর নিকটতম ব্যক্তিদের অন্যতম এবং মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব দানের যোগ্যতা তাঁর ছিলো। (মানাকেবে ইবনে শাহর আশুব, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২২৭, মেসবাহে কাফআমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৯, আলামুল ওয়ারা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৯৮, কালায়েদুন নুহুর, খন্ড রজব, পৃষ্ঠা ৪, মানাকেবে আলে আবি তালিব, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২২৭)

২য় রজব

ইমাম আলী নাক্বি (আ.)এর জন্মদিবস

এক রেওয়ায়েত অনুযায়ি উক্ত তারিখে ইমাম আলী নাক্বি (আ.)এর জন্মদিবস। এছাড়াও বিভিন্ন রেওয়ায়েতে অন্যান্য তারিখও বর্ণিত হয়েছে যেমন: ১৫ই জিলহজ্ব, ৫ই রজব, ২৭ জামাদিউস সানী এবং ৩রা রজব।  (কালায়েদুন নুহুর, খন্ড রজব, পৃষ্ঠা ১৮, মেসবাহুল মোতাহাজজেদ, পৃষ্ঠা ৭৪১, কালায়েদুন নুহুর, খন্ড রজব, পৃষ্ঠা ১৮, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৫০, পৃষ্ঠা ১১৭, মেসবাহে কাফআমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৯)

৩য় রজব

ইমাম আলী নাক্বি (আ.)এর শাহাদত

সন ২৫৪ হিজরীর ৩য় রজব তারিখে ৪১ বছর বয়সে ইমাম আলী নাক্বি (আ.) শাহাদত বরণ করেন। আহলে বাইতের অন্যান্য ইমামের মতো হাদি (আ.)ও ছিলেন রহমতের খনি, জ্ঞানের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার এবং হেদায়েত ও পরহেজগারীর মূল কাঠামো। তিনি সব সময় হাসিখুশী থাকতেন। প্রশান্ত চিত্তের অধিকারী ইমাম হাদি (আঃ) এর চাল-চলন ও আচার-আচরণ সবাইকে মুগ্ধ করতো। তিনি খুব সাধারণতবে পরিচ্ছন্ন পোষাক পরিধান করতেন। ইমামের পোশাক ও জায়নামাজ দেখলেই বোঝা যেত যুগের সর্বোত্তম এই ব্যক্তি কতটা সাদাসিধে জীবনে অভ্যস্ত। বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ইবনে শাহ্‌র অশুব, ইমাম হাদি (আ.) সম্পর্কে বলেছেন, হযরত হাদি ছিলেন একজন পরিপূর্ণতম মানুষ। তিনি যে নবী পরিবারের সন্তান সেই ঐশ্বর্য তাঁর চেহারায় জ্বলজ্বলে ছিল, কেননা তিনি ছিলেন রেসালাতের বৃক্ষেরই ফল এবং নবীজীর খান্দানেরই মনোনীত।

ইমাম হাদি (আ.) এর জীবনকালে মুতাওয়াক্কিলসহ আব্বাসীয় খলিফাদের বেশ কয়েকজনের শাসনকাল অতিবাহিত হয়েছে। চিন্তা ও রাজনৈতিক দিক থেকে সেই সময়টা ভিন্ন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ছিল। সমাজে শ্বাসরুদ্ধকর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। শাসক গোষ্ঠী ইমাম হাদি (আ.)এর অস্তিত্বকে মেনে নিতে পাচ্ছিল না।

বিভিন্ন কারণে আব্বাসীয় শাসনের যুগ যতোই অতিক্রান্ত হচ্ছিল ততোই শাসকদের সম্মান ও মর্যাদা হ্রাস পাচ্ছিল। তাদের মর্যাদা হ্রাস পাবার পেছনে কারণ ছিল-সমাজে তাদের দুর্নীতি এবং তাদের শাসক হবার যোগ্যতাহীনতার ব্যাপারে জনতার মুখে মুখে রব ওঠা-যার ফলে মানুষ তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিল।

অন্যদিকে,নতুন নতুন চিন্তাধারা আর বিকৃত বিশ্বাসের প্রচলনের কারণে মানুষের চিন্তারাজ্যে এবং বোধ ও বিশ্বাসে ভয়াবহ বিকৃতি জেঁকে বসেছিল। ইমাম হাদি (আঃ) যদি এই দুঃসময়ে ইসলামের উন্নত নীতি-নৈতিকতার চর্চা ও বিকাশ না ঘটাতেন,তাহলে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস ও নীতিমালাগুলো বিচ্যুতিতে ডুবে যেত। ইমাম হাদি (আ শুরুতে মদীনায় বসবাস করতেন। মদীনা ছিল মুসলিম বিশ্বের জন্যে ইসলামী বিধি-বিধান এবং জ্ঞানের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আর ইমাম জ্ঞানের এই কেন্দ্রটি পরিচালনা বা এর নেতৃত্বের দায়িত্বে ছিলেন।

মুতাওয়াক্কিলের শাসনামলে ইমাম হাদি (আ.) বাধ্য হয়েছিলেন মদীনা ছেড়ে সামেরায় বসবাস করতে। কেননা মুতাওয়াক্কিল জনগণের মাঝে ইমাম হাদি আ.) এর প্রভাব প্রতিপত্তিকে ভয় করতো। তাই সে চাইতো ইমামকে জনগণের কাছ থেকে সরিয়ে রাখতে। এ কারণেই ইমামকে সে সামেরায় অর্থাৎ মুতাওয়াক্কিলের হুকুমাতের কেন্দ্রে নিয়ে আসে। সামেরা শহরেও ইমাম হাদি (আ.)কে লোকজন স্বাগত জানায় এবং মুতাওয়াক্কিল শত চেষ্টা চালিয়েও ইমামের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা হ্রাস করতে পারেনি। ইমামের জনপ্রিয়তা হ্রাসের জন্য মুতাওয়াক্কিল নানা কৌশল ব্যবহার করেছিল। কিন্তু তারপরেও ইমামের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই আরও বাড়তে থাকে। ফলে আরও ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে আব্বাসীয়রা। এরই এক পর্যায়ে আব্বাসীয় খলিফার নির্দেশে ইমামকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়। ইমামের শাহাদাতের খবরে গোটা মুসলিম বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে আসে। ইমাম হাদি (আঃ)এর জানাজা নামাজে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছিল বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।

তাঁর  ইমামতকাল ছিল ৩৩ বছর। ইমাম হাসান আসকারী (আ.) তাঁকে কাফন দাফন এবং জানাযার নামাজ পড়ান এবং তাঁকে নিজ ঘরেই দাফন করেন। বর্তমানে পবিত্র মাজার শরিফটি তাঁর ঘরের উপরেই অবস্থিত।  (তৌযিহুল মাকাসেদ, পৃষ্ঠা ১৬, মেসবাহে কাফআমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৯, মানাকেবে আলে আবি তালিব, খন্ড ৪, কাফি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৯৭, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৫০, পৃষ্ঠা ১১৩)

৫ই রজব

ইবনে সিককিত-এর শাহাদত

ইয়াকুব বিন ইসহাক ওরফে “ইবনে সিককিত” ছিলেন শিয়া মাযহাবের একজন ব্যাক্তিত্ব। মোতাওয়াক্কেল আব্বাসির নির্দেশে সোমবার ৫ই রজব সন ২২৪ হিজরীতে তাঁকে শহীদ করা হয় এবং সামেরায় তাঁকে দাফন করা হয়।মৃত্যুকালিন সময়ে তাঁর বয়স ছিল ৫৮ বছর। তিনি ছিলেন ইমাম মোহাম্মাদ তাক্বি ও আলী নাক্বি (আ.) এর আস্থাভাজন একজন অনুসারী। সে ছিল মোতাওয়াক্কেল আব্বাসির দুই সন্তানের (মোতায ও মোয়েদ) শিক্ষক। একদা খলিফা তাকে জিজ্ঞাসা করে তোমার দৃষ্টিতে ইমাম হাসান ও হুসাইন উত্তম না আমার দুই সন্তান? তখন তিনি বলেন:হজরত আলী (আ.) এর দাশ কাম্বার আপনি এবং আপনার দুই সন্তানের চেয়ে অনেক উত্তম। মোতাওয়াক্কেল তার উক্ত কথাটি শোনার পরে রাগান্বিত হয় এবং নির্দেশ দেয় তার জিহবাকে ঘাড়ের অংশ থেকে বাহির করা হোক। আর এ কারণেই তিনি শাহাদত বরণ করেন।  (রেজালে নাজ্জাশি, পৃষ্ঠা ৪৪৯, তারিখে সামেরা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২২৬, আল কুনিয়া ওয়াল আলকাব, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩১৪, নাহজুস সাআদা, খন্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩৮৭, তারিখে বাগদাদ, খন্ড ১৪, পৃষ্ঠা ২৭৪)

৭ই রজব

ইমাম রেযা (আ.) ও বেলায়াতে আহাদি

সন ২০০ হিজরী ৭ই সফর তারিখে বণি আব্বাসের খলিফা মামুন ইমাম রেযা (আ.)কে জোরপূর্বক বেলায়াতে আহাদি গ্রহণের জন্য পত্র প্রেরণ করে।  (কালায়েদুন নুহুর, খন্ড রজব, পৃষ্ঠা ৬৩)

১০ই রজব

1.      ইমাম মোহাম্মাদ তাক্বি (আ.)এর জন্মদিবস

সন ১৯৫ হিজরীর ১০ই রজব তারিখে ইমাম মোহাম্মাদ তাক্বি (আ.) জন্মগ্রহণ করেন। এছাড়াও তাঁর জন্মতারিখ সম্পর্কে বিভিন্ন রেওয়াতে বর্ণিত হয়েছে যেমন: ১৫ই রমজান, ১৭ রমজান, জিলকদ মাসের শেষ তারিখ। তাঁর পিতা ছিলেন ইমাম রেযা (আ.) এবং মাতা ছিলেন খাযিরান।  (তারিখে সামেরা, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩০২, যাদুল মাআদ, পৃষ্ঠা ২১, আলামুল ওয়ারা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৯১, মেসবাহে কাফআমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৯, তারিখে কুম, পৃষ্ঠা ২০০)

2.     হজরত আলী আসগার (আ.)এর জন্মদিবস

১০ই রজব দিনে হজরত আলী আসগার (আ.) জন্মগ্রহণ করেন। কারবালার ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল ৬ মাস। তাঁর নাম ছিল “আব্দুল্লাহ” আর প্রসিদ্ধ হচ্ছেন “আলী আসগার” নামে। তাঁর পিতার নাম ছিল ইমাম হুসাইন (আ.)এবং মাতার নাম ছিল রোবাব বিনতে আমর কাইস কালাবি।  (আলামুল ওয়ারা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৯১, তাকভিমুল আয়েম্মা, পৃষ্ঠা ৭৩, ৭৮, সাহাবে রাহমাত, পৃষ্ঠা ৫৩৫)

১২ই রজব

1.      মাবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের মৃত্যুদিবস

সন ৬০ হিজরীর ১২ই রজব তারিখে ৭৮ বছর বয়সে আবু সুফিয়ান ও কলিজাখোর হিন্দার পুত্র মাবিয়া মৃত্যুবরণ করে। এছাড়াও তার মৃত্যু সম্পর্কে অন্যান্য মতও বর্ণিত হয়েছে।

ইতিহাসে তার মৃত্যুর ঘটনা এভাবে বর্ণিত হয়েছে একদা মাবিয়া মক্কা থেকে শামে আসার পথে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার মুখ বন্ধ হয়ে যায় এবং শামে আসার পরেই সে মৃত্যুবরণ করে। তার মৃত্যু সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত রয়েছে যেমন: ৪, ১২, ১৪, ১৫ এবং ২২শে রজব বলেও উল্লেখ করেছেন।  (রওযাতুল ওয়ায়েযিন, পৃষ্ঠা ১৭১, মাশারুশ শিয়া, পৃষ্ঠা ৩৪, ওয়াকায়েউশ শুহুর, পৃষ্ঠা ১২০, ইকবাল, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৬০, সিরাতুল মুস্তাকিম, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা পৃষ্ঠা ৪৬)

2.     ইমাম আলী (আ.) কুফাতে আগমণ করেন

উক্ত তারিখে সন ৩৬ হিজরী জামালের যুদ্ধের পরে কুফাতে আগমণ করেন এবং কুফাকে রাজধানি রূপে নির্বাচন করেন এবং উক্ত তারিখে তিনি প্রথম খুৎবা দান করেন।  (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৩২, পৃষ্ঠা ৩৫২, ৩৮২, ওয়াকায়েউল আইয়াম, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১১৮, ১৭৮, কালায়েদুন নুহুর, খন্ড রজব, পৃষ্ঠা ১০৪, তাযকেরাতুল খাওয়াস, পৃষ্ঠা ৮০)

১৩ই রজব

হজরত আলী (আ.)এর জন্মদিন

ইবনে আব্বাস বলেন: আমি ফাতেমা বিনতে আসাদকে দেখি যে, তিনি কাবা ঘরের দরজার বিপরিত অংশে দাড়িয়ে দোয়া করতে থাকে হঠাৎ কাবা ঘরের দেয়াল ফেটে যায় এবং ফাতেমা বিনতে আসাদ কাবা গৃহে প্রবেশ করে। পরে আমরা কাবা ঘরের তালা খোলার শত চেষ্টা করেও ব্যার্থ হই। ফাতেমা বিনতে আসাদ বলেন: আমি কাবাগৃহে প্রবেশের পরে দেখতে পাই যে সেখানে হজরত হাওয়া, সারা, আসিয়া, মুসা (আ.) এর মা এবং হজরত মারিয়ম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অতঃপর ইমাম আলী (আ.) জন্মগ্রহণ করেন। তিনদিন খোদার ঘরের মেহমান থাকার পরে তিনি চতূর্থ দিন তিনি কাবা ঘরের বাইরে আসেন।

ঐতিহাসিকদের মতে ইমাম আলী (আ.) রোজ শুক্রবার আমুল ফিল বছরের ৩০ বছর পরে পবিত্র কাবা গৃহে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই তিনি এবং তাঁর মা ফাতেমা বিনতে আসাদ তিন দিন অবস্থান করেন।  (আলামুল ওয়ারা, খন্ড, ১, পৃষ্ঠা ৩০৬, বাশারাতুল মোস্তফা, পৃষ্ঠা ৩৭, আল ইরশাদ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৫, মেসবাহে কাফআমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৯, ইকবাল, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা পৃষ্ঠা ২৩১)

১৪ই রজব

মোতামেদ আব্বাসীর মৃত্যুদিবস

সন ২৭৯ হিজরীর উক্ত তারিখে আব্বাসীয় খলিফা মোতামেদ আব্বাসী মৃত্যুবরণ করে। ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ি একদা সে নদির কিনারায় বসে মদ পান করছিল। সে এত পরিমাণ মদ পান করে যে উক্ত কারণে সে মারা যায়। তার খেলাফতের সময়কাল ছিল ২৩ বছর।  (কালায়েদুন নুহুর, খন্ড রজব, পৃষ্ঠা ১৪২)

১৫ই রজব

1.      হজরত জয়নাব (সা.আ.)এর মৃত্যুদিবস

সন ৬২ হিজরী ১৫ই রজব রবিবার রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর কয়েক মাস পরেই মারা যান।  বর্ণিত রেওয়ায়েত অনুযায়ি তাঁকে নিজের ঘরেই দাফন করা হয়।

তবে হজরত জয়নাব (সা.আ.) কিভাবে শাহাদত বরণ করেন এ সম্পর্কে ইতিহাসে বিভিন্ন মতামত বর্ণনা করা হয়েছে যেমন:

১- কোন কোন স্থানে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি পানিতে ডুবে মারা যান। কিন্তু নিন্মে উল্লেখিত পুস্তক সমূহের কোথাও পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়নি। আহলে বাইত (আ.) এর শত্রুরা উক্ত ঘটনাটিকে হজরত জয়নাব (সা.আ.) এর ব্যাক্তিত্বকে জনগণের কাছে ছোট করে দেখানোর বৃথা চেষ্টা করেছিল। আর যদি ঘটনাটি সত্যই হতো তাহলে তিনি তো আর একা ছিলেন না বরং তাঁর সাথে অন্যান্যরাও ছিল তাহলে কেন তাদের পানিতে ডুবে মরার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

২- তবে বিভিন্ন ইতিহাসের পুস্তক সমূহে হজরত জয়নাব (সা.আ.) এর মৃত্যু সম্পর্কে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্বাভাবিক মৃত্যুতে তিনি মারা যান।

আর উক্ত ঘটনাটিই হচ্ছে স্বাভাবিক কেননা তিনি কারবালার পথে যে,কষ্ট সহ্য করেছেন তাতে তাঁর অসুস্থ হওয়াটা হচ্ছে একটা স্বভাবিক বিষয়।

৩- আবার বিভিন্ন রেওয়ায়েতে বর্ণনা করা হয়েছে যে এজিদ তার লোকদের সহায়তায় হজরত জয়নাব (সা.আ.) কে বিষ দানের মাধ্যেমে শহীদ করে।

উক্ত কারণগুলোর সাথে হজরত জয়নাব (সা.আ.) এর সাথে এক বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। কেননা তিনি কারবালার ঘটনা দেখেছেন এবং কষ্টও সহ্য করেছেন। আর তাঁর জিবীত থাকা হচ্ছে এজিদের রাজতন্ত্রের জন্য একটি হুমকি স্বরূপ। আর তাই এজিদ কখনই চাইবে না যে তার রাজতন্ত্রের পতন হোক। যদিও বিষয়টি এতই গোপন যে কখনো কেউ চাইবে না যে হজরত জয়নাব (সা.আ.)এর মতো মহীয়সি নারী হত্যার অপরাধ নিজের ঘাড়ে তুলে নিতে।

আর তাই হজরত যায়নাব (সা.আ.) এর শাহাদতের তারিখেও মতভেদ রয়েছে। তবে প্রসিদ্ধ মতে তিনি রোজ রবিবার ১৫ই রজব ৬২ হিজরীতে তিনি শত বিচ্ছেদের বেদনা বুকে নিয়ে ইহলোক ত্যাগ করেন।  (ওকায়েউল হাওয়াদেস, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১১৩, উসদুল গাবা, খন্ড ৭, কিতাবে নিসা, জয়নাবে কুবরা মিনাল মাহদে ইলাল লাহাদ, পৃষ্ঠা ৫৯২, মোজামে রেজালুল হাদীস, খন্ড ২৪, পৃষ্ঠা ২১৯, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩১৬)

2.     কিবলা পরিবর্তন

সন ২য় হিজরীর ১৫ই রজবের দিনে যোহরের নামাজের সময় বাইতুল মোকাদ্দাস থেকে কাবার দিকে কিবলা পরিবর্তন করা হয়। উক্ত ঘটনাটি যে মসজিদে সংঘটিত হয় সে মসজিদের নামকরণ করা হয় “যু কিবলাতাইন”।  (মাশারুশ শিয়া, পৃষ্ঠা ৩৫, মেসবাহে কাফআমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৮, মেসবাহুল মোতাহাজজেদ, পৃষ্ঠা ৭৪২, কালায়েদুন নুহুর, খন্ড রজব, পৃষ্ঠা ১৫১, ইকবাল, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৫৪)

3.     “শেআবে আবু তালিব” এর অবরোধ শেষ হয়

১৫ই রজবের দিনে রাসুল (সা.) এবং অন্যান্য মুসলমানরা “শেআবে আবু তালিব” থেকে বাহিরে আসেন।  (মেসবাহুল মোতাহাজজেদ, পৃষ্ঠা ৭৪১, ইখতিয়ারাত, পৃষ্ঠা ৩৬, ফেইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ৩০৮, কালায়েদুন নুহুর, খন্ড রজব, পৃষ্ঠা ১৪৫, ইকবাল, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৫৪)

১৬ই রজব

কাবা গৃহের বাহিরে হজরত ফাতেমা বিনতে আসাদ

১৫ই রজবের দিনের প্রথমভাগে হজরত ফাতেমা বিনতে আসাদ তার পুত্র হজরত আলী আলী (আ.) কে নিয়ে কাবা গৃহের বাহিরে আসেন।  (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৩৫, পৃষ্ঠা ৮, আমালী তুসী, পৃষ্ঠা ৭০৭, মাদিনাতুল মাআজেয, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৭)

১৭ই রজব

মামুনের মৃত্যুদিবস

সন ২১৮ হিজরী ১৫ই রজবের দিনে রোজ বৃহঃস্পতিবার ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করে। এছাড়াও ইতিহাসে তার মৃত্যুর তারিখে সম্পর্কে বিভিন্ন মত বর্ণিত হয়েছে যেমন: ২, ৩, ৮, ৯, ১৮ই রজব।  (মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড৫, পৃষ্ঠা ২২৪, তারিখে খোলাফা, পৃষ্ঠা ৩১৩, তারিখে তাবারী, খন্ড ৭, পৃষ্ঠা পৃষ্ঠা ২১০, তারিখে বাগদাদ, খন্ড ১০, পৃষ্ঠা ১৮৯, আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, খন্ড ১০, পৃষ্ঠা ৩০৬)

১৮ই রজব

1.      রাসুল (সা.)এর পুত্র হজরত ইব্রাহিমের মৃত্যুদিবস

সন ১০ হিজরী ১৮ই রজব রাসুল (সা.)এর পুত্র হজরত ইব্রাহিম মৃত্যুবরণ করেন। তার মায়ের নাম ছিল মারিয়া কিবতি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ১৮ মাস ও কয়েক দিন এবং অন্য মতে এক বছর ১০ মাস ও ৮ দিন।  (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ২২, পৃষ্ঠা ১৫২, মেসবাহুল মোতাহাজজেদ, পৃষ্ঠা ৭৪৮, মুনতাখাবুত তাওয়ারিখ, পৃষ্ঠা ৬১, ফেইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ৩১৩, যাদুল মাআদ, পৃষ্ঠা ৩৪)

2.     এজিদের খেলাফতের প্রথম দিন

এজিদ এ দিনে এজিদ খেলাফত অর্জন করে। মাবিয়ার মৃত্যুর পরে এজিদ দামেস্কে আসে এবং মাবিয়ার কবরের কাছে যায় এবং ক্রন্দন করে অতঃপর প্রাসাদে ফিরে যায় এবং তিনদিন পর্যন্ত সে প্রাসাদের বাইরে আসেনি। ২১শে রজব সে মসজিদে আসে এবং মেম্বারে আরোহন করে এবং খুৎবা দেয়।  (ওয়াকায়েউল আইয়াম, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৮, আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৫৩)

১৯শে রজব

মোতামেদ আব্বাসী-এর মৃত্যু

সন ২৭৯ হিজরীর ১৯শে রজব তারিখে আব্বাসীয় খলিফা মোতামেদ আব্বাসী মৃত্যু বরণ করে। ইতিহাসে তার মৃত্যুর দুইটি কারণ এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একদা সে নদির কুলে মদ পান করছিল এবং অতিরিক্ত পদ পানের কারণে সে মারা যায়। অন্যমতে তার ভাতিজা তার মদে বিষ মিশিয়ে দেয় যার কারণে তার পেঠ ফেটে যায় এবং মারা যায়। (মুরুজুয যাহাব, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৩১, তারিখে বাগদাদ, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৮১, আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ৭৫, সিরাহ আলামুন নোবালা, খন্ড ১২, পৃষ্ঠা ৫৫২, তাতেম্মাতুল মুনতাহা, পৃষ্ঠা ৩৬০)

২২শে রজব

হজরত আবু বকর খায়বারের যুদ্ধ থেকে পলায়ণ করেন

২২শে রজব তারিখে খায়বার যুদ্ধের পতাকা হজরত আবু বকরকে দান করা হয়। কিন্তু শত্রু পক্ষের পরাক্রমতাকে দেখে তিনি নিজেও পলায়ণ করেন এবং তার সৈন্যরাও সেখানে থেকে পলায়ণ করে।  (মুসনাদে আহমাদ,খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৫৩, ওয়াকায়েউল আইয়াম, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২১১, আল গাদরি, খন্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৯৯, মুসতাদরাকে হাকেম, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৭, আল এসাবা, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩৬)

২৩শে রজব

1.      ইমাম হাসান (আ.)এর উপরে হামলা করা হয়

উক্ত তারিখে খারেজিদের সদস্য হারাজ বিন সেনান আসাদি রাতের অন্ধকারে বিষাক্ত চাকু দ্বারা ইমাম হাসান (আ.)এর উরুতে আঘাত করে। চাকুর উক্ত আঘাতটি এতই জোরালো ছিল যে, তা গোশত ভেদ করে হাড় পর্যন্ত পৌছে যায়। ইমাম ব্যাথার কারণে হারাজের ঘাড় ধরে এবং উভয়েই মাটিতে পড়ে যায়। পরে ইমাম হাসান (আ.)এর সৈন্যরা তাকে আটক করে এবং হত্যা করে ফেলে।  (মেসবাহুল মোতাহাজজেদ, পৃষ্ঠা ৭৪৯, ফেইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ৩১৭, এলালুশ শারায়েহ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২২১, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৪, পৃষ্ঠা ৩৩, যাদুল মাআদ, পৃষ্ঠা ৩৫)

2.     ইমাম মুসা কাযিম (আ.)কে বিষ প্রয়োগ করা হয়

সন ১৮৩ হিজরীর উক্ত তারিখে ইমাম মুসা ইবনে জাফর (আ.) কে আব্বাসীয় খলিফা হারুনের নির্দেশে বাগদাদের কারাগারে বিষ প্রয়োগ করা হয় এবং ইমাম মুসা কাযিম (আ.) উক্ত বিষের প্রভাবের কারণে শাহাদত বরণ করেন।  (উয়ুনে আখবারে রেযা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৯৬, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৮, পৃষ্ঠা ২১২, মাআলেমুল যুলফা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪০১, কালায়েদুন নুহুর, খন্ড রজব, পৃষ্ঠা ২১০, ওয়াকায়েউল আইয়াম, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২২৫)

3.     হজরত উমর খায়বারের যুদ্ধ থেকে পলায়ণ করেন

উক্ত তারিখে খায়বার যুদ্ধের পতাকা হজরত উমরকে দান করা হয়। কিন্তু শত্রু পক্ষকে দেখে তিনি নিজেও পলায়ণ করেন এবং তার সৈন্যরাও সেখানে থেকে পলায়ণ করেন।  (তারিখে তাবারী, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০০, ওয়াকায়েউল আইয়াম, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২১১, ২১৩, ওয়াকায়েউশ শুহুর, পৃষ্ঠা ১২৭, তারিখুল মদীনা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৫, তারিখে তাবারী, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০০)

২৪শে রজব

1.      হজরত আলী (আ.) খায়বার জয় করেন

সন ৭ হিজরীর ২৩শে রজবের রাতে হজরত মোহাম্মাদ (সা.) বলেন আগামিকাল আমি ইসলামের পতাকার এমন এক ব্যাক্তির হাতে দিব যে শত্রুদের উপরে হামলা করবে এবং কখনও যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ণ করবে না।

পরের দিন অর্থাৎ ২৪শে রজব সকল সাহাবীরা অপেক্ষায় ছিল যে হয়তো পতাকা তাদের কারো কাছে অর্পণ করা হবে। কিন্তু রাসুল (সা.) বলেন: আলী ইবনে আবি তালিব কোথায়? সাহাবীরা বলেন: তাঁর চোখে ব্যাথ্যা। রাসুল (সা.) বলেন: যাও আলী আমার কাছে নিয়ে আস। তখন সালামা বিন আকওয়া ইমাম আলী (আ.) কে রাসুল (সা.) এর সমিপে উপস্থিত করেন। রাসুল (সা.) তাঁর মুখের লালা মোবারক আলী (আ.) এর চোখে লাগিয়ে দিলে অনতিবিলম্বে তাঁর চোখ ভাল হয়ে যায়। ইমাম আলী (আ.) বলেন: এর পরে আমার আর কখও চোখে সমস্যা হয়নি। উক্ত দিনে হজরত আলী (আ.) কর্তৃক মারহাব মারা যায় এবং খায়বারের “কামুস” নামক দূর্গটি মুসলমানদের দখলে আসে। উক্ত খায়বার বিজয়ের সকল কৃতিত্বই ছিল ইমাম আলী (আ.)এর।  (ফেইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ৩১৭, কানযুল উম্মল, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৮৩, মুসতাদরাকে হাকেম, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৭, ৩৯, ৪৩৮, ওয়াকায়েউল আইয়াম, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩৩, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৯৭, পৃষ্ঠা ৩৮৪)

2.     হজরত জাফর তৈয়ার হাবাসা থেকে ফিরে প্রত্যাবর্তন করেন

হজরত আলী (আ.) এর ভাই হজরত জাফর তৈয়ার খায়বার বিজয়ের তারিখে হাবাসা থেকে প্রত্যাবর্তন করেন। তখন রাসুল (সা.) বলেন: আজকে আমার দুইটি খুশির ঘটনা ঘটেছে এক হজরত আলী (আ.) এর বিজয় এবং অপরটি হচ্ছে জাফর তাইয়ারের আগমণ। অতঃপর তিনি হজরত জাফর তাইয়ার (রা.)এর কপালে চুম্বন করেন।  (মুনতাখাবুত তাওয়ারিখ, পৃষ্ঠা ৫৬, তাহযিবুল আহকাম, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৮৬, ওয়াসায়েলুশ শিয়া, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ৫০- ৫২, ওয়াকায়েউল আইয়াম, খন্ড রজব, পৃষ্ঠা ২৫৫, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ২১, পৃষ্ঠা ২৩)

২৫ শে রজব

ইমাম মুসা কাযিম (আ.)এর শাহাদত

সন ১৮৩ হিজরীর ২৫শে রজব তারিখে ইমাম কাযিম (আ.) শাহাদত বরণ করেন। সিন্দি বিন বিন শাহাক ইমাম কাযিম (আ.)কে শহীদ করেন। ইমাম রেযা (আ.) তাঁর বাবাকে গোসল দেন, কাফন পরান এবং জানাযার নামাজ আদায় করেন। ইমাম (আ.) এর অনুসারীরা ইমামের জানাযায় অংশগ্রহণ করে। বর্তমানে কাযেমাইনে তাঁকে দাফন করা হয়।

অন্য রেওয়ায়েত এবং মরহুম কুলাইনি (রহ.)এর বর্ণনা অনুযায়ি ৬ই রজব ইমাম কাযিম (আ.) শাহাদত বরণ করেন।  (কাফি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫০৭, আলামুল ওয়ারা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৬, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৮, পৃষ্ঠা ২০৬, আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২১৫, রওযাতুল ওয়ায়েযিন, পৃষ্ঠা ২২১)

২৬শে রজব

হজরত আবু তালিবের মৃত্যুদিবস

হজরত আবু তালিব হিজরতের তিন বছর পূর্বে এবং বেসাতের ১০ম বছরে ২৬শে রজব তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ৮০ বছর। তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে আরো কয়েকটি মত বর্ণিত হয়েছে যেমন: ২৭শে জামাদিউল আওয়াল, ২৬ অথবা ২৭শে রজব, ৭ অথবা ১৮ই রমজান, ১৫ অথবা ১৭ই শাওয়াল, ১ অথবা ১০ই জিলকদ এবং ১লা জিলহজ্ব।  (মুনতাখাবুত তাওয়ারিখ, পৃষ্ঠা ৪৩, মেসবাহুল মোতাহাজজেদ, পৃষ্ঠা ৭৪৯, ওয়াকায়েউল আইয়াম, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩০৩, ফেইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ৩২৬, নাফায়েহুল আলাম, পৃষ্ঠা ১৫৮)

২৭শে রজব

রাসুল (সা.)এর নবুওয়াত প্রাপ্তি

৪০ বছর বয়সে বেসাতে রাসুল (সা.) শুরু হয় এবং কোরআনের আয়াত নাযিল শুরু হয়। ২৭শে রজবের দিনটি মুসলমানদের জন্য ঈদের একটি দিন। যখন রাসুল (সা.) হেরা গুহা থেকে নিচে নেমে আসছিলেন তখন সকল প্রকৃতি তাঁর প্রতি সালাম নিবেদন করছিলেন। রাসুল (সা.) হজরত খাদিজা (সা.আ.) এর ঘরে আসলে তিনি রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করেন হে মোহাম্মাদ (সা.)! এটা কিসের নূর। রাসুল (সা.) বলেন: এটা হচ্ছে নবুওয়াতের নূর। তিনি খাদিজা (সা.আ.) কে বলেন: হে খাদিজা! বল লা ইলাহা ইল্লাল্লা। তখন হজরত খাদিজা (সা.আ.) বলেন আমি আগে থেকেই অনুধাবন করতে পরেছিলাম যে, আপনি নবুওয়াত লাভ করবেন। অতঃপর তিনি বলেন:  ইলাহা ইল্লাল্লা মোহাম্মাদুর রাসুল আল্লাহ।  (আলামুল ওয়ারা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৬, কাফি, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৪৯, তাহযিবুল আহকাম, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩০৫, আলামুল ওয়ারা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৬, ওসায়েলুশ শিয়া, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ১১০)

২৮শে রজব

1.      ইমাম হুসাইন (আ.) মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হন

সন ৬০ হিজরীতে ইমাম হুসাইন (আ.) মদীনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হন। মদীনা থেকে রওনা হওয়ার সময় তিনি ২৫০টি ঘোড়া, ২৫০টি উট ও মাদি উট ছিল। উক্ত উট সমূহের মধ্যে ৭০টি উট ছিল  তাবু বহন করার জন্য, ৪০টি উট অন্যান্য আসবাবপত্র এবং মালামাল বহন করার জন্য, ৩০টি উট পানির মশক বহর করার জন্য, ১২টি উট পোষাক এবং দিরহাম ও দিনার বহন করার জন্য, ৫০টি উট আলাভি নারী, শিশু, খাদেম এবং দাশ দাশিদের বসার স্থান স্বরূপ ব্যাবহার করা হয় এবং অবশিষ্ট উটগুলো অন্যান্য জিনিষপত্র বহন করার জন্য ব্যাবহার করা হয়।  (মদীনা তা মদীনা, পৃষ্ঠা ৭৭- ৯০, আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪, আলামুল ওয়ারা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৩৫, তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৫২, রওযাতুল ওয়ায়েযিন, পষ্ঠা ১৭১)

2.     ইসলামের প্রথম নামাজ

২৮শে রজব রাসুল (সা.) এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পরে উক্ত নামাজটি পড়া হয়। উক্ত নামাজে মামুমরূপে সর্বপ্রথম অংশগ্রহণ করেন হজরত আলী (আ.)।  (তারিখে তাবারী, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৫, মানাকেবে আলে আবি তালিব, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২১, আল গাদির, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২২৪, ২৪৩, ইস্তিয়াব, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১০৯৫, ‍মুসতাদরাকে হাকেম, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১১২, ১৮৩)

রজব মাসের শেষ দিন

1.      হজরত আবু হানিফার মৃত্যু দিবস

সন ১৫০ হিজরীতে বাগদাদে নোমান বিন সাবিত ওরফে আবু হানিফা মৃত্যুবরণ করেন এবং উক্ত শহরেই তাকে দাফন করা হয়।  (মারাকেদুল মাআরেফ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৯৫- ৯৬, তাতেম্মাতুল মুনতাহা, পৃষ্ঠা ২৮৬, মোজামুল কাবির, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩২০, তারিখে দামেস্ক, খন্ড ৪২, পৃষ্ঠা ২৭- ২৯, তারিখে তাবারী, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৫)

2.     ইমাম শাফেয়ী’র মৃত্যুদিবস

ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ী সন ২০৪ হিজরী রোজ শুক্রবার মোহাম্মাদ বিন ইদ্রিস শাফেয়ি মিশরে মৃত্যুবরণ করেন।  (রওযাতুল জান্নাত, খন্ড ৭, পৃষ্ঠা ২৫৮, তাতেম্মাতুল মুনতাহা, পৃষ্ঠা ২৮৬, মারাকেদুল মাআরেফ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৯৫, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২২৩, তারিখে দামেস্ক, খন্ড ৫১, পৃষ্ঠা ২৭৯, ৪৩২)

3.     হাবাশার উদ্দেশ্যে মুসলমানদের যাত্রা

উক্ত মাসে রাসুল (সা.) এর বেসাতের পরে তাঁর নির্দেশে জাফর বিন আবু তালিব হাবাশার উদ্দেশ্যে রওনা হন।  (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ১৮, পৃষ্ঠা ৪১২- ৪২২, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২০৩, তাবাকাতুল কুবরা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৪, তারিখে তাবারী, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৯)

4.      হাবাশার বাদশা নাজ্জাসির মৃত্যু দিবস

উক্ত তরিখে ৯ হিজরী  হাবাশার বাদশা নাজ্জাশি মৃত্যুবরণ করে। রাসুল (সা.) তার সম্পর্কে বলেন: আজ  একজন সৎ ব্যাক্তি আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছে।  (আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৯৮, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ২১, পৃষ্ঠা ৩৬৯, সিরাতুন নাবী ইবনে কাসির, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৭৪, মাকাতিবুর রাসুল (সা.), খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৩৮, মুনতাহিউল আমাল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৯৩)

5.     মালিকে আশতার (রা.)এর শাহাদত দিবস

মালিকে আশতার (রা.)ছিলেন রাসুল (সা.) এর জলিলুল কদর সাহাবী হজরত আলী (আ.) এর সেনাপতি ছিলেন। মিশরের কুলযামে মাবিয়ার নিদের্শে বিষ প্রয়োগের কারণে তিনি উক্ত তারিখে ৩৭ অথবা ৩৮ হিজরীতে শাহাদত বরণ করেন। বর্তমানে কুলযামে তাঁর কবর রয়েছে এবং তাঁর কবরের উপরে ছোট একটি গম্বুজ তৈরি করা হয়েছে।

ইতিহাসে মালিকে আশতারের মৃত্যুর ঘটনাটি এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, ইমাম আলী (আ.) তাঁকে দ্বায়িত্ব দিয়ে মিশরে প্রেরণ করেন। মাবিয়া তার আগমণ সম্পর্কে অবগত হয়। সে দেহকান আরিশ নামক এক ব্যাক্তিকে দ্বায়িত্ব দেয় সে যেন মালিকে আশতারকে বিষ দান করে। মাবিয়া তাকে বলে যদি তুমি এমনটি করতে পার তাহলে তোমাকে আমি এত অর্থ দিব যে তুমি তা দিয়ে সারা জিবন অতিবাহিত করতে পারবে।  যেহেতু মালিকে আশতার মধু অত্যান্ত পছন্দ করতেন সেহেতেু সে মধুর শরবতে বিষ মিশিয়ে মালিকে আশতারের সমিপে নিয়ে আসে এবং উক্ত শরবতের একাধিক গুণাগুণ বর্ণনা করে। যখন মালিকে আশতার উক্ত শরবতটি পান করেন তাপরেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এবং কুলযুমেই তাকে দাফন করা হয়।  (তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৭২, তারিখে দামেস্ক, খন্ড ৫৬, পৃষ্ঠা ৩৭৮, মারাকেদুল মাআরেফ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২২৩, শারহে নাহজুল বালাগা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২১৪, ইয়ানাবিউল মোয়াদ্দাত, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৮)