প্রসঙ্গ: মুহাররম মাস
সংঙ্কলন ও অনুবাদ: এস, এ, এ
১লা মুহাররম
1. শেয়াবে আবু তালিব
শেয়াবে আবু তালিবের ঘটনাটি ১লা মহরমে সংঘটিত হয়। রাসুল (সা.) এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পরে কুরাইশের কাফেরগণ একত্রিত হয়ে একটি চুক্তিনামা লিখে। তাতে উল্লেখ করা হয় যে, বণি হাশিমের লোকজনদের সাথে কোন প্রকারের কথা, একত্রে আহার, তাদের সাথে ব্যাবসা করা যাবে না। তারা ভেবেছিল বণি হাশিমকে এভাবে চাপের মুখে রাখলে তারা হয়তো রাসুল (সা.)কে তাদের কাছে সমর্পণ করবে এবং তারা এ সুযোগে রাসুল (সা.)কে হত্যা করবে। হজরত আবু তালিব প্রত্যেক রাতে রাসুল (সা.) এর বিছানাকে পরিবর্তন করতেন এবং তাঁর বিছানায় নিজের সন্তানদের ঘুম পাড়াতেন।
কিন্তু দুই বছর কয়েক মাস পরে আল্লাহর নির্দেশে উঁই পোকারা শুধুমাত্র আল্লাহর নাম ছাড়া উক্ত চুক্তিনামাকে খেয়ে ফেলে। যখন কাফেরদের কে উক্ত ঘটনা সম্পর্কে অবগত করা হয় এবং তারা বিষয়টিকে যাচাই করার জন্য যখন চুক্তিনামাটিকে খুলে তখন তারা দেখে যে, শুধুমাত্র আল্লাহর নাম ছাড়া আর কোন কিছুই অবশিষ্ট নেই। অতঃপর তারা উক্ত অবরোধকে বাতিল করে দেয়। (সীরাতুন নাবাভী, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৩- ৫০, আল গ্বাদীর, খন্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩৬৩, তাবাকাতুল কুবরা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৮, কালায়েদুন নুহুর, খন্ড মুহাররম ওয়া সফর, পৃষ্ঠা ৯, সুবুলুল হুদা ওয়ার রেশাদ, খন্ড ১০, পৃষ্ঠা ৫৯)
2. যাতুর রাকাআ যুদ্ধ সংঘটিত হয়
সন ৪ হিজরীতে কুরাইশের কাফেরদের প্ররোচণার কারণে মদীনার আশেপাশের বিভিন্ন গোত্রের লোকজন মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত হয় এবং তারা মদীনার চারিপাশে অবরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে। রাসুল (সা.) তাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য প্রায় ৪০০ জন অথবা ৭৯০ জন সাহাবীদেরকে সাথে নিয়ে মদীনার বাহিরে আসেন। তিনি তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সেখানে “নামাজে খউফ” (ভয় ভীতির নামাজ) আদায় করেন। উক্ত যুদ্ধটি তিনদিন অব্যাহত থাকে। (ওকায়েউশ শুহুর, পৃষ্ঠা ৯৮, আল ওকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৫, তৌযিহুল মাকাসিদ, পৃষ্ঠা ২-৩, ফাতহুল বারী, খন্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩২১)
3. জাকাত সংগ্রহ
উক্ত তারিখে রাসুল (সা.) তার সাহাবীদেরকে প্রথমবার জাকাত ও সাদকা আদায়ের জন্য মদীনার আশেপাশের এলাকায় প্রেরণ করেন। (মাকাতিবুর রাসুল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৮, কালায়েদুন নুহুর, খন্ড মুহাররম ওয়া সফর, পৃষ্ঠা ১৫, তাবাকাতুল কুবরা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৬০, তারিখে দামেস্ক, খন্ড ১৮, পৃষ্ঠা ১৮, আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৪২)
4. কাসরে মাকাতিল নামক স্থানে ইমাম হুসাইন (আ.)
সন ৬১ হিজরী রোজ বুধবার ইমাম হুসাইন (আ.) কাসরে মাকাতিল নামক স্থানে অবস্থান করেন। ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে যে, উক্ত স্থানে ইমাম হুসাইন (আ.)এর সাথে উবাইদুল্লাহ বিন হুর জাআফির সাক্ষাত হয় এবং তাকে সাহায্যে করার আহবান জানান। কিন্তু সে ইমাম (আ.)কে সহায়তা করতে অসম্মতি জ্ঞাপন করে। পরে সে তার উক্ত কাজের জন্য অনুতপ্ত হয়। (নাফসুল মাহমুম, পৃষ্ঠা ১৯৬- ১৯৭, ইমামুল হুসাইন ওয়া আসহাবিহি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮৬, আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৮১, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৪, পৃষ্ঠা ৩৭৯, মাআলীউস সিবতাইন, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭৮- ২৭৯)
২য় মুহাররম
1. ইমাম হুসাইন (আ.)কারবালাতে পৌঁছান
সন ৬১ হিজরির ২রা মহররম কারাবালার কালজয়ী বিপ্লবের মহানায়ক হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) বিশ্বের সবচেয়ে করুণ অথচ বীরত্বপূর্ণ ঘটনার অকুস্থল কারবালায় এসে পৌঁছেন। উক্ত স্থানে পৌছানোর পরে ইমাম হুসাইন (আ.) এর ঘোড়া আর অগ্রসর হচ্ছিল না। তখন তিনি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করেন উক্ত স্থানের নাম কি? যখন তাঁকে বলা হয় যে, উক্ত স্থানের নাম কারবালা। তখন তিনি ক্রন্দন করে বলেন: মহান আল্লাহর শপথ এখানেই আমাদের পুরুষদেরকে শহীদ করা হবে, আমাদের নারী ও বাচ্চাদেরকে বন্দী করা হবে। (লাহুফ, পৃষ্ঠা ১৩৯, মানাকেবে আলে আবি তালিব, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১০৫, তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩০৯, আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৯, ইমামুল হুসাইন ওয়া আসহাবিহি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯৯)
সর্বোচ্চ ত্যাগের দৃষ্টান্ত রেখে ৮ দিন পর মানবতার শত্রুদের হাতে এখানেই ইমাম হুসাইন (আ.) শাহাদত বরণ করেছিলেন।
2. কুফাবাসীদের উদ্দেশ্যে ইমাম হুসাইন (আ.)এর চিঠি
ইমাম হুসাইন (আ.) কুফাবাসীদের উদ্দেশ্যে কাইস ইবনে মুসাহহারের মাধ্যমে পত্র প্রেরণ করেন। কিন্তু ঘটনাক্রমে তাকে আটক করা হয়। যখন সে এজিদ এবং ইবনে যিয়াদের বিরূদ্ধে কথা বলে তখন তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হয়। (নাফসুল মাহমুম, পৃষ্ঠা ২১২, বিহারুল আওয়ার, খন্ড ৪৪, পৃষ্ঠা ৩৮২, কালায়েদুন নুহুর, খন্ড মুহাররম ওয়া সফর, পৃষ্ঠা ৪১)
৩রা মুহাররম
কারবালাতে ওমরে সাআদের আগমণ
সন ৬১ হিজরীর ৩য় মুহাররম তারিখে ইমাম হুসাইনের (আ) কাফেলাকে ঘিরে ফেলার উদ্দেশ্যে উমর ইবনে সাআদ ৪, ৬, অথবা ৯ হাজার সৈন্য নিয়ে ইমাম হুসাইন (আ.)এর বিরূদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য কারবালাতে আসে। (কালায়েদুন নুহুর, খন্ড মুহাররম ও সফর, পৃষ্ঠা ৪৮, আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৪, নাফসুল মাহমুম, পৃষ্ঠা ২১২, মাআলীউস সিবতাইন, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩০১, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৪, পৃষ্ঠা ৩৮৪)
এর আগের দিন ইমাম হুসাইন (আ.) কারবালায় পৌঁছেন। তিনি সেখানে পৌঁছেই জানতে পারেন ওই এলাকার নাম কারবালা। তখনই তিনি জানান যে, সেখানে তাঁর ও সঙ্গীদের শাহাদত ঘটবে এবং তাঁদের নারী ও শিশুদের বন্দী করবে ইয়াজিদ বাহিনী। এ দিনেই তিনি কাইস বিন মাসহারকে দূত হিসেবে কুফায় পাঠান। ইমাম তার কাছে একটি চিঠি দিয়েছিলেন কুফায় তাঁর সমর্থক নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে। কিন্তু ইয়াজিদের সেনারা কাইসকে পথে গ্রেফতার করে। কাইস ইয়াজিদের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাঁকে শহীদ করা হয়।
ইমাম হুসাইন (আ.) ৩রা মহররম কারাবালায় তাবু স্থাপন করেন। আর ইয়াজিদ বাহিনীর সেনাপতি ওমর ইবনে সাদ তার সেনাদের নিয়ে কারবালায় পৌঁছে। প্রথমে নানা জায়গায় ইমামের কাফেলার তাবুগুলো কিছুটা উঁচু বা টিলার মত স্থানে বসানো হয়েছিল। কিন্তু পরে ইমাম (আ.) সমতল বা কিছুটা গর্তময় স্থানে তাবু বসানোর নির্দেশ দেন। সম্ভবত এর কারণ ছিল শিশু ও নারীদেরকে যাতে যুদ্ধের দৃশ্য দেখতে না হয়।
হোর ইবনে ইয়াজিদ (রা.) নামের একজন সেনা কর্মকর্তা সর্ব প্রথম কারবালায় ইমাম শিবিরের বিপরীতে তাবু গাঁড়েন। তিনিই ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদকে প্রথম খবর দেন যে ইমাম হুসাইন (আ.) কারবালায় এসেছেন। (হোর পরে ইয়াজিদের পক্ষ ত্যাগ করে ইমামের শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন এবং ইয়াজিদ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে শহীদ হন।)
ইমাম জানতেন কারবালায় কি ঘটতে যাচ্ছে। তিনি ৩রা মহররমই কারবালার জমি স্থানীয় নেইনাভাবাসীদের কাছ থেকে কিনে নেন। তিনি তাদের এ শর্ত দেন যে ভবিষ্যতে যারা এখানে নবী (সা) পরিবারের সদস্যদের কবর জিয়ারত করতে আসবেন তাদের জন্য আপ্যায়ন করা হয় ও পথ দেখিয়ে দেয়া হয়।
কুফায় নিযুক্ত উমাইয়া গভর্নর ইবনে জিয়াদ দোসরা মহররম ইমামের কাছে একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে সে জানায়, তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীদেরকে ইয়াজিদের প্রতি বায়আত বা আনুগত্যের অঙ্গীকার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, এর অন্যথা হলে তাঁদেরকে হত্যা করতে বলেছেন ইয়াজিদ। ইমাম এ চিঠির জবাব না দিয়ে বললেন, ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের জন্য কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে।
ইবনে জিয়াদ ইমামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ওমর বিন সাদকে পাঠান। তাকে ইরানের রেই শহরের শাসনভার দেয়ার লোভ দেখানো হয়। (এই শহরটি ইরানের আধুনিক তেহরান শহরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত)। সাদ ইমামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ভয় পাচ্ছিল। কিন্তু একদল সঙ্গীর নিষেধ সত্ত্বেও সে শেষ পর্যন্ত ইমামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে অগ্রসর হয়। তেসরা মহররম কুফার চার হাজার সেনা নিয়ে ওমর বিন সাদ কারবালায় প্রবেশ করে। সে প্রথমে ইমামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে একজন দূতের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে জানতে পারে যে, ইমাম বলেছেন, কুফার জনগণই তাঁকে দাওয়াত করেছে ও প্রতিনিধিও পাঠিয়েছিল তাঁর কাছে যাতে তিনি এই শহরে আসেন। তারা (কুফাবাসী) যদি তাঁর আগমনে অসন্তুষ্ট হয়ে থাকে তাহলে তিনি ফিরে যাবেন বলে জানান। ওমর বিন সাদ এই তথ্য ইবনে জিয়াদের কাছে পাঠালে ইবনে জিয়াদ ধারণা করে যে ইমাম (আ.) যুদ্ধের ফাঁদে পড়েও মুক্তির আশা করছেন, কিন্তু সে সুযোগ আর নেই। তিনি সাদকে এক চিঠিতে জানান, তোমার চিঠি পেয়ে সব কিছু জেনেছি। হোসাইন (আ) ও তাঁর সঙ্গীদের বল ইয়াজিদের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করতে। যদি তারা তা করে তাহলে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানাব। সাদ বুঝতে পারে যে জিয়াদের উদ্দেশ্য ভাল নয়। তাই সে জিয়াদের এই চিঠি ইমামের (আ.) কাছে পাঠায়নি। কারণ, সে জানত ইমাম হুসাইন (আ.) কখনও ইয়াজিদের প্রতি আনুগত্য করবেন না।
৪র্থ মুহাররম
ইমাম হুসাইন (আ.) কে হত্যা করার ফতোয়া
সন ৬১ হিজরী ৪র্থ মুহাররম ইবনে যিয়াদ কুফার প্রসিদ্ধ বিচারক সারিহ বিন হারিসকে ইমাম হুসাইন (আ.)কে হত্যা করার জন্য ফতোয়া দিতে বলে। যখন সে ফতোয়া দেয়। তখন ইবনে যিয়াদ কুফার মসজিদে মেম্বারে আরোহন করে ইমাম হুসাইন (আ.) কে হত্যা করার ফতুয়া প্রচার করে। (ওয়াকায়ে ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১২৪)
৫ই মুহাররম
কারবালাতে হাসিন বিন নুমাইরের আগমণ
সন ৬১ হিজরীর ৫ই মুহাররম দিনে হাসিন বিন নুমাইর উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদের নির্দেশে চার হাজার অশ্বারোহির বাহিনি নিয়ে কারবালাতে প্রবেশ করে। (ওয়াসিলাতুদ দারাইন ফি আনসারিল হুসাইন (আ.),পৃষ্ঠা ৭৭)
৬ষ্ঠ মুহাররম
1. বণি আসাদ গোত্র ও হাবীব ইবনে মাযাহির (রা.)
সন ৬১ হিজরী ছয় অথবা সাত তারিখের রাতে হাবীব ইবনে মাযাহির (রা.) ইমাম হুসাইন (আ.) এর অনুমতিক্রমে বণি আসাদ গোত্রের কাছে যায়। বণি আসাদ গোত্রের লোকজন ইমাম হুসাইন (আ.)কে সাহায্যে করতে রাজি হয়। কিন্তু এজিদী গুপ্তচররা উমর ইবনে সাআদকে উক্ত খবরটি সম্পর্কে অবগত করে। সে কিছু সৈন্যকে প্রেরণ করে যারা বণি আসাদের সহায়তার কাজে বাধা হয়ে দাড়ায়। তখন বণি আসাদ এবং উমরে আসের প্রেরিত সৈন্যর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। উক্ত যুদ্ধে বণি আসাদের কিছু লোক শহীদ, কিছু আহত হয় এবং অবশিষ্ট ব্যাক্তিরা পলায়ণ করে। অবশেষে হাবীব ইবনে মাযাহির ফিরে এসে ইমাম হুসাইন (আ.) এর কাছে সম্পূর্ণ ঘটনার বিবরণ দেন। (ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৪৯, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৫, পৃষ্ঠা ৩৮৬, কালেমাতুল ইমামিল হুসাইন, পৃষ্ঠা ২৩৭, আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৪৯, আয মদীনা তা মদীনা, পৃষ্ঠা ৩৬৮- ৩৭০, মাকতালুল হুসাইন (আ.) (খাওয়ারাযমি), খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৪৫)
2. কারবালায় এজিদের সৈন্যদের উপস্থিতি
সন ৬১ হিজরীর ৬ই মহরমে ইমাম হুসাইন (আ.) এর বিরূদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ইবনে যিয়াদ ও এজিদের পক্ষে দলে দলে লোকজন যোগদান করে এবং কারবালাতে উপস্থিত হয়। (মাআলীউস সিবতাইন, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩১২, লাহুফ, পৃষ্ঠা ১৪৫, আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৫৩)
৭ই মুহাররম
1. কারবালাতে ইমাম হুসাইন (আ.)এবং ইবনে সাআদ
৭ই মহরমের রাতে ইমাম হুসাইন (আ.) উমরে সাআদের সাথে সাক্ষাত করেন। খুলি বিন ইয়াযিদ যেহেতু ইমাম (আ.) এর প্রতি অতিরিক্ত বিদ্বেষ পোষণ করতো সেহেতু সে, ইবনে যিয়াদকে উক্ত ঘটনা সম্পর্কে অবগত করে। তখন ইবনে যিয়াদ উমরে সাআদের উদ্দেশ্যে পত্র প্রেরণ করে এবং হুসাইনী কাফেলার জন্য পানি বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। (আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৫০, কালেমাতুল ইমামিল হুসাইন, পৃষ্ঠা ৩৮৭, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৪, পৃষ্ঠা ৩৮৯, মাআলীউস সিবতাইন, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩১৫, কালায়েদুন নুহুর, খন্ড মুহাররম ওয়া সফর, পৃষ্ঠা ৬৩)
2. ইমাম হুসাইন (আ.)এর বিরূদ্ধে পানির নিষেধাজ্ঞা
সন ৬১ হিজরীর ৭ই মুহাররম তারিখে ইবনে যিয়াদ পত্র প্রেরণ করে, যার বিষয়বস্তু ছিল এরপর যেন এক বিন্দু পানি হুসাইনী শিবিরে না পৌছায়। উমর ইবনে হেজাজ চার হাজার তিরন্দাজ বাহিনী নিয়ে ফুরাতকুলে পাহারা দেয় যেন কোনভাবেই পানি হুসাইনী শিবিরে না পৌছায়। (ফেইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ১৪৬, আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৫৩)
৮ই মুহাররম
ইমাম হুসাইন (আ.) এর শিবিরে পানি শেষ হয়ে যায়
সন ৬১ হিজরীর ৮ই মুহাররম তারিখে হুসাইনী কাফেলায় পানি শেষ হয়ে যায়। ছোট ছোট বাচ্চারা পানির তৃষ্ণায় ব্যাকুল হয়ে পড়ে। (লাহুফ, পৃষ্ঠা ১৪৫, মাআলীউস সিবতাইন, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩১৯, কালায়েদুন নুহুর, খন্ড মুহাররম ওয়া সফর, পৃষ্ঠা ৮১, আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৫৪)
৯ই মুহাররম
1. হুসাইনী কাফেলাকে অবরূদ্ধ করা হয়
ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেন: নয়ই মহরমের রাতে এজিদী বাহিনী ইমাম হুসাইন (আ.) এবং তাঁর সাহিবীদেরকে ঘিরে ফেলে এবং তাঁদেরকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। (ইমাম হুসাইন (আ.) ফি আহাদিসিল ফেরকাইন, পৃষ্ঠা ২১, কাফি, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৪৭, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৫, পৃষ্ঠা ৯৫)
2. উম্মুল বানিনের সন্তানদের জন্য রক্ষাপত্র প্রেরণ
সন ৬১ হিজরীর ৯ই মুহাররম তারিখে শিমার হজরত আব্বাস এবং তাঁর ভাইদের জন্য রক্ষাপত্র নিয়ে আসে। সে হুসাইনী তাবুর কাছে এসে চিৎকার করে বলতে থাকে আমার বোনের ছেলেরা কোথায়? কিন্তু তাঁরা কেউ তার জবাব দেয় না। তখন ইমাম হুসাইন (আ.) হজরত আব্বাস (আ.)কে তাদের জবাব দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। তখন হজরত আব্বাস (আ.) বলেন: তুমি কি চাও? তখন শিমার বলে আমি আমীরের কাছ থেকে তোমাদের জন্য রক্ষাপত্র নিয়ে এসেছি। তোমরা হুসাইনের জন্য নিজেকে কেন মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছ? তখন হজরত আব্বাস (আ.) বলেন: তুমি রাসুলের সন্তানের জন্য রক্ষাপত্র না এনে আমাদের জন্য রক্ষাপত্র এনেছ এজন্য তোমার এবং তোমার আমীরের উপরে আল্লাহর অভিসম্পাত বর্ষিত হোক। (আমালী সাদুক্ব, পৃষ্ঠা ২২০, আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৯, মানাকেবে আলী আবি তালিব, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১০৭, আলামুল ওয়ারা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৫৫, আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৯০)
3. এক রাতের যুদ্ধ বিরতির আহবান
ইমাম হুসাইন (আ.) ৯ মহরমের বিকালে আরো এক রাতের যুদ্ধ বিরতির জন্য আহবান জানান। ইমাম হুসাইন (আ.) হজরত আব্বাস (আ.)কে প্রেরণ করেন যেন সে এজিদী বাহিনীর কাছ থেকে এক রাতের যুদ্ধ বিরতির অনুমতি নিয়ে আসে। প্রথমে তারা উক্ত প্রস্তাবে রাজি হয়নি। কিন্তু পরে এক রাত যুদ্ধ বিরতি দিতে রাজি হয়। (আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৯০, মানাকেবে আলী আবি তালিব, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১০৭, আমালী সাদুক্ব, পৃষ্ঠা ২২০, আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৯, আলামুল ওয়ারা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৫৫)
4. কারবালাতে এজিদী সৈন্য বৃদ্ধি
সন ৬১ হিজরীর ৯ মুহাররম তারিখে ইবনে যিয়াদের নির্দেশে কুফা থেকে আরো সৈন্য কারবালাতে যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য আসে এবং শিমার ইবনে যিয়াদের চিঠি নিয়ে আসে। (তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩১৫, আমালী সাদুক্ব, পৃষ্ঠা ২২০, তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩১৫, আলামুল ওয়ারা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৫৫, ফেইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ১৪৬)
5. সাহাবীদের উদ্দেশ্যে ইমাম হুসাইন (আ.)এর বক্তৃতা
ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর সাহাবীদের ঈমানের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার জন ৯ মহরমের বিকালবেলা এবং অন্যমতে রাতের বেলা বক্তৃতা দেন। সাহাবীরা তাদের ঈমানের দৃঢ়তার উক্ত পরীক্ষায় সফল হন। (মানাকেবে আলে আবি তালিব (আ.), খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১০৭, মাসীরুল আহযান, পৃষ্ঠা ৩৮, রওযাতুল ওয়ায়েযিন, পৃষ্ঠা ১৮২, মাকতালুল হুসাইন (আবু মাখনাফ), পৃষ্ঠা ১০৭, ইয়ানাবিউল মোআদ্দাত, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৬৫)
১০ মহরমের রাত
সাহাবীদের সাথে ইমাম হুসাইন (আ.)
ইমাম হুসাইন (আ.) তার পরিবার পরিজন ও সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দেন। ১০ই মুহাররম রাতে ইমাম হুসাইন (আ.)এর সাথে হজরত জয়নাব (সা.আ.) এর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথাবার্তা হয়। (ফেইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ১৪৭, ওয়াসিলাতুদ দারাইন, পৃষ্ঠা ২৯৮- ২৮৯, মানাকেবে আলী আবি তালিব, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১০৭, রওযাতুল ওয়ায়েযিন, পৃষ্ঠা ১৮২, মাসীরুল আহযান, পৃষ্ঠা ৩৮)
১০ মহরমের দিন
1. আশুরার দিন কারবালার উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি
- ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর সাহাবী এবং পরিবার পরিজন শাহাদত বরণ করেন।
- ইমাম হুসাইন (আ.) এবং আহলে বাইত (আ.)দের জিনীষপত্র লুন্ঠন করা হয়।
- শহীদদের শরীর থেকে মাথাকে পৃথক করা হয়।
- হুসাইনী তাবুগুলোতে আগুন লাগানো হয়। (কামেলুয যিয়ারত, পৃষ্ঠা ২৩৪, মুসতাদরাকুল ওসায়েল, খন্ড ১০, পৃষ্ঠা ২৪৫, তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৩৪, আয়ানুশ শিয়া, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৯৭, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৫, পৃষ্ঠা ২০, ৬৯, ৭০)
2. পাপী ইবনে যিয়াদের মৃত্যু:
সন ৬৭ হিজরী আমীর মোখতারের নেতৃত্বে আশুরার দিন ইবনে যিয়াদকে হত্যা করা হয়। এছাড়া হাসিন ইবনে নুমাইর সহ অন্যান্যদেরকেও ১০ই মুহাররম তারিখে হত্যা করা হয়। মালিকে আশতারের পুত্র ইব্রাহিম ইবনে আশতার ইবনে যিয়াদকে হত্যা করে। ইব্রাহিম ইবনে আশতার ইবনে যিয়াদের মাথাকে আমীর মোখতারের কাছে প্রেরণ করে এবং তিনি ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) এর কাছে মাথাটি প্রেরণ করেন। ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) ইবনে যিয়াদের মাথাটি দেখে শুকরানা সিজদা আদায় করেন। (আমালী তুসী, পৃষ্ঠা ২৪৩, তাতেম্মাতুল মুনতাহা, পৃষ্ঠা ৯০, কালায়েদুন নুহুর, খন্ড জিলহজ, পৃষ্ঠা ৪২৪, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২১৫, আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ৩১০)
3. ইমাম মাহদী (আ.) এর কিয়াম
রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে যে, ইমাম মাহদী (আ.) ১০ই মহরমের দিনে কিয়াম করবেন। (তাহযিবুল আহকাম, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩২৩)
4. উম্মে সালামা (রা.)এর মৃত্যুবরণ
সন ৬২ অথবা অন্যমতে ৬৩ হিজরীর ১০ই মুহাররম তারিখে রাসুল (সা.)এর স্ত্রী উম্মুল মুমিনিন উম্মে সালামা মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর নাম ছিল হিন্দ। তাঁর পিতার নাম ছিল আবি উমাইয়া এবং মাতার নাম আতিকা বিনতে আব্দুল মোত্তালিব। তার স্বামীর নাম ছিল আবু সালামা বিন আব্দুল আসাদ বিন মুগাইরা এবং তিনি ছিলেন উম্মে সালামা (রা.) এর খালাতো ভাই। ইসলাম গ্রহণের পরে তিনি তাঁর স্বামীর সাথে হাবাশায় হীজরত করেন। আবু সালামা সেখানে এক যুদ্ধে আহত হন। মদীনায় ফিরে আসার পরে তিনি উক্ত আঘাতের কারণে চরমভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান। আবু সালামার চারজন সন্তান ছিল সালামা, উমর, জয়নাব এবং দুররা। উম্মে সালামা ৮৪ বছর বয়সে কারবালার ঘটনার পরে এজিদের হুকুমতকালে মদীনায় মৃত্যুবরণ করেন। অতঃপর তার দেহকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়। (তারিখে দামেস্ক, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২১১, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২১৫, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ২০, পৃষ্ঠা ১৪৩, তারিখে দামেস্ক, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৪০, তাবাকাতুল কুবরা, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২১১)
১১ই মুহাররম
1. শামে গারিবান
কারবালায় আহলে বাইত (আ.)দের জন্য সবচেয়ে কষ্টের রাত ছিল শামে গারিবান। কেননা ১১ই মহরমের রাতে আহলে বাইত (আ.) এর তাবুগুলোতে আগুন জালিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং তাদের মালামালগুলোকে লুন্ঠন করা হয়। তাদের শহীদদের লাশকে ঘোড়ার পা দ্বারা পিষ্ঠ করা হয়।
2. ইমাম হুসাইন (আ.)এর কাটা মাথা
১১ই মুহাররম তারিখের রাতে ইমাম হুসাইন (আ.) এর মাথাকে ইবনে যিয়াদের প্রাসাদের নিয়ে যাওয়া হয়। যেহেতু অনেক রাত হয়ে যায় সেহেতু প্রসাদের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন খোলি বিন ইয়াযিদে আসবাহি তার বাড়িতে ইমাম হুসাইন (আ.) এর পবিত্র মাথাকে তন্দুরের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল। (ফেইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ১৫৫- ১৫৬, মাকতালুল হুসাইন (আ.) মোকাররাম, পৃষ্ঠা ৩০৪, মানাকেবে আলে আবি তালিব, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৬৮, মাদীনাতুল মাআজেয, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১১৪, তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৪৮)
3. নবী পরিবারকে বন্দি করা হয়
১১ই মুহাররম তারিখে উমরে সাআদ যোহরের সময় পর্যন্ত কারবালাতে অবস্থান করে। কারবালায় এজিদী বাহিনীর লাশের উপরে জানাযার নামাজ পড়ে এবং তাদেরকে দাফন করে দেয়। দিনের অবশিষ্ট অংশে সে নবীপুরিকে বন্দি করে কারবালা থেকে কুফার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। নবী পরিবারের মেয়েদেরকে পর্দা বিহীন উটের উপরে বসিয়ে কারবালার শহীদদের লাশের পাশ দিয়ে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়। (তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৪৮, মাকতালুল হুসাইন (আ.)আবু মাখনাফ, পৃষ্ঠা ২০৩, মাআলীউস সিবতাইন, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৯০, আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ২১০, আলামুল ওয়ারা, খন্ড১, পৃষ্ঠা ৪৭১)
4. কুফার পথে বন্দি নবী পরিবার
১১ই মুহাররম তারিখে আসরের সময় আহলে বাইত (আ.)কে বন্দি করে কুফার দিকে রওনা করা হয়। উক্ত বন্দি কাফেলাটি রাতে কুফাতে পৌছায়। সেহেতু কুফার দরজা বন্ধ ছিল সেহেতু সকাল পর্যন্ত তাদেরকে দরজার কাছে অপেক্ষারত অবস্থায় রাখা হয়। উমরে আস তার উক্ত কাজের জন্য খুবই আনন্দিত ছিল। (কালায়েদুন নুহুর, খন্ড মুহাররম ওয়া সফর, পৃষ্ঠা ২০৪, আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১১৪, আলামুল ওয়ারা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৭১, মাসীরুল আহযান, পৃষ্ঠা ৬৪, লহুফ, পৃষ্ঠা ১৮৯)
১২ই মুহাররম
1. কারবালার শহীদদের দাফন করা হয়
সন ৬১ হিজরীর ১২ই মুহাররম তারিখে ইমাম হুসাইন (আ.) এবং তাঁর সাহাবীদের পবিত্র লাশকে ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) এবং বণি আসাদের কিছু লোকজনের সাহায্যে দাফন করা হয়। তবে ইতিহাসে উক্ত ঘটনাটি ১৩ই মহররমেও উল্লেখ করা হয়েছে। (তাযকেরাতুশ শোহাদা, পৃষ্ঠা ৪৪৫, আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১১৪, আলামুল ওয়ারা, খন্ড১, পৃষ্ঠা ৪৭০, আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫৯- ৬১, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৫, পৃষ্ঠা ৬২)
2. আহলে বাইত (আ.) বন্দি অবস্থায় কুফাতে আগমণ
১২ই মুহাররম তারিখে আহলে বাইত (আ.)এর বন্দিরা কুফাতে পৌছায়। ইবনে যিয়াদ আদেশ জারি করে কেউ অস্ত্র হাতে ঘরের বাইরে আসতে পারবে না। সে ১০ হাজার পদাতিক বাহিনীকে শহরের বিভিন্ন রাস্তা ও গলিরও মুখে পাহারা দেয়ার নির্দেশ দেয় যেন কেউ কোন প্রকারের অতর্কিত হামলা না করতে পারে। ইবনে যিয়াদ শহীদদের মাথাকে আহলে বাইত (আ.)দের সম্মুখে রেখে তাদেরকে কুফার অলিগলিতে প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়। (মাসীরুল আহযান, পৃষ্ঠা ৬৬, দারাজাতুর রাফিয়া, পৃষ্ঠা ৪৫১, আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৫, কালায়েদুন নুহুর, খন্ড মুহাররম ওয়া সফর, পৃষ্ঠা ২০৪, আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১১৪)
১৩ই মুহাররম
1. ইবনে যিয়াদের দরবারে বন্দি নবী পরিবার
কুফার অলিগলিতে শহীদদের মাথাকে ঘুরানোর পরে ইবনে যিয়াদ ইমাম হুসাইন (আ.)এর মাথাকে তার সম্মুখে রাখার নির্দেশ দেয়। অতঃপর ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) সহ নবী পরিবারের নারী ও শিশুদেরকে দড়িতে বাঁধা অবস্থায় দরবারে উপস্থিত করা হয়। তখন দরবারে উপস্থিত লোকজন বন্দিদেরকে উপহাস করছিল। (আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৬২- ৬৩, আমালী সাদুক্ব, পৃষ্ঠা ২২৯, রওযাতুল ওয়ায়েযিন, পৃষ্ঠা ১৯০, ওকায়েউল আইয়াম, তাতাম্মে মহরম, পৃষ্ঠা ২৫৬, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৫, পৃষ্ঠা ১৫৪)
2. নবী পরিবারকে কুফার কারাগারে বন্দি করা হয়
ইবনে যিয়াদের দরবার থেকে বিদায় নেয়ার পরে নবী পরিবারকে বেড়ি ও জন্জির পরিহিত অবস্থায় কুফার কারাগারে প্রেরণ করা হয়। (আমালী সাদুক্ব, পৃষ্ঠা ২২৯, রওযাতুল ওয়ায়েযিন, পৃষ্ঠা ১৯০, আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৮৯, ওকায়েউল আইয়াম, তাতাম্মে মহরম, পৃষ্ঠা ২৬৩, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৫, পৃষ্ঠা ১৫৪)
3. ইমাম হুসাইন (আ.) এর শাহাদতের খবর প্রচার
ইবনে যিয়াদ ইমাম হুসাইন (আ.) এর শাহাদতের খবরকে মদীনা ও শামে প্রচারের জন্য চিঠি লিখে প্রেরণ করে। (ওকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড মহরম, পৃষ্ঠা ৯৬, লহুফ, পৃষ্ঠা ২০৭, ওকায়েউল আইয়াম, তাতাম্মে মহরম, পৃষ্ঠা ২৬৪)
4. আব্দুল্লাহ বিন আফিফ-এর শাহাদত
“আব্দুল্লাহ বিন আফিফ আযদি” ছিলেন ইমাম আলী (আ.)এর সাহাবী। তিনি জামাল ও সিফফিনের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং উক্ত যুদ্ধে তিনি অন্ধত্ব বরণ করেন। তিনি তার জীবনের অবশিষ্ট সময়টুকু আল্লাহর ইবাদতের নিমগ্ন থাকতেন। যখন ইবনে যিয়াদ ইমাম আলী (আ.) এবং ইমাম হুসাইন (আ.)এর বিরূদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছিল তখন তিনি তার বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন: হে ইবনে মারজানা! তুমি এবং তোমার বাবা হচ্ছো মিথ্যাবাদি। তুমি হচ্ছো আল্লাহর শত্রু! তুমি রাসুলের সন্তানকে হত্যা করে মেম্বারে অরোহন করে তাদের বিরূদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছো। অতঃপর ইবনে যিয়াদ তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়। (আল ওকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৮০- ৮৭, তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৫১, সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৪২, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৫, পৃষ্ঠা ১১৯, মাকতালুল হুসাইন (আ.) আবু মাখনাফ, পৃষ্ঠা ২০৭)
১৫ই মুহাররম
শহীদদের কাটা মাথাকে শামের উদ্দেশ্যে প্রেরণ
১৫ইমুহাররম তারিখে কারবালার শহীদদের কাটা মাথাগুলোকে কুফা থেকে শামের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু পরে আহলে বাইত (আ.) শহীদদের কাটা মাথাকে দাফন করে দেন। (আমালী সাদুক্ব, পৃষ্ঠা ২৩২, কাশফুল গুম্মা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৭, আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ২০৮, তাযকেরাতুল খাওয়াস, পৃষ্ঠা ২৩৪, রওযাতুল ওয়ায়েযিন, পৃষ্ঠা ১৯২)
১৯শে মুহাররম
শামে নবী পরিবার (আ.)দের প্রেরণ
উক্ত তারিখে নবী পরিবাকে কুফা থেকে শামের উদ্দেশ্যে রওনা করা হয়। হাশেমী বংশের নারী ব্যাতিত অন্যান্য বংশের নারীদের বিভিন্ন ব্যাক্তিত্ব এবং স্বজাতীয়দের সুপারিশের কারণে তাদেরকে মুক্ত করে দেয়া হয় এবং বণি হাশিমের নারীদেরকে শামের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয়। (আবসারুল আয়ন ফি আনসারিল হুসাইন, পৃষ্ঠা ১৩৩, আল ওকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১১৪)
২০শে মুহাররম
জউন নামক দাশকে কারবালাতে দাফন
আশুরার ঘটনার দশ দিন পরে বণি আসাদের লোকেরা আবু যার গাফফারী (রহ.)এর দাশ জউন এর লাশকে চিহ্নিত করতে পারে এবং উক্ত দিনে তারা জউনের লাশকে দাফন করে দেয়। (মুনতাখাবুত তাওয়ারিখ, পৃষ্ঠা ৩১১, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৫, পৃষ্ঠা ২২, ৭৫, ওয়াসিলাতুদ দারাইন, পৃষ্ঠা ১১৫, মানতাখাবুত তাওয়ারিখ, পৃষ্ঠা ২৯১, ৩১১)
২৫শে মুহাররম
ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) এর শাহাদত
ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) ৯৪ অথবা ৯৫ হিজরী ২৫শে মুহাররম তারিখে ৫৭ বছর বয়সে বণি উমাইয়ার খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালেক এর বিষ প্রয়োগের কারণে শাহাদত বরণ করেন। এছাড়া ইতিহাসে তাঁর শাহাদতের তারিখ সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত বর্ণিত হয়েছে যেমন: ১২, ১৮, ১৯ মুহাররম এবং ১লা সফর। (মেসবাহুল মোতাহাজজদে, পৃষ্ঠা ৭২৯, কাফি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৬৬, মাশারুশ শিয়া, পৃষ্ঠা ২৬, যাদুল মাআদ, পৃষ্ঠা ৩২৮, মেসবাহে কাফআমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৪)
২৬শে মুহাররম
আলী বিন হাসান মোসাল্লাস (আ.) এর শাহাদত
২৫শে মুহাররম তারিখে সন ১৪৬ হিজরীতে “আলী বিন হাসানে মোসাললাস” ৪৫ বছর বয়সে খলিফা মনসুরের কারাগারে সিজদারত শিকল বাঁধা অবস্থায় শাহাদত বরণ করেন। (শাজারে তুবা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৬২, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৯৫, মুনতাহিউল আমাল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৫৯- ২৬০, আল ওকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৮৯, মাকাতেলুত তালেবিন, পৃষ্ঠা ১৩২)
২৮শে মুহাররম
1. হুযাইফা বিন ইয়ামেন (রা.) এর শাহাদত
হুযাইফা বিন ইয়ামেন (রা.) ছিলেন রাসুল (সা.)এর একনিষ্ঠ সাহাবী। রাসুল (সা.) তাঁকে মুনাফিকদের তালিকা দিয়েছিলেন এবং তিনি ছিলেন ঐ সাত জনের মধ্যে একজন যিনি হজরত ফাতেমা (সা.) এর জানাযার নামাজে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ইমাম আলী (আ.) এর খেলাফতে আসীন হওয়ার চল্লিশ দিন পরে ২৮শে মুহাররম তারিখে মাদায়েনে মৃত্যু বরণ করেন। (মুনতাহিউল আমাল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১২০, ইস্তিআব, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩৪- ২৩৫, আল কুনিয়া ওয়াল আলকাব, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৩৪- ২৩৬, মুসতাদরাকে হাকেম, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৭৯- ৩৮১, সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৭১)
2. ইমাম জাওয়াদ (আ.) কে বাগদাদে নির্বাসন
সন ২২০ হিজরীর ২৮শে মুহাররম তারিখে ইমাম জাওয়াদ (আ.) কে আব্বাসীয় খলিফা মোতাসিমের নির্দেশে মদীনা থেকে বাগদাদে নির্বাসনের নির্দেশ দেয়া হয়। (আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৯৫, তারিখে কুম, পৃষ্ঠা ২০০, শারহে এহকাকুল হাক, খন্ড ১৯, পৃষ্ঠা ৫৯৯, ইয়ানাবিউল মোআদ্দাত, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১২৭, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৫০, পৃষ্ঠা ৮)
3. বাআলাবাক নামক স্থানে বন্দি হুসাইনী কাফেলা
২৮শে মুহাররম তারিখে আহলে বাইত (আ.)এর বন্দি কাফেলা ‘বালাবাক’ নামক স্থানে পৌছায়। সেখানে জনগণ আহলে বাইত (আ.)এর বন্দিত্ব অবস্থার কারণে আনন্দ উল্লাস করতে থাকে উক্ত অবস্থাটি দেখার পরে উম্মে কুলসুম তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেন। (কালায়েদুন নাহুর, খন্ড মহরম সফর, পৃষ্ঠা ৩৩২, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৫, পৃষ্ঠা ১২৬, নুরুল আইন, পৃষ্ঠা ৬৩, ইয়ানাবিউল মোআদ্দাত, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৮৯, আওয়ালেম, পৃষ্ঠা ৪২৭)
২৯শে মুহাররম
শামে আহলে বাইত (আ.)এর বন্দি কাফেলার আগমণ
সন ৬১ হিজরী ২৯শে মুহাররম তারিখে হুসাইনী বন্দি কাফেলা শামে পৌছায়। যখন উক্ত কাফেলা শামে পৌছায় তখন ইব্রাহিম বিন তালহা বিন আব্দুল্লাহ ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) এর কাছে এসে বলে: দেখেছ কারা জয়ী হয়েছে? তখন ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) বলেন একটু অপেক্ষা কর যখন আযান ও আকামত দিবে তখন বুঝতে পারবে যে, কে কেয়ামত পর্যন্ত জয়ী হয়েছে। (আমালী তুসী, পৃষ্ঠা ৬৭৭, কালায়েদুন নাহুর, খন্ড মহরম সফর, পৃষ্ঠা ৩৩৬, আমালী শেইখ তুসী, পৃষ্ঠা ৬৭৭, আওয়ালেম, পৃষ্ঠা ৪১৪)
মুহররমের শেষ তারিখ
1. শাজারে মালউনা
সন ১১ হিজরীর ৩০শে মুহাররম তারিখে ‘শাজারে মালউনা’ লিখা হয়। ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেন: শাজারে মালউনা লিখার কারণে ইমাম হুসাইন (আ.) শাহাদত বরণ করেন। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ২৮, পৃষ্ঠা ১০৪, ইরশাদুল কুলুব, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৩৫, নুরুল আলাভিয়া, পৃষ্ঠা ৭৬, কাফি, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৭৯, আল বোরহান, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৮৮৪)
2. হজরত মারিয়া কিবতি (রা.)এর মৃত্যু
সন ১৫ অথবা ১৬ হিজরীর ৩০শে মুহাররম তারিখে উম্মুল মুমিনিন মারিয়া কিবতি মদীনাতে মারা যায়। তাঁর বাবার নাম ছিল শামউন কিবিতি। বাদশা ইস্কান্দার রাসুল (সা.) এজন্য উপহার স্বরূপ মারিয়া কিবতি তাঁর বোন শিরিন এবং তাঁর ভাই মাপুর সহ এক হাজার মিসকাল সোনা এবং ২০টি রেশমি পোষাক, ইয়াফুর নামক একটি গাধা এবং দুলদুল নামক একটি অশ্বতর প্রেরণ করে। অতঃপর রাসুল (সা.) মারিয়া কিবতি কে বিবাহ করেন। তিনি ১৪ অথবা ১৬ হিজরী হজরত উমরের খেলাফকালে মারা যান। হজরত উমর তার জানাযার নামাজ পড়ান এবং তাঁকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করে দেন। (রিয়াহিনুশ শারিয়াহ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪২, রিয়াহিনুশ শারিয়া, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪২, আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩২৬, তাবাকাতুল কুবরা, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ২১৬, ইস্তিআব, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৯১২)






