Press "Enter" to skip to content

রাসুল (সা.) এর বিদায় হজ্জের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

হিজরী দশম বছর সমস্ত আরব উপদ্বীপে ইসলাম বিস্তার লাভ করেছে। আরবের সকল গোত্রই মুসলিম আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, রাসূল (সা.)-এর রেসালাতকে স্বীকার করে নিয়েছেন। মূর্তি ও মূর্তি পূজার কোন চিহ্নই তাদের কোন গোত্রের মাঝে দেখতে পাওয়া যায় না। রেসালাতের কর্ণধারের পরিশ্রম আজ ফলদায়ক হয়েছে এবং তার সুস্বাদু ফলকে উৎপাদনশীল করেছে। উপাস্যের সিংহাসন থেকে মূর্তি গুলোর পতন ঘটেছে ও পবিত্র বাণী “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বিস্তৃত আরব উপদ্বীপে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

মানুষের মধ্যে এখন পার্থক্যকে শুধুমাত্র তাদের আন্তরিক ঈমানের পর্যায় ও ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রবর্তিতার ভিত্তিতে। মহান রাসূল (সা.) -যিনি প্রায় ২৩টি (তেইশটি) বছর ধরে প্রচহু জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন ও এই দীর্ঘ সময়ে তিনি এক মূহুর্তের জন্যেও তার কর্তব্য ও রেসালাতের প্রচার কার্যে অবহেলা করেন নি- তিনি কখনোই দূর্বলতা অনুভব করেন নি, এখন তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, অতিশীঘ্রই এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে এবং মহান প্রভূর সাথে সাক্ষাত করতে হবে। তাই পূর্বের মতই নিরলশ চেষ্টা করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না উম্মত দীস্থিমান হয় ও ইসলামী আইন-কানুন শিক্ষা লাভ করে। অতি সামান্যই ইসলামী বিধি-বিধান অবশিষ্ট আছে যা এখনও প্রচারের ও শিক্ষাদানের উপযুক্ত সময় আসেনি। ফরজ হজ্জ হচ্ছে তার একটি। তিনি তখনও সুযোগ পান নি যে, মুসলমানদেরকে নামাজের ন্যায় হজ্জের শিক্ষা দিবেন। তাই এখনই একমাত্র ও শেষ সময়।

সাধারণ ঘোষণা করা হল যে, রাসূল (সা.) হজ্জ করতে যাবেন। বিভিন্ন গোত্রের মানুষেরা মদীনার অভিমুখে যাত্রা করলেন এবং তিনি (সা.) জিলক্বদ মাসের ৬ দিন (ছয় দিন) অবশিষ্ট থাকতে বৃহস্পতিবার। (সীরাতে হালাবী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩০৯)

অথবা চার দিন অবশিষ্ট থাকতে শনিবারে, আবু দুজানাকে মদীনায় তার স্থলাভিষিক্ত করে। (সীরাতে হালাবী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩১২)

তাঁর সমস্ত স্ত্রীগণ ও পরিবারবর্গসহ সঙ্গীদের নিয়ে যাত্রা করলেন তিনি একশ’টি উট কোরবানীর জন্য সাথে নিয়ে মদীনা হতে যাত্রা করেছিলেন। (ইমতাউল আসমা, পৃষ্ঠা-৫১)

ঐ সময় মদীনায় রোগের প্রদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। যারফলে মুসলমানদের মধ্যে অনেকেই এই বরকতময় সফর থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। (সীরাতে হালাবী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩০৮)

তারপরেও হাজার হাজার লোক রাসূল (সা.)-এর সহযাত্রী হয়েছিলেন। ঐতিহাসিকগণ তার সহযাত্রীর সংখ্যা চল্লিশ হাজার, সত্তর হাজার, নব্বই হাজার, একলক্ষ চৌদ্দ হাজার, একলক্ষ বিশ হাজার, একলক্ষ চব্বিশ হাজার পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন। (সীরাতে জিঈনী দেহলান, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-১৪৩ ও সীরাতে হালাবী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩০৮ ও ইমতাউল আসমা, পৃষ্ঠা-৫১২ এবং জাখীরাতুল খাওয়াস, পৃষ্ঠা-৩৭)

কিন্তু এগুলোর পাশাপাশি আরো বলা যেতে পারে যে, আসলে এত পরিমাণ জনগণ তার সহযাত্রী হয়েছিলেন যে, তার সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কারো সাধ্য ছিল না। (সীরাতে হালাবী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩০৮)

তাও আবার তারা শুধু ঐ সকল ব্যক্তিই ছিলেন যারা মদীনা হতে এসেছিলেন। তবে হাজীদের সংখ্যা এর মধ্যেই সীমিত ছিল না। কেননা, মক্কার ও তার আশেপাশের অধিবাসীগণ এবং যারা ইয়েমেন থেকে আমিরুল মু’মিনীন আলী (আ.)-এর সাথে এসেছেন তারাও উক্ত হজ্জে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

রাসূল (সা.) গোসল করলেন ও পবিত্র দেহ মোবারকে তেল মালিশ করলেন, সুগন্ধি লাগালেন এবং চুলগেুলোকে চিরুণী দিয়ে আচড়ে পরিপাটি করলেন। (ইমতাউল আসমা, পৃষ্ঠা-৫১০)

অতঃপর মদীনা হতে বের হলেন। মদীনা হতে বের হওয়ার সময় তার শরীরে মাত্র দু’টি কাপড় ছিল যার একটি ছিল কাধের উপর রাখা আর অপরটি ছিল কোমরে বাধা। একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, যখন “জিল হুলাইফা”তে পৌছালেন তখন ইহরাম বাধলেন। (সীরাতে হালাবী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩০৯)

অতঃপর আবারও পূর্বের ন্যায় পথ চলতে শুরু করলেন এবং জিলহজ্জ মাসের চার তারিখ মঙ্গলবারে মক্কায় প্রবেশ করলেন। বনী শাইবা’র ফটক দিয়ে মসজিদুল হারামে (কাবা ঘরে) প্রবেশ করলেন। (সীরাতে হালাবী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৫১৭)

তাওয়াফ করলেন, তাওয়াফের নামাজ পড়লেন, সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করলেন এবং নিয়মানুযায়ী ওমরার কর্মাদি সম্পাদন করলেন। (ইমতাউল আসমা, পৃষ্ঠা-৫১৭)

যারা নিজেদের সাথে কোরবানীর পশু নিয়ে আসেননি তাদের উদ্দেশ্যে বললেন- তারা যেন চুল কেটে ইহরাম খুলে ফেলে। (সীরাতে হালাবী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩১৭)

তিনি (সা.) যেহেতু কোরবানীর পশু নিয়ে এসেছিলেন তাই ইহরাম অবস্থায় রয়ে গেলেন যতক্ষন পর্যন্ত না মীনা’তে কোরবানী করেন। (সীরাতে হালাবী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩১৭)

আমিরুল মু’মিনীন আলী (আ.) যেহেতু রাসূল (সা.)-এর হজ্জে যাওয়ার কথা ইতিপূর্বেই অবগত হয়েছিলেন তাই তিনিও ইয়েমেন থেকে ৩৭টি (সাইত্রিশটি) কোরবানীর পশু সাথে নিয়ে এসেছিলেন ও ইয়েমেনের অধিবাসীদের মিকাতে ঐ একই নিয়্যতেই, যে নিয়্যতে রাসূল (সা.) ইহরাম বেধেছিলেন, ইহরাম বাধলেন এবং রাসূল (সা.)-এর ন্যায় সাফা ও মারওয়া সাঈ করার পর ইহরাম অবস্থায় রয়ে গেলেন। (সীরাতে হালাবী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩১৯)

রাসূল (সা.) জিলহজ্জ মাসের ৮ম (অষ্টম) দিনে মীনা হয়ে আরাফা’র ময়দানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন যাতে হজ্জের অনুষ্ঠানাদি শুরু করতে পারেন। ৯ম (নবম) দিনের সূর্য়যাদয় পর্যন্ত মীনা’তেই ছিলেন। অতঃপর আরাফায় পৌছে স্বীয় তাবুতে অবস্থান নিলেন।

আরাফায় মুসলমানদের আড়ম্বরপূর্ণ জন সমাবেশে প্রাঞ্জল ভাষায় খুতবা পাঠ করলেন। তার এই খুতবাতে মুসলমানদেরকে ভ্রাতৃত্বের প্রতি ও পরস্পরের প্রতি সম্মানের কথা তুলে ধরলেন; ইসলাম পূর্ব অন্ধকার যুগের সমস্ত আইন-কানুনকে বাতিল ঘোষণা করলেন এবং স্বীয় রেসালাতের সমাপ্তির কথাও ব্যক্ত করলেন। (সীরাতে হালাবী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩২১)

৯ম (নবম) দিনের সূর্যাস্ত পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করলেন। যখন সূর্য অস্তমিত হল ও অন্ধকার নেমে আসল তখন মুজদালাফা”র উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। (সীরাতে হালাবী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩২৫)

তিনি সেখানেই রাত্রি যাপন করার পর দশম দিনের প্রত্যুশে মীনা’র দিকে যাত্রা শুরু করলেন। মীনা’র নিয়ম কানুন পালনের মাধ্যমে হজ্জ শেষ করলেন এবং এভাবেই হজ্জের বিধি-নিষেধগুলি মুসলমানদেরকে শিক্ষা দিলেন।

এই হজ্জকে হাজ্জাতুল বিদা, হাজ্জাতুল ইসলাম, হাজ্জাতুল বালাগ, হাজ্জাতুল কামাল ও হাজ্জাতুত তামাম বলা হয়ে থাকে । (সীরাতে হালাবী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩০৮ ও ইমতাউল আসমা, পৃষ্ঠা-৫১০ এবং সীরাতে জিঈনী দেহলাম, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-১৪৩)

হজ্জের অনুষ্ঠান সমাপনীর পর তিনি মদীনার অভিমুখে যাত্রা করলেন। যখন “রাগেব” নামক স্থানে পৌছালেন, (যে স্থানটিকে গাদীরে খুম বলা হত) হযরত জিব্রাইল (আ.) অবতীর্ণ হলেন এবং তার নিকট ঐশীবাণী এভাবে পাঠ করলেন- (হাবীবুস সাঈর, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪১১)

)يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ(

“হে রাসূল! প্রচার করুন আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে। আর যদি আপনি এরূপ না করেন, তাহলে আপনি তার রেসালাতের কিছুই পৌছালেন না। আল্লাহ আপনাকে (একদল) মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না। (সূরা-মায়িদা, আয়াত-৬৭)

আল্লাহর এই বাণী এমন এক নির্দেশ যা রাসূল (সা.)-এর উপর গুরুদায়িত্ব হিসেবে অর্পন করা হয়েছে; এমনই এক ঘোষণা যে, কেউ যেন এ সম্পর্কে অনবগত না থাকে, আর যদি তিনি এমনটা না করেন তাহলে যেন এমন যে, তিনি দ্বীনের কোন কাজই সম্পাদন করেননি। সুতরাং এই বাণী প্রচারের জন্য উক্ত স্থানই ও উক্ত সময়ই সর্বোত্তম; যেখানে মিশর, ইরাক, মদীনা ও অন্যান্য সকল স্থানের অধিবাসীদের পরস্পরের পথ আলাদা হওয়ার স্থান। আর সকল হাজীগণ অনন্যোপায় হয়ে এই পথই পাড়ি দিয়ে থাকেন। গাদীরের খুম নামক স্থানটিই একমাত্র স্থান ছিল যেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণীটি সমস্ত হাজীদের কর্ণ কুহরে পৌছানো সম্ভবপর।

তাই সকলকে সেখানে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হল। তিনি বললেন অগ্রগামীদের ফিরে আসতে বল আর পশ্চাৎপদদের জন্য প্রতীক্ষা কর। (ফারায়েদুস সিমতাঈন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭০, অধ্যায়-১১, হাদীস-৩৭)

হেজাজের উত্তপ্ত মরুতে জনগণের ঘটেছিল এক মহা সমাবেশ। দিনটিতে ছিল প্রচহু গরম ও এলাকাটির তাপ্রমাত্রাও ছিল অত্যন্ত বেশী; এত গরম ছিল যে, সেখানকার পুরুষরা তাদের স্বীয় বস্ত্রের অর্ধাংশ দিয়েছিলেন মাথায় আর অর্ধাশ দিয়েছিলেন প্রায়র নীচে। (মানাকিব ইবনে মাগাজেলী, পৃষ্ঠা-১৬)

সকলের মনে একই প্রশ্ন ছিল যে, কি এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ হয়ে দাড়িয়েছে যে, এরকম প্রচহু গরমের মধ্যে বা বাহ্যিক দিক থেকে অনুপোযুক্ত জায়গায় রাসূল (সা.) আমাদেরকে স্বস্থানে অবস্থানের নির্দেশ দিলেন? তাপামাত্রা এত উচ্চ মাত্রায় পৌছেছিল যে, হাজীদেরকে অস্থির করে ফেলছিল।

তিনি নির্দেশ দিলেন- যেন বয়োবৃদ্ধদেরকে বৃক্ষতলে নিয়ে যাওয়া হয় আর উটের জিনগু্লোকে যেন একটার উপর অপরটা রেখ মঞ্চ বানানো হয়। সুউচ্চ মঞ্চ তৈরী করা হল। প্রায় দুপুরের সময় যখন হাজীগণ ঐ মরুভূমিতে একত্রিত হয়েছিল, তিনি মঞ্চে আরোহন করলেন এবং এভাবে একটি বক্তব্য প্রদান করলেনঃ

“সকল প্রশংসা শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য । আমরা তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তার প্রতি ঈমান আনয়ন করি, তার প্রতিই ভরসা করি এবং নাফসের তাড়না ও অসৎ আচরণের জন্য চাই তাঁর নিকট আশ্রয়; তিনি এমনই প্রভূ যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার কোন পথপ্রদর্শক নেই আর যাকে তিনি পথ প্রদর্শন করেন তার কোন পথভ্রষ্টকারী নেই । আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ব্যতীত কোন প্রভূ নেই ও মুহাম্মদ তারই প্রেরিত বান্দা” অতঃপরঃ

“হে উপস্থিত জনতা; সর্বজ্ঞানী আল্লাহ তায়ালা আমাকে অবগত করেছেন যে, কোন নবীই তার পূর্ববর্তী নবীর বয়সের অর্ধেকের বেশী বয়স ধরে জীবন যাপন করে নি এবং অচিরেই আমাকেও চিরস্থায়ী আবাসের দিকে আহবান করা হবে, আর আমিও তার আহবানে সাড়া দিব। এটা বাস্তব যে, আমাকে ও তোমাদের সবাইকে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। তখন তোমরা কি জবাব দিবে?”

সকলেই বললেনঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর বাণী আমাদের নিকট পৌছিয়েছেন ও উপদেশ দান করেছেন এবং চেষ্টা- প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে কোন ত্রুটি করেননি। আল্লাহ আপনাকে উত্তম পুরস্কার দান করবেন।

তিনি বললেনঃ তোমরা কি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, এক আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ বা উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর প্রেরিত বান্দা, তার প্রতিশ্রুত বেহেশত, দোযখ ও মৃত্যু সত্য এবং নিঃসন্দেহে পুনরুত্থান সংঘটিত হবে ও আল্লাহ তায়ালা সকল মৃত বক্তিদেরকে জীবিত করবেন?”

সকলেই বললেনঃ হ্যা, আমরা এ সকল বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছি।

তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাক।” (সীরাতে হালাবী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩৩৬ এবং তারিখে দামেশক, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪৫, হাদীস- ৫৪৭)

অতঃপর বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা আমার কথা শুনতে পাচ্ছ?”

তারা বললেনঃ হ্যা।

তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের পূর্বেই হাউজে কাউসারে উপস্থিত হব আর তোমরা হাউজের পার্শ্বে আমার নিকট উপস্থিত হবে; ঐ হাউজটির দৈর্ঘ্য হচ্ছে সানআ’ হতে বুসরা’র দৈর্ঘ্যের সমান এবং সেখানে রয়েছে রৌপ্য পানপাত্র ও এর সংখ্যা নক্ষত্রের সমান। এখন দেখতে চাই যে, আমার পরে তোমরা আমার এই দু’টি মহামূল্যবান বস্তুর সাথে কেমন আচরণ কর।”

উপস্থিত জনগণের মধ্য হতে একজন বলে উঠলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! ঐ দু’টি মহা মূল্যবান বস্তু কি?

তিনি বললেনঃ ঐ দু’টি বস্তু হচ্ছে- একটি সবচেয়ে বড় যা আল্লাহর কিতাব (কোরআন)। যার এক প্রান্ত আল্লাহর হাতে এবং অপর প্রান্তটি তোমাদের হাতে; তাই এটাকে দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধরবে যাতে পথভ্রষ্ট না হও। আর অপরটি হচ্ছে- ইতরাত বা আমার নিকটাত্মীয়। মহান প্রজ্ঞাবান আল্লাহ তায়ালা আমাকে জানিয়েছেন যে, এ দু’টি বস্তু কিয়ামতের দিনে হাউজে কাউসারে আমার নিকট না পৌছা পর্যন্ত একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। আর আমিও আল্লাহর নিকট এটাই কামনা করেছিলাম। সুতরাং তোমরা তাদের অগ্রবর্তী হবে না, হলে ধ্বংস হয়ে যাবে এবং পশ্চাতে পড়ে থাকবে না, তাহলেও ধ্বংস হয়ে যাবে।” অতঃপর আলীর হাত ধরে উচু করলেন। আর এমনভাবে উচু করলেন যে, তাদের দু’জনেরই শুভ্র বগল দেখা যাচ্ছিলো এবং সেখানকার সকলেই আলীকে চিনতে পারলো।

তখন তিনি বললেনঃ “হে লোক সকল! মু’মিনদের মধ্যে কোন ব্যক্তি সর্বোত্তম এবং তাদের উপর প্রাধান্য রাখে?”

সকলেই বললোঃ আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন।

তিনি বললেনঃ “আল্লাহ আমার “মাওলা” ও অভিভাবক, আমি মু’মিনদের মাওলা ও অভিভাবক। আর আমি মু’মিনদের উপর তাদের চেয়ে প্রধান্য রাখি। সুতরাং আমি যাদের মাওলা ও অভিভাবক এই আলীও তাদের মাওলা ও অভিভাবক।” (কানজুল উম্মাল, ১৩তম খণ্ড, পৃষ্ঠা-১০৪-১০৫, হাদীস-৩৬৩৪০-৩৬৩৪৪ ও পৃষ্ঠা-১৩৩, হাদীস-৩৬৪২০)

এই বাক্যটি তিনি তিনবার পুনরাবৃত্তি করলেন।

অতঃপর বললেনঃ “হে আল্লাহ! তাকে তুমি ভালবাস যে আলীকে ভালবাসে ও তুমি তার প্রতি শত্রুতা পোষণ কর যে আলীর প্রতি শত্রুতা পোষণ করে; তুমি সহযোগিতা কর তাকে যে আলীকে সহযোগিতা করে, তুমি তাকে নিঃসঙ্গ কর যে আলীকে নিঃসঙ্গ করে এবং সত্যকে সর্বদা আলীর সাথে রাখ সে (আলী) যে দিকেই থাক না কেন।” (কানজুল উম্মাল, ১৩তম খণ্ড, পৃষ্ঠা-১৩৮, হাদীস-৩৬৪৩৭, ফারায়েদুস সিমতাঈন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭৩, অধ্যায়-১২, হাদীস-৩৯, সীরাতে হালাবী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩৩৬ ও মাজমাউল জাওয়ায়েদ, ৯ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-১০৪-১০৮)

“হে লোকসকল! তোমরা যারা উপস্থিত আছ তারা এই বাণীটি অবশ্যই অনুপস্থিতদের নিকট পৌছিয়ে দিবে। (সকল খুতবার উৎস হচ্ছে- আল-গাদীর, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-১০-১১, নাওয়ারুল উসূল, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-১৬৩, মো’জামে কাবির তিবরানী, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-১৬৬, হাদীস- ৪৯৭১, নজুলুল আবরার, পৃষ্ঠা-৫১)

রাসূল (সা.)-এর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর জিব্রাইল (আ.) দ্বিতীয়বার অবতীর্ণ হলেন এবং তাকে এই বাণীটি পৌছে দিলেনঃ

)الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا(

অর্থাৎ আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম ও নেয়ামত বা অনুগ্রহকে তোমাদের উপর সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম। (সূরা মায়িদা-৩, মানাকিব ইবনে মাগাজেলী, পৃষ্ঠা-১৯, হাদীস-২৪ এবং ফারায়েদুস সিমতাঈন)

রাসূল (সা.) এই আনন্দদায়ক বাণী প্রাপ্ত হওয়ার পর আনন্দিত হলেন এবং বললেন- আল্লাহ মহান! কেননা দ্বীন পরিপূর্ণ ও নেয়ামত বা অনুগ্রহ সম্পূর্ণ এবং মহান প্রভূ আমার রেসালাতের বা নবুয়্যতি দায়িত্বের ও আলীর বেলায়াতের বা অভিভাবকত্বের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। (ফারায়েদুস সিমতাঈন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭৩, অধ্যায়-১২, হাদীস-৩৯-৪০)

অভিনন্দন অনুষ্ঠান

রাসূল (সা.) তার বক্তব্য শেষ করার পর মঞ্চ থেকে নেমে আসলেন ও একটি তাবুতে বসলেন এবং বললেনঃ আলীও যেন অপর এক তাবুতে বসে। অতঃপর নির্দেশ দিলেন, সকল সাহাবীগণ যেন আমিরুল মু’মিনীনের সাক্ষাতে যায় এবং বেলায়াতের মর্যাদার জন্য তাকে অভিনন্দন জানায়।

ইতিহাস গ্রন্থ “রওজাতুস সাফা” এর লেখক গাদীরের ঘটনা উল্লেখ করার পর লিখেছেনঃ রাসূল (সা.) এর নির্দেশ অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট তাবুতে বসলেন। তারপর নির্দেশ দিলেন যেন পর্যায়ক্রমে সকলেই আলীর তাবুতে যায় ও তাকে অভিনন্দন জানায়। যখন সবাই এই কাজটি সম্পন্ন করলেন, উম্মাহাত (এর উদ্দেশ্য রাসূলের (সা.) স্ত্রীগণ অর্থাৎ উম্মাহাতুল মু’মিনীন অর্থাৎ উম্মতের জননী উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।) আলীর নিকট গেলেন এবং তাকে অভিনন্দন জানালেন। (তারিখে রওজাহুস সাফা, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৫৪১, আশারায়ে মোবাশশারা, পৃষ্ঠা-১৬৪, হামিদীয়া লাই্রব্রেরী (বাংলায় অনূদিত)

‘হাবিবুস সীয়ার’ নামক ইতিহাস গ্রন্থে গাদীরের হাদীস বর্ণনার পর এরূপে এসেছে যে, অতঃপর আমিরুল মু’মিনীন আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহু অর্থাৎ মূর্তির সমীপে তার শির কখনো নত হয়নি) রাসূল (সা.)-এর নির্দেশের ভিত্তিতে এক তাবুতে বসলেন যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাকে অভিবাদন জানাতে পারে, বিশেষ করে উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বেলায়াতের বা অভিভাবকত্বের কণর্ধারকে বললেন-

بخ بخ یا بنابی طالب اصبحت مولای و مولی کل مؤمن و مؤمنة

অর্থাৎ অভিনন্দন, অভিনন্দন হে আবু তালিব নন্দন! আজ হতে আপনি আমার এবং সকল মু’মিন পুরুষ ও নারীর মাওলা হলেন। (তারিখে হাবিবুস সাঈর, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪১১)

তারপর উম্মাহাতুল মু’মিনীন রাসূল (সা.)-এর ইঙ্গিতে আমিরুল মু’মিনীনের তাবুতে গেলেন এবং তাকে অভিবাদন জানালেন। বিশিষ্ট শিয়া মুফাসসীর ও মুহাদ্দিস মরহুম তাবারসী তার ইলামুল ওয়ারা” নামক গ্রন্থে ও ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন। (ই’লামলু ওয়ারা বি ই’লামিল হুদা, পৃষ্ঠা-১৩৩)

সকল সাহাবীগণ আবার রাসূল (সা.)-এর হাতে বাইয়াত বা শপথ গ্রহণ করলেন এবং সেই সাথে আলী (আ.)-এর সাথেও বাইয়াত বা অঙ্গীকারাবদ্ধ হলেন। সর্ব প্রথম যে ব্যক্তিবর্গ রাসূল (সা.)-এর ও আলী (আ.)-এর হাতে হাত রেখেছিলেন তারা ছিলেন আবু বকর, উমর, উসমান, তালহা ও জোবায়ের। (আল-গাদীর, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৭০; মোহাম্মদ ইবনে জারীর তাবারী রচিত “আল-বেলায়াহ” গ্রন্থ হতে সংগৃহিত ও মানাকেবে আলী ইবনে আবী তালিব রচনায় আহমাদ ইবনে হাম্বাল তাবারী যিনি খালিলী নামে প্রসিদ্ধ)

ইতিপূর্বেও তুলে ধরেছি যে, অভিনন্দনের জন্য হযরত উমর যে বাক্যটি উচ্চারণ করেছিলেন, তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। তিনি বলেছিলেনঃ অভিনন্দন, অভিনন্দন হে আবু তালিব নন্দন! আজ হতে আপনি আমার এবং সকল মু’মিন পুরুষ ও নারীর মাওলা হলেন। (ফারায়েদুস সিমতাঈন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৬৫, অধ্যায়-৯, হাদীস-৩১-৩২, পৃষ্ঠা-৭১, অধ্যায়-১১, হাদীস-৩৮, আশারায়ে মোবাশাশারা, পৃষ্ঠা-১৬৪, হামিদীয়া লাই্রব্রেরী (বাংলায় অনূদিত)

আহলে সুন্নাতের অধিকাংশ মুহাদ্দিস বা হাদীসবেত্তাগণ এই ঘটনাটি ঐ সকল সাহাবীর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং উমরের কন্ঠে এই বাক্যটি শুনেছিলেন। যেমন- যারা এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে- ইবনে আব্বাস, আবু হোরায়রা, বুরাআ ইবনে আযিব, যায়েদ ইবনে আরকাম, সা’আদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস, আবু সাঈদ খুদরী এবং আনাস ইবনে মালিকের নাম উল্লেখযোগ্য ।

আল্লামা আমিনী তার “আল-গাদীর” নামক গ্রন্থে ৬০ জন (ষাটজন) আহলে সুন্নাতের পণ্ডিতের নাম উল্লেখ করেছেন যারা স্বীয় গ্রন্থে উক্ত ঘটনাটি লিপিবদ্ধ করেছেন। (আল-গাদীর, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৭২-২৮৩)

আবার অনেকেই এটাকে আবু বকরের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।

যখন অভিনন্দন অনুষ্ঠানের সমাপনী ঘটল তখন হাসসান্ বিন সাবিত নামক একজন কবি, যিনি স্বীয় যুগে সুপ্রসিদ্ধ ছিলেন, তিনি বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল! আমি অনুমতি প্রার্থনা করছি যে, আপনার উপস্থিতিতে আলীর উদ্দেশ্যে কবিতার ক’টি লাইন পাঠ করবো।”

তিনি (রাসূল)বললেনঃ আল্লাহর নামে শুরু কর।

অতঃপর হাসসান্ উচু স্থানে উঠে পাঠ করতে লাগলেনঃ মুসলমানদের রাসূল (সা.) গাদীর দিবসে উচ্চস্বরে তাদেরকে ডাকলেন, কতটা বিস্ময়কর ব্যাপার যে, আল্লাহর প্রেরিত রাসূল এভাবে আহবান করছেন।

তিনি বললেনঃ তোমাদের অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষক এবং রাসূল কে?

সেখানকার সকলেই নির্দ্বিধায় বললেনঃ আপনার আল্লাহ আমাদের অভিভাবক এবং আপনি আমাদের রাসূল ও আমাদের মধ্যে এমন একজনকেও পাবেন না, যে বেলায়াতের (কর্তৃত্বের) নির্দেশের ক্ষেত্রে আপনার অবাধ্য হবে ও বিরোধিতা করবে।

তখন আলীকে বললেনঃ হে আলী উঠে দাড়াও! কারণ, আমি তোমাকে আমার পরে ইমামত ও নেতৃত্বের জন্য নির্বাচন করেছি।

অতএব আমি যাদের নেতা ও পৃষ্ঠপোষক, এই আলীও অনুরূপ তাদের নেতা ও পৃষ্ঠপোষক। সুতরাং তোমরা তার সঠিক অনুসারী হও এবং তাকে ভালবাস।

এবং সেখানে দোয়া করলেনঃ হে আল্লাহ! আলীর বন্ধু্কে তোমার বন্ধু মনে কর এবং যে আলীর সাথে শত্রুতা করবে তুমিও তার সাথে শত্রুতা কর। (ফারায়েদুস সিমতাঈন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭৩, অধ্যায়-১২, হাদীস-৩৯-৪০ ও মাকতালে খাওয়ারেজমী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪৭ এবং তাযকিরাতুল খাওয়াস, পৃষ্ঠা-৩৯)

গাদীর দিবসে বেলায়াতের মুকুট পরানো

বাইয়াত বা অঙ্গীকার অনুষ্ঠান শেষ হতে প্রায় তিন দিন সময় লেগেছিল। (আল-গাদীর, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৭০; মোহাম্মদ ইবনে জারীর তাবারী রচিত আল-রবলায়াহ” গ্রন্থ হতে গৃহিত এবং আহমাদ ইবনে হাম্বাল তাবারী যিনি খালিলী নামে খ্যাত বিরচিত মানাকিব আলী ইবনে আবী তালিব শীর্ষক গ্রন্থ হতে সংকলিত)

যেহেতু সবাই মহান খেলাফতের দায়িত্ব সম্পর্কে জেনে গেছেন ও রাসূল (সা.)-এর খলিফা বা প্রতিনিধিও নির্বাচন হয়ে গেছে এবং জনগণও তার সাথে পরিচিতি লাভ করেছেন ও তার হাতে বাইয়াত বা শপথ গ্রহণ করেছেন, তাই এখনই উপযুক্ত সময় হচ্ছে রাজ মুকুট পড়ানোর মত অনুষ্ঠানের আয়োজন করার। রাসূল (সা.) আমিরুল মু’মিনীন আলীকে (আ.) ডাকলেন ও স্বীয় পাগড়ীটি, যার নাম ছিল ‘সাহাব’ তার মাথায় পরালেন এবং প্রান্তটি তার গ্রীবা পর্যন্ত ঝুলিয়ে দিয়ে বললেনঃ

یا علی العمائم تیجان العرب

অর্থাৎ হে আলী! পাগড়ী হচ্ছে আরবদের মুকুট। (তা’জুল আরুস, মলধাতূ -তাওয়াজা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪০-৪১ ও লিসানুল আরাব, মূলধাতূ – তাওয়াজা)

অতঃপর তিনি তার সুন্নাতানুসারে পাগড়ী পড়ানো হয়েছে কি-না তা নিরীক্ষণ করার জন্য বললেনঃ আমার দিকে মুখ ফিরে দাড়াও। তিনি দাড়ালেন। তিনি বললেনঃ এবার ঘুরে দাড়াও। তিনি ঘুরে দাড়ালেন। (নাজমে দুররুস সিমতাঈন, পৃষ্ঠা-১১২ এবং ফারায়েদুস সিমতাঈন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭৬, অধ্যায়- ১২, হাদীস-৪২)

এমতাবস্থায় সাহাবীদের দিকে মুখ ফিরে বললেনঃ যে সকল ফেরেশতা বদর ও হুনায়নের যুদ্ধের দিন আমাকে সাহায্য করতে এসেছিল তারা ঠিক এইভাবেই পাগড়ী পরেছিল। (ফারায়েদুস সিমতাঈন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭৬, অধ্যায়-১২, হাদীস-৪৩ ও মানাকিবুল ইমাম আমিরুল মু’মিনীন, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪২, হাদীস-৫২৯ এবং নাজমে দারুস সিমতাঈন, পৃষ্ঠা- ১১২)

তিনি আরো বলেনঃ পাগড়ী হচ্ছে ইসলামের নিদর্শন। (মানাকিবুল ইমাম আমিরুল মু’মিনীন (আঃ), ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩৮৯, হাদীস-৮৬৪)

পাগড়ী এমনই চিহ্ন যা মুসলমানদেরকে মুশরিক হতে পৃথক করে। (ফারায়েদুস সিমতাঈন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭৫, অধ্যায়-১২, হাদীস-৪১ ও মানাকিবুল ইমাম আমিরুল মু’মিনীন, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩৮৯, হাদীস-৮৬৪)

তিনি বলেছেনঃ ফেরেশতা  ঠিক এরূপে আমার নিকট আসে। (নাজমে দাররুস সিমতাঈন, পৃষ্ঠা-১১২ এবং ফারায়েদুস সিমতাঈন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭৬, অধ্যায়-১২, হাদীস-৪২)

এভাবেই গাদীরের ঘটনার সমাপ্তি ঘটলো এবং হাজীগণ প্রত্যেকেই স্বীয় অঞ্চলের বা দেশের পথ ধরে সেখান থেকে জাজিরাতুল আরবের বিভিন্ন প্রান্তের দিকে ছড়িয়ে পড়লেন। তারা বেলায়াত বা শাসন কর্তৃত্বের হাদীসটি সমস্ত মুসলমানের কানে পৌছে দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: আহলে সুন্নাতের দৃষ্টিতে গাদীর

মূল: মুহাম্মদ রেজা জাব্বারান

ভাষান্তর: মুহাদ্দিস এম, এ, রহমান (কামিল)