উত্তর: শিয়াদের দৃষ্টিতে যারা রাসূলুল্লাহ (স.)-এর সাক্ষাতের মহান মর্যাদা অর্জন করেছেন তাঁরা কয়েকটি দলে বিভক্ত। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার আগে সংক্ষিপ্ত আকারে সাহাবির সংজ্ঞা তুলে ধরাকে শ্রেয় মনে করছি।
রাসূল (স.)-এর সাহাবির জন্য বিভিন্ন সংজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি এখানে উল্লেখ করা হলো:
১। সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যেব বলেন: ‘সাহাবি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এক বা দুই বছর যাবত রাসূল (স.)-এর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে একটি অথবা দু’টি যুদ্ধে অংশ নিয়ে যুদ্ধ করেছেন। (উসদুল গাবাহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ১১ ও ১২, (মিসর)
২। ওয়াক্বেদি বলেন: ‘মনীষীদের মতে, যে ব্যক্তি রাসূল (স.)-কে দেখেছেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেছেন, দ্বীনের ক্ষেত্রে চিন্তা করেছেন এবং তাতে সন্তুষ্ট থেকেছেন; তাঁরা আমাদের নিকট রাসূল (স.)-এর আসহাব হিসেবে পরিগণিত। যদি তা একটি ঘণ্টার জন্যও হয়ে থাকে। (প্রাগুক্ত)
৩। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল বুখারি বর্ণনা করেছেন: ‘মুসলমানদের মধ্য হতে যে ব্যক্তি রাসূল (স.)-এর সাক্ষাৎ অর্জন করেছেন অথবা তাঁকে দেখেছেন, তিনি রাসূল (স.)-এর সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত। (প্রাগুক্ত)
৪। আহমাদ ইবনে হাম্বাল বলেন: ‘যে ব্যক্তি একমাস বা একদিন অথবা একঘণ্টা মহানবি (স.)-এর সান্নিধ্য অর্জন করেছেন অথবা তাঁকে দেখেছেন, তিনি রাসূল (স.)-এর আসহাবের অন্তর্ভুক্ত। (প্রাগুক্ত)
আহলে সুন্নাতের আলেমদের মাঝে ‘আদালাতে সাহাবা’ তথা সাহাবিদের ন্যায়পরায়ণতার বিষয়টিকে একটি অনস্বীকার্য মৌলিক বিষয় হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এই অর্থে যে, ‘যে ব্যক্তি রাসূল (স.)-এর সান্নিধ্য অর্জন করেছেন
তিনি ন্যায়পরায়ণ! (আল-ইস্তিয়াব ফি আসমাইল আসহাব, ১ম খণ্ড, পৃ. ২; উসদুল গাবাহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩, ইবনে আসিরের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণিত)
এখন পবিত্র কোরআনের সুস্পষ্ট আয়াতের আলোকে এই কথাগুলো পর্যালোচনা করব এবং শিয়াদের দৃষ্টিভঙ্গি- যা ওহি হতেই উৎসারিত, তা বর্ণনা করব:
ইতিহাসে ১২ হাজারেরও বেশি সাহাবির নাম ও পরিচয় লিপিবদ্ধ রয়েছে। নিঃসন্দেহে রাসূল (স.)-এর সান্নিধ্যে আসা একটি গর্বের বিষয়- যা কারো কারো ভাগ্যে জুটেছে এবং মুসলিম উম্মাহ সবসময় তাঁদেরকে এক বিশেষ সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে। কেননা, তাঁরা দ্বীন ইসলামে অগ্রগামী ছিলেন এবং সর্বাগ্রে ইসলামি পতাকা উড্ডয়ন করেছিলেন।
পবিত্র কোরআন প্রথম পতাকাধারীদের প্রশংসায় বলছে:
.. لا يَسْتَوِى مِنكُم مَّنْ أَنفَقَ مِن قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَتَلَ أُوْلَبِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِّنَ الَّذِينَ أَنفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَتَلُوا ..
‘তোমাদের মধ্যে যে মক্কা বিজয়ের আগে ব্যয় করেছে ও জিহাদ করেছে, সে সমান নয়। এরূপ লোকদের মর্যাদা বৃহৎ তাদের অপেক্ষা যারা পরবর্তীকালে ব করেছে ও জিহাদ করেছে। (সূরা হাদীদ: ১০)
এ পর্যায়ে আমাদেরকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, রাসূল (স.)-এর সান্নিধ্যে থাকার বিষয়টি কোনো কিমিয়া তথা পরশমণি ছিল না যে, তা মানুষের প্রকৃতি বা স্বভাবে পরিবর্তন আনবে এবং তাঁদের সবাইকে নিশ্চিতভাবে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ন্যায়পরায়ণতার গণ্ডিতে বেঁধে দেবে।
আরো বেশি স্পষ্ট হওয়ার জন্য আমাদের উচিত হবে কোরআনের-যার প্রতি সব মুসলমানই মতৈক্য রাখে-শরণাপন্ন হওয়া এবং এই সমস্যা সমাধানের জন্য এ পবিত্র গ্রন্থের সাহায্য নেওয়া।
কোরআনের দৃষ্টিতে সাহাবি
ওহির দৃষ্টিতে যেসব ব্যক্তি মহানবি (স.)-এর সাক্ষাৎ ও সান্নিধ্য লাভ করেছেন তাঁরা দু’দলে বিভক্ত:
প্রথম দল
কোরআনের চিরন্তন আয়াতগুলো এই শেণির ব্যক্তিবর্গকে প্রশংসা করেছে এবং তাঁদেরকে ইসলামের মহা-গৌরবময় প্রাসাদের প্রাথমিক প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্মরণ করেছে। এখন আমরা পবিত্র কোরআন হতে এই দলভুক্ত সাহাবিদের সম্পর্কে যেসব আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে সেসবের মধ্য থেকে কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করব:
(ক) ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী সাহাবিরা
وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَرُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدَأَ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
‘আর যারা সর্বপ্রথম হিজরতকারী ও আনসারদের মাঝে পুরনো এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ সে সমস্ত ব্যক্তির প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন কাননকুঞ্জ যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় ঝরনাধারা। সেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। এটাই হলো মহান সফলতা। (সূরা তাওবাহ: ১০০)
(খ) গাছের নিচে বাইয়াতকারিগণ
لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا
‘আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, যখন তারা বৃক্ষের নিচে আপনার কাছে শপথ করল। আল্লাহ অবগত ছিলেন যা তাদের অন্তরে ছিল। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি প্রশান্তি অবতীর্ণ করলেন এবং তাদেরকে পুরস্কার হিসেবে আসন্ন বিজয় দান করলেন। (সূরা ফাত্হ: ১৮)
(গ) মুহাজিরগণ:
لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا وَيَنصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُوْلَبِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ
‘এই ধন-সম্পদ দেশত্যাগী নিঃস্বদের জন্য, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টিলাভের অন্বেষণে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাহায্যার্থে নিজেদের বাস্তুভিটা ও ধন-সম্পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে। তারাই সত্যবাদী। (সূরা হাশর: ৮)
(ঘ) বিজয়িগণ
مُحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَبُهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانَا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِّنْ أَثَرِ السُّجُودِ…
‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সহচররা কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল। আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় আপনি তাদেরকে রুকু ও সিজদারত দেখবেন। তাদের মুখমণ্ডলে রয়েছে সিজদার চিহ্ন…। (সূরা ফাতহ্: ২৯)
দ্বিতীয় দল
দ্বিতীয় দলটি হলো যারা আল্লাহর রাসূল (স.)-এর ঘনিষ্ঠ হয়েছে, কিন্তু দু’মুখো তথা অসুস্থ অন্তরের অধিকারী; তাদের মুখোশ পবিত্র কোরআন খুলে দিয়ে মহানবি (স.)-কে তাদের উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছে। দৃষ্টান্তস্বরূপ নিচে এ সম্পর্কিত কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করা হলো:
(ক) পরিচিত মুনাফিকরা
إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ قَالُوا نَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّكَ لَرَسُولُهُ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَكَاذِبُونَ
“মুনাফিকরা আপনার কাছে এসে বলে, ‘আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল।’ আল্লাহ জানেন যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহর রাসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। (সূরা মুনাফিকুন: প্রথম আয়াত থেকে শেষ আয়াত অবধি)
(খ) অপরিচিত মুনাফিকরা
وَمِمَّنْ حَوْلَكُم مِّنَ الْأَعْرَابِ مُنَافِقُونَ وَمِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مَرَدُوا عَلَى النِّفَاقِ لَا تَعْلَمُهُمْ نَحْنُ نَعْلَمُهُمْ …
‘আর তোমাদের চারপাশের মরুবাসী আরবদের মধ্যেও মুনাফিকরা রয়েছে এবং স্বয়ং মদীনাবাসীদের মধ্যেও, যারা মুনাফিকিতে অনড়। আপনি তাদেরকে চেনেন না; আমি তাদেরকে চিনি…। (সূরা তাওবাহ: ১০১)
(গ) অসুস্থ অন্তরের অধিকারীরা
وَإِذْ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ مَّا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ إِلَّا غُرُورًا
“এবং যখন মুনাফিক ও যাদের অন্তরে রোগ ছিল তারা বলছিল, ‘আমাদেরকে প্রদত্ত আল্লাহ ও রাসূলের প্রতিশ্রুতি প্রতারণা বৈ অন্য কিছু নয়। (সূরা আহযাব: ১২)
(ঘ) পাপকর্মে লিপ্তরা
وَمَا خَرُونَ اعْتَرَفُوا بِذُنُوبِهِمْ خَلَطُوا عَمَلًا صَالِحًا وَوَاخَرَ سَيِّئًا عَسَى اللَّهُ أَن يَتُوبَ عَلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
‘আর (সাহাবিদের মধ্যে) কোনো কোনো লোক রয়েছে যারা নিজেদের পাপ স্বীকার করেছে, তারা মিশ্রিত করেছে একটি নেককাজ এবং অন্য একটি বদকাজ। আশা করা যায়, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়। (সূরা তাওবাহ: ১০২)
পবিত্র কোরআনের আয়াত ছাড়াও সাহাবিদের তিরস্কার সংক্রান্ত বহু রেওয়ায়েত রাসূল (স.) হতে বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্য থেকে দৃষ্টান্তস্বরূপ মাত্র দু’টি রেওয়ায়েত এখানে উল্লেখ করা হলো:
১। আবু হাযেম সুহাইল ইবনে সা’দ হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (স.) বলেছেন:
أنا فرطكم على الحوض من ورد شرب و من شرب لم يظماً ابداً و ليردن : أعرفهم و يعرفونني ثُمَّ يُحال بيني و بينهم». علي أقوام
‘আমি তোমাদেরকে হাউজের (কাউসারের) দিকে পাঠাচ্ছি, যে ব্যক্তিই সেখানে যাবে তা (হাউজে কাউসার) হতে পান করবে। আর যে ব্যক্তি পান করবে, সে কখনই পিপাসার্ত হবে না। আর এমন একটি দলকে আমার সম্মুখে আনা হবে যাদেরকে আমি চিনি এবং তারাও আমাকে চেনে। অতঃপর আমার ও তাদের মাঝে দূরত্ব বেড়ে যাবে (অর্থাৎ তাদেরকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হবে)।’
আবু হাযেম বলেন, যখন আমি এই হাদিসটি পড়ছিলাম তখন নো’মান ইবনে আইয়াশ শুনলেন, অতঃপর বললেন: ‘সাহল হতে এভাবেই শুনেছেন?’ আমি বললাম: ‘হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: আমি সাক্ষী যে, আবু সাঈদ খুদরিও এই হাদিসের সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু বলেছিলেন যে, আল্লাহর রাসূল (স.) বলেছেন:
إنهم مني فيقال انك لا تدري ما أحدثوا بعدك فأقول سحقاً سحقاً لمن بدل بعدى».
“তারা আমার হতেই (তারা আমারই উম্মত)। তখন বলা হবে, ‘আপনি জানেন না যে, তারা আপনার পরে কী করেছে!’ অতঃপর আমি বলব: ‘আল্লাহর রহমত তাদের থেকে দূরে থাকুক, যারা আমার পর আমার শরীয়তে পরিবর্তন এনেছে। (জামেউল উসূল, ইবনে আসির, ১১তম খণ্ড, পৃ. ১২০, হাদিস নং ৭৯৭২)
‘আমি তাদেরকে চিনি আর তারাও আমাকে চেনে’ এবং ‘আমার পর (আমার শরীয়তে) পরিবর্তন এনেছে’- বাক্য দু’টি হতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তাঁরা অর্থ তাঁর সাহাবিরা- যাঁরা কিছুকাল তাঁর সঙ্গে ছিলেন (এই হাদিসটি বুখারি, মুসলিমও বর্ণনা করেছেন)।
২। বুখারি ও মুসলিম মহানবি (স.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:
يرد علي يوم القيامة رهط من اصحابي أو قال من أمتي – فيحلؤون عن الحوض فأقول يا رب أصحابي فيقول انه لا علم لك بما أحدثوا بعدك انهم ارتدوا على أدبارهم القهقرى».
“কিয়ামতের দিন আমার সাহাবিদের মধ্য হতে একটি দল (অথবা বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্য হতে) আমার সামনে উপস্থিত হবে। অতঃপর তাদেরকে হাউজে কাউসার হতে দূরে সরিয়ে দেওয়া হবে (হাউজে কাউসারে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না)। তখন আমি বলব: ‘হে আমার প্রভু! এরা আমার সাহাবি।’ মহান আল্লাহ উত্তরে বলবেন: ‘আপনার পরে এরা যা কিছু করেছে, সে সম্পর্কে আপনি অবগত নন। তারা তাদের পূর্বাবস্থায় (অজ্ঞতা তথা জাহেলিয়াতের যুগে) প্রত্যাবর্তন করেছিল।'”
উপসংহার
কোরআনের আয়াত এবং রাসূল (স.)-এর সুন্নাতের (হাদিসের) মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, সাহাবিরা অথবা ঐসব ব্যক্তি যাঁরা রাসূল (স.)-এর সান্নিধ্য লাভ করেছেন তাঁরা একই রকম ছিলেন না; বরং তাঁদের মধ্য হতে কেউ কেউ সত্যিকার মানুষ এবং মহান মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, যাঁদের নিরলস পরিশ্রমের কারণে ইসলামের চারা গাছটি একটি সুন্দর বৃক্ষে রূপান্তরিত হয়েছে। আর অন্য দলটি প্রথম দিন থেকেই দু’মুখো স্বভাবের অধিকারী ও মুনাফিক ছিল। আর তারা ছিল অসুস্থ অন্তরের অধিকারী পাপী। (বিস্তারিত বিবরণের জন্য পবিত্র কোরআনের সূরা মুনাফিকুন অধ্যয়ন করা যেতে পারে)
এই আলোচনার পর সাহাবিদের সম্পর্কে শিয়াদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়ে যায়- যা কোরআন ও সুন্নাতের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে কোনোভাবেই সাংঘর্ষিক নয়।




