Press "Enter" to skip to content

আমি যার মাওলা, এই আলীও তার মাওলা

বিদায় হজ্ব শেষে ফেরার পথে, ১৮ জিলহজ্জে- গাদিরে খুম নামক স্থানে মহানবী (সা.) লক্ষাধিক হাজি সাহাবীকে সমবেত করে একটি ঐতিহাসিক খুতবা প্রদান করেন, যা খুতবা-এ-গাদীর নামে পরিচিত। খুতবার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশে তিনি উপস্থিত সাহাবীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করে বলেন- “আমি তোমাদের মাঝে দুইটি মহামূল্যবান বস্তু রেখে যাচ্ছি: আল্লাহর কিতাব (পবিত্র কুরআন) এবং আমার আহলে বাইত অর্থাৎ আমার বংশের নিকটতম বিশেষ ব্যক্তিবর্গ। হাউজে কাউসারে উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত এই দুইটি কখনো একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। অতএব, এদের প্রতি দৃঢ়ভাবে অনুগত থাকো; এদের থেকে অগ্রসর হয়ো না এবং অনুসরণে অবহেলা করো না- অন্যথায় তোমরা পথভ্রষ্ট হবে।” খুতবার শেষ পর্যায়ে রাসূল (সা.) বললেন- “আমি কি তোমাদের নাফসের উপর কর্তৃত্ব রাখিনা?” সকলে অঙ্গীকার করে বললেন-“নিশ্চয়ই! ইয়া রাসুলুল্লাহ” এরপর রাসূল (সা.) হযরত আলী ইবনে আবু তালিবের হাত তুলে ধরে ঘোষণা করলেন-

مَنْ كُنتُ مَوْلَاهُ فَهَذَا عَلِيُّ مَوْلَاهُ

“আমি যার মাওলা, এই আলীও তার মাওলা”

অতঃপর রাসূল (সা.) আকাশের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে বললেন- “যে আলীর বন্ধু, তুমি তার বন্ধু হও এবং যে আলীর শত্রু, তুমি তার শত্রু হও। যে তাকে সাহায্য করে, তুমি তাকে সাহায্য কর; এবং যে তাকে পরিত্যাগ করে, তুমি তাকে পরিত্যাগ কর। হে আল্লাহ! আলী যেদিকে যায়, হককে (সত্য) সেদিকে ধাবিত করো; আর তাকে সত্যের মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত কর।”

রাসূল (সা.) কর্তৃক হযরত আলী ইবনে আবু তালিবকে ‘মাওলা’ হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরক্ষনেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ‘দ্বীন পূর্ণতা’

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا..

“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার ‘নি’আমত’ সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম ইসলামকে।” [সূরা ০৫ মায়েদা, আয়াত-০৩]

সবশেষে রাসূল (সা.) সকলকে হযরত আলী ইবনে আবু তালিবকে মোবারকবাদ জানানো এবং সাহাবীদের তাঁর বায়াত গ্রহণের নির্দেশ দেন। অতঃপর উপস্থিত সকলেই হযরত আলী ইবনে আবু তালিবের হাতে বায়াত গ্রহণ করলেন।