Press "Enter" to skip to content

ইমাম হুসাইন (আ.) এর সম্পর্কে মহানবী (সা.) এর হাদীস এবং মনীষীদের বক্তব্য

মহানবী (সা.) বলেছেন : জিবরাঈল আমাকে জানিয়েছেন,আমার এ সন্তানকে (ইমাম হুসাইন) হত্যা করা হবে এবং হত্যাকারী মহান আল্লাহর তীব্র রোষানলে পড়বে। ( তাবরানী প্রণীত আল-মু’জাম আল-কাবীর,আল্লামাহ্ গাঞ্জী শাফেয়ী প্রণীত কিফায়াতুত্ তালিব গ্রন্থ।)

হযরত আয়েশা বলেন:মহানবী বলেছেন : যে ভূমিতে হুসাইনকে হত্যা করা হবে জিবরাঈল আমাকে সে স্থানের মাটি দেখিয়েছেন। যে ব্যক্তি হুসাইনের রক্ত ঝরাবে সে মহান আল্লাহর তীব্র রোষানলে দগ্ধ হবে। হে আয়েশা! এ ঘটনা আমাকে অত্যন্ত ব্যথিত ও দুঃখ ভারাক্রান্ত করেছে,আমার উম্মতের মধ্য থেকে কে সেই ব্যক্তি যে আমার হুসাইনকে হত্যা করবে?’’(কানযুল উম্মাহ্,১৩তম খণ্ড,পৃ. ১১২)

মহানবী বলেছেন : আমার উম্মতের মধ্যে থেকে আমার বংশধরদের প্রতি শত্রুতা পোষণকারী এমন এক ব্যক্তিই হবে আমার হুসাইনের হত্যাকারী। আমি কিয়ামত দিবসে তার জন্য শাফায়াত করব না।’’(আল-হাফেয আবু বকর আল-বাগদাদী প্রণীত তারীখে বাগদাদ,৩য় খণ্ড,পৃ. ২০৯;আল-মাআদাহ্,মিসর কর্তক মুদ্রিত)

হযরত আনাস (রা.) বলেন,মহানবী (সা.) বলেছেন : আমার এ দৌহিত্রকে অর্থাৎ হুসাইনকে ইরাকের এক এলাকায় হত্যা করা হবে। অতএব,তোমাদের মধ্য থেকে যারা তাকে ঐ অবস্থায় পাবে তাকে সাহায্য করা তার ওপর ওয়াজিব হবে।” (আল্লামাহ্ মুহিব্বুদ্দীন আহমদ বিন আবদুল্লাহ আত্-তাবারী প্রণীত যাখায়িরুল উকবা ফী মানাকিবে যাভীল কুরবা,দারুল-মা’রেফাহ্,বৈরুত,লেবালন থেকে মুদ্রিত,পৃ. ১৪৬)

أَلْنَّاسُ عَبِيْدُ اْلْدُّنْيَا وَاْلْدِيْنُ لَعِقٌ عَلَى أَلْسِنَتِهِمْ يَحُوْطُوْنَهُ مَا دَرَّتْ مَعَايِشُهُمْ فَإِذَا مُحِّصُوْا بِالْبَلاَءِ قَلَّ اْلْدَّيَّانُوْنَ

ইমাম হুসাইন (আ.) বলেছেন: “জনসাধারণ দুনিয়ার গোলাম। ধর্ম তাদের জিহ্বার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা অনুভব করবে যে দীনচর্চা তাদের জীবনে কোন ক্ষতি বয়ে আনবে না ততক্ষণ পর্যন্ত তারা দীনের চারপাশে ঘুরাফেরা করবে। কিন্তু যখন তারা কোন পরীক্ষার সম্মুখীন হয় তখন খুব কম সংখ্যকই দীনের পথে অবিচল থাকে।” (তোহাফুল উকুল, পৃ. ২৪৪)

ইমাম হোসাইন (আ.) তাঁর প্রিয় পুত্র ইমাম যয়নুল আবেদীনকে বলেন :

 يَا بُنَىَّ إِيَّاكَ وَ ظُلْمَ مَنْ لاَ يَجِدُ عَلَيْكَ نَاصِرًا إِلاَّ اللهَ جَلَّ وَ عَزَّ

“হে বৎস! যে ব্যক্তির আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন সাহায্যকারী নেই তার উপর জুলুম করা থেকে বিরত থাকো। আল্লাহ্ এ ধরনের মজলুমের ফরিয়াদ অতি শীঘ্রই গ্রহণ করে থাকেন।” (তোহাফুল উকুল, পৃ. ২৪৬)

إِفْعَلْ خَمْسَةَ أَشْيآءَ وَ أَذْنِبْ مَا شِئْتَ :

فَأَوَّلُ ذَلِكَ : لاَ تَأْكُلْ رِزْقَ اللهِ وَاْذْنِبْ مَا شِئْتَ

وَاْلْثَّانِى : أُخْرُجْ مِنْ وِلاَيَةِ اللهِ وَاْذْنِبْ مَا شِئْتَ

وَاْلْثَّالِثُ : اُطْلُبْ مَوْضِعًا لاَ يَرَاكَ اللهُ وَاْذْنِبْ مَا شِئْتَ

وَاْلْرَّابِعُ : إِذَا جَآءَ مَلَكُ اْلْمَوْتِ لِيَقْبِضَ رَوْحَكَ فَادْفَعْهُ عَنْ نَفْسِكَ وَاْذْنِتْ مَا شِئْتَ

وَاْلْخَامِسُ : إِذَا  أَدْخَلَكَ  مَالِكٌ  فِىْ  اْلْنَّارِ  فَلآ  تَدْخُلْ فِىْاْلْنَّارِ وَاْذْنِبْ مَا شِئْتَ

ইমাম হুসাইন (আ.) বলেছেন: পাঁচটি কাজ যদি করতে পার তবে তুমি যত ইচ্ছা পাপ করতে পার:

১. আল্লাহর রিযিক ভক্ষণ করো না অতঃপর যত খুশী গোনাহ্ করো।

২. আল্লাহর কর্তৃত্বের সীমা থেকে বেরিয়ে যাও তারপর যত পার গোনাহ্ কর।

৩. এমন স্থানে চলে যাও যেখানে আল্লাহ্ তোমাকে দেখবেন না, অতঃপর যত পার গোনাহ্ কর।

৪. যখন মৃত্যুর ফেরেশতা তোমার রুহ্ কবজ করতে আসবে তখন যদি তুমি নিজেকে রক্ষা করতে পার তাহলে যত খুশী গোনাহ  কর।

৫. যখন আজাবের ফেরেশতা তোমাকে আগুনে নিক্ষেপ করবে তখন যদি তা থেকে বাচঁতে পার তাহলে যত ইচ্ছা পাপ করে যাও।” (বিহারুল আনওয়ার, ৭৮, পৃ. ১২৬ “ভাবার্থ তুলে ধরা হয়েছে”)

يَا اْبْنَ آدَمَ إِنَّمَا أَنْتَ أَيَّامٌ كُلَّمَا  مُضِىَ يَوْمٌ ذَهَبَ بَعْضُكَ

ইমাম  হোসাইন  (আ.)  বলেছেন : “হে মানুষ, তোমার পুঁজি তোমার আয়ুষ্কাল। তোমার আয়ু থেকে যতদিন চলে যাচ্ছে ততই তোমার মূলধন সমাপ্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে।” (বালাগাতুল হোসাইন, পৃ. ৮৭)

إِنَّ قَوْمًا عَبَدُوْا اللهَ رَغْبَةً فَتِلْكَ عِبَادَةُ اْلْتُّجَّارِ وَ إِنَّ قَوْمًا عَبَدُوْا اللهَ رَهْبَةً فَتِلْكَ عِبَادَةُ اْلْعَبِيْدِ وَ إِنَّ  قَوْمًا عَبَدُوْا اللهَ شُكْرًا فَتِلْكَ عِبَادَةُ اْلأَحْرَارِ وَ هِىَ أَفْضَلُ اْلْعِبَادَةِ

ইমাম হুসাইন  (আ.) বলেছেন: “একদল জান্নাতের লোভে আল্লাহর ইবাদত করে থাকে। তাদের ইবাদত ব্যবসায়িক ইবাদত। অন্য একদল লোক জাহান্নামের ভয়ে ইবাদত করে থাকে। তাদের ইবাদত দাসত্বের ইবাদত। অপর একদল আল্লাহর শোকর আদায়ের লক্ষ্যে ইবাদত করে থাকে। তাদের ইবাদত মুক্ত মানুষের ইবাদত। এটাই সর্বত্তোম ইবাদত।” (বিহারুল আনওয়ার, ৭৮তম খণ্ড, পৃ. ১১৭)

مَا أَخَذَ اللهُ طَاقَةَ أَحَدٍ إِلاَّ وَضَعَ عَنْهُ طَاعَتَهُ , وَ لاَ أَخَذَ قُدْرَتَهُ إِلاَّ وَضَعَ عَنْهُ كُلْفَتَهُ

ইমাম হুসাইন  (আ.) বলেছেন:  “যদি আল্লাহ কারো সাধ্যকে সীমিত করেন তবে তাঁর আনুগত্যের সীমাকেও সীমাবদ্ধ করে দেন এবং যদি কারো শক্তিকে হ্রাস করেন তবে তার অবশ্য করণীয় বিষয়সমূহেও বিশেষ ছাড় দেন” (বিহারুল আনওয়ার, ৭৮তম খণ্ড, পৃ. ১১৭)

ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর নিজের পরিচয় একটি বাক্যের মাধ্যমেই সবচেয়ে সুন্দরভাবে ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন : ‘হে আল্লাহ্! তুমি জান যে, এরপর জমিনের বুকে তোমার নবী-দুহিতার কোন পুত্রই আর রইল না।

لَيْسَ لِأَنْفُسِكُمْ ثَمَنٌ إِلاَّ اْلْجَنَّةَ فَلاَ تَبِيْعُوْهَا بِغَيْرِهَا فَإِنَّهُ مَنْ رَضِىَ مِنَ اللهِ بِاْلْدُّنْيَا فَقَدْ رَضِىَ بِاْلْخَسِيْسِ

ইমাম হুসাইন (আ.) বলেছেন: “জান্নাত ব্যতীত অন্য কিছুতে তোমাদের কোন মূল্য হয় না। সুতরাং জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুর বিনিময়ে নিজেকে বিক্রি করো না। যে ব্যক্তি দুনিয়া পেয়েই সন্তুষ্ট হয়ে যায় সে সর্বনিকৃষ্ট জিনিস নিয়েই সন্তুষ্ট হয়।” (বালাগাতুল হোসাইন, পৃ. ৩০৮)

لاَ يُكْمَلُ اْلْعَقْلُ إِلاَّ بِإِتِّبَاعِ اْلْحَقِّ

ইমাম হুসাইন (আ.) বলেছেন: “সত্যের অনুসরণ ব্যতীত আকলের (বুদ্ধিবৃত্তি) পরিপূর্ণতা আসে না।” (বালাগাতুল হোসাইন, পৃ. ৩০৭)

شُكْرُكَ لِنِعْمَةٍ سَالِغَةٍ يَقْتَضِى نِعْمَةً آنِفَةً

ইমাম হুসাইন (আ.) বলেছেন:  “অতীত অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা আল্লাহর পক্ষ থেকে নতুন নেয়ামত বয়ে আনে।” (বালাগাতুল হোসাইন, পৃ. ২৯৩)

لاَ تَأْمَنْ إِلاَّ مَنْ خَافَ اللهُ تَعَالَى

ইমাম হুসাইন (আ.) বলেছেন:   “যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় পায় তাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিশ্বাস করো না।” (বালাগাতুল হোসাইন, পৃ. ২৯২)

قِيْلَ لَهُ مَا اْلْفَضْلُ ؟ قَالَ عَلَيْهِ اْلْسَّلاَمُ : مِلْكُ اْلْلِسَانِ وَ بَذْلُ اْلإِحْسَانِ

“ইমাম হুসাইন (আ.)কে প্রশ্ন করা হলো যে মর্যাদা কিসে হয়? তিনি বলেন : “জিহ্বার মালিক হলে (অর্থাৎ যে কথায় আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন সে কথা থেকে বিরত থাকা) এবং দয়া পরবশ হলে (অর্থাৎ আল্লাহর বান্দাদের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করলে)।” (বালাগাতুল হোসাইন, পৃ. ৩৩২)

মহানবী (সা) ইমাম হুসাইন (আ.) সম্পর্কে বলেছেনঃ ‘হে আল্লাহ্! একে তুমি ভালোবাস। কেননা, আমিও একে ভালোবাসি।’

রাসূল (সা.) হোসাইন (আ.)কে উদ্দেশ্যে করে বলেছেন: তুমি মহান, মহান ব্যক্তির পুত্র এবং মহান ব্যক্তিবর্গের পিতা। তুমি ইমাম, ইমামের পুত্র এবং ইমামদের পিতা। তুমি আল্লাহর হুজ্জাত (অকাট্য দলিল), আল্লাহর হুজ্জাতের পুত্র এবং আল্লাহর নয়জন হুজ্জাতের পিতা। (মাকতাল আল খাওয়ারেযমী, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৪৬। কামালুদ্দীন, সাদুক, পৃ. ১৫২।)

মহানবী (সা) ইমাম হুসাইনকে কাঁধে বসাতেন এবং বলতেন : ‘এ বালক ও তার ভাই দুনিয়ায় আমার দু’টি সুগন্ধী ফুল (রায়হান)।’

হযরত আনাস ইবনে মালিক বর্ণনা করছেন : “যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে আপনি আপনার আহলে বাইতের মধ্য থেকে কাকে সবচেয়ে বেশী ভালবাসেন? তিনি বলেন : “হাসান ও হোসাইনকে।” (সুনানে তিরমিযী, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৩২৩)

মহানবী (সা) এরশাদ করেছেনঃ ‘হুসাইন আমা থেকে, আর আমি হুসাইন থেকে।’

আবু হুরাইরা বর্ণনা করেছেন যে : রাসূল (সা.) হাসান ও হোসাইন (আ.) সম্পর্কে বলতেন: আমার এই দু’সন্তানকে যে, ভালবাসবে সে আমাকে ভালবাসলো আর যে, তাদের সাথে শত্রুতা করবে সে আমার সাথে শত্রুতা করলো। (আল ইসাবা, ১১তম খণ্ড, পৃ. ৩৩০)

মহানবী (সা) এরশাদ করেছেনঃ ‘এরা দু’ভাই আমার আহলে বাইতের মধ্যে আমার সবচেয়ে বেশি প্রিয়।’

হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন: যে-ই চায় আকাশগুলোর বাসিন্দা ও পৃথিবীর বাসিন্দাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিকে দেখতে, তাহলে তার উচিত হুসাইনের দিকে তাকানো। (মিজান আল হিকমাহ, হাদীস নং ৪৩২)

মহানবী (সা) এরশাদ করেছেনঃ ‘হাসান ও হুসাইন বেহেশতের যুবকদের নেতা।’

রাসূল (সা.) বলেছেন: হুসাইন (আ.) আমার থেকে, সে আমার সন্তান, আমার বংশ, মানবজাতির মধ্যে তার ভাইয়ের পরে শ্রেষ্ঠ। (মিজান আল হিকমাহ, হাদীস নং ৪২৮)

রাসূল (সা.) বলেছেন: হুসাইন (আ.) মুসলমানদের ইমাম, মুমিনদের অভিভাবক, জগতসমূহের রবের প্রতিনিধি, তাদের সাহায্যকারী যারা সাহায্য চায়, তাদের আশ্রয় যারা আশ্রয় খোঁজে, সে আল্লাহর দলিল বা প্রমাণ গোটা সৃষ্টিজগতের জন্য, সে বেহেশতের যুবকদের সর্দার, উম্মতের নাজাতের দরজা। (মিজান আল হিকমাহ, হাদীস নং ৪২৮)

রাসূল (সা.) বলেছেন: হুসাইন (আ.) এর আনুগত্য করা হল আমারই আনুগত্য করা। যে-ই তাকে অনুসরণ করে সে আমার সাথে যুক্ত হয় এবং যে তার অবাধ্য হয় সে আমার সাথে যুক্ত হতে পারে না।”(মিজান আল হিকমাহ, হাদীস নং ৪২৮)

বারাআ ইবনে আযিব বলেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দেখেছি ইমাম হুসাইন (আ.)-কে বহন করছেন এবং বলছেন, “হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আমি তাকে ভালবাসি, তাই আপনিও তাকে ভালবাসুন।” (মিজান আল হিকমাহ, হাদীস-৪২৯; বুখারি, হাদিস-২১৫০; মুসলিম, হাদিস-৬০৭৭)

রাসূল (সা.)  বলেছেন : “হোসাইন আমা থেকে এবং আমি হোসাইন থেকে।” (সুনানে তিরমিযী, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৩২৪)

ইমাম হোসাইন (আ.) তাঁর প্রিয় পুত্র ইমাম যয়নুল আবেদীনকে বলেন :

 يَا بُنَىَّ إِيَّاكَ وَ ظُلْمَ مَنْ لاَ يَجِدُ عَلَيْكَ نَاصِرًا إِلاَّ اللهَ جَلَّ وَ عَزَّ

“হে বৎস! যে ব্যক্তির আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন সাহায্যকারী নেই তার উপর জুলুম করা থেকে বিরত থাকো। আল্লাহ্ এ ধরনের মজলুমের ফরিয়াদ অতি শীঘ্রই গ্রহণ করে থাকেন।” (তোহাফুল উকুল, পৃ. ২৪৬)

ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন : “ইমাম হোসাইন বিন আলী (আ.)-এর উপর আপতিত মুসিবত ছাড়া অন্য কোন মুসিবতে ক্রন্দন ও বিলাপ করা যথাযথ নয়, কেননা তাঁর মুসিবতে ক্রন্দনের জন্যে মূল্যবান পুরস্কার ও পূণ্য অবধারিত।”( কামেল আয যিয়ারাত, পৃ. ১০১)

ইমাম মুহাম্মদ বাকের (আ.) বলেছেন: যে ঈমানদার ব্যক্তি আমাদের ইমামতের প্রতি স্বীকৃতি জ্ঞাপন করে তাদের প্রত্যেকের জন্যে হযরত আবা আবদিল্লাহ্ আল হোসাইনের কবর যিয়ারত করা অবশ্য কর্তব্য। (কামেল আয যিয়ারাত, পৃ. ১২১)

ইবনে আসির ‘উসদুল গাবা’ গ্রন্থে লিখেন :

كَانَ اْلْحُسَيْنُ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ فَاضِلاً كَثِيْرَ اْلْصُّوْمِ وَ اْلْصَّلاَةِ وَ اْلْحَجِّ وَ اْلْصَّدَقَةِ وَ أَفْعَالِ اْلْخِيْرِ جَمِيْعِهَا

“হোসাইন (রা.) প্রচুর রোজা রাখতেন, নামাজ আদায় করতেন, হজ্বে গমন করতেন, দান করতেন এবং সকল ভাল কাজ তিনি করতেন।” (উসদুল গাবা, ২য় খণ্ড, পৃ. ২০)

মহানবী (সা.) ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন (আ.)সম্পর্কে বলেছেন :

الحسن و الحسین سیدا شباب اهل الجنّة

‘হাসান ও হোসাইন উভয়েই বেহেশতের যুবকদের নেতা ।’ (জামে আত-তিরমিযী, ৬ষ্ঠ খণ্ড,পৃ. ৩৫০)

ইয়ালা ইবনে মুয়রা থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন :

حسین منی و انا من حسین احب الله من احب حسینا

‘হোসাইন আমার থেকে এবং আমি হোসাইন থেকে । যে ব্যক্তি হোসাইনকে ভালোবাসে আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন।’ (৬ষ্ঠ খণ্ড,পৃ.৩৫৪)

সালমান ফার্সী (রা.) হতে বর্ণিত : মহানবী (সা.) বলেছেন :

الحسن و الحسین ابنای من احبهما احبنی و من احبنی احبه الله و من احبه الله ادخله الله الجنة و من ابغضهما ابغضنی و من ابغضنی ابغضه الله و من ابغضه الله ادخله النار

‘হাসান ও হোসাইন আমার দুই পুত্র (নাতি) । যে তাদেরকে ভালোবাসে সে আমাকেই ভালোবাসে, আর যে আমাকে ভালোবাসে মহান আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। আর যাকে মহান আল্লাহ ভালোবাসেন তাকে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর যে তাদেরকে ঘৃণা করে সে আমাকেই ঘৃণা করে, আর যে আমাকে ঘৃণা করে মহান আল্লাহ তাকে ঘৃণা করেন। আর যাকে মহান আল্লাহ ঘৃণা করেন তাকে তিনি জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।’ (আলামুল ওয়ারা, পৃষ্ঠা ২১৯)

ইমাম হুসাইন (আ.) বলেছেন: ‘লাঞ্ছনার জীবনের চেয়ে সম্মান সহকারে মৃত্যুই শ্রেয়।’ (বিহারুল আনওয়ার,৪৪তম খণ্ড,পৃ. ১৯২)

ইমাম শাফেয়ী বলেছেন :

یَا آلَ بَیتِ رَسولِ الله حُبُّکُمُ        فَرضٌ مِنَ الله فی القُرآنِ أنزَلَهُ

کَفاکُم مِن عظیمِ القَدرِ أنّکُم       مَن لَم یُصلِّ عَلَیکُم لَا صَلَاةَ لَهُ

‘হে রাসুলুল্লাহর আহলে বাইত ! তোমাদের ভালোবাসা

মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরয এবং তা তিনি পবিত্র কুরআনে অবতীর্ণ করেছেন

তোমাদের গর্বের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে,

যে ব্যক্তি তোমাদের ওপর দরুদ পড়বে না তার নামাযই হবে না।’

প্রতিটি ময়দানই কারবালা ও প্রত্যেক দিনই আশুরা

খাজা মুইনউদ্দিন চিশতি (র.)র কবিতা:

হুসাইন (আ.) (মুহাম্মদী) ধর্মের কর্ণধার বাদশাহ তুল্য, ধর্ম বলতে হুসাইনকেই বোঝায়, তিনি হলেন ধর্মের আশ্রয়। শির উতসর্গ করলেন কিন্তু বাইআত হলেন না ইয়াজিদের হাতে। তাই বাস্তবিকই বলা যায়, হুসাইন লা-ইলাহা ভিত্তিমূল। হে নবী-দুলাল, তোমার মস্তকেই নবির মুকুট শোভা পায়, হে সম্রাট, তোমার তরবারি নবীর (সা.) ন্যায়-বিচারের প্রতীক। .. যে কাজ কোনো নবীরা করার সুযোগ পায়নি, খোদার কসম, হুসাইন তুমি সে কাজ করেছ। (দিওয়ানই খাজা মুইনউদ্দিন চিশতি)

ইংরেজ সাহিত্যিক চার্লস ডিকেন্স বলেছেন: ইমাম হুসাইন যদি পার্থিব কামনা বাসনার জন্য যুদ্ধ করতেন তাহলে তিনি তাঁর বোন, স্ত্রী ও শিশুদের সঙ্গে আনতেন না। তিনি শুধু ইসলামের জন্যই ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

ইংরেজ দার্শনিক ও ঐতিহাসিক টমাস কার্লাইল বলেছেন: আল্লাহর প্রতি ইমাম হুসাইন ও তাঁর সঙ্গীদের ঈমান ছিল মজবুত। তারা দেখিয়ে গেছেন যে, যেখানে সত্য ও মিথ্যা মুখোমুখি সেখানে সংখ্যার আধিক্য কোনো বিচার্য বিষয় নয়। ইমাম হুসাইন (আ.) মুষ্টিমেয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে যে বিজয় অর্জন করেছেন তা আমাকে বিস্মিত করেছে।

ইংরেজ প্রাচ্যবিদ অ্যাডওয়ার্ড ব্রাউন বলেছেন: এমন কোনো অন্তর পাওয়া যাবে কি যে, যখন কারবালার ঘটনা সম্পর্কে শুনবে অথচ দুঃখিত ও বেদনাহত হবে না? এমনকি কোনো অমুসলিমও এই ইসলামী যুদ্ধকে ও তাঁর পতাকাতলে যে আত্মিক পবিত্রতা সাধিত হয়েছে তা অস্বীকার করতে পারে না।

ইংরেজ ঐতিহাসিক এডওয়ার্ড গিবন বলেছেন: সেই সুদূর অতীতের সেই পরিবেশে ইমাম হুসাইনের মৃত্যুর করুণ দৃশ্য পাষাণতম পাঠকের হৃদয়েও জাগিয়ে তোলে সহানুভূতি।

ঐতিহাসিক ফ্রেডরিক জেমস বলেছেন: ইমাম হুসাইন ও অন্যান্য বীর শহীদদের শিক্ষা হল, দুনিয়ায় চিরন্তন করুণা ও মমতার মূল নীতি বিদ্যমান যা অপরিবর্তনীয়। অনুরূপভাবে এটা প্রমাণিত হয় যে, যখন কেউ এই গুণগুলোর জন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং এ পথে অবিচলতা দেখাতে সক্ষম হবে তখন এইসব মূলনীতি দুনিয়ায় চিরন্তন ও চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।

খ্রিস্টান গবেষক অ্যান্টন বারা বলেছেন: যদি হুসাইন (আ.) আমাদের খ্রিস্টানদের মধ্য থেকে হতেন তাহলে প্রত্যেক দেশেই তাঁর জন্য পতাকা উড়াতাম এবং প্রত্যেক গ্রামেই তাঁর জন্য মিম্বার স্থাপন করতাম। আর মানুষকে হুসাইন (আ.)’র নামে খ্রিস্ট ধর্মের প্রতি আহ্বান জানাতাম।

মহাত্মা গান্ধী বলেছেন: আমি মনে করি ইসলাম তরবারির জোরে নয়, বরং ইমাম হুসাইন (আ.)’র চরম বা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের ফলেই বিকশিত হয়েছে।

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন: ন্যায়বিচার ও সত্যকে বাঁচিয়ে রাখতে অস্ত্র ছাড়াই বিজয় আসতে পারে জীবন উতসর্গ করার মাধ্যমে ঠিক যেভাবে বিজয়ী হয়েছেন ইমাম হুসাইন।

মহাকবি ডক্টর ইকবাল বলেছেন: হুসাইনের তরবারি ছিল ‘লা’ বা না যার অর্থ আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আর এই তরবারি দিয়ে তিনি কুফুরিকে বা ঈমানহীনতাকে ধ্বংস করেছেন। কারবালায় তিনি তাওহিদের চিহ্ন এঁকে দিয়েছেন। এটা আমাদের মুক্তির শ্লোগান। আমরা আসলে হুসাইনের কাছ থেকে তাওহিদের শিক্ষা পেয়েছি। ….

মিশরীয় পণ্ডিত আল্লামা তানতাভি বলেছেন: হুসাইনি কাহিনী স্বাধীনচেতাদেরকে আল্লাহর রাহে আত্ম-কুরবানি করতে মানুষকে প্রেরণা যোগায়। আর মৃত্যুকে সর্বোত্তম কামনায় পরিণত করে।

মরহুম মুফতি শফি (র.) বলেছেন: পবিত্র আহলে বাইতের মুহাব্বাত ঈমানের অংশ বিশেষ। ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর নিপীড়নমূলক ঘটনা এবং হৃদয়বিদারক শাহাদত যার অন্তরে শোক ও বেদনা সৃষ্টি করে না, সে মুসলমান তো নয়ই, মানুষ নামেরও অযোগ্য।

মাওলানা মোহাম্মাদ আলী জওহার বলেছেন: হুসাইনের নিহত হওয়ার ঘটনা আসলে ছিল ইয়াজিদেরই মৃত্যু, ইসলাম প্রতিটি কারবালার পর পুনরুজ্জীবিত হয়।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা ইমাম খোমেনী (রহঃ) বলেছেন: আমাদের যা কিছু অর্জন করেছি, তার সবই পবিত্র আশুরা ও শাহাদাতে কারবালা থেকে।

হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন: আশুরার পুণ্য-স্মৃতি নিছক একটি স্মৃতির বর্ণনা ও রোমন্থন নয়, বরং তা হচ্ছে এমন এক ঘটনার বর্ণনা যার রয়েছে অগণিত দিক ও মাত্রা। এইসব বিষয়ের আলোচনা অপরিসীম আধ্যাত্মিক আশীষ ও কল্যাণ বয়ে আনতে পারে।