Press "Enter" to skip to content

হাদীসে কিসা (চাদরের হাদীস) এর বঙ্গানুবাদ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

রাসুল (সা.) এর কন্যা হজরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.) হতে জাবির ইবনে আব্দিল্লাহিল আনসারী বর্ণনা করেন, আমি হজরত ফাতিমাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: একদিন আমার পিতা রাসুল (সা.) আমার ঘরে এলেন, অতঃপর বললেন: তোমার ওপরে সালাম

রাসুলুল্লাহ (সা.)- এর কন্যা হযরত ফাতিমা যাহরা (আ.) থেকে জাবির ইবনে আব্দিল্লাহিল আনসারী বর্ণনা করেন, আমি হযরত ফাতিমাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ “একদিন আমার পিতা রাসুলুল্লাহ (স.) আমার ঘরে এলেন, অতঃপর বললেন, তোমার উপর সালাম, হে ফাতিমা|

আমি বললাম, ‘আপনার উপর সালাম’|

তিনি বললেন, আমি আমার শরীরে দূর্বলতা অনুভব করছি|

আমি বললাম, ‘হে আব্বাজান! আমি এই দূর্বলতা থেকে আপনার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি|’|

তিনি বললেন, ‘হে ফাতিমা, আমার নিকট ইয়েমনী চাদরটি নিয়ে এসো আর তা দিয়ে আমাকে ঢেকে দাও’|

আমি ইয়েমেনী চাদরটি এনে তাকে তা দিয়ে ঢেকে দিলাম এবং আমি তার দিকে তখন তাকিয়ে দেখলাম তার চেহারা পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মত জ্বলজ্বল করছে| মূহুর্তও পার হয়নি আমার সন্তান হাসান এলো| সে কাছে এলো ও বললো, ‘আম্মাজান, আপনার উপর সালাম’|

আমি বললাম,‘তোমার উপরও সালাম হে আমার চোখের শান্তি এবং হৃদয়ের ফল’|

সে বললো, ‘আম্মাজান আমি আপনার নিকট একটি পবিত্র সুঘ্রাণ পাচ্ছি যেন তা আমার নানা রাসুলুল্লাহরই সুগন্ধ|

আমি বললাম, হ্যাঁ নিশ্চয়ই তোমার নানাজান এই চাদরের নিচে রয়েছেন’|

অতঃপর হাসান চাদরের নিকটবর্তী হলো এবং বললো, ‘হে নানাজান, হে আল্লাহর রাসূল আপনার উপর সালাম, আপনি আমাকে আপনার সাথে চাদরের নিচে প্রবেশের অনুমতি দিবেন কি?

তিনি বললেন, ‘তোমার উপরও সালাম হে আমার সন্তান এবং হে আমার হাউযের (কাউছার) মালিক| অবশ্যই আমি তোমাকে অনুমতি দিচ্ছি|

অতঃপর সে তার নিকট চাদরের নিকট প্রবেশ করলো| মূহুর্তও পার হলো না, আমার সন্তান হুসাইন আমার কাছে  এলো এবং বলল, ‘আম্মাজান, আপনার উপর সালাম,|

আমি বললাম, ‘তোমার উপরও সালাম ,হে আমার সন্তান, হে আমার চোখের শান্তি ও আমার হৃদয়ের ফল ,|

সে বললো, ‘আম্মাজান, নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে একটি পবিত্র সুঘ্রাণ পাচ্ছি যেন তা আমার নানা রাসুলুল্লাহরই সুগন্ধ,|

আমি বললাম, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তোমার নানাজান ও তোমার ভাই চাদরের নিচে রয়েছেন,|

অতঃপর হুসাইন চাদরের কাছে গেল এবং বললো, ‘আপনার উপর সালাম, হে নানাজান, হে যাকে আল্লাহ মনোনীত করেছেন, আপনি কি আমাকে আপনাদের দু’জনের সাথে চাদরের নিচে প্রবেশের অনুমতি দিবেন?

তিনি (রাসুল) বললেন, তোমার উপরও সালাম, হে আমার সন্তান এবং হে আমার উম্মতের শাফায়াতকারী, অবশ্যই তোমাকে অনুমতি দিচ্ছি| অত:পর সে তাঁদের দু’জনের সাথে চাদরের নিচে প্রবেশ করলো| মুর্হূতও পার হলো না, হাসানের পিতা আলী ইবনে আবি তালিব এলেন এবং বললেন, ‘সালাম আপনার উপর, হে আল্লাহর রাসুলের কন্যা|’

আমি বললাম, ‘আপনার উপরও সালাম, হে হাসানের পিতা এবং হে আমিরুল মোমিনীন’|  তিনি বললেন, ‘হ ফাতিমা, নিশ্চয়ই আমি আপনার কােেছ একটি পবিত্র সুঘ্রাণ পাচ্ছি যেন তা হে আমার ভাই  ও আমার চাচার সন্তান আল্লাহর রাসুলেরই সুগন্ধ|’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ তিনি আপনার সন্তানদের সাথে এই চাদরের নিচে রয়েছেন|’| অত:পর আলী চাদরের কাছে গেলেন এবং বললেন, ‘আপনার উপর সালাম, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কি আমাকে অনুমতি দিবেন যেন আপনাদের সাথে আমিও চাদরের নিচে একজন হতে পারি?” তিনি তাকে বললেন, ‘তোমার উপরও সালাম হে আমার ভাই এবং হে এবং হে আমার অসিয়ত সম্পাদনকারী ও আমার প্রতিনিধি এবং আমার পতাকাবাহক অবশ্যই আমি তোমাকে অনুমতি দিচ্ছি|

অতঃপর আলী চাদরের নিচে প্রবেশ করলেন|

এরপর আমি চাদরের কাছে গেলাম এবং বললাম, আপনার উপর সালাম হে আব্বাজান, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কি আমাকে অনুমতি দিবেন যেন আমি আপনাদের সাথে চাদরের নিচে একজন হতে পারি?

তিনি বললেন, তোমার উপরও সালাম, হে আমার কন্যা এবং হে আমার দেহের টুকরা, অবশ্যই তোমাকে অনুমতি দিচ্ছি|

অতঃপর আমরা যখন চাদরের নিচে একত্রিত হলাম, আমার পিতা আল্লাহর রাসুল চাদরের দুই প্রান্ত ধরলেন এবং তার ডান হাত আকাশের দিকে উচু করলেন এবং বললেন, হে আমার আল্লাহ, নিশ্চয়ই এরাই আমার আহলে বাইত এবং আমার সবচাইতে বিশ্বস্ত ও আমার সমর্থক, এদের গোশত আমার গোশত এবং এদের রক্ত আমার রক্ত, যারা তাদের কষ্ট দেয় তারা আমাকেও কষ্ট দেয় এবং যারা তাদেরকে দুঃখ দেয় তারা আমাকেই দুঃখ দেয়, আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি যারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, আমি তাদের সাথে শান্তি স্থাপন করি যারা তাদের সাথে শান্তি স্থাপন করেন| আমি তাদের শত্রু যারা তাদের সাথে শত্রুতা করে এবং তাদেরকে ভালবাসি যারা তাদেরকে ভালবাসে, নিশ্চয়ই তারা আমার থেকে এবং আমি তাদের থেকে| অতএব আপনার দরূদ ও আপনার বরকত ও আপনার রহমত ও আপনার মাগফেরাত ও আপনার সন্তুষ্টি বর্ষণ করুন আমার উপর ও তাদের উপর এবং তাদের কাছ থেকে অপবিত্রতা দূরে রাখুন ও তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পূতঃ পবিত্র রাখুন|

অতঃপর আল্লাহ বললেন, আমার মহাক্ষমতা ও গৌরবের কসম, হে আমার ফেরেশতারা ও আমার আকাশ সমূহের বাসিন্দারা নিশ্চয়ই আমি সুদূঢ় আকাশ ও প্রশস্ত জমি ও নূর বিকিরণকারী চাঁদ ও প্রজ্বলিত সূর্য ও ঘূর্ণায়মান গ্রহ-নক্ষত্র ও প্রবাহমান সমুদ্র ও চলমান নৌকা আর কিছু নয় শুধু এ& পাচজনের ভালোবাসার খাতিরেই সৃষ্টি করেছি যারা এই চাদরের নিচে রয়েছে|

অতঃপর বিশ্বস্ত জিবরাইল বললেন, হে আমার প্রতিপালক, কারা এই চাদরের নিচে রয়েছেন|

অতঃপর আল্লাহ বললেন আমার মহাক্ষমতা ও গৌরবের কসম, তারাই নবুয়্যাতের আহলে বাইত ও রিসালাতের উৎস স্থান, তারা হলো ফাতিমা ও তার পিতা এবং তার ¯^ামী ও তার পুত্ররা|

জিবরাইল বললেন, হে আমার প্রতিপালক, আপনি কি আমাকে অনুমতি দিবেন যাতে পৃথিবীতে অবতরণ করে তাদের সাথে ৬ষ্ঠ জন হতে পারি|

আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ অবশ্যই তোমাকে অনুমতি দিলাম|

অতঃপর বিশ্বস্ত জিবরাইল নেমে আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসুল উচ্চতের চাইতে উচ্চ আল্লাহ আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং শুভেচ্ছা ও সম্মানে ভূষিত করেছেন এবং আপনর উদ্দেশ্য বলেছেনঃ আমার মহাক্ষমতা ও আমার গৌরবের কসম, নিশ্চয়ই আমি সুদৃঢ় আকাশ ও প্রশস্ত জমি ও নুর বিকিরণকারী চাঁদ ও প্রজ্বলিত সূর্য ও ঘূর্ণায়মান গ্রহ-নক্ষত্র ও প্রবাহমান সমুদ্র ও চলমান নৌকা সৃষ্টি করেছি আর কোন কিছুর জন্য নয় শুধুই তোমাদের কারণে ও তোমাদের ভালবাসার খাতিরে এবং তিনি আপনাদের সাথে চাদরের নিচে যোগ দিতে আমাকে অনুমতি দিয়েছেন| অতএব, হে আল্লাহর রাসুল আপনি আমাকে অনুমতি দিবেন কি?

আল্লাহর রাসুল বলেছেন, তোমার উপরও সালাম, হে আল্লাহর ওহীর বিশ্বস্ত বাহক, হ্যাঁ অবশ্যই তোমাকে অনুমতি দিলাম|

অতএব জিবরাইল আমাদের সাথে চাদরের নিচে প্রবেশ করলেনু, অতঃপর আমার বাবাকেক বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাদের উদ্দেশ্য ওহী করেছেন, বলেছেন…….নিশ্চয়ই আল্লাহ চান (হে) আহলে বায়েত তোমাদের কাছ থেকে সকল অপবিত্রতা দূরে রাখতে ও তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পূতঃপবিত্র রাখতে|

অতঃপর আলী আমার বাবাকে বলেছেন, হে আল্লাহর রাসুল আমাকে জানান চাদরের নিচে আমাদের এই সমাবেশ আল্লাহর কাছে কি মর্যাদা রাখে|

নবী (স.) বলেছেন, যিনি আমাকে সত্যসহ নবী হিসাবে জাগিয়েছেন এবং তার রিসালাতের মাধ্যমে আমাকে নির্বাচিত করেছেন, একান্তে জানিয়েছেন যে, কোন ব্যক্তি যদি আমাদের এই সংবাদ পৃথিবীর বাসিন্দাদের সমাবেশ সমূহের কোন এক সমাবেশে স্মরণ করে এবং সেখানে থাকে আমাদের অনুসারীদের একদল ও আমাদের প্রেমিকেরা তবে অবশ্যই তাদের উপর রহমত াযিল হবে ও তাদেরকে ফেরেশতারা ঘিরে থাকবে ও তাদের জন্য ক্ষমা চাইতে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হবে|

আলী আলাইহিসালাম বললেন, তাহলে তো আল্লাহর কসম আমরা সফলতা লাভ করেছি এবং কাবার রবের কসম আমাদের অনুসারীরাও সফলতা লাভ করেছে|

অতঃপর আমার বাবা আল্লাহর রাসুল (স.) বলেছেন, হে আলী যিনি আমাতে সত্যসহ নবী হিসাবে জাগিয়েছেন এবং রিসালাতের মাধ্যমে আমাকে নির্বাচিত করেছেন, একান্তে জানিয়েছেন যে, কোন ব্যক্তি যদি আমাদের এই সংবাদ পৃথিবীর বাসিন্দাদের সমাবেশ সমূহের কোন এক সমাবেশে স্মরণ করে এবং সেখানে থাকে আমাদের (অনুসারীদের) একদল প্রেমিকেরা তবে অবশ্যই তাদের উপর রহমত নাযিল হবে এবং তাদেরকে ফেরেশতারা ঘিরে থাকবে, তাদের জন্য ক্ষমা চাইতে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হবে| অত:পর আলি বললেন, তাহলে আল্লাহর কসম আমরা সফলতা লাভ করেছি এবং সৌভাগ্যবান হয়েছি এবং কাবার রবের কসম আমাদের অনুসারীরাও সফলতা লাভ করেছে|

অত:পর আমার আল্লাহর রাসুল বললেন, ইয়া আলি হে আলী যিনি আমাতে সত্যসহ নবী হিসাবে জাগিয়েছেন এবং রিসালাতের মাধ্যমে আমাকে নির্বাচিত করেছেন, একান্তে জানিয়েছেন যে, কোন ব্যক্তি যদি আমাদের এই সংবাদ পৃথিবীর বাসিন্দাদের সমাবেশ সমূহের কোন এক সমাবেশে স্মরণ করে এবং সেখানে থাকে আমাদের (অনুসারীদের) একদল প্রেমিকেরা যদি সেখানে কেউ থাকে দুঃশ্চিন্তাযুক্ত তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তাকে অবশ্যই আল্লাহ তাকে দু:শ্চিন্তা মুক্ত করবেন| কেউ যদি দু:খি তাকে তাহলে অবশ্যই আল্লাহর তার দুঃখ দূর করে দিবেন এবং কেউ যদি কোন কিছুর প্রয়োজন অনুভব করে তাহলে আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করবেন|

অতঃপর আলী আলাইহিসসালাম বললেন, তাহলে তো আল্লাহর কসম আমরা সফলতা লাভ করেছি এবং সৌভাগ্যবান হয়েছি এবং কাবার রবের কসম আমাদের অনুসারীরাও সফল হয়েছে ও সৌভাগ্যবান হয়েছে-এই দুনিয়াতে এবং আখেরাতে|