Press "Enter" to skip to content

শিয়া বর্ষপঞ্জিকা (আরবী বর্ষে বিভিন্ন দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি) – ১০

প্রসঙ্গ: শাওয়াল মাস

সংঙ্কলন ও অনুবাদ: এস, এ, এ

১লা শাওয়াল

1.      ঈদুল ফিতর

১ম শাওয়াল তারিখ ঈদুল ফিতর (আরবি: عيد الفطر অর্থাৎ “রোজা ভাঙার দিবস”) মুসলমানদের জন্য ঈদুল ফিতর একটি বড় ধর্মীয় উৎসবের দিন। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানেরা এই দিনটি ধর্মীয় কর্তব্যপালনসহ অত্যান্ত  আনন্দর সাথে পালন করে থাকে। উক্ত দিনে ইমাম হুসাইন (আ.)এর যিয়ারত পাঠ করা উত্তম।  (মান লা ইয়াহযারুহুল ফাক্বিহ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৭৪, মাশারুশ শিয়া, পৃষ্ঠা ১৩, তৌযিহুল মাকাসিদ, পৃষ্ঠা ২৫, হাদায়েকুন নাযেরা, খন্ড ১০, পৃষ্ঠা ২৭৩, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৫৭, পৃষ্ঠা ১৬৩)

2.     আমরু ইবনে আসের মৃত্যু

সন ৪১ হিজরী ১ম শাওয়াল তারিখে আমরু ইবনে সাআদ ৯০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করে। আমরু ইবনে আসের মায়ের নাম ছিল ‘নাবেগা’ এবং সে ছিল একজন দাসি। আব্দুল্লাহ বিন জাযআন তাকে ক্রয় করে মুক্ত করে দেয়।  কিন্তু সে ছিল একজন চারিত্রহিন নারী। বিভিন্ন পুরুষেদের সাথে তার অবৈধ সম্পর্ক ছিল। যেহেতু অন্যান্য নারীদের তুলনায় তার দাম ছিল কম সেহেতু অধিকাংশ পুরুষেরা তার কাছে যাতায়াত করতো যেমন: আবু লাহাব, উমাইয়া বিন খালাফ, হেশাম বিন মুগাইরা, আবু সুফিয়ান, আস বিন ওয়ায়েল ছিল প্রমুখ। যখন আমরু ইবনে আস জন্মগ্রহণ  করে তখন বিভিন্ন পুরুষেরা উক্ত সন্তানের দাবি করে। কিন্তু নাবেগা উক্ত সন্তানকে আস ইবনে ওয়ায়েলের সন্তান বলে দাবি করে। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে উক্ত সন্তানটি আবু সুফিয়ানের সাথে বেশি সাদৃস্যপূর্ণ তাহলে কেন তুমি বলছ যে সন্তানটি  আস ইবনে ওয়ায়েল-এর? তখন সে উত্তরে বলে আবু সুফিয়ান হচ্ছে কৃপণ প্রকৃতির আর আস-এর ব্যায়ের হাত হচ্ছে খোলা। আমরু ইবনে আস ছিল রাসুল (সা.) এবং ইমাম আলী (আ.) এর শত্রু। আর তাই ইসলামের ইতিহাসের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে দেখেতে পাই যে, আমরু ইবনে আস সিফফিনের যুদ্ধে মুসলিম জাহানের খলিফার বিরূদ্ধে বিদ্রোহ ও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং কোরআনকে বর্শার মাথায় তুলে মুসলমানদেরকে ধোকা দেয়।  (আল গাদির, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১২০, তারিখে ইয়াকুবি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২২২, তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৩৭, মুরুজুয যাহাব, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩২, শারহে নাহজুল বালাগা, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৮৩, ২৯৬)

3.     কারকারাতুল কুদর যুদ্ধটি সংঘটিত হয়

২য় হিজরীর ১ম শাওয়াল তারিখে কাকারাতুল কুদর নামক যুদ্ধটি সংঘটিত হয়। উক্ত স্থানটি মদীনা থেকে কিছু দূরে অবস্থিত। একটি পানির উৎসকে কেন্দ্র করে উক্ত নামকরণটি করা হয়। উক্ত যুদ্ধের কারণ ছিল কেউ রাসুল (সা.)কে অবগত করে যে বণি সালিম এবং বণি গাতফান গোত্রের লোকজন কাকারাতুল কুদর নামক স্থানে একত্রিত হয়েছে যেন রাতে মদীনাবাসীদের উপরে অতর্কিত হামলা করতে পারে। অতপর রাসুল (সা.) হজরত আলী (আ.) এর নেতৃত্বে ২০০ জন সেনা প্রেরণ করেন। যখন ইমাম আলী (আ.) সেখানে পৌছান তখন তিনি দেখেন যে, তার সেখান থেকে পলায়ণ করেছে। ইমাম আলী (আ.) সেখানে তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য অপেক্ষা করেন। কিন্তু তারা আর কেউ ফিরে আসেনা। অবশেষে উক্ত ঘটনা থেকে যুদ্ধ ছাড়াই ৫০০ উট গনিমত স্বরূপ মুসলমানদের দখলে আসে। রাসুল (সা.) উক্ত উট সমূহের মধ্যে হতে খুমসের উট সমূহকে আলাদা করে নেন এবং অবশিষ্ট উট সমূহকে সাহাবীদের মাঝে বন্টন করে দেন।  (তারিখে তাবারী, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৭৪, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২০৬, ওয়াকায়েউশ শুহুর, পৃষ্ঠা ১৯০, আস সহীহ মিন সিরাহ, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ৭, মুনতাহিউল আমাল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৮)

৩য় শাওয়াল

আব্বাসীয় খলিফা মোতাওয়াক্কেলের মৃত্যুদিবস

সন ২৪৭ হিজরী ৩য় শাওয়াল বুধবার রাতে আব্বাসীয় খলিফা মোতাওয়াক্কেলকে তার সন্তান মুনতাসিরের নির্দেশে হত্যা করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৪১ বছর। তার খেলাফতকাল ছিল ১৪ বছর ১০ মাস। মোতাওয়াক্কেল একদা এক অনুষ্ঠানে ইমাম আলী (আ.) এর ব্যাক্তিত্বের প্রতি অবমাননা করে তখন তার সন্তান মুন্তাসির তার কয়েকজন বিশ্বস্ত দাশকে তার পিতাকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়। যখন মোতাওয়াক্কেল মদের নেশায় মত্ত ছিল তখন উক্ত দাশরা তার উপরে অতর্কিত হামলা করে এবং তাকে চাকুর আঘাতে হত্যা করে।  (তারিখে বাগদাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১১৯, তারিখে সামেরা, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা পৃষ্ঠা ৩২৪, আল কুনিয়া ওয়াল আলকাব, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৪৪, আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, খন্ড ১০, পৃষ্ঠা ৩৮৫, তাতেম্মাতুল মুনতাহা, পৃষ্ঠা ৩২২)

৪র্থ শাওয়াল

হুনাইনের যুদ্ধ

৪র্থ শাওয়াল মক্কা বিজয়ের ১৫ দিন পরেই হুনাইনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। উক্ত যুদ্ধে মক্কার মুসলিম সৈন্যদের সংখ্যা ছিল মোট ১২ হাজার অন্মধ্যে মক্কা থেকে ছিল ২ হাজার এবং মদীনার থেকে ছিল ১০ হাজার। উক্ত যুদ্ধে প্রায় ৪ জন মুসলমান শাহাদত বরণ করেন এবং মুশরিকরা প্রায় ৩০০ জন মারা যায়। হুনাইনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার তারিখ সম্পর্কেও ইতিহাসে বিভিন্ন মতামত বর্ণিত হয়েছে যেমন: উক্ত যুদ্ধটি রমজান মাসে সংঘটিত হয় অন্য মত অনুযায়ি ৩, ৫, ১০, ১১, ১৫ই শাওয়ালে সংঘটিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।  (মুসতাদরাকে সাফিনা, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ৬৫, তারিখে ইবনে খালদুন, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৬, কানযুল উম্মাল, খন্ড ১০, পৃষ্ঠা পৃষ্ঠা ৪৫৮, তাবাকাতুল কুবরা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৫০, ফাতহুল বারী, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ২২- ২৯)

৫ই শাওয়াল

1.      সিফফিন যুদ্ধের উদ্দেশ্যে ইমাম আলী (আ.)

সন ৩৬ হিজরী ৫ই শাওয়াল তারিখে ইমাম আলী (আ.) সিফফিন যুদ্ধের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং আবু মাসউদ উকবা বিন আমের আনসারীকে কুফাতে নিজের স্থলাভিসিক্ত হিসাবে রেখে যান।  (তাতেম্মাতুল মুনতাহা, পৃষ্ঠা ২৩, ফেইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ৬৯, মুরুজুয যাহাব, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৮৪, তাযকেরাতুল খাওয়াস, পৃষ্ঠা ৮৫)

2.     কুফাতে মুসলিম ইবনে আকিলের আগমণ

সন ৬০ হিজরী ৫ই শাওয়াল তারিখে হজরত মুসলিম ইবনে আকিল (আ.) কুফাতে প্রবেশ করেন। যখন কুফাবাসীরা তার সাথে দেখা করার জন্য ভিড় জমায় তখন তিনি ইমাম হুসাইন (আ.) এর প্রেরিত চিঠিটি সকলের মাঝে পাঠ করে শোনান। অতঃপর ১৮ হাজার কুফাবাসী তার কাছে বাইয়াত করে। হজরত মুসলিম উক্ত ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ইমাম হুসাইন (আ.) কে চিঠি লিখেন এবং তাঁকে কুফায় আসার জন্য এবং কুফাবাসীদের উষ্ণ অভর্থনা সম্পর্কে অবগত করেন।  (আহকাকুল হাক্ব, খন্ড ২৩, পৃষ্ঠা ৬৪৯, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২১৪, ফারসানুল হাইজান, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৭০, শারহে এহকাকুল হাক, খন্ড ৩৩, পৃষ্ঠা ৬৪৯, কালায়েদুন নুহুর, খন্ড শাওয়াল, পৃষ্ঠা ১৭)

৬ই শাওয়াল

ইমাম মাহদী (আ.)এর চিঠি

সন ৩০৫ হিজরী ৬ই শাওয়াল রোজ রবিবার ইমাম মাহদী (আ.) তাঁর স্বল্প মেয়াদি অন্তর্ধানকালে “হুসাইন বিন রূহ” এর উদ্দেশ্যে প্রথম স্বিকৃতিনামা প্রেরণ করেন।  (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৫১, পৃষ্ঠা ৩৫৬, আল গিবা মেইখ তুসী, পৃষ্ঠা ৩৭২, ওয়াকায়াউশ শুহুর, পৃষ্ঠা ১৯৩)

৮ই শাওয়াল

জান্নাতুল বাকি কবরস্থানকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র

সন ১৩৪৩ হিজরীর ৮ই শাওয়াল তারিখে ওহাবীদের নির্দেশে মদীনার জান্নাতুল বাকি কবরস্থানকে ভেঙ্গে ফেলা হয়। অথচ উক্ত কবরস্থানে অনেক জলিলুল কদর সাহিবি, আয়েম্মা (আ.) এবং উম্মুল মুমিনিনদেরকে দাফনস্থ করা হয়েছে। তাদের সম্মানের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ স্বিদ্ধি করার লক্ষ্যে জান্নাতুল বাকির সকল পবিত্র কবর সমূহকে ভেঙ্গে নিশ্চিহ্ন করার মতো ষড়যন্ত্র চালানো হয়। (মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ৬৫- ৬৬, রাদ্দে আকায়েদে ওহাবি, পৃষ্ঠা ২২, কাশফুল ইরতিয়াব, পৃষ্ঠা ৭৭)

১৪ই শাওয়াল

আব্দুল মালেক বিন মারওয়ানের মৃত্যুদিবস

সন ৮৬ হিজরীর ১৪ই শাওয়াল তারিখে আব্দুল মালেক বিন মারওয়ান দামেস্কে মারা যায়। অন্য একটি মতে সে ১৫ই শাওয়াল তারিখে মৃত্যুবরণ করে। সে ২১ বছর ও ৬ মাস খেলাফতের মসনদে নিজের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রেখেছিল। খেলাফত অর্জনের পূর্বে সে মসজিদের খাদেম ছিল এবং কোরআনের তেলাওয়াত করতো আর এ কারণে তাকে ‘হামামাতুল মসজিদ’ (মসজিদের কবুতর) বলে আখ্যায়িত করা হতো। কিন্তু যখন সে খেলাফতের পদ পায় তখন সে বলে মসজিদ এবং কোরআনকে বিদায় জানিয়ে বলে (سلام علیک هذا فراق بینی و بینک ) আজ থেকে তোমার ও আমার মাঝে দূরত্ব শুরু হয়ে গেল!!

মৃত্যুর পূর্বে তার রোগ এতো প্রবল হয়ে যায় যে চিকিৎসক তাকে বলে: তুমি যদি পানি পান কর তাহলে তুমি মারা যাবা। কিন্তু সে এতই পিপাসা অনুভব করে যে তার সন্তান ওয়ালিদকে পানি আনার নির্দেশ দেয়। ওয়ালিদ তাকে বলে আপনি পানি পান করলে মারা যাবেন! অবশেষে সে তার কন্যার কাছে পানি চায় কিন্তু ওয়ালিদ তাকে পানি দিতে নিষেধ করে। তখন মাওয়ান তাকে বলে যে, তুমি যদি আমাকে পানি না দাও তাহলে আমি তোমাকে আমার পরে খলিফা হতে দিব না। খেলাফত অর্জনের কল্পে ওয়ালিদ তাকে পানি দেয়। মাওয়ান পানি পান করার কারণে মৃত্যুবরণ করে। (তাতেম্মাতুল মুনতাহা, পৃষ্ঠা ১০৫, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২১৬, তারিখে দামেস্ক, খন্ড ৩৬, পৃষ্ঠা ১৬৬, ১৬৪, তাবাকাতুল কুবরা, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৩৫, তারিখে তাবারী, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২১১)

১৫ই শাওয়াল

1.      হজরত হামযা (রা.) এর শাহাদত

সন ৩য় হিজরীর ১৫ই শাওয়াল তারিখে ওহদের যুদ্ধে হজরত হামযা (রা.) শাহাদত বরণ করেন। রাসুল (সা.) এর হিজরতের ২০ মাস পরে উক্ত যুদ্ধটি সংঘটিত হয়। ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে যে, উক্ত ‍যুদ্ধে এক হাজার মুসলমান অংশগ্রহণ করে। কিন্তু পথিমধ্যে ৩০০ জন ফিরে যায়। উক্ত যুদ্ধে শত্রুদের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার। উক্ত যুদ্ধে ২২ অথবা ২৩ অথবা ২৭ জন কাফের মারা যায় এবং মুসলমান শহীদদের সংখ্যা ছিল ৭০ জন। উক্ত ‍যুদ্ধে রাসুল (সা) গুরুতরভাবে আহত হন। (তৌযিহুল মাকাসেদ, পৃষ্ঠা ২৭, মাশারুশ শিয়া, পৃষ্ঠা ১৫- ১৬, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২০৭, তারিখে তাবারী, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৮৯, আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১১)

2.     সূর্যের প্রত্যাবর্তন

সন ৭ অথবা ৮ হিজরীর ১৫ই শাওয়াল তারিখে হজরত আলী (আ.) এর জন্য সূর্যকে প্রত্যাবর্তন করার নির্দেশ দেয়া হয়। সূর্যের প্রত্যাবর্তনের ঘটনাটি দুইবার হজরত আলী (আ.)কে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়। একবার রাসুল (সা.) এর যুগে কোবা মসজিদের কাছে এবং  দ্বিতীয়বার রাসুল (সা.) এর ওফাতের পরে বাবেল-এ হিল্লা নামক স্থানে।  (আল গ্বাদীর, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১২৬- ১৪১, ইখতিয়ারাত, পৃষ্ঠা ৩৯, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৯৫, পৃষ্ঠা ১৮৮, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২১২)

3.     বণি কায়নুকার যুদ্ধ

রাসুল (সা.)এর হিজরতের ২০ মাস পরে ১৫ই শাওয়াল তারিখে বনি কায়নুকা নামক যুদ্ধটি সংঘটিত হয়।  (মানাকেবে আলে আবি তালিব,খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৪২, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ২০, পৃষ্ঠা ৫, আস সহীহ মিন সিরাহ, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ৫৯, আত তাম্বি ওয়াল ইশরাফ, পৃষ্ঠা ২০৬)

4.      আব্দুল আযিম হাসানী (আ.)এর শাহাদত

হজরত আব্দুল আযিম হাসানি (আ.) সে যুগের তথাকথিত খলিফার ষড়যন্ত্রের কারণে ইরানের রেই শহরে হিজরত করেন এবং সেখানে এক আহলে বাইতের (আ.) অনুসারীর বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তিনি সেখানে অবস্থানকালে সারা দিন রোজা রাখতেন এবং সারা রাত ইবাদতে মশগুল থাকতেন। তিনি যখন ঘরের বাইরে আসতেন এবং বর্তমানে তাঁর কবরের সামনে যে কবর রয়েছে তার যিয়ারত করতেন। ইমাম হাদি (আ.) শাহাদত বরণ করেন ২৫২ হিজরিতে আর তার দুই বছর পরেই অর্থাৎ ২৫৪ হিজরি ১৫ই শাওয়াল তারিখে তিনিও ইহলোকে পাড়ি জমান আর এই অনুযায়ী তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

যখন তিনি মারা যান এবং তাঁকে গোসল দেয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় তখন তাঁর কাপড়ের ভিতর থেকে তাঁর বংশধারা পরিচিতি সম্পর্কিত একটি কাগজ পাওয়া যায়। তখন সকলে বুঝতে পারে যে, তিনি ছিলেন  আবুল কাসিম আব্দুল আযিম হাসানী (আ.)। (রিয়াহিনুশ শারিয়া, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৩২, মারাকেদুল মাআরেফ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৪, আমালী সাদুক্ব, পৃষ্ঠা ৪১৯, সেফাতুশ শিয়া, পৃষ্ঠা ৪৮, কেফায়াতুল আসার, পৃষ্ঠা ২৮৬)

১৬ই শাওয়াল

হামরাইল আসাদের যুদ্ধ

সন ৩ হিজরীর উক্ত তারিখে মদীনার পাশে হামরাউল আসাদ নামক স্থানে উক্ত যুদ্ধটি সংঘটিত হয়। ওহদের যুদ্ধের পরে মুসলমানরা যখন মদীনায় ফিরে আসে তখন কুরাইশের কাফেররা মদীনায় হামলা করার ষড়যন্ত্র করে। তখন ‍ওহদের যুদ্ধের সাহাবীদের যারা আহত  হয়েছিল তাদেরকে পুণরায় যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য নির্দেশ দান করা হয়। অতঃপর সকলেই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয় এবং যুদ্ধের পতাকা হজরত আলী (আ.) এর হাতে দেয়া হয়।যদিও আলী (আ.) সারা শরির তরবারি ও বর্শার আঘাতে ক্ষত বিক্ষত ছিল। কিন্তু তারপরেও তিনি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হন। মুসলমান সৈন্যরা যুদ্ধের উদ্দেশ্যে উক্ত স্থানে তিনদিন অবস্থান করে কিন্তু কাফেরদের আগমণের কোন চিহ্ন পরিলক্ষিত না হওয়ার কারণে মুসলমানরা আবার মদীনায় ফিরে আসে। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ২০, পৃষ্ঠা ১৪৬, আস সহীহ মিন সিরাহ, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩১১, মুনতাহিউল আমাল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৬৪, তারিখে তাবারী, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২১২)

১৭ই শাওয়াল

1.      আহযাবের যুদ্ধ

সন ৫ হিজরীর ১৭ই শাওয়াল তারিখে খন্দক বা আহযাবের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। উক্ত যুদ্ধে আমরু ইবনে আব্দাউদকে হজরত আলী (আ.) হত্যা করেন। উক্ত যুদ্ধে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার তন্মধ্যে শহীদ হয় মাত্র ৬ জন এবং কাফেরদের সংখ্যা ছিল ১০ হাজার তবে ইতিহাসে কাফেরদের মৃতের সংখ্যাকে উল্লেখ করা হয়নি। উক্ত যুদ্ধে মদীনার অভ্যন্তরে এবং মদীনার বাহিরে পরিখা খনন করা হয়। মুশরিকরা ২৫ দিন মদীনাকে অবরোধ করে রেখেছিল। কিন্তু কোনভাবেই তারা মদীনায় প্রবেশ করতে পারেনি। উমর ইবনে আব্দাউদ মুসলমানদেরকে যুদ্ধের জন্য আহবান জানায় কিন্তু মুসলমানদের মধ্যে কেউ তার সাথে যুদ্ধ করতে রাজি হয়নি। অবশেষে ইমাম আলী (আ.) এর বারবার অনুরোধের কারণে রাসুল (সা.) তাকে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দান করেন। অতঃপর একক যুদ্ধ চলাকালিন ইমাম আলী (আ.) তাকে তরবারির আঘাতে হত্যা করেন। আর এভাবে আবারও ইমাম আলী (আ.) ইসলামকে বিজয়ের আলোতে আলোকিত করেন।  (কাশফুল গুম্মা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৫০, কানুল ফাওয়ায়েদ, পৃষ্ঠা ১৩৭, আস সহীহ মিন সিরাহ, খন্ড ৯, পৃষ্ঠা ৩১১, ফেইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ৭৬- ৭৭, তৌযিহুল মাকাসিদ, পৃষ্ঠা ২৯)

2.     আবা সালত হারওয়ি (রহ.)এর মৃত্যুদিবস

আবা সালত হারওয়ি (রহ.)এর নাম ছিল আব্দুস সালাম বিন সালেহ বিন সুলাইমান আইয়ুব বিন মুইয়াসসার। তবে তিনি আবা সালত হারভি নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন।। তাঁর পিতা অথবা দাদা হয়তো হারাত নামক স্থানে জীবন যাপন করতেন আর এ কারণেই হয়তো তাঁকে হারভি বলা হতো। এক যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পরে তাদেরকে বন্দি করে হেজাজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি আব্দুর রহমান বিন সামুরা কুরাইশি নামক ব্যাক্তির দাশ রূপে জিবন যাপন শুরু করেন। আর এ কারণেই ঐতিহাসিকরা তাঁর মনিব হিসেবে আব্দুর রহমান বিন সামুরা কুরাইশির নামকে উল্লেখ করে থাকে। তাঁর প্রসিদ্ধ উপাধি হচ্ছে হারভি। আর এ কারণে শিয়া সুন্নি উভয় মাযহাবের লোকজনের মাঝে তিনি উক্ত পরিচিত। তাঁর পূর্ব পুরুষদের বিভিন্ন স্থানে জিবন যাপন করার কারণে তিনি কুরাইশি, আবশামি, নিশাবুরি, বাসারি এবং খোরাসানি নামেও পরিচিত।

২০৭ হিজরী ১৭ই শাওয়াল তারিখে আবা সালত হারওয়ির মৃত্যু দিবস। তিনি ছিলেন ইমাম রেযা (আ.) এর একজন বিশ্বস্ত সাহাবী। তিনি হারুনের কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পরে মারা যান। (মুসতাদরাকে সাফিতুল বিহার, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২২৪, কারামাতে রাযাভিযা, পৃষ্ঠা ৭৫, মারাকেদুল মাআরেফ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১০৮, তারিখে বাগদাদ, খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ৫২, তাহযিবুল কামাল, খন্ড ১৮, পৃষ্ঠা ৮১)

২০শে শাওয়াল

ইমাম কাযিম (আ.)কে বন্দি করা হয়

উক্ত তারিখে আব্বাসীয় খলিফা হারুন মদীনায় যিয়ারতের অজুহাত নিয়ে আসে কিন্তু  প্রকৃতপক্ষে সে তার আগমণের উদ্দেশ্যে ছিল ইমাম কাযিম (আ.)কে বন্দি করে তাঁকে মদীনা থেকে বাসরাতে নিয়ে যাওয়া। আর তাই  সে ইমাম (আ.)কে হজ্বের জন্য বাগদাদে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে তাঁকে বাসরাতে নিয়ে যায়। ইমাম কাযিম (আ.)কে প্রথমে ঈসা ইবনে জাফরের কাছে এক বছর বন্দি করে রাখে অতঃপর তাকে বাগদাদে সিন্দি বিন শাহাকের কাছে বন্দি করে রাখে।  (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৮, পৃষ্ঠা ২০৬, কাফি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৭৬, তারিখে কুম, পৃষ্ঠা ১৯৯, ওয়াকায়েউশ শুহুর, পৃষ্ঠা ২০৩)

২৫শে শাওয়াল

ইমাম জাফর সাদিক (আ.)এর শাহাদত

আব্বাসিয় খলিফা মনসুর দাওয়ানেকি ইমাম জাফর সাদিক (আ.)কে হত্যা করার জন্য মদিনা থেকে ইরাকে পাঁচ বার জোরপূর্বক তলব করে কিন্তু বিভিন্ন কারণে আর তাঁকে হত্যা করতে পারেনি।

ইমাম জাফর সাদিক (আ.)’এর শাহাদতের পিছনে যে খলিফা মনসুরের ষড়যন্ত্র ছিল এতে কোন সন্দেহ নেই। কেননা সে বিভিন্ন সময়ে বলতো যে, জাফর সাদিক (আ.) হচ্ছেন তার গলায় বিধে থাকা হাড়ের ন্যায়। অবশেষে খলিফা মনসুর মদিনার গভর্ণরকে নির্দেশ দান করে যে, সে যেন ইমাম (আ.)কে বিষ দ্বারা হত্যা করে। খলিফা মনসুর আঙ্গুরের বিষ মাখিয়ে দেয় এবং উক্ত আঙ্গুর তাকে জোরপূর্বক খাওয়ানো হয় আর উক্ত বিষের প্রভাবের কারণে তিনি শাহাদত বরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৬৩ বছর।

মাসউদি বলেন যে, তার শাহাদতের পরে তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষদের কবরের পাশে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।

এক বর্ণনা অনুযায়ি সন ১৪৮ হিজরীর উক্ত তারিখে ইমাম জাফর সাদিক (আ.) শাহাদত বরণ করেন। এছাড়াও ইতিহাসে তার শাহাদত দিবস সংক্রান্ত অন্যান্য মতও বর্ণিত হয়েছে যেমন: ১৫ই রজব, ১৫ই শাওয়াল এবং ২৫শে শাওয়াল।   (আলামুল ওয়ারা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৫১৪, জান্নাতুল খুলুদ, পৃষ্ঠা ২৯, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ৬৬, কালায়েদুন নুহুর, খন্ড শাওয়াল, পৃষ্ঠা ১৩৯, শারহে এহকাকুল হাক, খন্ড ২৮, পৃষ্ঠা ৫০৭)

More from ঐতিহাসিক ঘটনাবলিMore posts in ঐতিহাসিক ঘটনাবলি »
More from বর্ষ পঞ্জিকাMore posts in বর্ষ পঞ্জিকা »