Press "Enter" to skip to content

ওয়াহাবীদের সৃষ্ট সংশয়ের অপনোদন- ৯

মূল : আলী আসগার রেজওয়ানী

অনুবাদ : আবুল কাসেম

আল্লাহর ওলীদের সৌধের ইতিবাচক প্রভাবসমূহ

যেহেতু মহানবীর স্থলাভিষিক্ত ও মনোনীত প্রতিনিধিগণ আল্লাহর ওলী এবং ইসলামের পথে সর্বপ্রকার আত্মত্যাগ করেছেন এ কারণে কিয়ামত পর্যন্ত তাঁরা মুসলমানদের জন্য আদর্শ। নিঃসন্দেহে মনস্তাত্ত্বিক ও শৈল্পিক কর্মের মাধ্যমে ইসলামের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বদের জাগরিত রাখা  ইসলামের সাথে মুসলমানদের বন্ধনকে দৃঢ় করে। যে ব্যক্তি জীবনে অন্তত একবার মক্কা ও মদীনায় জিয়ারতে যাবে এবং সেখানে অবস্থিত ইসলামের প্রাথমিক যুগের নিদর্শনসমূহ ও মহান ব্যক্তিবর্গের জৌলুসপূর্ণ রওজা দর্শন করবে তাঁদের মহান আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করবে ও তাঁদের মর্যাদা ও সম্মান তাদের অন্তরপটে প্রতিফলিত হবে। ফলে তারা তাদের প্রভু আল্লাহর সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে এই বলে যে,ঐ মহান ব্যক্তিবর্গের পথে চলবে এবং দৃঢ় শপথ নেবে তাঁদের পথে অবিচল থাকার। এটি ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের চির জাগরুক রাখার একটি পদ্ধতি। যে কেউ আল্লাহর  ওলীদের কবর,গম্বুজ ও সৌধ দেখে তাঁদের শিক্ষার বিষয়ে প্রত্যয় অর্জন করে।

খ্রিস্টান বিশ্ব একটি বিশেষ সময় হযরত ঈসার অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহে পতিত হয়েছিল,কারণ তাঁর স্মৃতির কোন চিহ্নই বর্তমান নেই। একজন মার্কিন ঐতিহাসিক তার ‘সভ্যতার ইতিহাস’ গ্রন্থে হযরত ঈসার বিষয়ে  খ্রিস্ট বিশ্ব যে দু’শ বছর সন্দেহে পতিত হয়েছিল তার উল্লেখ করেছেন।

নেপোলিয়ান ১৮০৮ সালে একজন জার্মান ঐতিহাসিক উইলেন্ডকে প্রশ্ন করেন হযরত ঈসা যে এক ঐতিহাসিক সত্য তা সে বিশ্বাস করে কি না?

কিন্তু ইতিহাসের পরিক্রমায় মুসলমানগণ সবসময় মাথা উঁচু করে রয়েছে। কারণ আমাদের ঐতিহাসিক ব্যক্তিবর্গের কবরসমূহ এখনও বিদ্যমান এবং কিছুদিন পরপরই তাঁদের কবরের নিকট উপস্থিত হয়ে আমরা তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ককে ও পথ চলার প্রতিশ্রুতিকে নবায়ন করি যে পথ অতিক্রম করলে নিঃসন্দেহে আল্লাহর সন্তুষ্টি,পূর্ণতা ও বেহেশতে পৌঁছা যাবে।

আল্লাহর ওলীদের কবরের নিকট মসজিদ নির্মাণ ও আলো জ্বালানো

সাধারণভাবে সকল মুসলমানই আল্লাহর ওলীদের কবরের উপর মসজিদ নির্মাণকে জায়েয মনে করেন ও তাঁদের মধ্যে এরূপ কর্ম প্রচলিত রয়েছে,এ কাজটি তারা এ কারণে করেন যে,আল্লাহর ওলীদের দাফনকৃত স্থানটি ও তাঁদের রওজা পবিত্র স্থান ও সেখান থেকে বরকত লাভ করা যায়। কিন্তু ওয়াহাবীগণ আল্লাহর ওলীদের কবরের উপর সৌধ নির্মাণ যেমনভাবে হারাম মনে করে তাদের কবরের উপর মসজিদ নির্মাণকেও তদ্রুপ শিরক হওয়ার সম্ভাবনায় হারাম মনে করে। এখানে আমরা এ বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করব।

ওয়াহাবীদের ফতোয়াসমূহ

ইবনে তাইমিয়া বলেছেন,‘রাসূল (সা.) তাঁর কবরকে মসজিদ বানাতে নিষেধ করেছেন অর্থাৎ কেউ যেন নামাজের সময় সেখানে গিয়ে নামাজ ও দোয়া না পড়ে। যদিও কেউ আল্লাহর ইবাদতের নিয়তে সেখানে যায় তা করা উচিত নয়। কারণ ঐ স্থানে গমন শিরকে পতনের কারণ হতে পারে। সম্ভাবনা রয়েছে কবরের নিকট মানুষ ঐ মৃত ব্যক্তির জন্য নামাজ পড়বে  ও দোয়া করবে এবং তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে। তাই আল্লাহর ওলীদের কবরের পাশে মসজিদ বানানো হারাম। সুতরাং মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি মুস্তাহাব হলেও যেহেতু এরূপ স্থানে নির্মিত মসজিদ মানুষদের শিরকে ফেলতে পারে তাই তা সম্পূর্ণ হারাম।’ (আল কায়েদাতুল জালিলাহ,পৃ. ২২)

অন্যত্র বলেছেন,‘আলেমগণ এ বিশ্বাস রাখেন যে,কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করা হারাম।’ (জিয়ারাতুল কুবুর,পৃ. ১০৬)

কোরআন ও আল্লাহর ওলীদের কবরের নিকট মসজিদ নির্মাণ

মহান আল্লাহ আসহাবে কাহফের ঘটনায় বর্ণনা করেছেন :

(وَكَذَلِكَ أَعْثَرْنَا عَلَيْهِمْ لِيَعْلَمُوا أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَأَنَّ السَّاعَةَ لَا رَيْبَ فِيهَا إِذْ يَتَنَازَعُونَ بَيْنَهُمْ أَمْرَهُمْ فَقَالُوا ابْنُوا عَلَيْهِمْ بُنْيَانًا رَبُّهُمْ أَعْلَمُ بِهِمْ قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا عَلَى أَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ عَلَيْهِمْ مَسْجِدً)ا

“এবং এমনিভাবে তাদের বিষয়ে আমি অবহিত করলাম যাতে করে তারা জানতে পারে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামতের বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। যখন তারা নিজেদের কর্তব্য বিষয়ে পরস্পর বিতর্ক করছিল, তখন তারা বলল তাঁদের উপর সৌধ নির্মাণ কর। তাদের পালনকর্তা তাদের বিষয়ে অধিকতর অবগত। তাদের কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রবল হল তারা বলল: আমরা অবশ্যই তাদের স্থানে (কবরের নিকট) মসজিদ নির্মাণ করব।”( সূরা কাহ্ফ : ২১)

মহান আল্লাহ এই আয়াতে তাদের বিষয়ে মানুষদের অবগতির ধরন সম্পর্কে বলেছেন। তারা তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলো। কেউ বলল : ‘তাদের কবরের উপর সৌধ নির্মাণ করা উচিত’,‘কেউ বলল : ‘তাদের কবরের নিকট মসজিদ নির্মাণ করব’,ফলশ্রুতিতে শেষোক্তদের মতই প্রবল হলো।

ফখরুদ্দীন রাজী বলেছেন,‘কারো কারো মতে যে দলটি মসজিদ নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছিল তারা ছিল মুমিনদের শাসক ও আসহাবে কাহফের সমর্থক। কারো কারো মতে শহরের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা এ পরামর্শ দিয়েছিলেন যাতে করে সেখানে ইবাদত করতে পারেন এবং মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে আসহাবে কাহফের স্মৃতিকে জাগরুক রাখতে পারেন। (মাফাতিহুল গাইব,২১তম খণ্ড,পৃ. ১০৫)

আবু হায়ান আন্দালুসী বলেছেন,‘যে ব্যক্তি সৌধ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল সে কাফের অবস্থায় পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। কারণ সে এ কর্মের মাধ্যমে চেয়েছিল কুফরের কেন্দ্র স্থাপন করতে। কিন্তু মুমিনরা মসজিদের প্রস্তাব দানের মাধ্যমে তার উদ্দেশ্যে ও পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।’ (আল বাহরুল মুহিত,উপরিউক্ত আয়াতের তাফসীরে)

আবুস সাউদ ও জামাখশারীও উপরোক্ত মতটি সমর্থন করেছেন অর্থাৎ বলেছেন যে,আসহাবে কাহফের কবরের উপর মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব দানকারী মুমিন ছিলেন। (তাফসীরে আবিস সাউদ,৫ম খণ্ড,পৃ. ২১৫)

অবশ্য আমরা অবগত যে,কোরআন গল্পের গ্রন্থ নয়। তাই কোন কাহিনী বর্ণনা করলে তার উদ্দেশ্য হলো মুসলমানরা যেন তা হতে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

যেহেতু মহান আল্লাহ আসহাবে কাহফের কবরের নিকট মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেন নি এবং এরূপ কর্মকে শিরক মনে করেন নি সেহেতু আমরা এই নিরব সমর্থনকে আল্লাহর পক্ষ হতে নিশ্চিত সম্মতি ধরে নিতে পারি।

আল্লাহর ওলীদের কবরের নিকট মসজিদ নির্মাণ : মুসলমানদের চিরাচরিত রীতি

আমরা মুসলমানদের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখব আল্লাহর ওলীদের কবরের নিকট মসজিদ নির্মাণ করা মুসলমানদের চিরাচরিত রীতির অন্তর্ভুক্ত।

মুসলিম ঐতিহাসিকগণ আবু জান্দাল ও আবু বাসিরের একত্রে যাত্রার একটি ঘটনা এভাবে বর্ণনা করেছেন যে,আবু বাসির মহানবীর পত্র আবু জান্দালের নিকট পৌঁছানোর পরপরই পৃথিবী হতে বিদায় নেন। যে স্থানে আবু বাসির আবু জান্দালকে পত্র পৌঁছিয়ে মৃত্যুবরণ করেন আবু জান্দাল সেখানেই তাকে দাফন করেন ও তাঁর কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করেন। (তারিখে ইবনে আসাকির,৮ম খণ্ড,পৃ. ৩৩৪;আল ইসতিয়াব,৪র্থ খণ্ড,পৃ. ২১-২৩)

ওয়াহাবীদের উপস্থাপিত দলিলসমূহের পর্যালোচনা : আল্লাহর ওলীদের কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ হারাম হওয়ার বিষয়ে ওয়াহাবীরা যে সকল দলিল উপস্থাপন করেছে আমরা এখানে তা নিয়ে আলোচনা করব।

১। হাদীস ভিত্তিক প্রমাণ :

ওয়াহাবীরা তাদের দাবীর সপক্ষে নিম্নোক্ত হাদীসসমূহ দলিল হিসেবে উপস্থাপন করেছে :

ক) জুনদাব ইবনে আবদুল্লাহ্ বাজালী বলেছেন,‘মহানবীর মৃত্যুর পাঁচদিন পূর্বে তাঁর হতে শুনেছি তিনি বলেছেন যে,জেনে রাখ,তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের প্রতি প্রেরিত নবী রাসূলদের কবরকে মসজিদ বানিয়েছিল,কিন্তু তোমরা এরূপ কর না। আমি তোমাদের তা করতে নিষেধ করছি।’ (সহীহ মুসলিম,১ম খণ্ড,পৃ. ৩৭৮)

খ) মহানবী (সা.) হতে বর্ণিত হয়েছে যে,তিনি বলেছেন,‘হে আল্লাহ! আমার কবরকে মূর্তি বানিও না। আপনি লানত (অভিসম্পাত) করুন সেই সম্প্রদায়গুলোকে যারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়েছিল।’ (মুসনাদে আহমাদ,২য় খণ্ড,পৃ. ২৪৬)

গ) মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে,উম্মে হাবীবা ও উম্মে সালামা হাবশায় দেখা এক মসজিদের বা উপাসনালয়ের কথা বললেন,রাসূল (সা.) তা শুনে বললেন,‘ঐ সম্প্রদায়ের রীতি হলো যখন তাদের মধ্যে কোন সৎকর্মশীল ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তার কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করে ও তার মধ্যে মূর্তি স্থাপন করে। তারা কিয়ামতের দিন নিকৃষ্ট লোক হিসেবে আল্লাহর নিকট উপস্থিত হবে।’(সহীহ মুসলিম,২য় খণ্ড,পৃ. কিতাবুল মাসজিদ)

ঘ) সহীহ বুখারীতে রাসূল (সা.) হতে বর্ণিত হয়েছে ‘আল্লাহ ইহুদী ও খৃষ্টানদের উপর অভিশম্পাত বর্ষন করুন,কারণ তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদ বানিয়েছে।’ (সহীহ বুখারী,২য় খণ্ড,পৃ. ১১১,কিতাবুল জানায়িয;সুনানে নাসায়ী,২য় খণ্ড,পৃ. ৮৭১,কিতাবুল জানায়িয)

উপরিউক্ত হাদীসসমূহের প্রমাণ সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য :

প্রথমত হাদীসগুলোর উদ্দেশ্য বুঝতে হলে ওলীদের কবরের পাশে ইহুদী ও খ্রিস্টানদের সৌধ নির্মাণের কারণটি পর্যালোচনা ও বিশ্লেষন করতে হবে। কারণ মহানবী (সা.) ইহুদী ও খৃস্টানরা যে বিশেষ উদ্দেশ্যে সৌধ নির্মাণ করত সেই কারণে তা করতে নিষেধ করেছেন। আমরা হাদীসগুলো থেকে বুঝতে পারি ইহুদী ও খ্রিস্টানরা আল্লাহর ওলীদের কবরকে কিবলা ও মসজিদ বানাত এবং তাদের কবরের উদ্দেশ্যে সিজদা করত অর্থাৎ তারা আল্লাহর ওলীদের ইবাদত করত। এ জন্যই মহানবী (সা.) তাদের এ কর্মের তীব্র সমালোচনা করেছেন ও মুসলমানদেরকে অনুরূপ করতে নিষেধ করেছেন। তাই যদি আল্লাহর ওলীদের কবরের নিকট তাদের হতে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে এবং আল্লাহর প্রতি মনোযোগ ও ধ্যানকে গভীর করতে মসজিদ নির্মাণে কোন অসুবিধা নেই। কারণ ইবাদত ও নামাযের  নিয়তে তা করা হয় না (তবে যদি কেউ তাদের সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তা নির্মাণ করে অবশ্যই তা হারাম।)। তাই বলা যায় উল্লিখিত হাদীসগুলো আমাদের আলোচ্য বিষয়বস্তু বহির্ভূত। উম্মে হাবীবা ও উম্মে সালামার হাদীসে ইহুদী ও খ্রিস্টানদের ঐরূপ নিয়ত ও কর্মের কথা উল্লিখিত হয়েছে।

বাইদ্বাভী উপরিউক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন,‘যেহেতু ইহুদী ও খ্রিস্টানরা আল্লাহর ওলীদের কবরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য সিজদা করত ও তাকে কিবলা হিসেবে গ্রহণ করত,এ কারণেই মুসলমানদের এরূপ করতে নিষেধ করা হয়েছে। সকলের নিকট স্পষ্ট যে ঐরূপ কর্ম সুস্পষ্ট শিরক। কিন্তু যদি কেউ আল্লাহর ওলীদের কবর হতে বরকত লাভের নিয়তে তার নিকট মসজিদ নির্মাণ করে তবে তা উপরিউক্ত নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না।’

সুনানে নাসায়ীর ব্যাখ্যাকারী সিন্দী বলেছেন,‘রাসূল (সা.) নিজ উম্মতকে আল্লাহর ওলীদের প্রতি ইহুদী ও খ্রিস্টানদের ন্যায় আচরণ করতে নিষেধ করেছেন হোক তাদের সামনে সম্মান প্রদর্শনের নিয়তে সিজদাবনত হওয়া বা তাদের কবরকে কিবলা বানিয়ে নামায পড়া উভয় ক্ষেত্রেই তাতে বারণ করেছেন।’ (সুনানে নাসায়ী,২য় খণ্ড,পৃ. ৪১)

দ্বিতীয়ত হাদীসগুলোতে আল্লাহর ওলীদের কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করতে নিষেধ করা হয়েছে কিন্তু কবরের পাশে মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে কিছু বলা হয় নি।

তৃতীয়ত হাদীসগুলোতে যে নিষেধের কথা এসেছে তা হারাম না হয়ে মাকরূহও হতে পারে। এ কারণেই বুখারী ঐ হাদীসগুলোকে কবরের স্থানকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ মাকরূহ হওয়ার অধ্যায়ের অধীনে এনেছেন এবং এরূপ নিষেধকে মাকরূহে তানযীহি অর্থে গ্রহণ করেছেন। (সহীহ বুখারী,২য় খণ্ড,পৃ. ১১১)

শাইখ আবদুল্লাহ্ হারভী উল্লিখিত হাদীসসমূহের ব্যাখ্যায় বলেছেন,‘উপরিউক্ত নিষেধাজ্ঞা তাদের উপর প্রযোজ্য যারা আল্লাহর ওলীদের কবরের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ে,তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও ইবাদতের লক্ষ্যে সিজদা করে। যদি কবরের স্থান খোলা ও প্রকাশিত থাকে তবেই সেখানে নামাজ পড়া হারাম আর যদি উন্মুক্ত না থাকে তবে সেখানে নামাজ পড়া হারাম নয়।’ (আল মাকালাতুস সুন্নীয়া,পৃ. ৪২৭)

আবদুল গনি নাবলুসী হানাফী বলেছেন,‘কোন ব্যক্তি যদি কোন সৎকর্মশীল বান্দার কবরের নিকট মসজিদ নির্মাণ করে এ উদ্দেশ্যে যে,তার কবর হতে নামাযের সময় বরকত লাভ করবে এবং মৃত ব্যক্তির প্রতি নামাযের সময় সম্মান প্রদর্শনের কোন নিয়ত তার না থাকে তবে কোন অসুবিধা নেই। কারণ হযরত ইসমাঈলের কবর মসজিদুল হারামে (বায়তুল্লাহ বা কাবা ঘর) হাতিমের সন্নিকটে অবস্থিত এবং ঐ স্থানটি নামায পড়ার শ্রেষ্ঠ স্থানসমূহের অন্তর্ভুক্ত।’ (আল হাদীকাতুস সানিয়া,২য় খণ্ড,পৃ. ৬৩১)

আল্লামা বদরুদ্দীন হাউসী বলেছেন,‘কবরস্থানকে মসজিদ বানানোর অর্থ হলো কোন নামাজী তাকে কিবলা হিসেবে গ্রহণ করে নামাজ পড়বে।’ (জিয়ারাতুল কুবুর,পৃ. ২৮)

২। প্রতিবন্ধকতার নীতির (কায়েদায়ে সাদ্দে যারাঈ) দলিল:

আল্লাহর ওলীদের কবরের নিকট মসজিদ নির্মাণের নিষিদ্ধতার সপক্ষে ওয়াহাবীদের অন্যতম দলিল হলো প্রতিবন্ধকতার নীতি। এ নীতিটি হলো যদি কোন কর্ম বস্তুত মোবাহ বা মুস্তাহাব হয় কিন্তু তার মাধ্যমে হারামে পতিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তবে ঐ কর্মটি হারাম বলে পরিগণিত হবে যাতে করে কেউ হারামের দিকে পরিচালিত না হতে পারে।

ইবনে কাইয়্যেম জাওযীয়া উপরিউক্ত নীতির সপক্ষে অনেকগুলো দলিল এনেছেন যেমন পবিত্র কোরআনের আয়াতটি যে,

(وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدْوًا بِغَيْرِ عِلْمٍ)

“যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর উপাসনা করে তাদেরকে (উপাস্যদের) গালি দিও না। কারণ এতে তারা শত্রুতাবশত জ্ঞানহীনতার কারণে আল্লাহকে গালি দিবে।” (সূরা আনআম: ১০৮)

এ আয়াতে যেহেতু মূর্তিকে গালি দিলে মুশরিকরা অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দিতে পারে তাই মূর্তিকে গালি দিতে নিষেধ করা হয়েছে।

অন্যত্র নারীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে,

(وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ)

“(নারীদের বলুন) তারা যেন তাদের পদযুগল দ্বারা মাটিতে আঘাত না করে (শব্দ না করে হাটে) যাতে করে অন্য কেউ তাদের অপ্রকাশিত সৌন্দর্য সম্পর্কে জানতে না পারে।” (সূরা নূর: ৩১)

এ আয়াতে নারীরা তাদের যে সৌন্দর্য গোপন রাখে তা প্রকাশিত যাতে না হয় ও অন্যরা সে সম্পর্কে জানতে না পারে সেজন্য মাটিতে পদাঘাত করতে নিষেধ করা হয়েছে। তারা উপরিউক্ত নীতির সপক্ষে কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তিও উপস্থাপন করেছেন। (ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন,৩য় খণ্ড,পৃ. ১৪৮)

আমরা তাদের যুক্তির বিরুদ্ধে বলব :

কোন ওয়াজিবের প্রাথমিক শর্ত তখনই ওয়াজিব হবে যখন ঐ প্রাথমিক শর্ত ওয়াজিবের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত হবে এবং অবধারিত ও অবিচ্ছিন্নভাবে ঐ শর্ত ঐ ওয়াজিবে পৌঁছার কারণ হবে। তাই যে কোন প্রাথমিক শর্তই শর্ত হওয়ার কারণে ওয়াজিব বলে পরিগণিত হয় না। যেমন ছাদের উপর উঠা যদি আমাদের উপর ওয়াজিব হয় তবে যেহেতু ছাদে উঠার শর্ত হল মই বা সিঁড়ি সংযোজন সেহেতু ছাদে উঠার জন্য প্রয়োজনীয় মই বা সিড়ি সংযোজন আমাদের জন্য ওয়াজিব হবে। কোন বিষয় হারাম হওয়ার ক্ষেত্রেও তাই অর্থাৎ যে শর্তটি আমাদের সরাসরি হারামে ফেলে ও হারামের অবধারিত শর্ত বলে পরিগণিত হয় শুধু সেরূপ শর্তই হারাম।

সুতরাং আল্লাহর ওলীদের কবরের পাশে মসজিদ নির্মাণ যদি শিরক করা ও তাদের উদ্দেশ্যে সম্মান প্রদর্শন ও নামায আদায়ের নিয়তে না হয় তবে এরূপ মসজিদ নির্মাণে কোন সমস্যা ও বাধা নেই।

যদিও এমন হয় যে কেউ কেউ নামাজ পড়ার সময় তাদের সম্মান প্রদর্শনের নিয়তের কথা চিন্তা করে ও সে উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ে কিন্তু যেহেতু মসজিদটি সেরূপ উদ্দেশ্যে নির্মিত হয় নি,তাই এ ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা নেই। যদি আমরা এ স্বতঃসিদ্ধ রীতিটি মেনে না নেই,তবে আমাদের প্রতিদিনের লেনদেনের অনেক বিষয়বস্তুই হারাম বলে পরিগণিত হবে বিশেষত যে মাধ্যম ও বিষয়গুলো হালাল ও হারাম উভয় কাজেই ব্যবহৃত হতে পারে সেগুলো হারাম হয়ে যাবে যেহেতু সম্ভাবনা রয়েছে তা হারাম পথে ব্যবহৃত হওয়ার। যেমন কেউ চাকু বা রেডিও অন্যায় পথে ব্যবহার করতে পারে এই অজুহাত দেখিয়ে আমরা চাকু ও রেডিও বিক্রয় হারাম ঘোষণা করি তবে তা কখনোই যুক্তিযুক্ত হবে না। তাই এরূপ লেনদেনকে কেউই হারাম বা বাতিল বলে ঘোষণা করেন নি। তবে কেউ যদি এই অন্যায় নিয়তে তা বিক্রয় করে তবে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।

আল্লাহর ওলীদের কবরের পাশে মসজিদ নির্মাণ এবং তা আলোকিত করা (মোমবাতি বা প্রদীপ জ্বালানো)

আল্লাহর ওলীদের কবরের নিকট মসজিদ নির্মাণ,নামায পড়া,দোয়া করা এবং তাদের কবর জিয়ারত করাকে যেমন হারাম মনে করে তেমনি কবরের সৌন্দর্য বর্ধন ও সেখানে আলোক সজ্জা করাকেও সর্বোতভাবে হারাম মনে করে যদিও তা রাসূল (সা.) ও তাঁর বংশধর ইমামদের কবর হয়ে থাকে। কিন্তু অন্যান্য মুসলমানগণ উপরিউক্ত কর্মগুলোকে জায়েয মনে করে। তারা তাদের এ কর্মের সমর্থনে কিয়াসের সার্বিক ও সর্বজনীনতার নীতির (কোন বিষয়ের পারিপার্শ্বিক ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলোকে ছাড় দিয়ে তা হতে সার্বিক ও সর্বজনীন বিধি হস্তগত করা। যেমন কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে কোন বিশেষ ব্যক্তিকে যদি বিশেষ কোন ব্যক্তির শরণাপন্ন হতে বলা হয়,যেহেতু সেই ব্যক্তি ঐ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অর্থাৎ তাকে বলা হয় তুমি এ বিষয়ে না জানলে অমুককে জিজ্ঞেস কর। এ বাক্য হতে বিশেষ দিকগুলো বাদ দিয়ে আমরা সার্বিকভাবে বলতে পারি যে,কোন বিষয়ে যে কেউ কিছু না জানলে ঐ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির শরণাপন্ন হওয়া উচিত) ভিত্তিতে বলে যেহেতু রাসূল (সা.),সাহাবিগণ,তাবেয়ীনসহ সকল মুসলমান ইসলামের ইতিহাসের সকল পর্যায়ে কাবাঘরের (কাবাগৃহের) প্রতি সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে তা মূল্যবান বস্ত্রে সজ্জিত ও তাকে রাত্রিতে আলোকিত রাখাকে জায়েয বলেছেন ও কার্যত তা সজ্জিত ও অলংকৃত রাখার বিষয়ে তৎপর থেকেছেন। অনুরূপ কারণে আল্লাহর ওলীদের কবরের সৌন্দর্য বর্ধন ও তাতে আলোকসজ্জা করাতে কোন অসুবিধা নেই,কারণ কাবাগৃহ আল্লাহর গৃহ হিসেবে যে বিশেষত্ব রাখে আল্লাহর ওলিগণও একই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। যদি কাবাগৃহে শিরক ও মূর্তিপূজার সম্ভাবনা সত্ত্বেও এ কর্ম বৈধ হয়ে থাকে,আল্লাহর ওলীদের কবরও অনুরূপ সম্ভাবনা সত্ত্বেও সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে সজ্জিত করা বৈধ বলে পরিগণিত হবে। যখন আমরা এর বিরুদ্ধে শক্তিশালী কোন দলিল প্রমাণ উপস্থাপিত হতে দেখি না।

আল্লাহর ওলীদের কবরের সৌন্দর্য বর্ধন ও আলোকিত করা হারাম হওয়ার সপক্ষে ওয়াহাবীদের দলিল

নাসায়ী নিজস্ব সনদে (সূত্রে) ইবনে আব্বাস হতে বর্ণনা করেছেন,মহানবী (সা.) বলেছেন,‘আল্লাহ সে সকল নারীর উপর অভিশম্পাত বর্ষণ করুন যারা কবর জিয়ারত করে,আর তাদের উপর অভিশম্পাত  করুন যারা কবরকে মসজিদ বানায় ও সেখানে আলো (প্রদীপ) জ্বালায়।’

আমাদের উত্তর হলো : উল্লিখিত হাদীসটি সনদ ও দালালাতের দৃষ্টিতে ত্রুটিপূর্ণ এবং সুস্পষ্টভাবে আল্লাহর ওলীদের কবরে আলো জ্বালানোর নিষিদ্ধতার প্রমাণ তাতে নেই। কারণ

১। হাদীসটির সনদ বা সূত্রগত সমস্যা : বিশিষ্ট ওয়াহাবী হাদীসবিদ নাসিরউদ্দীন আলবানী ইবনে আব্বাসের হাদীসটি উল্লেখের পর বলেছেন,‘এ হাদীসটি আবু দাউদ ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন কিন্তু সনদের দিক থেকে তা দুর্বল (অর্থাৎ তাতে কয়েকজন দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছেন)। যদিও পূর্ববর্তী আলেমদের অনেকেই উক্ত হাদীসের ভিত্তিতে কথা বলেছেন কিন্তু আমাদেরকে অবশ্যই সত্যকে বলতে হবে ও তার অনুসরণ করতে হবে।’

এ হাদীসটিকে যারা দুর্বল বলেছেন তাদের মধ্যে মুসলিমও রয়েছেন। তিনি তার ‘আত তাফসীল’ গ্রন্থে বলেছেন : হাদীসটি নির্ভরযোগ্য নয়। যেহেতু হাদীসটির সনদে আবু সালিহ বাজাম রয়েছে,হাদীসবিদগণ তা গ্রহণে আপত্তি করেছেন। ইবনে আব্বাস হতে বর্ণনাকারী রাবীর ব্যাপারেও সন্দেহ রয়েছে যে ইবনে আব্বাস হতে এ হাদীসটি শুনেছে কিনা বা শুনার সম্ভাবনা ছিল কিনা?

অতঃপর তিনি বলেছেন : উক্ত হাদীসটি যে দুর্বল আমি আমার ‘আল আহাদিসুজ জায়িফা ওয়াল মাওজুয়া ও আসারু হাস সাইয়ি ফিল উম্মাহ’ গ্রন্থে তা প্রমাণ করেছি। হাদীস শাস্ত্রবিদদের কেউই আবু সালিহ বাজামের বর্ণিত হাদীসসমূহ হতে প্রমাণ উপস্থাপন করেন না। কারণ তাদের নিকট সে দুর্বল বর্ণনাকারী এবং কেউই তাকে বিশ্বস্ত বা নির্ভরযোগ্য বলেন নি। তবে ইবনে হাব্বান ও আজলী তাকে নির্ভরযোগ্য বললেও তারা উভয়েই অতি উদারতার দোষে দুষ্ট। অন্য কোন সূত্রে বর্ণিত কোন সমর্থক হাদীসও আমরা এক্ষেত্রে পাই না যার মাধ্যমে উল্লিখিত হাদীসটির দুর্বলতাকে আমরা কাটিয়ে উঠতে পারি। (তাহজীরুল মাসাজিদ মিন ইত্তিখাযিল কুবুরী মাসাজিদা,আলবানী,পৃ. ৪৩-৪৪)

২। দালালাতের পর্যালোচনা :

ক) উল্লিখিত হাদীসটির লক্ষ্য নবী ও আল্লাহর ওলীদের কবর নয়,কারণ তাঁদের কবরসমূহকে অবশ্যই বিভিন্নভাবে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে এবং প্রদীপ জ্বালানো ও আলোকসজ্জার মাধ্যমে তাদের কবরকে সম্মান দেখানো এর অন্যতম পদ্ধতি।

খ) যেহেতু নবী ও ওলীদের কবর ব্যতীত অন্যান্যদের কবরের ক্ষেত্রে অযথা অর্থ অপচয় ঘটে সেহেতু ঐরূপ ক্ষেত্রেই হাদীসটি প্রযোজ্য। কিন্তু আল্লাহর ওলীদের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে তার নিকট প্রদীপ জ্বালানো,সেখানে কোরআন তেলাওয়াত করা,দোয়া ও নামায পড়া প্রভৃতির সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে কবর জিয়ারতকারীকে আত্মিক ও নৈতিক কল্যাণ অর্জনে সাহায্য করার কারণে এ ক্ষেত্রে তা হারাম বা মাকরূহ নয়,বরং মুস্তাহাব। কারণ তা সৎকাজে সহযোগিতার শামিল ও পরহেজগারীর নিকটবর্তী।

আজিজী হাদীসটির ব্যাখ্যায় বলেছেন,‘হাদীসটি ঐ ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যখন আলো জ্বালানো হতে জীবিতরা কল্যাণ পায় না। কিন্তু যদি তা হতে কল্যাণ অর্জন করা যায় সেক্ষেত্রে অসুবিধা নেই।’ (শারহে জামুয়ুস সাগীর,৩য় খণ্ড,পৃ. ১৯৮)

সিন্দী সুনানে নাসায়ীর ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেছেন,‘কবরের নিকট প্রদীপ ও আলো জ্বালাতে এজন্যই নিষেধ করা হয়েছে যে,তা অর্থের অপচয় ও কোন কল্যাণই তা থেকে লাভ করা যায় না। যদি কোন ক্ষেত্রে লাভ পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার বিধান থাকবে না।’ (শারহে সুনানে নাসায়ী,৪র্থ খণ্ড,পৃ. ৯৫)

শেখ আলী নাসেফ বলেছেন,‘কবরের নিকট আলো জ্বালানো বৈধ (জায়েয) নয়। কারণ এটি অর্থের অপচয়। কিন্তু যদি কোন জীবিত ব্যক্তি কবরের নিকট উপস্থিত থাকে সেক্ষেত্রে আলো জ্বালিয়ে রাখাতে কোন অসুবিধা নেই।’ (আত তাজুল জামে লিল উসূল,১ম খণ্ড,পৃ. ৩৮১)

গ) হাদীসটিকে হারাম অর্থে না নিয়ে মাকরূহ অর্থেও নেয়া সম্ভব।

ঘ) মুসলমানদের চিরাচরিত রীতি ছিল এটি যে,তারা মৃত ব্যক্তিদের বিশেষত আল্লাহর ওলী ও বিশেষ ব্যক্তিদের কবরের নিকট আলো জ্বালিয়ে রাখতেন খতিব বাগদাদী স্বীয় সূত্রে ফিলিস্তিনী এক ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেছেন যে,তিনি তুরস্কের কনস্টান্টিনোপলে একটি দেয়ালের পাদদেশে প্রজ্বলিত প্রদীপ দেখে প্রশ্ন করেন : কবরটি কার? এলাকাবাসী জবাব দেয় তা রাসূলের বিশিষ্ট সাহাবী আবু আইয়ুব আনসারীর। কবরের নিকটবর্তী হয়ে দেখতে পান কবরের উপর ছাদ হতে শিকলের সাহায্যে বাতি ঝুলানো রয়েছে। (তারিখে বাগদাদ,১ম খণ্ড,পৃ. ১৫৪)

ইবনে জাওযী বলেছেন,৩৮৬ হিজরী সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল বসরার লোকেরা দাবী করেছিল যে,একটি পুরাতন কবরের সন্ধান পেয়েছে যা জুবাইর ইবনে আওয়ামের কবর বলে জানা যায়। তখন চাটাই,প্রদীপ ও অন্যান্য সরঞ্জাম এনে তা পরিপাটি ও সজ্জিত করা হয় এবং সে স্থানের যত্ন নেয়ার জন্য এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দান করা হয়। ঐ স্থানটিও ওয়াক্ফ করে দেয়া হয়। (আল মুনতাজাম,১৪তম খণ্ড,পৃ. ৩৮৩)

সাফাদী ইমাম মূসা কাজিম (আ.)-এর কবর সম্পর্কে বলেছেন,‘তাঁর কবর ঐ স্থানে (বাগদাদের নিকটবর্তী কাজেমাইনে) প্রসিদ্ধ এবং লোকজন সেখানে জিয়ারতের জন্য যায়। তার উপর গম্বুজ নির্মিত হয়েছে যাতে স্বর্ণ ও রৌপ্য নির্মিত আচ্ছাদনসহ প্রদীপসমূহ প্রজ্বলিত ছিল। বিভিন্ন ধরনের কার্পেট সেখানে দৃশ্যমান ছিল। (ওয়াফাইয়াতুল আইয়ান,৫ম খণ্ড,পৃ. ৩১০)

ঙ) ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত হাদীসটির বিপরীত হাদীসসমূহ আমাদের হাতে রয়েছে যেমন মহানবী (সা.) রাত্রিতে জান্নাতুল বাকীতে যেতেন ও তাঁর সঙ্গে এক ব্যক্তি কবরের নিকট হাতে প্রদীপ জ্বালিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত। (আল জামে আস সাহীহ,৩য় খণ্ড,৬২তম অধ্যায়,পৃ. ৩৭২)