১ম রমজান
1. ইমাম রেযা (আ.) এর প্রতি মামুনের চিঠি
সন ২০০ হিজরীতে ইমাম রেযা (আ.)কে মামুন চিঠি লিখে এবং তাঁকে পরবর্তি শাষক নির্বাচনের জন্য মার্ভে আসার জন্য নির্দেশ জারি করে। সন ২০১ হিজরীর ১ম রমজানের দিনে জনগণ ইমাম রেযা (আ.)এর কাছে পরবর্তি শাষক হিসেবে বাইয়াত করে। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৯, পৃষ্ঠা ২২১, ৩০৩, কালায়েদুন নুহুর, খন্ড রব, পৃষ্ঠা ৬৩, ইখতিয়ারাত, পৃষ্ঠা ৩৮, তারিখে তাবারী, খন্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৩৯, কাশফুল গুম্মা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৩২)
2. উবাই বিন কাআব-এর বিরোধিতা
যখন হজরত আবু বকর রমজান মাসের প্রথম শুক্রবারে খুৎবা দিচ্ছিলেন তখন উবাই বিন কাআব মুহাজির ও আনসারদেরকে উদ্দেশ্যে করে বলে যে, তোমরা কি জান না যে, হজরত আলী (আ.) রাসুল (সা.) এর নির্বাচিত খলিফা? এছাড়াও তিনি আরো বলেন: তোমরা কি ভুলে গেছ রাসুল (সা.) বলেছিলেন: আমি যার মওলা আমার পরে আলী তাদের মাওলা। যারা আমাকে নবী হিসেবে মেনে নিয়েছে আলী হচ্ছে তাদের অভিভাবক। তোমরা কি ভুলে গেছে যে রাসুল (সা.) বলেছিলেন: হে আলী! তোমার সাথে আমার সম্পর্ক হচ্ছে হারুনের সাথে মূসার ন্যায়। আমার জীবদ্দশায় যেরূপ আমাকে অনুসরণ করা হচ্ছে ওয়াজিব অনুরূপভাবে আমার পরে তোমাকে অনুসরণ করা হচ্ছে ওয়াজিব। তোমরা কি ভুলে গেছে যে রাসুল (সা.) বলেছিলেন: আলী (আ.) আমার সুন্নতকে উজ্জিবিত ও প্রতিষ্ঠাকারি এবং আমার উম্মতের শিক্ষক। (এহতেজাজ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৫৩, গায়াতুল মারাম, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১২১, মাওয়াকেফুশ শিয়া, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৪০, ৪৫৬, আশ শিয়া ফি আহাদিসিল ফারিকাইন, পৃষ্ঠা ১৮০, মানাকেবে আমিরুল মুমিনিন (আ.), খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২২৪, ৪১৬)
3. মারওয়ানের মৃত্যু
সন ৬৫ হিজরীর ১ম রমজানের দিনে মারওয়ান বিন হাকাম ৬১, ৬৩ অথবা ৮১ বছর বয়সে দামেস্কে মারা যায়। তার খেলাফতের সময়কাল ছিল ৯ মাস। হজরত আয়েশা তার সম্পর্কে বলেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে যখন তুমি তোমার বাবা হাকাম বিন আবি আসের ঔরষে ছিলে তখন রাসুল (সা.) তোমার বাবার প্রতি অভিসম্পাত করেছিলেন। (তাতেম্মাতুল মুনতাহা, পৃষ্ঠা ৭৮- ৮৪, তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৭৪, তারিখে দামেস্ক, খন্ড ৫৭, পৃষ্ঠা ২৩৬, ২৭৮, তাবাকাতুল কুবরা, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২২৬, আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ২৮২)
4. তাবুকের যুদ্ধ
সন ৯ হিজরীর ১ম রমজান তারিখে তাবুকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। উক্ত যুদ্ধের আরকটি নাম হচ্ছে “ফাযেহের যুদ্ধ”। উক্ত নামকরণর কারণ মদীনার মুনাফিক যারা রাসুল (সা.)কে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করছিল তাদের মুখোশ উন্মোচন করাই ছিল উক্ত যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। যারা উক্ত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদেরকে “জায়সুল উসরা” বলা হতো। উক্ত যুদ্ধে ৩০ হাজার সৈন্য অংশগ্রহণ করে। যার মধ্যে এক হাজার আরোহি ছিল। ৮২জন মুনাফিক বিভিন্ন অজুহাতে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। যেন তারা রাসুল (সা.) এ ঘরে লুটতারাজ করতে পারে। কিন্তু মুনাফিকদের বিভিন্ন ষড়যন্ত্র থেকে আল্লাহ তায়ালা রাসুল (সা.)কে রক্ষা করেন এবং রাসুল (সা.) সুস্থ অবস্থায় মদীনায় ফিরে আসেন। (মুনতাখাবুত তাওয়ারিখ, পৃষ্ঠা ৬০, মুনতাহিউল আমাল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৯১-৯৩, ওয়াকায়েউশ শুহুর, পৃষ্ঠা ১৫৮, তাবাকাতুল কুবরা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৬৫, আত তাম্বিহ ওয়াল ইশরাফ, পৃষ্ঠা ২৩৫)
৩য় রমজান
হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) এর শাহাদত
রেওয়ায়েতের এক বর্ণনা অনুযায়ি হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) ৩য় রমজান তারিখে শাহাদত বরণ করেন। (শারহে এহকাকুল হাক, খন্ড ২৫, পৃষ্ঠা ১৫, আয যুররিয়াতুত তাহেরা, পৃষ্ঠা ১১০, মুসতাদরাকে হাকেম, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৬২, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ২২, পৃষ্ঠা ১৬৭)
৪ঠা রমজান
যিয়াদ ইবনে উবাইয়ের মৃত্যু
সন ৫৩ হিজরী কুফাতে যিয়াদ ইবনে উবাইয়ের মৃত্যু হয়। যিয়াদ বিভিন্ন নামে প্রসিদ্ধ ছিল যেমন: যিয়াদ ইবনে উম্মা, যিয়াদ ইবনে উবাইদ, যিয়াদ ইবনে সামিয়া। তার এতগুলো নামকরণের অন্যতম কারণ হচ্ছে যে, তার কোন সঠিক পিতৃ পরিচয় ছিল না। মাবিয়া যখন যিয়াদ বিন আবি সুফিয়ানের সাথে মিশে যায় তখন সে তাকে নিজের ভাই বলে আখ্যায়িত করে। আর এভাবে যিয়াদ বিন আবি সুফিয়ান একটি পিতৃ পরিচয় লাভ করে। মাবিয়া, ইবনে যিয়াদের ন্যায় জারজ সন্তান সমাজকে উপহার দেয়ার জন্য কয়েকটি সাক্ষি এবং একটি সভার আয়োজন করে। উক্ত অনুষ্ঠানে মাবিয়ার এবং ইবনে যিয়াদের পক্ষে যাদেরকে সাক্ষি স্বরূপ উপস্থাপন করা হয় তাদের মধ্যে একজন ছিল তায়েফের মদ ব্যাবসায়ি আবু মারিয়াম, সে সকলের মাঝে দাড়িয়ে ইবনে যিয়াদকে উদ্দেশ্যে করে বলে: আমি সাক্ষি দিচ্ছি যে, একদা আবু সুফিয়ান আমার কাছে আসে এবং একজন পতিতার খোঁজ চাই তখন আমি তাকে সুমাইয়ার ঠিকানা দেই। তখন যিয়াদ তার মায়ের উক্ত অপকর্মের কথাকে স্বিকার করে মাবিয়ার ভাই রূপে স্বিকৃতি লাভ করে। মাবিয়া তার বোনকে যিয়াদের কাছে প্রেরণ করে এবং বলে যে তার কাছে কোন পর্দা করবে না কেননা আজ থেকে সে হচ্ছে তোমার ভাই!!! অতঃপর ইবনে যিয়াদ মুসলিম জাহানের চতূর্থ খলিফা হজরত আলী (আ.) এর প্রতি অভিসম্পাত, হজরত আলী (আ.) এর অনুসারীদেরকে হত্যা এবং তাদের সম্পদকে লুন্ঠন, তাদের হাতকে কর্তন করা, গর্ভবতি নারীদের পেট কেটে বাচ্চাকে নষ্ট করা, ফাঁসি দেয়া, জিবন্ত কবর দেয়া, চোখ উপড়ে ফেলা, বাচ্চাদের গল কেটে ফেলা, ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়া ইত্যাদি। অবশেষে সে প্লেগ নামক মহামারি রোগে আক্রান্ত হয় এবং মারা যায়। (শারহে ইবনে আবিল হাদীদ, খন্ড ১৬, পৃষ্ঠা ১৮৭, নাফায়েহুল আলাম, পৃষ্ঠা ১১৪, আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৭৫, শেফাউস সুদুর, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩১০, তারিখে দামেস্ক, খন্ড ১৯, পৃষ্ঠা ২০৪)
৬ই রমজান
ইমাম রেযা (আ.)এর নামে মুদ্রা প্রচলন
সন ২০১ হিজরীর ৬ই রমজান তারিখে স্বর্ণের মুদ্রার উপরে ইমাম রেযা (আ.)এর নাম খোদায় এবং প্রচলন করা হয়। (মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৯৫, শারহুল আখবার, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৪১- ৩৪২, মুসনাদে ইমাম রেযা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১২১, ইকবাল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৬৪, মাকাতেলুত তালেবিন, পৃষ্ঠা ৩৭৫)
১০ রমজান
1. ইমাম হুসাইন (আ.)এর নামে কুফাবাসীদের পত্র
সন ৬০ হিজরী ১০ই রমজান তারিখে কুফাবাসীদের পত্র ইমাম হুসাইন (আ.)এর কাছে এসে পৌছায়। কুফাবাসীদের চিঠিগুলো আব্দুল্লাহ বিন মাসমা হামেদানি এবং আব্দুল্লাহ বিন ওয়াল ইমাম হুসাইন (আ.)এর সমিপে নিয়ে আসে। (আল ওয়েকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১১২, আল ইরশাদ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৭, তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৬১, মানাকেবে আলে আবি তালিব, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৯৭, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৪, পৃষ্ঠা ৩৩৩)
2. হজরত খাদিজা (সা.আ.)এর ওফাত
হজরত খাদিজা (সা.আ.) ছিলেন ইসলামের প্রথম নারী যিনি রাসুল (সা.) এর নবুওয়াতের সাক্ষি দেন, মক্কায় রাসুল (সা.) এর পিছনে জামাতে নামাজ আদায় করেন, সর্বপ্রথম ঈমান আনায়ন করেন, যিনি মক্কার মুশরিকদের সামনে রাসুল (সা.) এর পক্ষপাতিত্ব করেন এবং নিজের সকল ধন সম্পদকে আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করে দেন। অবশেষে ১০ই রমজান হজরত খাদিজা ইহলোক ত্যাগ করেন। ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি নবুওয়াত প্রাপ্তির দশম বর্ষে হজরত আবি তালিবের ওফাতের ৪৫ দিন পরে মারা যান। এছাড়াও ইতিহাসে তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে বিভিন্ন তারিখ বর্ণিত হয়েছে যেমন: ২৩শে রজব, ২৭শে রজব এবং রজব মাসের শেষ তারিখ, ১লা রমজান মৃত্যু বরণ করেন। হজরত খাদিজা হজরত আবু তালিবের মৃত্যুর ৩ দিন, ১ মাস, ৪৫ দিন, ৫০ দিন পরে মারা যান। (মুনতাখাবে তাওয়ারিখ, পৃষ্ঠা ৪৩, আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১২৭, কাফি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৩৯, তৌযিহুল মাকাসিদ, পৃষ্ঠা ২২, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ১৯, পৃষ্ঠা ২৫)
১২ই রমজান
রাসুল (সা.) কর্তৃক ভ্রাতৃত্ব বন্ধন
সন ১ম হিজরী ১২ই রমজান তারিখে রাসুল (সা.) তাঁর সকল সাহাবীদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের চুক্তিতে সকলকে আবদ্ধ করেন এবং হজরত আলী (আ.)কে নিজের ভাই হিসেবে নির্বাচন করেন। (মুনতাখাবুত তাওয়ারিখ, পৃষ্ঠা ৪৬, মাশারুশ শিয়া, পৃষ্ঠা ৭, তাকভিমুল মোহসিনিন, পৃষ্ঠা ১৪, ফেইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ৩১, ওয়াকায়াউশ শুহুর, পৃষ্ঠা ১৬৭)
১৩ই রমজান
হাজ্জাজ সাকাফির মৃত্যু
সন ৯৫ হিজরী ১৩ই রমজান তারিখে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সাকাফি পেটের এক মারাত্মক রোগের কারণে মারা যায়। উক্ত তারিখ ছাড়াও তার মৃত্যু সম্পর্কে ইতিহাসে আরো তারিখ বর্ণিত হয়েছে যেমন: ২১, ২৩, ২৫, এবং ২৭শে রমজান। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ যুদ্ধ ব্যাতিত এক লক্ষ বিশ হাজার মানুষকে হত্যা করে। যখন সে মারা যায় তখন তার কারাগার থেকে ৫০ হাজার পুরুষ এবং ৩০ হাজার নারীকে আটক করে রেখেছিল তন্মধ্যে ১৬ হাজার নারী পুরুষকে উলঙ্গ করে রেখেছিল। সে ইমাম আলী (আ.) এর অনেক অনুসারীকে হত্যা করেছিল যেমন:কুমাইল ইবনে যিয়াদ, কাম্বার প্রমুখ। (নাফায়েহুল আলাম, পৃষ্ঠা ৪৭১, মুরুজুয যাহাব, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৩২, কানযুল মাদফুন, পৃষ্ঠা ১৫১, শাজারে তুবা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১২৮, তারিখে দামেস্ক, খন্ড ১২, পৃষ্ঠা ১৮৫)
১৪ই রমজান
মোখতারে সাকফির মৃত্যুদিবস
সন ৬৭ হিজরী মোখতার আবু উবাইদা সাকাফি ১৪ই রমজান তারিখে শাহাদত বরণ করেন। বর্তমানে তাঁর মাজার শরীফ মসজিদে কুফার এক কোণায় মুসলিম ইবনে আকিল (আ.)এর কবর শরীফের পাশে অবস্থিত। তিনি মৃত্যুর পূর্বে কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর অবরুদ্ধ পরিবারের বিরুদ্ধে কাপুরুষোচিত যুদ্ধ ও সন্ত্রাসী হামলায় অংশগ্রহণকারী ত্রিশ হাজার ইয়াজিদী সেনার প্রধান কমান্ডার ওমর ইবনে সাদ, মহাপাপী শিমার, খুউলি ও হারমালার মত ঘাতকদেরও হত্যা করেন বিপ্লবী নেতা মুখতার এবং তাঁর বাহিনী। মুখতার নিজে ইমাম হুসাইন (আ.)’র ছয় মাসের শিশু আলী আসগর (রা.)-কে হত্যাকারী নরপিশাচ হারমালাকে হত্যা করেন এক বীরত্বপূর্ণ অভিযানে। কুফায় মুখতারের শাসন টিকে ছিল দেড় বছর। কুফাবাসীদের প্রতারণামূলক চরিত্র ও অসহযোগিতার শিকার হয়ে বীর মুখতারও শাহাদত বরণ করেন। (তাতেম্মাতুল মুনতাহা, পৃষ্ঠা ৯১- ৯২, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২১৫, আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৫৭, মোখতারে সাকাফি, পৃষ্ঠা ৪০, মাওয়োকেফুশ শিয়া, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২০৬)
১৫ই রমজান
1. ইমাম হাসান (আ.)এর জন্মদিবস
সন তৃতীয় হিজরী বেহেস্তের যুবকদের সর্দার ইমাম হাসান (আ.) ১৫ই রমজান তারিখে রাতে মদীনা মুনাওয়ারাতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আমিরুল মু’মিনীন হজরত আলী (আ.) ও নারীকূলের শিরোমনি হজরত ফাতেমা যাহরা (সা আ.) এর প্রথম সন্তান।
হজরত মহানবী (স.) তাঁর জন্মের পর তাঁকে কোলে তুলে নিয়ে তাঁর বাম কানে ইকামত দেন। অতঃপর একটি দুম্বা কুরবানী করেন এবং তার মাথার চুল কামিয়ে সে চুলের ওজনে রূপা দরিদ্র ও অভাবীদের মাঝে বিতরণ করে তাঁর মাথায় আতর লাগাতে বলেন। আর তখন হতেই মাথার চুলের ওজনে সাদকা দেওয়া ও আকিকা করা একটি সুন্নতে পরিণত হয়।
মহানবী (স.) এ নবজাতকের নাম রাখলে হাসান। জাহিলিয়্যাতের যুগে যে নাম পূর্বে কখনও ব্যবহৃত হয়নি। মহানবী (স.) ইমাম হাসান (আ.) ও তাঁর ভাই ইমাম হুসাইন (আ.) কে অত্যন্ত ভালবাসতেন। তিনি বারংবার বলতেন: হাসান ও হুসাইন আমার সন্তান। আমিরুল মু’মিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)ও তাঁর (স.) কথাকে স্মরণ করে নিজের অন্যান্য সন্তানদেরকে বলতেন: তোমরা আমার সন্তান এবং হাসান ও হুসাইন আল্লাহর রাসূল (স.) এর সন্তান। তিনি শৈশবের ৭টি বছর নিজের নানা রাহমাতুল লিল আলামিন হজরত মুহাম্মাদ (স.) এর সান্নিধ্যে কাটিয়েছেন। মহানবী (স.) তাকে অত্যন্ত ভালবাসতেন। এমনভাবে যে, তাকে কাঁধে নিয়ে বলতেন: হে প্রভু! আমি একে ভালবাসি তুমিও একে ভালবেসো…। যে ব্যক্তি হাসান ও হুসাইন (আ.) কে ভালবাসে, তারা প্রকৃতপক্ষে আমাকে ভালবেসেছে। আর যে ব্যক্তি এঁদের সাথে হিংসা করবে এবং এঁদের সাথে শত্রুতা করবে তারা প্রকৃতপক্ষে আমার সাথে শত্রুতা করেছে।
তিনি (স.) আরো বলেন: ‘হাসান এবং হুসাইন বেহেশতের যুবকদের সর্দার’।
তিনি (স.) বলেছেন: এঁরা দু’জন ইমাম; চাই তারা শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় বা সন্ধি করে নেয়। (মুনতাহিউল আমাল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২১৯- ২২০, শারহে নাহজুল বালাগা, খন্ড ১৬, পৃষ্ঠা ৯, তারিখে দামেস্ক, খন্ড ১৩, পৃষ্ঠা ১৬৮, তারিখে খোলাফা, পৃষ্ঠা ১৮৮, মেসবাহে কাফআমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৯)
2. মুসলিম ইবনে আকিল কুফার উদ্দেশ্যে রওনা হন
সন ৬০ হিজরী ১৫ই রমজান তারিখে হজরত মুসলিম ইবনে আকিল (আ.) ইমাম হুসাইন (আ.) পত্র নিয়ে কুফার উদ্দেশ্যে রওনা হন। চিঠির মুখ্য বিষয় ছিল আমার চাচাতো ভাইকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করলাম। সে আমাদের অত্যান্ত বিশ্বাস ভাজন। যদি সে তোমাদের ঐক্যতাকে সমর্থন করে আমাকে চিঠি লিখে তাহলে অচিরেই আমি তোমাদের কাছে আসবো ইনশাআল্লাহ। (ফেইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ৩৫, আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৭, তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৬২, কালেমাতে ইমামুল হুসাইন, পৃষ্ঠা ৩১৩, আল আদাদুল কাওয়িয়া, পৃষ্ঠা ২৯)
১৬ই রমজান
মিশরে মোহাম্মাদ ইবনে আবু বকরের আগমণ
সন ৩৭ হিজরীর ১৬ই রমজান তারিখে মোহাম্মাদ বিন আবু বকর ইমাম আলী (আ.)এর প্রতিনিধি এবং গভর্নর স্বরূপ মিশরের আগমণ করেন। (মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২১৩, আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯০, তাহযিবুল কামাল, খন্ড ২৪, পৃষ্ঠা ৫৪২, আল এসাবা, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৯৪)
১৭ই রমজান
1. রাসুল (সা.)এর মেরাজে গমণ
১৭ই রমজান রাসুল (সা.) এর মেরাজ ইসলামের ইতিহাসে একটি অতিব গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে রাসুল মক্কা থেতে বাইতুল মোকাদ্দাস অতঃপর আকাশপানে সিদরাতুল মুনতাহায় সফর করেন। সেখানে তিনি আল্লাহর অতুলনিয় এবং আজব সৃষ্টি সমূহকে অবলোকন করেন এবং আল্লাহর আরশের নিচে বাইতুল মামুরে তিনি সকল নবীদের ইমামতি করেন। বেহেস্ত ও দোযখকে অবলোকন করেন অতৎপর ফিরে আসেন। রাসুল (সা.) এর মেরাজ যে স্থান থেকে শুরু হয়েছিল তা সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত বর্ণিত হয়েছে যেমন: হজরত খাদিজা (সা.আ.) এর ঘর থেকে, ইমাম আলী (আ.) এর বোন উম্মে হানির ঘর থেকে, শোবে আবু তালিব। (আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯৪, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ১৮, পৃষ্ঠা ৩০২, মেসবাহে কাফআমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৯, মাকিলুল মাকারিম, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৯২, মুনতাহিউল আমাল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৫১)
2. বদরের যুদ্ধ
সন ২য় হিজরী ১৭ই রমজান রোজ শুক্রবারে বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। উক্ত যুদ্ধে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল ৩১৩ জন এবং শহীদদের সংখ্যা ৯জন, অপর দিকে কাফেরদের সংখ্যা ছিল ৯৫০জন এবং মৃতের সংখ্যা ছিল ৭০জন এবং ৭০জন বন্দি হয়। (মুনতাখাবুত তাওয়ারিখ, পৃষ্ঠা ৪৮- ৪৯, আস সহীহ মিন সিরাহ, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৩৬, মেসবাহে কাফআমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৯, তাবাকাতুল কুবরা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৯- ২১, তারিখে ইয়াকুবি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৫)
3. হজরত আয়েশার মৃত্যু
সন ৫৮ হিজরী ১৭ই রমজান তারিখে মদীনায় মাবিয়ার নির্দেশে হজরত আবু বকরের কন্যা হজরত আয়েশাকে হত্যা করা হয়। এছাড়াও ইতিহাসে আরো দুটি মত বর্ণিত হয়েছে: ২৯শে রজব এবং জিলহজ্ব মাসের শেষ তারিখ। তবে হজরত আয়েশাকে হত্যা করার কারণ ছিল এই যে, যখন মাবিয়া তার অযোগ্য পুত্র এজিদের বাইয়াত নেয়ার জন্য জনগণকে বাধ্যে করে তখন হজরত আয়েশা তার উক্ত কাজের বিরোধিতা করে। তিনি মাবিয়াকে উদ্দেশ্যে করে বলেন: তুমি তোমার সন্তানকে এজিদকে খেলাফতের মসনদের আসিন করবে বলে আমার ভাই মোহাম্মাদকে হত্যা করেছো। মাবিয়া তার উক্ত কথার কারণে ভয় পায়। সে নিজের ঘরে একটি কূপ খনন করে এবং তার উপরে একটি দামি গালিচা বিছিয়ে দেয় এবং তার উপরে একটি খাট রেখে দেয় এবং এশার নামাজের সময় তাকে ডেকে পাঠায়। যখন হজরত আয়েশা আসেন তখন তাকে উক্ত খাটের উপরে বসার জন্য মাবিয়া আহবান জানায়। যখন তিনি উক্ত খাটের উপরে বসেন তখন তিনি খাট সহ কুয়ার মধ্যে পড়ে যায়। মাবিয়া উক্ত কুয়ার মধ্যে বিষাক্ত বর্শা পুতে রাখে হজরত আয়েশা কুয়াতে পড়ার পরে মারা যান। (শারহে ইবনে আবিল হাদীদ, খন্ড ১৭, পৃষ্ঠা ২৫৪, মুসতারাকে হাকেম, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৬, তারিখে দামেস্ক, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২০২, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার,খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২১৫, আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৪৪)
১৯শে রমজান
ইমাম আলী (আ.)কে বিষাক্ত তরবারি দ্বারা আঘাত
হজরত আলী (আ.) এর খেলাফতের সূচনা লগ্নে হাবীব বিন মুন্তাজাব ছিল ইয়ামেনের শাষক। ইমাম আলী (আ.) তাকে ইয়ামেনের জনগণের কাছ থেকে বাইয়াত নেয়ার জন্য চিঠি লিখেন। হাবীব ১০ জন উপযুক্ত ইয়ামেনবাসীকে আব্দুর রহমান বিন মুলজামের নেতৃত্বে কুফাতে প্রেরণ করেন। আব্দুর রহমান ইবনে মুলজাম কুফাতে আসে এবং হজরত আলী (আ.) কে মোবারকবাদ জানায় এবং বলে খোদার লানত হোক সে ব্যাক্তির উপরে যে আপনার প্রতি সন্দেহ পোষণ করে কেননা আপনি হচ্ছে রাসুল (সা.) এর ওয়ালী এবং ওয়াসী এবং সে হজরত আলী (আ.) এর শানে কবিতা আবৃতি করে। ইমাম আলী (আ.) তাকে জিজ্ঞাসা করে তোমার নাম কি? সে বলে আব্দুর রহমান ইবনে মুলজাম মুরাদী।
ইমাম আলী উক্ত নামটি শুনার সাথে সাথে হাতের উপরে হাত রেখে তিন বার বলেনঃ (انّاللّه و انّاالیه راجعون) তারপরে তার দিকে তাক্বিয়ে বলেনঃ তুমিই তাহলে মুরাদী। ইয়ামেনের লোকেরা বাইয়াত করে কিন্তু তারপরে ইমাম আলী ইবনে মুলজামের কাছ থেকে আরো দুইবার বাইয়াত নেন এবং এভাবে ইবনে মুলজামের কাছ থেকে তিনি তিনবার বাইয়াত নেন। তখন সে বলেঃ হে আলী! কেন আপনি আমার সাথে এমন আচরণ করছেন? ইমাম তাকে বলেনঃ কেননা একসময় তুমি এই বাইয়াতকে তুচ্ছজ্ঞান মনে করবে এবং তা ভঙ্গ করবে। সে বলে আমার অন্তর আপনার ভালবাসায় পূর্ণ। আমি চাই আপনার সাথে থেকে শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করতে। ইমাম মুচকি হেসে তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং অবশেষে বলেন যে হে ইবনে মুলজাম! তুমিই আমাকে হত্যা করবে।
ইবনে মুলজাম বলেঃ যদি আপনি আমার সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করেন তাহলে আমাকে নির্বাসন দিন। ইমাম (আ.) তাকে বলেনঃ তুমি ইয়ামেনের লোকদেরকে নিয়ে ইয়ামেনে ফিরে যাও। কিন্তু তিনদিন পরে ইবনে মুলজাম অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার সঙ্গিরা তাকে ছেড়েই ইয়েমেনে চলে যায় এবং সে কুফাতে থেকে যায়। ইমাম স্বয়ং তার সেবা যত্ন করেন এবং তার মুখে খাবার তুলে দেন এবং তার সুস্থ হওয়া পর্যন্ত তার সেবা করেন। তারপর থেকে ইবনে মুলজাম ইমাম আলী (আ.) এর পক্ষে কাজ করতো। তারপর ইমাম আলী (আ.) তাকে বাড়িতে নিয়ে যান এবং তাকে টাকা দেন এবং বলেন অমি তোমার জীবন রক্ষা করতে চাই অথচ তুমি আমাকে হত্যা করতে চাও। ইবনে মুলজাম এ কথা শুনার পরে বলে হে আলী! যদি এমনটি হয় তাহলে আপনি আমাকে হত্যা করুন। ইমাম (আ.) তার জবাবে বলেনঃ কাউকে অপরাধের আগে শাস্তি দেওয়া ঠিক না।
জামালের যুদ্ধে ইবনে মুলজাম হজরত আলী (আ.) এর পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করে এমনকি সে সিফফিনের যুদ্ধেও ইমাম আলী (আ.) এর পক্ষে যুদ্ধ করে।
খারেজি ফেরক্বা প্রকৃতপক্ষে সিফফিনের যুদ্ধ থেকেই এর সূত্রপাত ঘটে। উক্ত দলটি ছিল আগ্রাসী ও অন্ধবিশ্বাসী তারা নিজেদেরকে ঈমান ও তাকওয়ার পোষাকের মধ্যে নিজেদেরকে লুকিয়ে রেখেছিল। তারা তাদের অদ্ভুত চিন্তাধারা এবং অযৌক্তিক দলিলের ভিত্তিতে হজরত আলী (আ.) খেলাফতকালে সমস্যার সৃষ্টি করে। ইমাম আলী (আ.) তাদেরকে সকল ভুল চিন্তাধারা থেকে সত্য পথের আহবান জানান। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে তারা ইমাম আলী (আ.) এর কথা কে মেনে নেয়নি। সুতরাং ইমাম আলী (আ.) ও তাদের সাথে যুদ্ধ করা ছাড়া আর অন্য কোন পথ খুজে পাননি। তারা তাদের একগুঁয়েমি এবং বিদ্রোহপূর্ণ চিন্তাচেতনার অনুসরণ করে চলছিল। অবশেষে তারা নাহরাওয়ানের যুদ্ধে পরাজিত হয়।
সাহাবীরা মনে করেছিল যে উক্ত যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর খারেজিরা হয়তো নিমূল হয়ে যাবে। একজন বলেঃ হে আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.) সব খারেজিরা ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইমাম (আ.) তার জবাবে বলেনঃ না। খোদার শপথ! এমনটি না। বরং তারা বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন রূপে আসবে এবং ধ্বংস হবে এবং তারা চুরি, লুটতারাজ এবং ছিনতাইকারীদের সাথে যোগ দিবে। রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে যে, ইবনে মুলজাম সিফফিনের যুদ্ধ থেকেই হজরত আলী (আ.) কাছ থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং নাহরাওয়ানের যুদ্ধে হজরত আলী (আ.) এর বিপক্ষে যুদ্ধে অংগ্রহণ করে।
সে খারেজিদের মধ্যে একটি পরিবারের মেয়ে যার নাম ছিল কোত্তাম তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। উক্ত মেয়েটি ছিল হজরত আলী (আ.) কে হত্যা করার পিছনে অন্যতম কারণ। এ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছেঃ
ইমাম আলী (আ.) সিফফিন এবং নাহরাওয়ানের যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পূর্বেই ইবনে মুলজাম কুফাতে পৌছায় এবং জনগণকে ইমাম (আ.) এর বিজয়ের সুসংবাদ দেয়। যখন সে কোত্তামের বাড়ির কাছে পৌছায় তখন কোত্তাম তাকে নাহরাওয়ানের শহীদদের নাম জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে যে তার গোত্রের কয়েকজন উক্ত যুদ্ধে মারা যায়। তখন কোত্তাম অনেক ক্রন্দন করে। তখন ইবনে মুলজাম কোত্তামকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়। কোত্তামও তার এ প্রস্তাবকে কবুল করে এবং তাকে দেনমোহর হিসেবে কয়েকটি শর্ত দেয় যে,
- হজরত আলী (আ.) কে হত্যা করতে হবে।
- তিন হাজার দিনার।
- একটি দাশ ও একটি দাসী।
ইবনে মুলজাম ভয় পেয়ে বলে হজরত আলীকে মারা সহজ ব্যাপার না। কোত্তাম মুলজামকে আকর্ষিত করার জন্য নিজেকে পরিপাটি করে রাখতো এবং তাকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখাত যেন সে উক্ত বিষয়টি কবুল করে।
তখন ইবনে মুলজাম বাকর বিন উবাইদুল্লাহ তামীমী এবং আমরু বিন বাকর তামীমী নামক আরো দুজন খারেজিদের সাথে সাক্ষাত করে এবং পরিকল্পনা করে যে আলী, মাবিয়া এবং আমরু আসকে কিভাবে হত্যা করা যায়। তারা একেকজনকে হত্যার দ্বায়িত্ব নেয়।
১৯শে রমজান ৪০ হিজরীতে ইবনে মুলজাম ইমাম আলী (আ.) এর উপরে হামলা করে এবং বলেঃ (الحکمُ للّه یا على لا لَکَ) তার একাজ থেকে স্পষ্ট হয় যে সে ছিল খারেজি। (মুসতাদরাকে বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২১৩, আল ইরশাদ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯, তারিখুল আমেয়ম্মা, পৃষ্ঠা ৫, তাজুল মাওয়ালিদ, পৃষ্ঠা ১৭, রওযাতুল ওয়ায়েযিন, পৃষ্ঠা ১৩২)
২০শে রমজান
মক্কা বিজয়
সন ৮ হিজরীর ২০শে রমজান তারিখে মুসলমানরা মক্কা বিজয় করে। উক্ত ঘটনায় মুসলমানদের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার এবং শহীদের সংখ্যা ছিল মাত্র ২জন এবং তাদের মৃত্যুর কারণ ছিল যে তারা মুসলমান সৈন্যদের সাথে ছিল না। বরং তারা মক্কার পিছন থেকে প্রবেশ করার চেষ্টা করেছিল এবং মানুষের ভিড়ের চাপে শাহাদত বরণ করে। (মেসবাহে কাফআমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৯, সিরাতুন নবী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৮৮৯, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ২১, পৃষ্ঠা ১১১, তৌযিহুল মাকাসিদ, পৃষ্ঠা ২৩, ফেইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ৪২)
২১শে রমজান
1. ইমাম আলী (আ.) এর শাহাদত
সন ৪০ হিজরী ২১শে রমজান তারিখে ফজরের সময় তানি শাহাদত বরণ করেন। কিন্তু মৃত্যুর পূর্বে তিনি তার সন্তান এবং মুমিনদেরকে ওসিয়ত করে যান। ইবনে মুলজামের সাথে ইমাম আলী (আ.) এর বাইয়াতের ঘটনা ছিল নিন্মরূপ:
একদা আব্দুর রহমান ইবনে মুলজাম কুফাতে আসে এবং হজরত আলী (আ.) কে মোবারকবাদ জানায় এবং বলে খোদার লানত হোক সে ব্যাক্তির উপরে যে আপনার প্রতি সন্দেহ পোষণ করে কেননা আপনি হচ্ছে রাসুল (সা.) এর ওয়ালী এবং ওয়াসী এবং সে হজরত আলী (আ.) এর শানে কবিতা আবৃতি করে। ইমাম আলী (আ.) তাকে জিজ্ঞাসা করে তোমার নাম কি? সে বলে আব্দুর রহমান ইবনে মুলজাম মুরাদী।
ইমাম আলী উক্ত নামটি শুনার সাথে সাথে হাতের উপরে হাত রেখে তিন বার বলেন: (انّاللّه و انّاالیه راجعون) অতঃপর তার দিকে তাক্বিয়ে বলেন: তুমিই তাহলে মুরাদী। ইয়ামেনের লোকেরা বাইয়াত করে কিন্তু তারপরে ইমাম আলী ইবনে মুলজামের কাছ থেকে আরো দুইবার বাইয়াত নেন এবং এভাবে ইবনে মুলজামের কাছ থেকে তিনি তিনবার বাইয়াত নেন। তখন সে বলেঃ হে আলী! কেন আপনি আমার সাথে এমন আচরণ করছেন? ইমাম তাকে বলেন: কেননা একসময় তুমি এই বাইয়াতকে তুচ্ছজ্ঞান মনে করবে এবং তা ভঙ্গ করবে। সে বলে আমার অন্তর আপনার ভালবাসায় পূর্ণ। আমি চাই আপনার সাথে থেকে শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করতে। ইমাম মুচকি হেসে তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং অবশেষে বলেন যে হে ইবনে মুলজাম! তুমিই আমাকে হত্যা করবে। (মেসবাহে কাফআমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৯, কাশফুল গুম্মা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৩৬, কাফি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৫২, আলামুল ওয়ারা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩০৯, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৯৫, পৃষ্ঠা ১৯৬)
2. ইমাম হাসান (আ.)এর বাইয়াত গ্রহণ
সন ৪০ হিজরী ২১শে রমজান তারিখে ইমাম আলী (আ.)এর শাহাদতের পরে মুসলমানরা ইমাম হাসান (আ.)এর কাছে বাইয়াত করেন। (কাশফুল গুম্মা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৩৮, আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৯, তারিখে দামেস্ক, খন্ড ১৩, পৃষ্ঠা ২৬২, বিহারুল আওয়ার, খন্ড ৪৩, পৃষ্ঠা ৩৬২)
3. ইবনে মুলজামকে হত্যা
ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে সন ৪০ হিজরী ২১শে রমজান তারিখে হজরত আলী (আ.) তাঁর জীবনের অন্তিম সময়ে ইবনে মুলজাম সম্পর্কে তার সন্তানদের ওসিয়ত করেন। ইমাম (আ.)’এর শাহাদতের পরে যখন ইবনে মুলজামকে ইমাম হাসান (আ.)’এর সমীপে উপস্থিত করা হয় তখন তিনি তরবারির এক আঘাতে ইবনে মুলজাম’এর কেসাস করেন। আর উক্ত ঘটনাটি ২১শে রমজান ঘটে। আসওয়াদ নাখয়ি’এর কন্যা উম্মে হেয়সাম ইবনে মুলজাম’এর লাশকে নেয় এবং তা পুড়িয়ে ফেলে। (আল ইরশাদ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২২, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪২, পৃষ্ঠা ২৩২, ২৪৬, ২৯৮, ইয়ানাবিউল মোয়াদ্দাত, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩২, রওযাতুল ওয়ায়েযিন, পৃষ্ঠা ১৩৪, আনওয়ারুল আলাভিয়া, পৃষ্ঠা ৩৭০)
২৩শে রমজান
কোরআন নাযিল হয়
বিভিন্ন বর্ণনামতে ২৩শে রমজান তারিখে পবিত্র কোরআন নাযিল হয়। (বিহারুল আলওয়ার, খন্ড ৯৪, পৃষ্ঠা ২৫, কাফি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৬২৯, তাফসিরে আইয়াশি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৮০, মাশারুশ শিয়া, পৃষ্ঠা ১০)
২৪শে রমজান
আবু লাহাবের মৃত্যু
বদরের যুদ্ধে মুশরিকদের পরাজয়ের খবর শোনার ৭ অথবা ৯ দিন পরে গোশতের পঁচন রোগে আক্রান্ত হয়। একটি দীর্ঘ সময় ধরে অসহনীয় কষ্ট ভোগ করার পর সে ২৪শে রমজান তারিখে মারা যায়। তার সন্তানরা তার উক্ত রোগের ভয়ে তাকে মক্কার শেষ প্রান্তে নিয়ে যায় এবং দুর থেকে পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে তাকে দাফন করার চেষ্টা করে। নাফায়েহুল আলাম, পৃষ্ঠা ৪৬৩, তারিখে দামেস্ক, খন্ড ৬৭, পৃষ্ঠা ১৭৩, সেররুল সিলসিলাতুল আলাভিয়া, পৃষ্ঠা ৩)
রেওয়ায়েতের এক বর্ণনা অনুযায়ি হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) ৩য় রমজান তারিখে শাহাদত বরণ করেন। (শারহে এহকাকুল হাক, খন্ড ২৫, পৃষ্ঠা ১৫, আয যুররিয়াতুত তাহেরা, পৃষ্ঠা ১১০, মুসতাদরাকে হাকেম, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৬২, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ২২, পৃষ্ঠা ১৬৭)

