Press "Enter" to skip to content

শিয়া বর্ষপঞ্জিকা (আরবী বর্ষে বিভিন্ন দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি) – ২

প্রসঙ্গ: সফর মাস

সংঙ্কলন ও অনুবাদ: এস, এ, এ

১ম সফর

1.      শামে ইমাম হুসাইন (আ.)এর কাটা মাথা

১ম সফর তারিখে ইমাম হুসাইন (আ.)এর কাটা মাথাকে শামে আনা হয়। আর এ কারণে বণি উমাইয়ারা উক্ত তারিখে ঈদ উৎযাপন করেছিল।  (মেসবাহে কাফআমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৬, তৌযিহুল মাকাসিদ, পৃষ্ঠা ৫, মেসবাহে কাফআমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৬, কালায়েদুন নাহুর, খন্ড মহরম সফর, পৃষ্ঠা ৩৪১, আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৫)

2.     শামে বন্দি অবস্থায় আহলে বাইত (আ.)

১ম সফর তারিখে যখন এজিদ শুনতে পাই যে আহলে বাইত (আ.)গণ বন্দি অবস্থায় শামের কাছে পৌছে গেছে তখন সে শামবাসীদের জন্য নিন্মোক্ত নির্দেশাবলি জারি করে:

  • মূল্যবান পাথর দ্বারা মুকুট এবং আকর্ষণীয় মঞ্চ তৈরি কর।
  • বিভিন্ন ব্যাক্তিত্বদের দাওয়াত এবং সারা শহরকে সুসজ্জিত করা হোক।
  • শহরের লোকজন যেন নিজেকে পরিপাটি এবং নতুন পোষাক পরিধান করে উপস্থিত হয়।
  • সকলেই যেন একে অপরকে অভিনন্দন জানায়।
  • সার্বিক প্রস্তুতির পরে সকলে যেন ঢোল এবং শিঙা বাজিয়ে বন্দিদের আগমণকে উপভোগ করে।
  • ঝাড়ুদারগণ সারা শহরকে ঝাড়ু দেয় এবং যারা খলিফা এজিদকে ভালবাসে তারা যেন আজকে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। (আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৫, মাআলীউস সিবতাইন, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৪০, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৯৪, আয মদীনা তা মদীনা, পৃষ্ঠা ৮৯৬- ৮৯৯)

3.     সিফফিনের যুদ্ধ

সন ৩৮ হিজরী রোজ বুধবার ১ম সফর তারিখে সিফফিনের যুদ্ধ শুরু হয়। উক্ত যুদ্ধে ইমাম আলী (আ.)এর সৈন্য সংখ্যা ছিল ৯০ হাজার এবং মাবিয়ার সৈন্য সংখ্যা ছিল ৮৫ হাজার। মাবিয়ার নির্দেশে এক পর্যায়ে ইমাম আলী (আ.)এর সৈন্যদের জন্য পানিকে বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু ইমাম আলী (আ.)এর সেনাদল যখন আবার পানির উৎসকে নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় কিন্তু মাবিয়ার সেনাদলের জন্য পানিকে বন্ধ করে দেয় না। মাবিয়া যুদ্ধে মুসলিম জাহানের খলিফা ইমাম আলী (আ.)কে পরাজয় এবং মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির লক্ষ্যে কোরআনকে বর্শার উপরে তুলে সন্ধির মিথ্যা আশ্বাস দেয়। আর ‍উক্ত ঘটনার কারণে খারেজী নামের বিভ্রান্ত দলটির সৃষ্টি হয়।  (আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৬- ৩০, তৌযিহুল মাকাসিদ, পৃষ্ঠা ৫, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৩২, পৃষ্ঠা ৪৫৮, তাতেম্মাতুল মুনতাহা, পৃষ্ঠা ২৪, মদীনাতুল মাআজেয, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৩৯)

২য় সফর

1.      এজিদের দরবারে আহলে বাইত (আ.)

সন ৬১ হিজরী ২য় সফর তারিখে আহলে বাইত (আ.)দেরকে বন্দি অবস্থায় পাপিষ্ঠ এজিদের দরবারে উপস্থিত করা হয়। (কালায়েদুনন নুহুর, খন্ড মহরম ওয়া সফর, পৃষ্ঠা ৩৫৩)

2.     যায়দ বিন আলী বিন হুসাইন (আ.) এর শাহাদত

যায়দ বিন আলী বিন হুসাইন (আ.)কে ১ম সফর দিনে ১২১ হিজরীতে বণি উমাইয়ার বিরোধিতা ও বিপ্লবী আন্দোলন করার কারণে তাকে ৪২ বছর বয়সে কুফায় শহীদ করা হয়। দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, ১৯ রবিউল আওয়াল তারিখে তার কবরকে খোঁড়া হয় এবং তার দেহকে কবর থেকে বাহির করে দড়ি দিয়ে টানা হয় এবং অবশেষে তাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়।  (মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৬৭, তাবাকাতুল কুবরা, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩২৬, তারিখে তাবারী, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪৯৯- ৫০৩, সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫২২, তারিখে দামেস্ক, খন্ড ১৯, পৃষ্ঠা ৪৫৬, ৪৭৬)

৩য় সফর

ইমাম মোহাম্মাদ বাকের (আ.) এর জন্মদিবস

এক বর্ণনামতে ইমাম মোহাম্মাদ বাকের (আ.) সন ৫৭ হিজরীর ৩য় সফর তারিখে জন্মগ্রহণ করেন।

৫ই সফর

হজরত রুকাইয়া (সা.আ.) এর শাহাদত

সন ৬১ হিজরীর ৫ই সফর তারিখে হজরত রুকাইয়া (সা.আ.)এর শাহাদত। এছাড়াও তাঁকে ফাতেমা এবং জয়নাব নামেও অভিহিত করা হতো। তাঁর পিতার নাম ইমাম হুসাইন (আ.)। তিনি তিন বছর বয়সে তাঁর পিতার সাথে কারবালায় উপস্থিত ছিলেন।  যদিও ইমাম হুসাইন (আ.)এর ছোট কন্যা যিনি আমাদের কাছে রুকাইয়া অথবা ফাতেমা সুগরা নামে পরিচিত। কিন্তু অনেক ঐতিহাসিকগণ তাদের স্বীয় গ্রন্থে তাঁর নামকে উল্লেখ করেনি। আবার কিছু ইতিহাস গ্রন্থে তাঁর জীবনি, কারবালাতে তার উপস্থিতি এমনকি শামে তাঁর হৃদয়বিদারক শাহাদতের ঘটনাও বর্ণনা করা হয়েছে যেমন: যখন হজরত জয়নাব (সা.আ.) কুফাতে তাঁর ভাই ইমাম হুসাইন (আ.)’এর কাটা মাথার দিকে দৃষ্টিপাত করতেন তখন তিনি এভাবে শোকগাঁথা পাঠ করে বলতেন: হে আমার ভাই! তুমি আামদের ছোট ফাতেমার সাথে কথা বল যেন সে মারা না যায়।

ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর জিবনের অন্তিম মূহুর্তে (সিমার তার গলা কাটার সময়) বলেন: হে জয়নাব, সকিনা এবং আমার সন্তানরা! এখন কে তোমাদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে? হে রুকাইয়া! উম্মে কুলসুম আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কাছে আমানত স্বরূপ ছেড়ে যাচ্ছি কেননা আমার নির্ধারিত সময় কয়েক মূহুর্তের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।  (মুনতাখাবুত তাওয়ারিখ, পৃষ্ঠা ৩৮৮, কামেলে বাহায়ি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৭৯, নাফসুল মাহমুম, পৃষ্ঠা ৪৫৬- ৪৫৭, আয মদীনা তা মদীনা, পৃষ্ঠা ৯৫৫- ৯৫৬, আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৭০- ৮৫)

৭ই সফর

ইমাম হাসান (আ.) এর শাহাদত

সন ৫০ হিজরীর ৭ই সফর তারিখে ইমাম হাসান (আ.) ৪৭ বছর বয়সে শাহাদত বরণ করেন। তবে শিয়া আলেমগণের মাঝে প্রসিদ্ধ যে, তিনি ২৮ সফর শাহাদত বরণ করেন। মাবিয়ার সাথে সন্ধি হওয়ার পরে যখন তিনি মদীনায় ফিরে আসেন এবং সেখানেই তিনি ১০ বছর অতিবাহিত করেন। কিন্তু মাবিয়া চক্রান্ত করে বেহেশতের যুবকদের সর্দার ইমাম হাসান (আ.) কে তাঁর স্ত্রী জো’অদার মাধ্যেমে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে শহীদ করে। বিষ প্রদানের মাত্র  ৪০ দিন পরেই ইমাম হাসান (আ.) শাহদত বরণ করেন।  (দালায়েলুল ইমামা, পৃষ্ঠা ৩০৩, তৌযিহুল মাকাসিদ, পৃষ্ঠা ৬, মেসবাহে কাফআমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৮, আদ দুরুস, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৮, বাশারাতুল মোস্তফা, পৃষ্ঠা ১৯৯)

৮ই সফর

হজরত সালমান ফার্সী (রা.) এর ওফাত

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পরে হযরত সালমান ফার্সী (রা.) খুব সাধারণভাবে জীবন-যাপন করতেন। তাঁর কোন স্থায়ী আবাসস্থল ছিল না। তিনি হয় গাছের নীচে নতুবা দেয়ালের পাশে রাত্রি যাপন করতেন। বাগদাদের নিকটে একটি এলাকার গভর্নর হিসাবে তিনি পাঁচ হাজার দিরহাম বেতন পেতেন। কিন্তু তিনি পুরোটাই সদক্বা স্বরূপ বিতরণ করে দিতেন। তিনি সবসময় নিজ উপার্জন দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করতেন। একবার কিছু লোক মদীনায় এসে যখন সালমান (রা.) খেজুর গাছের নীচে কাজ করতে দেখলেন, তখন তারা বললেন, “আপনি এখানের নেতা এবং আপনার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত তবুও আপনি এই সমস্ত কাজ করছেন?” সালমান ফার্সী (রা.) উত্তরে বললেন- “আমি নিজ হাতের কাজ দ্বারা অর্জিত আয় দ্বারা খেতে পছন্দ করি।”

সালমান ফার্সী (রা.) সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: সালমান আমার আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি তাদের একজন জান্নাত যাদের আগমনের প্রত্যাশী। সন ৩৬ হিজরী হজরত সালমান ফার্সী (রা.) ২৫০ অথবা ৩৫০ বছর বয়সে মাদায়েনে মৃত্যুবরণ করেন।  (আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩২৫, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৯৪, মারাকেদুল মাআরেফ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৬৩, আল এসাবা, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ১১৮, এখতিয়ারু মাআরেফাতির রেজাল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৪)

৯ই সফর

1.      হজরত আম্মার এবং খুযাইমা (রা.)এর শাহাদত

সন ৩৭ হিজরীর ৯ই সফর তারিখে সিফফিনের যুদ্ধে মাবিয়া কর্তৃক হজরত আম্মারে ইয়াসীর (রা.) ৯৩ বছর বয়সে এবং খুযাইমা বিন সাবিত শাহাদত বরণ করেন। হজরত আম্মার (সা.) এর পিতা ছিলেন ইয়াসির বিন আমের যাকে মক্কার মুশরিকরা শহীদ করে এবং তাঁর মা সুমাইয়া যাকে আবু জেহেল শহীদ করে। যখন ইমাম আলী (আ.) তাঁর শাহাদতের সংবাদ পান তখন তিনি হজরত আম্মারের কাছে আসেন এবং তাঁর মাথাকে নিজের কোলে তুলে ক্রন্দন করেন।  (মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৯৪, তৌযিহুল মাকাসিদ, পৃষ্ঠা ৬, মারাকেদুল মাআরেফ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১০০, জাওয়াহেরুল মাতালেব, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৪, মুরুজুয যাহাব, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৯১)

  1. নাহরাওয়ানের যুদ্ধ

সন ৩৯ হিজরীর ৯ই সফর তারিখে নাহরাওয়ানের যুদ্ধ শুরু হয়। খোলাফায়ে রাশেদীনের চতূর্থ খলিফা ইমাম আলী (আ.) এর বিরূদ্ধে উক্ত যুদ্ধে খারেজীরা অংশগ্রহণ করে।   (মানাকেবে ইবনে শাহর আশুব, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২২০, মানাকেবে আলে আবি তালিব, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২২০, মোয়জামে রেজালুল হাদিস, খন্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৩৬৭, নাফসুর রাহমান ফি ফাযায়েলে সালমান (রা.), পৃষ্ঠা ২৬১, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৫৬, পৃষ্ঠা ১৩৮)

১১ই সফর

লাইলাতুল হারির

সন ৩৮ হিজরীর ১১ই সফর তারিখে শুক্রবার রাতটি ইতিহাসে “লাইলাতুল হারির” নামে পরিচিত। উক্ত রাতে মাবিয়ার সৈন্যরা ঠান্ডার কারণে কাতরাচ্ছিল যা অনেকটা কুকুরের কাতরানোর ন্যায় ছিল। অভিধানে কুকুরের চিৎকারকে হারির বলা হয়। আর এ কারণে উক্ত রাতকে লাইলাতুল হারির নামকরণ করা হয়। উক্ত রাতের যুদ্ধে ইমাম আলী (আ.) মাবিয়ার সৈন্যর প্রায় ৫০০ জনকে হত্যা করেন।  (মুনতাখাবুত তাওয়ারিখ, পৃষ্ঠা ১৬৩- ১৬৬, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৯৪, জাওয়াহেরুল মাতালেব, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৪, ইনসাবুল আশরাফ, পৃষ্ঠা ৩২৩, নাহজুস সাআদা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৮২)

১২ সফর

সিফফিনের যুদ্ধে শাষক নির্বাচন

সন ৩৮ হিজরীর ১২ই সফর তারিখের সকাল বেলা ইমাম আলী (আ.) এর সৈন্যরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়। কিন্তু উমরে আস তার কুটবুদ্ধি খাটিয়ে মাবিয়ার সেনাদেরকে নির্দেশ দেয় তারা যেন প্রথম সারিতে কোরআনকে বর্শার মাথায় তুলে “লা হুকমা ইল্লা লিল্লাহ” বলে শ্লোগান দেয়। উক্ত অবস্থা দেখে আশআশ বিন কাইস ইমাম আলী (আ.) কে বলে আমরা কোরআনের সাথে লড়াই করতে পারবো না। তার চেয়ে উত্তম আসুন আমরা উভয় দল মিলে আমাদের জন্য শাষক নির্বাচন করি। ইমাম আলী (আ.) তাদেরকে মাবিয়ার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবগত করলেও তারা যুদ্ধ করতে রাজি হয়নি। অবশেষে তারা ইমাম আলী (আ.)কে শাষক নির্বাচনের জন্য বাধ্য করে। অবশেষে আবু মুসা আশআরিকে ধোকা দিয়ে উমরে আস মাবিয়াকে শাষক নির্বাচন করে। তখন আবু মুসা আশআরী ইমাম আলী (আ.) এর সেনাদের ভয়ে মক্কায় পলায়ণ করে।  (মুসতাদরাকে ওসায়েল, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪১০, নাহজুস সাআদা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৮২, মুনতাখাবুত তাওয়ারিখ, পৃষ্ঠা ১৬৫, জাওয়াহেরুল মাতালেব, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৪, তারিখে ইবনে খালদুন, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৭৪)

১৩ই সফর

খারেজি ফেরকার সৃষ্টি

১৩ই সফর তারিখে সিফফিনের যুদ্ধে উমরে আসের বিচারক নির্ধারনের ষড়যন্ত্রের কারণে খারেজি ফেরকার সৃষ্টি হয়। (মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৯৪)

১৪ই সফর

মোহাম্মাদ বিন আবু বকরের শাহাদত

সন ৩৮ হিজরীর ১৪ই সফর তারিখে মোহাম্মাদ বিন আবু বকর ২৮ বছর বয়সে মাবিয়া এবং উমরে আসের কারণে শাহাদত বরণ করেন। ইমাম আলী (আ.) এর খেলাফতকালে তিনি মিশরের শাষক ছিলেন। মিশরের “কুম শারিক” নামক স্থানে তাকে শহীদ করা হয়। শাহাদতের পরে তার দেহকে শত্রুরা মৃত গাধার পেটে ভরে জ্বালিয়ে দেয়। আহলে বাইত বিদ্বেষীরা মোহাম্মাদ বিন আবু বকরের কবরের কাছে যেয়ে তার কবরের দিকে পিঠ ঘুরিয়ে হজরত আবু বকরের উপরে সুরা ফাতিহা পাঠ করে।  (ফাইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ২৪৯- ২৫০, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২১২, ওয়াকায়েউশ শুহুর, পৃষ্ঠা ৫০, কালায়েদুন নুহুর, পৃষ্ঠা ৩৯৫, ফেইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ২৪৯)

১৫ই সফর

রাসুল (সা.) অসুস্থ হয়ে পড়েন

১৫ই সফর তারিখে রাসুল (সা.) অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং উক্ত অসুখে তিনি আরো তের দিন যন্ত্রণা ভোগ করেন এবং অবশেষে উক্ত রোগের কারণে তিনি ওফাত পান।  (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৩৩, পৃষ্ঠা ৬৩৩, তাফসিরে কুম্মি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৭৫)

১৭ই সফর

ইমাম রেযা (আ.) এর শাহাদত

ইতিহাসের এক বর্ণনামতে সন ২০৩ হিজরীর ১৭ই সফর তারিখে ইমাম রেযা (আ.) ৫১ বছর বয়সে শাহাদত বরণ করেন। আব্বাসীয় খলিফা মামুন বিষ মিশ্রিত আঙ্গুর ইমাম রেযা (আ.) কে খেতে বাধ্য করে। উক্ত বিষের প্রভাবের কারণেই তিনি শাহাদত বরণ করেন।  (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৯, পৃষ্ঠা ২২৩)

২০শে সফর

1.      ইমাম হুসাইন (আ.)এর চল্লিশা

সন ৬১ হিজরী ইমাম হুসাইন (আ.)এর শাহাদতের পরে ২০শে সফর তারিখে জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রা.) তাঁর কিছু সঙ্গীদের সাথে নিয়ে কারবালাতে ইমাম হুসাইন (আ.) এর যিয়ারত করতে আসেন। ইমাম হুসাইন (আ.)এর পরিবার পরিজনও উক্ত তারিখে কারবালাতে ফিরে আসেন।  (ওসায়েলুশ শিয়া, খন্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৪৭৮, মেসবাহুল মোতাহাজজেদ, পৃষ্ঠা ৭৮৮, তাহযিবুল আহকাম, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ৫২, ইকবাল, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১০০, আওয়ালেউল লেআলী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৭)

2.     আহলে বাইত (আ.)এর কারবালায় প্রত্যাবর্তন

ইতিহাসে প্রসিদ্ধ এবং সহীহ বর্ণনামতে আহলে বাইত (আ.) ২০শে সফর তারিখে শাম থেকে কারবালাতে ফিরে আসেন। (তৌযিহুল মাকাসিদ, পৃষ্ঠা ৬- ৭, মাআলীউস সিবতাইন, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৯১, ইকবালুল আমাল, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১০০, যাদুল মাআদ, পৃষ্ঠা ৩৩২, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৯৮, পৃষ্ঠা ৩৩৪)

3.     ইমাম হুসাইন (আ.) এর মস্তক দাফন

২০শে সফর তারিখে ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) ইমাম হুসাইন (আ.) এর মাথাকে তাঁর শরীরের সাথে লাগিয়ে কারবালাতে দাফন করে দেন।  (ওসায়েলুশ শিয়া, খন্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৪০৩, ইকবালুল আমাল, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৯৮, শারহে এহকাকুল হাক, খন্ড ৩৩, পৃষ্ঠা ৭০৩, লহুফ, পৃষ্ঠা ২২৫, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৪, পৃষ্ঠা ১৯৯)

২৩শে সফর

হজরত সালেহ ও হজরত ইউনুস (আ.) বীপদ

২৩শে সফর তারিখে হজরত সালেহ (আ.)এর মাদী উটের পা কেটে ফেলা হয়। হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেটে আটকে পড়েন।

২৪শে সফর

রাসুল (সা.) ওসিয়ত লিখার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান

সন ১১ হিজরী ২৪শে সফর তারিখ রাসুল (সা.) তাঁর জীবনের অন্তিম সময়গুলো অতিবাহিত করছিলেন। রাসুল (সা.)এর চারিপাশে মুহাজির এবং আনসারগণ উপস্থিত ছিলেন। রাসুল (সা.) তাঁদের প্রতি দৃষ্টিপাত করে বুঝতে পারেন যে তাঁর ওফাতের পরে উম্মতেরা বিভিন্ন দল ও মতে বিভক্ত হয়ে পড়বে, তাঁর আহলে বাইত (আ.)এর প্রতি তারা অত্যাচার করবে। তিনি তাঁর উম্মতকে বিভ্রান্তি ও বিচ্যুতি থেকে মুক্তি দেয়ার উদ্দেশ্যে ওসিয়ত লিখার জন্য কাগজ ও কলম চান যেন তাঁর উম্মত তাঁর পরে পথভ্রষ্ট না হয় এবং হজরত আলী (আ.)কে তাঁর পরে মুসলিম জাহানের খলিফা স্বরূপ মেনে নেয়। কিন্তু হজরত উমর রাসুল (সা.)এর ওসিয়ত লিখার কাজে বাধা দান করতে বাধা প্রদান করে বলেন: “নাউযুবিল্লাহ” রাসুল ভুল বকছেন এবং আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট।  হজরত উমরের উক্ত কথার কারণে সাহাবীদের মধ্যে দ্বন্দ শুরু হয়। কেউ বলে কাগজ ও কলম দেয়া হোক আবার কেউ বলছিল না। এমতাবস্থায় রাসুল (সা.) বলেন: তোমরা আমার কাছ থেকে দূর হয়ে যাও। কেননা আমার সম্মুখে ঝগড়া ও দ্বন্দ করা জায়েয না। অতঃপর তারা সেখান থেকে প্রস্থান করে।  (মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৯৫, কিতাবে সুলাইম বিন কাইস, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৭৯৪, গায়াতুল মারাম, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ৯৫, ৯৭, মাকাতিবুর রাসুল, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৬৯৭, তাবাকাতুল কুবরা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৪৩- ২৪৫)

২৫শে সফর

রাসুল (সা.) এর নির্দেশ

২৫শে সফর তারিখে রাসুল (সা.) অসুস্থ অবস্থায় মেম্বারে আরোহন করেন এবং খুৎবা প্রদানের পরে তাঁর উম্মতকে নির্দেশ দেন তারা যেন সাকালাইনের (কোরআন ও আহলে বাইত (আ.)) অনুসরণ করে।  (সিরাতুল মুস্তাকিম, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১০২, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৯৫, সিরাতুল মুস্তাকিম, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১০২, তরিখে ইয়াকুবি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১১৩, আল মেলাল ওয়ান নাহল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩)

২৬শে সফর

উসামা (রা.)এর সৈন্যর প্রস্তুতি

সন ১১ হিজরীর ২৬শে সফর তারিখে রাসুল (সা.) তাঁর কিছু বিশেষ সাহাবীদেরকে (হজরত আবু বকর, উমর এবং উসমান) উসামার নেতৃত্বে রোমীয়দের সাথে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত হওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু তারা উসামার নেতৃত্বে যুদ্ধে যেতে রাসুল (সা.)এর অবাধ্যতা করে। তখন রাসুল (সা.) তাদেরকে উদ্দেশ্যে করে বলেন: আল্লাহর অভিসম্পাত হোক তাদের উপরে যারা আমার অবাধ্যতা করেছে।  (তাবাকাতে ইবনে সাআদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩৬, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৫,পৃষ্ঠা ৩৬, সিরাতুল মুস্তাকিম, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৯৭, তাবাকাতুল কুবরা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৪৮, শারহে নাহজুল বালাগা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৫৯)

২৮শে সফর

1.      রাসুল (সা.)এর ওফাত

সন ১১ হিজরীর ২৮শে সফর তারিখে রাসুল (সা.) ৬৩ বছর বয়সে ওফাত পান। বর্তমানে মদীনা মুনাওয়ারার যেখানে তার মাজার রয়েছে সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর ওফাতের পরে ইমাম আলী (আ.) তাকে গোসল দেন কাফন পরান এবং জানাযার নামাজ পড়ান। উক্ত জানাযার নামাজে বণি সাকিফাতে অংশগ্রহণকারী ব্যাক্তিরা ব্যাতিত অন্যান্য সাহাবীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।  (কাফি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯৬, তাহযিবুল আহকাম, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২, আলামুল ওয়ারা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৫, ৫৩, ২৬৯, আল খারায়েজ ওয়াল জারায়েহ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৮, ২২৪, তাফসিরে কানযুল দাকায়েক, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৫১)

2.     হজরত আলী (আ.)এর ইমামতের প্রথম দিন

সন ১১ হিজরীর ২৮শে সফর তারিখের দিনটি ছিল ইমাম আলী (আ.)এর ইমামতের প্রথম দিন। উক্ত দিনে ইমাম আলী (আ.)এর যিয়ারত পাঠ করা মুস্তাহাব।  (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৯৭, খন্ড পৃষ্ঠা ৩৮৪, তৌহফাতুয যায়ের, পৃষ্ঠা ১৪২)

3.     ইমাম হাসান (আ.)এর শাহাদত দিবস

সন ৫০ হিজরীরর ২৮শে সফর তরিখটি হচ্ছে ইমাম হাসান (আ.)এর শাহাদত দিবস। এছাড়াও ইমাম হাসান (আ.)এর শাহাদত দিবস সম্পর্কে অন্যান্যমত বর্ণিত হয়েছে যেমন: সফর মাসের শেষে, ৫ই রবিউল আওয়াল।  ইমাম হাসান (আ.) এর হত্যার কারণ ইতিহাসে এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জো’অদা বিন আশআশ মাবিয়ার ষড়যন্ত্রের কারণে ইমাম হাসান (আ.)কে বিষ দান করে। কারণ মাবিয়া তাকে ওয়াদা করেছিল যে, ইমাম হাসান (আ.)কে মেরে ফেলতে পারলে তাকে ১ লক্ষ দিরহাম দান করবে এবং এজিদের সাথে তার বিবাহ দিবে। জো’অদা বিন আশআশ ইমাম হাসান (আ.)কে বিষ দেয়ার ৪০ দিন পরে বিষের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। একটি বড় পাত্রে তাঁর কলিজার অংশ বমির মাধ্যমে উঠে আসতে থাকে। তিনি ইমাম হুসাইন (আ.) কে বলেন: আমি  জানি কে আমাকে বিষ দিয়েছে। কিন্তু আমার পরে তুমি কখনও তার সম্পর্কে কাউকে কিছুই বলবে না। কিন্তু ইমাম হাসান (আ.)এর মৃত্যুর পরে তাকে ১লক্ষ দিরহাম দান করেন কিন্তু এজিদের সাথে তার বিবাহ দেয় না। হাসান (আ.) এর শাহাদতের পরে ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁকে গোসল ও কাফন দেন, জানাযার নামাজ পড়ান। অতঃপর তাকে রাসুল (সা.) এর পাশে দাফন করার জন্য নিয়ে যান। তখন মারওয়ান এবং বণি উমাইয়ার কিছু ব্যাক্তিবর্গের সাথে হজরত আয়েশা তাঁর লাশকে সেখানে দাফন করতে বাধা দেয় এমনকি তার লাশের উপরে তীর বর্ষণ করার নির্দেশ দেয়া হয়। অবশেষে তাঁর লাশকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।  (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৪, পৃষ্ঠা ১৪২,  ১৬১, আলামুল ওয়ারা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪০৩, মুনতাহিউল আমাল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩১, কাশফুল গুম্মা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৮৪, তারিখে খোলাফা, পৃষ্ঠা ১৯২)

৩০শে সফর

ইমাম রেযা (আ.) এর শাহাদত দিবস

একদা ইমাম রেযা ( আঃ ) সকালের নামায আদায় করলেন। নতুন জামা পরে তিনি মেহরাবে বসলেন। মনে হচ্ছিল যেন তিনি জানতেন কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। তাঁর চেহারা অন্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি উজ্জল দেখাচ্ছিল। ইমান আর প্রেমের পৃথিবী যেন তাঁর চোখগুলোতে তরঙ্গায়িত হচ্ছিল। হঠাৎ মামুনের দূত তাঁর ঘরে এসে বললো-খলিফা মামুন আবাল হাসান বা ইমাম রেযা (আ) কে তার কাছে ডেকে পাঠিয়েছেন। ইমাম তখনি দূতের সাথে রওনা হলেন। মামুন আনন্দের সাথে ইমামকে স্বাগত জানালো। মামুন বহুভাবে জনগণের কাছে ইমামের জনপ্রিয়তা খর্ব করতে এবং ইমামের গ্রহণযোগ্যতা কমাতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেসব কোনো কাজেই আসে নি। মামুন ভালোভাবেই জানতো যে যতোদিন ইমামের অস্তিত্ব জনগণের সামনে সূর্যের মতো দেদীপ্যমান থাকবে,ততোদিন জনগণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা থাকবে সূর্যের সামনে মোমের আলোর মতো নি®প্রভ। এ বিষয়টি মামুনকে সবসময় ভাবিয়ে তুলতো।

মামুন একটু হাঁটলো। মুখে কোনো কিছু বললো না। বড়ো একটা ফলের ঝুড়ি থেকে এক গুচ্ছ আঙ্গুর তুলে নিয়ে কটা খেল। তারপর ইমামের সামনে গিয়ে তাঁর দু’চোখের ঠিক মাঝখানটায় চুমু খেল। ইমামের হাতে আঙ্গুরের আরেকটি গুচ্ছ দিয়ে বললো-হে রাসূলের সন্তান!এর চেয়ে ভালো আঙ্গুর আর দেখি নি। ইমাম বাক-নৈপুণ্যের সাথে জবাব দিলেন-কিন্তু বেহেশতের আঙ্গুর এরচেয়েও সুস্বাদু এবং মজার। মামুন সৌজন্য দেখিয়ে ইমামকে ঐ আঙ্গুর খেতে বললো। ইমাম খেতে চাইলেন না। কিন্তু মামুন আঙ্গুর খাওয়ার জন্যে ইমামকে খুবই পীড়াপীড়ি করলো। জোর করে সে ইমামকে ঐ আঙ্গুর খাওয়ালো। বিষাক্ত ঐ আঙ্গুর খাবার পর ইমামের ঠোঁটের কোণে তিক্ততার হাসি ফুটে উঠলো। হঠাৎ তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটলো। আঙ্গুরের গুচ্ছকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পা বাড়ালেন।

আবাসাল্ত ছিলেন ইমাম রেযা (আ) এর ঘনিষ্টদের একজন। তিনি ইমামকে আনন্দিত হলেন। কেননা নবী পরিবারের সন্তান ছিলেন ইমাম। আর ইমামের মহান ব্যক্তিত্বের আলোয় তিনি আলোকিত হতে পারবেন-এরকম চিন্তা ছিল তার। তার দৃষ্টিতে ইমাম সবার অন্তরকে আলোকিত করতেন। ইমামকে স্মরণ করে তিনি বলেছেন-‘ইমাম এবং নেতা, যমিনে আল্লাহর বান্দাদের ওপর তাঁর বিশ্বস্ত বান্দা ও হুজ্জাত…আল্লাহর পথে আহ্বানকারী এবং তাঁর আদেশ-নিষেধের সীমারেখা রক্ষাকারী। ইমাম গুনাহ থেকে মুক্ত এবং দোষ-ত্র”টি থেকে দূরে ছিলেন। জ্ঞানের আলোয় সমৃদ্ধ ছিলেন তিনি এবং ছিলেন অপরিসীম সহনশীল। ইমাম ছিলেন মুসলমানদের মান-মর্যাদা,গর্ব ও সম্মান এবং দ্বীনের সুরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী ।

আবা সালত এইসব চিন্তা করছিলেন। সেজন্যে ইমামের অবস্থাটা বুঝে উঠতে পারছিলেন না। কিছুক্ষণের মধ্যেই ইমাম শাহাদাতবরণ করলেন। সৈয়দ ইবনে তাউস (রা.) থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েত অনুযায়ি ইমাম রেযা (আ.) সন ২০৩ হিজরীর উক্ত তারিখে ৫১ অথবা ৫৫ বছর বয়সে শাহাদত বরণ করেন।  (কাশফুল গুম্মা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৬৭, কাফি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৮৬, আলামুল ওয়ারা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৪১, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৯৬, মুরুজুয যাহাব, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৮)


১ম সফর

1.      শামে ইমাম হুসাইন (আ.)এর কাটা মাথা

১ম সফর তারিখে ইমাম হুসাইন (আ.)এর কাটা মাথাকে শামে আনা হয়। আর এ কারণে বণি উমাইয়ারা উক্ত তারিখে ঈদ উৎযাপন করেছিল।  (মেসবাহে কাফআমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৬, তৌযিহুল মাকাসিদ, পৃষ্ঠা ৫, মেসবাহে কাফআমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৬, কালায়েদুন নাহুর, খন্ড মহরম সফর, পৃষ্ঠা ৩৪১, আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৫)

2.     শামে বন্দি অবস্থায় আহলে বাইত (আ.)

১ম সফর তারিখে যখন এজিদ শুনতে পাই যে আহলে বাইত (আ.)গণ বন্দি অবস্থায় শামের কাছে পৌছে গেছে তখন সে শামবাসীদের জন্য নিন্মোক্ত নির্দেশাবলি জারি করে:

  • মূল্যবান পাথর দ্বারা মুকুট এবং আকর্ষণীয় মঞ্চ তৈরি কর।
  • বিভিন্ন ব্যাক্তিত্বদের দাওয়াত এবং সারা শহরকে সুসজ্জিত করা হোক।
  • শহরের লোকজন যেন নিজেকে পরিপাটি এবং নতুন পোষাক পরিধান করে উপস্থিত হয়।
  • সকলেই যেন একে অপরকে অভিনন্দন জানায়।
  • সার্বিক প্রস্তুতির পরে সকলে যেন ঢোল এবং শিঙা বাজিয়ে বন্দিদের আগমণকে উপভোগ করে।
  • ঝাড়ুদারগণ সারা শহরকে ঝাড়ু দেয় এবং যারা খলিফা এজিদকে ভালবাসে তারা যেন আজকে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। (আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৫, মাআলীউস সিবতাইন, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৪০, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৯৪, আয মদীনা তা মদীনা, পৃষ্ঠা ৮৯৬- ৮৯৯)

3.     সিফফিনের যুদ্ধ

সন ৩৮ হিজরী রোজ বুধবার ১ম সফর তারিখে সিফফিনের যুদ্ধ শুরু হয়। উক্ত যুদ্ধে ইমাম আলী (আ.)এর সৈন্য সংখ্যা ছিল ৯০ হাজার এবং মাবিয়ার সৈন্য সংখ্যা ছিল ৮৫ হাজার। মাবিয়ার নির্দেশে এক পর্যায়ে ইমাম আলী (আ.)এর সৈন্যদের জন্য পানিকে বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু ইমাম আলী (আ.)এর সেনাদল যখন আবার পানির উৎসকে নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় কিন্তু মাবিয়ার সেনাদলের জন্য পানিকে বন্ধ করে দেয় না। মাবিয়া যুদ্ধে মুসলিম জাহানের খলিফা ইমাম আলী (আ.)কে পরাজয় এবং মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির লক্ষ্যে কোরআনকে বর্শার উপরে তুলে সন্ধির মিথ্যা আশ্বাস দেয়। আর ‍উক্ত ঘটনার কারণে খারেজী নামের বিভ্রান্ত দলটির সৃষ্টি হয়।  (আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৬- ৩০, তৌযিহুল মাকাসিদ, পৃষ্ঠা ৫, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৩২, পৃষ্ঠা ৪৫৮, তাতেম্মাতুল মুনতাহা, পৃষ্ঠা ২৪, মদীনাতুল মাআজেয, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৩৯)

২য় সফর

1.      এজিদের দরবারে আহলে বাইত (আ.)

সন ৬১ হিজরী ২য় সফর তারিখে আহলে বাইত (আ.)দেরকে বন্দি অবস্থায় পাপিষ্ঠ এজিদের দরবারে উপস্থিত করা হয়। (কালায়েদুনন নুহুর, খন্ড মহরম ওয়া সফর, পৃষ্ঠা ৩৫৩)

2.     যায়দ বিন আলী বিন হুসাইন (আ.) এর শাহাদত

যায়দ বিন আলী বিন হুসাইন (আ.)কে ১ম সফর দিনে ১২১ হিজরীতে বণি উমাইয়ার বিরোধিতা ও বিপ্লবী আন্দোলন করার কারণে তাকে ৪২ বছর বয়সে কুফায় শহীদ করা হয়। দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, ১৯ রবিউল আওয়াল তারিখে তার কবরকে খোঁড়া হয় এবং তার দেহকে কবর থেকে বাহির করে দড়ি দিয়ে টানা হয় এবং অবশেষে তাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়।  (মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৬৭, তাবাকাতুল কুবরা, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩২৬, তারিখে তাবারী, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪৯৯- ৫০৩, সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫২২, তারিখে দামেস্ক, খন্ড ১৯, পৃষ্ঠা ৪৫৬, ৪৭৬)

৩য় সফর

ইমাম মোহাম্মাদ বাকের (আ.) এর জন্মদিবস

এক বর্ণনামতে ইমাম মোহাম্মাদ বাকের (আ.) সন ৫৭ হিজরীর ৩য় সফর তারিখে জন্মগ্রহণ করেন।

৫ই সফর

হজরত রুকাইয়া (সা.আ.) এর শাহাদত

সন ৬১ হিজরীর ৫ই সফর তারিখে হজরত রুকাইয়া (সা.আ.)এর শাহাদত। এছাড়াও তাঁকে ফাতেমা এবং জয়নাব নামেও অভিহিত করা হতো। তাঁর পিতার নাম ইমাম হুসাইন (আ.)। তিনি তিন বছর বয়সে তাঁর পিতার সাথে কারবালায় উপস্থিত ছিলেন।  যদিও ইমাম হুসাইন (আ.)এর ছোট কন্যা যিনি আমাদের কাছে রুকাইয়া অথবা ফাতেমা সুগরা নামে পরিচিত। কিন্তু অনেক ঐতিহাসিকগণ তাদের স্বীয় গ্রন্থে তাঁর নামকে উল্লেখ করেনি। আবার কিছু ইতিহাস গ্রন্থে তাঁর জীবনি, কারবালাতে তার উপস্থিতি এমনকি শামে তাঁর হৃদয়বিদারক শাহাদতের ঘটনাও বর্ণনা করা হয়েছে যেমন: যখন হজরত জয়নাব (সা.আ.) কুফাতে তাঁর ভাই ইমাম হুসাইন (আ.)’এর কাটা মাথার দিকে দৃষ্টিপাত করতেন তখন তিনি এভাবে শোকগাঁথা পাঠ করে বলতেন: হে আমার ভাই! তুমি আামদের ছোট ফাতেমার সাথে কথা বল যেন সে মারা না যায়।

ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর জিবনের অন্তিম মূহুর্তে (সিমার তার গলা কাটার সময়) বলেন: হে জয়নাব, সকিনা এবং আমার সন্তানরা! এখন কে তোমাদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে? হে রুকাইয়া! উম্মে কুলসুম আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কাছে আমানত স্বরূপ ছেড়ে যাচ্ছি কেননা আমার নির্ধারিত সময় কয়েক মূহুর্তের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।  (মুনতাখাবুত তাওয়ারিখ, পৃষ্ঠা ৩৮৮, কামেলে বাহায়ি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৭৯, নাফসুল মাহমুম, পৃষ্ঠা ৪৫৬- ৪৫৭, আয মদীনা তা মদীনা, পৃষ্ঠা ৯৫৫- ৯৫৬, আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৭০- ৮৫)

৭ই সফর

ইমাম হাসান (আ.) এর শাহাদত

সন ৫০ হিজরীর ৭ই সফর তারিখে ইমাম হাসান (আ.) ৪৭ বছর বয়সে শাহাদত বরণ করেন। তবে শিয়া আলেমগণের মাঝে প্রসিদ্ধ যে, তিনি ২৮ সফর শাহাদত বরণ করেন। মাবিয়ার সাথে সন্ধি হওয়ার পরে যখন তিনি মদীনায় ফিরে আসেন এবং সেখানেই তিনি ১০ বছর অতিবাহিত করেন। কিন্তু মাবিয়া চক্রান্ত করে বেহেশতের যুবকদের সর্দার ইমাম হাসান (আ.) কে তাঁর স্ত্রী জো’অদার মাধ্যেমে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে শহীদ করে। বিষ প্রদানের মাত্র  ৪০ দিন পরেই ইমাম হাসান (আ.) শাহদত বরণ করেন।  (দালায়েলুল ইমামা, পৃষ্ঠা ৩০৩, তৌযিহুল মাকাসিদ, পৃষ্ঠা ৬, মেসবাহে কাফআমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৮, আদ দুরুস, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৮, বাশারাতুল মোস্তফা, পৃষ্ঠা ১৯৯)

৮ই সফর

হজরত সালমান ফার্সী (রা.) এর ওফাত

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পরে হযরত সালমান ফার্সী (রা.) খুব সাধারণভাবে জীবন-যাপন করতেন। তাঁর কোন স্থায়ী আবাসস্থল ছিল না। তিনি হয় গাছের নীচে নতুবা দেয়ালের পাশে রাত্রি যাপন করতেন। বাগদাদের নিকটে একটি এলাকার গভর্নর হিসাবে তিনি পাঁচ হাজার দিরহাম বেতন পেতেন। কিন্তু তিনি পুরোটাই সদক্বা স্বরূপ বিতরণ করে দিতেন। তিনি সবসময় নিজ উপার্জন দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করতেন। একবার কিছু লোক মদীনায় এসে যখন সালমান (রা.) খেজুর গাছের নীচে কাজ করতে দেখলেন, তখন তারা বললেন, “আপনি এখানের নেতা এবং আপনার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত তবুও আপনি এই সমস্ত কাজ করছেন?” সালমান ফার্সী (রা.) উত্তরে বললেন- “আমি নিজ হাতের কাজ দ্বারা অর্জিত আয় দ্বারা খেতে পছন্দ করি।”

সালমান ফার্সী (রা.) সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: সালমান আমার আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি তাদের একজন জান্নাত যাদের আগমনের প্রত্যাশী। সন ৩৬ হিজরী হজরত সালমান ফার্সী (রা.) ২৫০ অথবা ৩৫০ বছর বয়সে মাদায়েনে মৃত্যুবরণ করেন।  (আল ওয়াকায়া ওয়াল হাওয়াদেস, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩২৫, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৯৪, মারাকেদুল মাআরেফ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৬৩, আল এসাবা, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ১১৮, এখতিয়ারু মাআরেফাতির রেজাল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৪)

৯ই সফর

1.      হজরত আম্মার এবং খুযাইমা (রা.)এর শাহাদত

সন ৩৭ হিজরীর ৯ই সফর তারিখে সিফফিনের যুদ্ধে মাবিয়া কর্তৃক হজরত আম্মারে ইয়াসীর (রা.) ৯৩ বছর বয়সে এবং খুযাইমা বিন সাবিত শাহাদত বরণ করেন। হজরত আম্মার (সা.) এর পিতা ছিলেন ইয়াসির বিন আমের যাকে মক্কার মুশরিকরা শহীদ করে এবং তাঁর মা সুমাইয়া যাকে আবু জেহেল শহীদ করে। যখন ইমাম আলী (আ.) তাঁর শাহাদতের সংবাদ পান তখন তিনি হজরত আম্মারের কাছে আসেন এবং তাঁর মাথাকে নিজের কোলে তুলে ক্রন্দন করেন।  (মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৯৪, তৌযিহুল মাকাসিদ, পৃষ্ঠা ৬, মারাকেদুল মাআরেফ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১০০, জাওয়াহেরুল মাতালেব, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৪, মুরুজুয যাহাব, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৯১)

  1. নাহরাওয়ানের যুদ্ধ

সন ৩৯ হিজরীর ৯ই সফর তারিখে নাহরাওয়ানের যুদ্ধ শুরু হয়। খোলাফায়ে রাশেদীনের চতূর্থ খলিফা ইমাম আলী (আ.) এর বিরূদ্ধে উক্ত যুদ্ধে খারেজীরা অংশগ্রহণ করে।   (মানাকেবে ইবনে শাহর আশুব, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২২০, মানাকেবে আলে আবি তালিব, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২২০, মোয়জামে রেজালুল হাদিস, খন্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৩৬৭, নাফসুর রাহমান ফি ফাযায়েলে সালমান (রা.), পৃষ্ঠা ২৬১, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৫৬, পৃষ্ঠা ১৩৮)

১১ই সফর

লাইলাতুল হারির

সন ৩৮ হিজরীর ১১ই সফর তারিখে শুক্রবার রাতটি ইতিহাসে “লাইলাতুল হারির” নামে পরিচিত। উক্ত রাতে মাবিয়ার সৈন্যরা ঠান্ডার কারণে কাতরাচ্ছিল যা অনেকটা কুকুরের কাতরানোর ন্যায় ছিল। অভিধানে কুকুরের চিৎকারকে হারির বলা হয়। আর এ কারণে উক্ত রাতকে লাইলাতুল হারির নামকরণ করা হয়। উক্ত রাতের যুদ্ধে ইমাম আলী (আ.) মাবিয়ার সৈন্যর প্রায় ৫০০ জনকে হত্যা করেন।  (মুনতাখাবুত তাওয়ারিখ, পৃষ্ঠা ১৬৩- ১৬৬, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৯৪, জাওয়াহেরুল মাতালেব, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৪, ইনসাবুল আশরাফ, পৃষ্ঠা ৩২৩, নাহজুস সাআদা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৮২)

১২ সফর

সিফফিনের যুদ্ধে শাষক নির্বাচন

সন ৩৮ হিজরীর ১২ই সফর তারিখের সকাল বেলা ইমাম আলী (আ.) এর সৈন্যরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়। কিন্তু উমরে আস তার কুটবুদ্ধি খাটিয়ে মাবিয়ার সেনাদেরকে নির্দেশ দেয় তারা যেন প্রথম সারিতে কোরআনকে বর্শার মাথায় তুলে “লা হুকমা ইল্লা লিল্লাহ” বলে শ্লোগান দেয়। উক্ত অবস্থা দেখে আশআশ বিন কাইস ইমাম আলী (আ.) কে বলে আমরা কোরআনের সাথে লড়াই করতে পারবো না। তার চেয়ে উত্তম আসুন আমরা উভয় দল মিলে আমাদের জন্য শাষক নির্বাচন করি। ইমাম আলী (আ.) তাদেরকে মাবিয়ার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবগত করলেও তারা যুদ্ধ করতে রাজি হয়নি। অবশেষে তারা ইমাম আলী (আ.)কে শাষক নির্বাচনের জন্য বাধ্য করে। অবশেষে আবু মুসা আশআরিকে ধোকা দিয়ে উমরে আস মাবিয়াকে শাষক নির্বাচন করে। তখন আবু মুসা আশআরী ইমাম আলী (আ.) এর সেনাদের ভয়ে মক্কায় পলায়ণ করে।  (মুসতাদরাকে ওসায়েল, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪১০, নাহজুস সাআদা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৮২, মুনতাখাবুত তাওয়ারিখ, পৃষ্ঠা ১৬৫, জাওয়াহেরুল মাতালেব, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৪, তারিখে ইবনে খালদুন, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৭৪)

১৩ই সফর

খারেজি ফেরকার সৃষ্টি

১৩ই সফর তারিখে সিফফিনের যুদ্ধে উমরে আসের বিচারক নির্ধারনের ষড়যন্ত্রের কারণে খারেজি ফেরকার সৃষ্টি হয়। (মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৯৪)

১৪ই সফর

মোহাম্মাদ বিন আবু বকরের শাহাদত

সন ৩৮ হিজরীর ১৪ই সফর তারিখে মোহাম্মাদ বিন আবু বকর ২৮ বছর বয়সে মাবিয়া এবং উমরে আসের কারণে শাহাদত বরণ করেন। ইমাম আলী (আ.) এর খেলাফতকালে তিনি মিশরের শাষক ছিলেন। মিশরের “কুম শারিক” নামক স্থানে তাকে শহীদ করা হয়। শাহাদতের পরে তার দেহকে শত্রুরা মৃত গাধার পেটে ভরে জ্বালিয়ে দেয়। আহলে বাইত বিদ্বেষীরা মোহাম্মাদ বিন আবু বকরের কবরের কাছে যেয়ে তার কবরের দিকে পিঠ ঘুরিয়ে হজরত আবু বকরের উপরে সুরা ফাতিহা পাঠ করে।  (ফাইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ২৪৯- ২৫০, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২১২, ওয়াকায়েউশ শুহুর, পৃষ্ঠা ৫০, কালায়েদুন নুহুর, পৃষ্ঠা ৩৯৫, ফেইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ২৪৯)

১৫ই সফর

রাসুল (সা.) অসুস্থ হয়ে পড়েন

১৫ই সফর তারিখে রাসুল (সা.) অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং উক্ত অসুখে তিনি আরো তের দিন যন্ত্রণা ভোগ করেন এবং অবশেষে উক্ত রোগের কারণে তিনি ওফাত পান।  (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৩৩, পৃষ্ঠা ৬৩৩, তাফসিরে কুম্মি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৭৫)

১৭ই সফর

ইমাম রেযা (আ.) এর শাহাদত

ইতিহাসের এক বর্ণনামতে সন ২০৩ হিজরীর ১৭ই সফর তারিখে ইমাম রেযা (আ.) ৫১ বছর বয়সে শাহাদত বরণ করেন। আব্বাসীয় খলিফা মামুন বিষ মিশ্রিত আঙ্গুর ইমাম রেযা (আ.) কে খেতে বাধ্য করে। উক্ত বিষের প্রভাবের কারণেই তিনি শাহাদত বরণ করেন।  (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৯, পৃষ্ঠা ২২৩)

২০শে সফর

1.      ইমাম হুসাইন (আ.)এর চল্লিশা

সন ৬১ হিজরী ইমাম হুসাইন (আ.)এর শাহাদতের পরে ২০শে সফর তারিখে জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রা.) তাঁর কিছু সঙ্গীদের সাথে নিয়ে কারবালাতে ইমাম হুসাইন (আ.) এর যিয়ারত করতে আসেন। ইমাম হুসাইন (আ.)এর পরিবার পরিজনও উক্ত তারিখে কারবালাতে ফিরে আসেন।  (ওসায়েলুশ শিয়া, খন্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৪৭৮, মেসবাহুল মোতাহাজজেদ, পৃষ্ঠা ৭৮৮, তাহযিবুল আহকাম, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ৫২, ইকবাল, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১০০, আওয়ালেউল লেআলী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৭)

2.     আহলে বাইত (আ.)এর কারবালায় প্রত্যাবর্তন

ইতিহাসে প্রসিদ্ধ এবং সহীহ বর্ণনামতে আহলে বাইত (আ.) ২০শে সফর তারিখে শাম থেকে কারবালাতে ফিরে আসেন। (তৌযিহুল মাকাসিদ, পৃষ্ঠা ৬- ৭, মাআলীউস সিবতাইন, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৯১, ইকবালুল আমাল, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১০০, যাদুল মাআদ, পৃষ্ঠা ৩৩২, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৯৮, পৃষ্ঠা ৩৩৪)

3.     ইমাম হুসাইন (আ.) এর মস্তক দাফন

২০শে সফর তারিখে ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) ইমাম হুসাইন (আ.) এর মাথাকে তাঁর শরীরের সাথে লাগিয়ে কারবালাতে দাফন করে দেন।  (ওসায়েলুশ শিয়া, খন্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৪০৩, ইকবালুল আমাল, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৯৮, শারহে এহকাকুল হাক, খন্ড ৩৩, পৃষ্ঠা ৭০৩, লহুফ, পৃষ্ঠা ২২৫, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৪, পৃষ্ঠা ১৯৯)

২৩শে সফর

হজরত সালেহ ও হজরত ইউনুস (আ.) বীপদ

২৩শে সফর তারিখে হজরত সালেহ (আ.)এর মাদী উটের পা কেটে ফেলা হয়। হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেটে আটকে পড়েন।

২৪শে সফর

রাসুল (সা.) ওসিয়ত লিখার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান

সন ১১ হিজরী ২৪শে সফর তারিখ রাসুল (সা.) তাঁর জীবনের অন্তিম সময়গুলো অতিবাহিত করছিলেন। রাসুল (সা.)এর চারিপাশে মুহাজির এবং আনসারগণ উপস্থিত ছিলেন। রাসুল (সা.) তাঁদের প্রতি দৃষ্টিপাত করে বুঝতে পারেন যে তাঁর ওফাতের পরে উম্মতেরা বিভিন্ন দল ও মতে বিভক্ত হয়ে পড়বে, তাঁর আহলে বাইত (আ.)এর প্রতি তারা অত্যাচার করবে। তিনি তাঁর উম্মতকে বিভ্রান্তি ও বিচ্যুতি থেকে মুক্তি দেয়ার উদ্দেশ্যে ওসিয়ত লিখার জন্য কাগজ ও কলম চান যেন তাঁর উম্মত তাঁর পরে পথভ্রষ্ট না হয় এবং হজরত আলী (আ.)কে তাঁর পরে মুসলিম জাহানের খলিফা স্বরূপ মেনে নেয়। কিন্তু হজরত উমর রাসুল (সা.)এর ওসিয়ত লিখার কাজে বাধা দান করতে বাধা প্রদান করে বলেন: “নাউযুবিল্লাহ” রাসুল ভুল বকছেন এবং আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট।  হজরত উমরের উক্ত কথার কারণে সাহাবীদের মধ্যে দ্বন্দ শুরু হয়। কেউ বলে কাগজ ও কলম দেয়া হোক আবার কেউ বলছিল না। এমতাবস্থায় রাসুল (সা.) বলেন: তোমরা আমার কাছ থেকে দূর হয়ে যাও। কেননা আমার সম্মুখে ঝগড়া ও দ্বন্দ করা জায়েয না। অতঃপর তারা সেখান থেকে প্রস্থান করে।  (মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৯৫, কিতাবে সুলাইম বিন কাইস, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৭৯৪, গায়াতুল মারাম, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ৯৫, ৯৭, মাকাতিবুর রাসুল, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৬৯৭, তাবাকাতুল কুবরা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৪৩- ২৪৫)

২৫শে সফর

রাসুল (সা.) এর নির্দেশ

২৫শে সফর তারিখে রাসুল (সা.) অসুস্থ অবস্থায় মেম্বারে আরোহন করেন এবং খুৎবা প্রদানের পরে তাঁর উম্মতকে নির্দেশ দেন তারা যেন সাকালাইনের (কোরআন ও আহলে বাইত (আ.)) অনুসরণ করে।  (সিরাতুল মুস্তাকিম, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১০২, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৯৫, সিরাতুল মুস্তাকিম, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১০২, তরিখে ইয়াকুবি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১১৩, আল মেলাল ওয়ান নাহল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩)

২৬শে সফর

উসামা (রা.)এর সৈন্যর প্রস্তুতি

সন ১১ হিজরীর ২৬শে সফর তারিখে রাসুল (সা.) তাঁর কিছু বিশেষ সাহাবীদেরকে (হজরত আবু বকর, উমর এবং উসমান) উসামার নেতৃত্বে রোমীয়দের সাথে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত হওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু তারা উসামার নেতৃত্বে যুদ্ধে যেতে রাসুল (সা.)এর অবাধ্যতা করে। তখন রাসুল (সা.) তাদেরকে উদ্দেশ্যে করে বলেন: আল্লাহর অভিসম্পাত হোক তাদের উপরে যারা আমার অবাধ্যতা করেছে।  (তাবাকাতে ইবনে সাআদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩৬, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৫,পৃষ্ঠা ৩৬, সিরাতুল মুস্তাকিম, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৯৭, তাবাকাতুল কুবরা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৪৮, শারহে নাহজুল বালাগা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৫৯)

২৮শে সফর

1.      রাসুল (সা.)এর ওফাত

সন ১১ হিজরীর ২৮শে সফর তারিখে রাসুল (সা.) ৬৩ বছর বয়সে ওফাত পান। বর্তমানে মদীনা মুনাওয়ারার যেখানে তার মাজার রয়েছে সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর ওফাতের পরে ইমাম আলী (আ.) তাকে গোসল দেন কাফন পরান এবং জানাযার নামাজ পড়ান। উক্ত জানাযার নামাজে বণি সাকিফাতে অংশগ্রহণকারী ব্যাক্তিরা ব্যাতিত অন্যান্য সাহাবীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।  (কাফি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯৬, তাহযিবুল আহকাম, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২, আলামুল ওয়ারা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৫, ৫৩, ২৬৯, আল খারায়েজ ওয়াল জারায়েহ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৮, ২২৪, তাফসিরে কানযুল দাকায়েক, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৫১)

2.     হজরত আলী (আ.)এর ইমামতের প্রথম দিন

সন ১১ হিজরীর ২৮শে সফর তারিখের দিনটি ছিল ইমাম আলী (আ.)এর ইমামতের প্রথম দিন। উক্ত দিনে ইমাম আলী (আ.)এর যিয়ারত পাঠ করা মুস্তাহাব।  (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৯৭, খন্ড পৃষ্ঠা ৩৮৪, তৌহফাতুয যায়ের, পৃষ্ঠা ১৪২)

3.     ইমাম হাসান (আ.)এর শাহাদত দিবস

সন ৫০ হিজরীরর ২৮শে সফর তরিখটি হচ্ছে ইমাম হাসান (আ.)এর শাহাদত দিবস। এছাড়াও ইমাম হাসান (আ.)এর শাহাদত দিবস সম্পর্কে অন্যান্যমত বর্ণিত হয়েছে যেমন: সফর মাসের শেষে, ৫ই রবিউল আওয়াল।  ইমাম হাসান (আ.) এর হত্যার কারণ ইতিহাসে এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জো’অদা বিন আশআশ মাবিয়ার ষড়যন্ত্রের কারণে ইমাম হাসান (আ.)কে বিষ দান করে। কারণ মাবিয়া তাকে ওয়াদা করেছিল যে, ইমাম হাসান (আ.)কে মেরে ফেলতে পারলে তাকে ১ লক্ষ দিরহাম দান করবে এবং এজিদের সাথে তার বিবাহ দিবে। জো’অদা বিন আশআশ ইমাম হাসান (আ.)কে বিষ দেয়ার ৪০ দিন পরে বিষের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। একটি বড় পাত্রে তাঁর কলিজার অংশ বমির মাধ্যমে উঠে আসতে থাকে। তিনি ইমাম হুসাইন (আ.) কে বলেন: আমি  জানি কে আমাকে বিষ দিয়েছে। কিন্তু আমার পরে তুমি কখনও তার সম্পর্কে কাউকে কিছুই বলবে না। কিন্তু ইমাম হাসান (আ.)এর মৃত্যুর পরে তাকে ১লক্ষ দিরহাম দান করেন কিন্তু এজিদের সাথে তার বিবাহ দেয় না। হাসান (আ.) এর শাহাদতের পরে ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁকে গোসল ও কাফন দেন, জানাযার নামাজ পড়ান। অতঃপর তাকে রাসুল (সা.) এর পাশে দাফন করার জন্য নিয়ে যান। তখন মারওয়ান এবং বণি উমাইয়ার কিছু ব্যাক্তিবর্গের সাথে হজরত আয়েশা তাঁর লাশকে সেখানে দাফন করতে বাধা দেয় এমনকি তার লাশের উপরে তীর বর্ষণ করার নির্দেশ দেয়া হয়। অবশেষে তাঁর লাশকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।  (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৪, পৃষ্ঠা ১৪২,  ১৬১, আলামুল ওয়ারা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪০৩, মুনতাহিউল আমাল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩১, কাশফুল গুম্মা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৮৪, তারিখে খোলাফা, পৃষ্ঠা ১৯২)

৩০শে সফর

ইমাম রেযা (আ.) এর শাহাদত দিবস

একদা ইমাম রেযা ( আঃ ) সকালের নামায আদায় করলেন। নতুন জামা পরে তিনি মেহরাবে বসলেন। মনে হচ্ছিল যেন তিনি জানতেন কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। তাঁর চেহারা অন্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি উজ্জল দেখাচ্ছিল। ইমান আর প্রেমের পৃথিবী যেন তাঁর চোখগুলোতে তরঙ্গায়িত হচ্ছিল। হঠাৎ মামুনের দূত তাঁর ঘরে এসে বললো-খলিফা মামুন আবাল হাসান বা ইমাম রেযা (আ) কে তার কাছে ডেকে পাঠিয়েছেন। ইমাম তখনি দূতের সাথে রওনা হলেন। মামুন আনন্দের সাথে ইমামকে স্বাগত জানালো। মামুন বহুভাবে জনগণের কাছে ইমামের জনপ্রিয়তা খর্ব করতে এবং ইমামের গ্রহণযোগ্যতা কমাতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেসব কোনো কাজেই আসে নি। মামুন ভালোভাবেই জানতো যে যতোদিন ইমামের অস্তিত্ব জনগণের সামনে সূর্যের মতো দেদীপ্যমান থাকবে,ততোদিন জনগণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা থাকবে সূর্যের সামনে মোমের আলোর মতো নি®প্রভ। এ বিষয়টি মামুনকে সবসময় ভাবিয়ে তুলতো।

মামুন একটু হাঁটলো। মুখে কোনো কিছু বললো না। বড়ো একটা ফলের ঝুড়ি থেকে এক গুচ্ছ আঙ্গুর তুলে নিয়ে কটা খেল। তারপর ইমামের সামনে গিয়ে তাঁর দু’চোখের ঠিক মাঝখানটায় চুমু খেল। ইমামের হাতে আঙ্গুরের আরেকটি গুচ্ছ দিয়ে বললো-হে রাসূলের সন্তান!এর চেয়ে ভালো আঙ্গুর আর দেখি নি। ইমাম বাক-নৈপুণ্যের সাথে জবাব দিলেন-কিন্তু বেহেশতের আঙ্গুর এরচেয়েও সুস্বাদু এবং মজার। মামুন সৌজন্য দেখিয়ে ইমামকে ঐ আঙ্গুর খেতে বললো। ইমাম খেতে চাইলেন না। কিন্তু মামুন আঙ্গুর খাওয়ার জন্যে ইমামকে খুবই পীড়াপীড়ি করলো। জোর করে সে ইমামকে ঐ আঙ্গুর খাওয়ালো। বিষাক্ত ঐ আঙ্গুর খাবার পর ইমামের ঠোঁটের কোণে তিক্ততার হাসি ফুটে উঠলো। হঠাৎ তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটলো। আঙ্গুরের গুচ্ছকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পা বাড়ালেন।

আবাসাল্ত ছিলেন ইমাম রেযা (আ) এর ঘনিষ্টদের একজন। তিনি ইমামকে আনন্দিত হলেন। কেননা নবী পরিবারের সন্তান ছিলেন ইমাম। আর ইমামের মহান ব্যক্তিত্বের আলোয় তিনি আলোকিত হতে পারবেন-এরকম চিন্তা ছিল তার। তার দৃষ্টিতে ইমাম সবার অন্তরকে আলোকিত করতেন। ইমামকে স্মরণ করে তিনি বলেছেন-‘ইমাম এবং নেতা, যমিনে আল্লাহর বান্দাদের ওপর তাঁর বিশ্বস্ত বান্দা ও হুজ্জাত…আল্লাহর পথে আহ্বানকারী এবং তাঁর আদেশ-নিষেধের সীমারেখা রক্ষাকারী। ইমাম গুনাহ থেকে মুক্ত এবং দোষ-ত্র”টি থেকে দূরে ছিলেন। জ্ঞানের আলোয় সমৃদ্ধ ছিলেন তিনি এবং ছিলেন অপরিসীম সহনশীল। ইমাম ছিলেন মুসলমানদের মান-মর্যাদা,গর্ব ও সম্মান এবং দ্বীনের সুরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী ।

আবা সালত এইসব চিন্তা করছিলেন। সেজন্যে ইমামের অবস্থাটা বুঝে উঠতে পারছিলেন না। কিছুক্ষণের মধ্যেই ইমাম শাহাদাতবরণ করলেন। সৈয়দ ইবনে তাউস (রা.) থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েত অনুযায়ি ইমাম রেযা (আ.) সন ২০৩ হিজরীর উক্ত তারিখে ৫১ অথবা ৫৫ বছর বয়সে শাহাদত বরণ করেন।  (কাশফুল গুম্মা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৬৭, কাফি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৮৬, আলামুল ওয়ারা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৪১, মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৯৬, মুরুজুয যাহাব, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৮)