Press "Enter" to skip to content

হাদিসের ইতিহাস অনুসন্ধান- ২

হাদীসে কিসার ধরন ও প্রকৃতি

(ক) উম্মুল মো’মেনীন আয়শা উদ্ধৃত হাদীস অনুসারেঃ

মুসলিম তার সহীহতে ,হাকিম (আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ নিশাপূরী, হাকিম নামে বহুল পরিচিত, একজন অন্যতম হাদীস বেত্ত্বা এবং সুন্নী সম্প্রদায়ের নিকট অত্যন্ত সমাদৃত। তিনি ৪০৫ হিজরী সালে ইন্তেকাল করেন) তার ‘মুসতাদরাক’-এ, বায়হাকি তার ‘সনানু আল-কুবরাতে এবং তাবারী, ইবনে কাসির এবং সুয়ূতী তাদের তাফসীরে এই আয়াত সম্পর্কে আয়শার নিম্নরূপ বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। (আ’য়শা ছিলেন পথম খলিফা হযরত আবু বকরের কন্যা । মদীনায় হিজরতের ১৭ মাস পর মহানবী (সাঃ) তাকে বিবাহ করেন। তিনি ইন্তেকাল করেন ৫৭, ৫৮ অথবা ৫৯ হিজরী সনে (সন সঠিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় নি) এবং আবু হুরায়রা তার জানাজার নামাজে ইমামতী করেন। তাকে জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয়। তার জীবনীর জন্য দেখুন, আহাদীস-ই আয়শা”)

একদিন মহানবী (সাঃ) তার একটি ছাপা চাদর নিয়ে ঘর হতে বের হলেন। (সম্ভবতঃ হযরত আয়শা বুঝাতে চেয়েছেন, মহানবী (সাঃ) চাদরটিসহ তার ঘর হতে বের হয়ে উম্মে সালামার ঘরে যান)

এমন সময় হাসান (আঃ) তার নিকট আসলেন এবং মহানবী (সাঃ) তাকে কাছে নিলেন এবং চাদরের নিচে আবৃত করে নিলেন। তারপর হুসাইন (আঃ) আসলেন এবং মহানবী (সাঃ) তাকেও চাদরের নিচে আবৃত করে নিলেন। অতঃপর ফাতেমা (আঃ) কাছে আসলেন এবং তাকেও চাদর দিয়ে আবৃত করা হলো। সবশেষে আসলেন আলী (আঃ) এবং তাকেও চাদরের নিচে আবৃত করে নেয়া হল। অতঃপর তিনি (মহানবী সাঃ) এই পবিত্র আয়াতটি তেলাওয়াত করলেনঃ হে আহলে বাইত! আল্লাহ তো কেবল চাহেন তোমাদিগ হতে অপবিত্রতা দুর করতে এবং তোমাদিগকে সম্পূর্ণ রূপে পবিত্র করতে” (সূরাঃ আহযাব ৩৩)।

(খ) উম্মুল মো’মেনীন উম্মে সালামা’র হাদীস অনুসারেঃ

তাবারী তার তাফসীর গ্রন্থে এই পবিত্র আয়াত সম্পর্কে উম্মে সালামা’র নিম্নরূপ বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেনঃ “যখন এই আয়াত, হে আহলে বাইত (নবী পরিবার)!.. নাজিল হল, মহানবী (সাঃ) আলী,ফাতেমা, হাসান, এবং হুসাইন (তাদের সকলের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)-কে তার নিজের কাছে ডাকলেন এবং তার চাদরের নিচে তাদেরকে আবৃত করলেন”। অন্য একটি হাদীসে উম্মে সালামা বলেছেনঃ তিনি তার চাদর –দ্বারা তাদেরকে আবৃত করলেন। ” এই হাদীসটি সুয়ূতিও তার তাফসীর গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন এবং ইবনে কাসির তার তাফসীর গ্রন্থে একই ধরণের বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন। (উম্মে সালামা হিন্দ, উবি উমাইয়া কোরায়শী মাখজুমীর কন্যা, স্বামী  আবু সালমা ইবনে আবদুল আসাদ-এর মৃত্যুর পর মহানবী (সাঃ) -এর সহিত বিবাহের সম্মান পেয়েছিলেন। তার স্বামী আবু সালমা ওহুদ যুদ্ধে আহত হন এবং এর ফলে মত্যু বরণ করেন। তিনি মত্যু বরণ করেন ইমাম হোসাইন (আঃ) -এর শাহাদাতের পর। তার জীবনী আসাদ আল-গাবা”-এব তাহ্জীব আল-তাহজীব” নামক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে)

কিসা –দ্বারা আবৃত নবী পরিবারের সদস্যগণ্যরর মর্যাদা

(ক) হযরত উমর বিন ইবনে সালমা’র বর্ণনা মতে : তাবারী এবং ইবনে কাসির তাদের তাফীসর গ্রন্থে,তিরমিজি তার সহীহতে এবং যাহাবী তার ‘মুশকিল আল্ আসার’ গ্রন্থে হযরত উমর বিন আবু সালমা’র সূত্রে নিম্নরূপ বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেনঃ এই আয়াত, “হে আহলে বাইত (নবী পরিবার)!, মহানবী (সাঃ) -এর উপর নাজিল হয়েছিল উম্মে সালামা’র গৃহে। এই আয়াত নাজিল হওয়ার পর মহানবী (সাঃ) হাসান,হুসাইন এবং ফাতেমা (আঃ) -কে ডাকলেন এবং তাদেরকে তার সম্মুখে বসালেন। তারপর তিনি আলী (আঃ) -কে ডাকলেন এবং তাকে তার পশ্চাতে বসালেন। অতঃপর তিনি নিজেকে সহ তাদের সকলকে তার চাদর –দ্বারা আবৃত করলেন এবং বললেনঃ এরাই হলো আমার আহলে বাইত (পরিবারের লোক)। হে আল্লাহ ! অপবিত্রতা তাদের থেকে দূরে রাখো এবং তাদেরকে পূতঃপবিত্র রাখো! (হযরত উমর উম্মে সালমা’র প্রথম স্বামী আবু সালমা’র ঘরের সন্তান। তিনি ইথিওপিয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি সিফফীন যুদ্ধে ইমাম আলী (আঃ) -এর অন্যতম অনুসারী ছিলেন এবং ইমাম আলী (আঃ) তাকে বাহরাইন এবং ফারস (বতমান ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের একটি অংশ সেই সময় ফরস নামে পরিচিত ছিল) এর গভর্ণর নিয়োগ করেছিলেন। হযরত উমর ৮৩ হিজরী সালে মদীনায় ইন্তেকাল করেন। তার জীবনী আসাদ আল-গাবা” খণ্ড, ৬ পৃষ্ঠা-৭৯ তে লিপিবদ্ধ আছে)

(খ) ওয়াসিলাত ইবনে আসকা এবং উম্মে সালামা’র উদ্ধৃত হাদীস অনুসারেঃ (ওয়াসিলাত ইবনে আসকা ইবনে কা’ব লাইসি তাবুক যুদ্ধের পূর্বে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি মহানবী (সাঃ) -এর খাদেম হিসেবে তিন বছর কাজ করেন। তিনি ৮০ বছর বয়সে দামেস্কে অথবা বায়তুল মোকাদ্দিসে ইন্তেকাল করেন। তার জীবনীর জন্য দেখুন, আসাদ আল-গাবা” খণ্ড, ৫ পৃষ্ঠা, ৭৭)

হাকিম তার “মুসতাদরাক” এবং হায়সামী তার “মাজমাউল্ জাওয়াদ” গ্রন্থে ওয়াসিলাত হতে উদ্ধৃতি দিয়েছেন যে, মহানবী (সাঃ) তার নিজের সম্মুখে আলী (আঃ) ও ফাতেমা (আঃ) কে এবং হাসান (আঃ) ও হুসাইন (আঃ) কে তার হাটুর উপর বা তার জানুর উপর বসিয়েছিলেন। এই হাদীসটি ইবনে কাসির ও সুয়ূতী তাদের তাফসীর গ্রন্থে এবং বায়হাকি তার সুনানে ও আহমদ বিন হাম্বল তার মুসনাদে উদ্ধৃত করেছেন। নবী পরিবারের সদস্যগণ যে স্থানে একত্রিত হয়েছিলেন

ক-আবু সাঈদ খুদরী’র উদ্ধৃত হাদীস অনুসারেঃ (আবু সাঈদ খুদরী খাজরাজী। তার নাম ছিল সা’দ ইবনে মালিক আনসারী। তিনি খন্দক এবং অন্যান্য যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি মদীনায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যু কালে তার বয়স ছিল ৬০ ঊর্দ্ধ বা ৭০ ঊর্দ্ধ । আসাদ আল্ গাবায়” তার জীবনী আছে (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা-২৮৯)

সুয়ূতী তার ‘দররুল মনসুর’-এ আবু সাঈদ খুদরী হতে বর্ণনা করেন, জীবরাঈল যখন অবতরণ করেন এবং এই আয়াত “হে আহলে বাইত(নবী পরিবার)!.” পৌছে দেন তখন মহানবী (সাঃ) উম্মে সালামা’র ঘরে ছিলেন। ” আবু সাঈদ বলেন, ঐ সময় মহানবী (সাঃ) হাসান, হুসাইন, ফাতেমা এবং আলী (আঃ) -কে ডাকলেন এবং তাদেরকে তার কাছে নিলেন এবং তাদেরকে তার চাদর –দ্বারা আবৃত করলেন। এই সময় উম্মে সালামাও পর্দার পিছনে বসে ছিলেন। মহানবী (সাঃ) বললেনঃ “এরাই হলো আমার আহলে বাইত (পরিবারের লোক)। হে আল্লাহ ! অপবিত্রতা তাদের থেকে দূরে রাখো এবং তাদেরকে পূতঃপবিত্র রাখো!

খ-উম্মুল মো’মেনীন উম্মে সালমা’র উদ্ধৃত হাদীস অনুসারে :

ইবনে কাসির, সুয়ূতী, বায়হাকি, যাহাবী এবং খাতীব (তার “তারীখে বাগদাদ”) উম্মে সালমা’র বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেছেনঃ এই আয়াত “হে আহলে বাইত (নবী পরিবার)!.” আমার ঘরে নাজিল হয়েছে এবং ফাতেমা, আলী, হাসান ও হুসাইন (আঃ) ঐ ঘরে ছিলেন। মহনবী (সাঃ) তাদেরকে তার চাদর দিয়ে ঢেকেদিলেন এবং বললেনঃ এরাই হলো আমার আহলে বাইত (পরিবারের লোক)। হে আল্লাহ ! অপবিত্রতা তাদের থেকে দূরে রাখো এবং তাদেরকে পূতঃপবিত্র রাখো!” এবং হাকিমও তার “মুসতাদরাক”-এ্ উম্মে সালামা’র উক্ত বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেছেন, এই আয়াত আমার ঘরে নাজিল হয়েছে”। নিম্ন বর্ণিত গ্রন্থ সমূহেও উম্মে সালামা’র হাদীস উদ্ধৃত হয়েছেঃ

তিরমিজি তার “সহীহতে” ফাতেমা (আঃ) -এর অর্জন সম্পর্কিত অধ্যায়ে এবং অনুরূপ ভাবে “রিয়াজ আল-নুজরাহ্” এবং “তাহজীব্ আল-তাহজীব” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, মহানবী (সাঃ) বলেছেন,হে আল্লাহ ! এরাই হলো আমার আহলে বাইত (পরিবারের লোক)। অপবিত্রতা তাদের থেকে দূরে রাখো এবং তাদেরকে পূতঃপবিত্র রাখো!” আহমদ তার “মুসনাদ”-এ আরও বর্ণনা করেছেন যে, উম্মে সালামা বলেছেন,করলাম,“আমি ঘরে আমার মাথা ঢুকিয়ে দিলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম আমিও কি আপনাদের অন্তর্ভূক্ত আছি?” মহানবী (সাঃ) উত্তরে বললেন, তোমার একটি ভাল ভবিষ্যৎ রয়েছে। ”

হাকিম আরও বর্ণনা করেন যে, উম্মে সালামা জিজ্ঞেস করেন, “হে আল্লাহর নবী! আমি কি আপনার পরিবারের একজন সদস্য নই?” মহানবী (সাঃ) উত্তরে বললেন,তোমার একটি ভাল ভবিষ্যৎ রয়েছে, কিন্তু কেবলমাত্র এরাই আমার আহলে বাইত (পরিবারের সদস্য)। হায় আল্লাহ ! আমার পরিবারের সদস্যদের মর্যাদা আরও অনেক উচ্চ। ”

যখন আয়াতটি নাজিল হয় তখন ঘরে কতজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন

সয়ুতীর “তাফসীর” গ্রন্থে এবং “মুশকিল আল্ আসার” গ্রন্থে উম্মে সালামা’র হাদীস উদ্ধৃত হয়েছে,তিনি বলেনঃ এই আয়াত “হে আহলে বাইত (নবী পরিবার)!.” আমার ঘরে নাজিল হয়েছে এবং ঐ সময় ঘরে সাত ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন, যথা-

জীব্রাঈল, মিকাঈল, আলী, ফাতেমা, হাসান ও হুসাইন (আঃ) এবং আমি ঘরের দরজার মাঝে দাড়িয়েছিলাম এবং বলেছিলামঃ

“হে আল্লাহর নবী! আমি কি আপনার পরিবারেরএকজন সদস্য নই?” মহানবী (সাঃ) জবাবে বললেনঃ তোমার একটি ভাল ভবিষ্যৎ রয়েছে এবং তুমি নবীর স্ত্রীগণ্যর একজন। ”

আয়াতটি নাজিলকালে য পরিবেশের মধ্যে নবী পরিবারের সদস্যগণ ছিলেন তাবারী তার তাফসীরে আবু সাঈদ খুদরী হতে বর্ণনা করেছেন যে, উম্মে সালামা বলেছেনঃ “এই আয়াত আমার ঘরে নাজিল হয়েছে আমি ঘরের দরজায় দাড়িয়ে ছিলাম”। একই তাফসীর গ্রন্থে ইহাও বর্ণিত হয়েছে যে, উম্মে সালামা বলেছেনঃ নবী পরিবারের সদস্যগণ তার চারদিক ঘিরে দাড়িয়েছিলেন এবং তার কাধে বহন করা চাদর –দ্বারা তিনি তাদেরকে আবৃত করলেন এবং বললেন,“এরাই হলো আমার আহলে বাইত (পরিবারের লোক)। অপবিত্রতা তাদের থেকে দূরে রাখো এবং তাদেরকে পূতঃপবিত্র রাখো!” এবং আয়াতটি যখন নাজিল হয় তখন তারা মাটিতে বসে ছিলেন। আমি বললাম, “হে আল্লাহর নবী! আমি কি আপনার পরিবারের একজন সদস্য নই?” সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি যে, মহানবী (সাঃ) কোন বিশেষ মর্যাদা আমার জন্য অনুমোদন করলেন না এবং বললেন, তোমার একটি ভাল ভবিষ্যৎ রয়েছে। ”

এ আয়াতের শব্দাবলীর ব্যাখ্যা এবং স্পষ্টীকরণ

রাগীব তার “মুফরাদাত আল-কোরআন” শীর্ষক গ্রন্থে মূল শব্দ “রাওয়াদা” এর আওতায় ইহা বর্ণনা করেন। যখন বলা হয় সর্বশক্তিমান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে, অমুক অমুক বিষয়/জিনিস ঘটবে বা অমুক অমুক বিষয়/জিনিস ঘটবে না। আবার “রিজস” মূল শব্দের আওতায় তিনি বলেনঃ “রিজস” হল সই জিনিস যা মানষু ঘণা করে । তিনি আরও বলেন যে, “রিজস” হল চার প্রকার, যথাঃ প্রাকৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, আইনগত বা এই তিনটির সমন্বয়ে কোন একটি। যেমন, লাশের জুয়া এবং বহুত্ববাদের পেশা প্রকৃতি,বুদ্ধিবৃত্তি এবং আইনের দৃষ্টিকোণ হতে ঘৃণ্য । রাগীবের বক্তব্য এখানে শেষ হয়েছে। সূরাঃ হজ্বের ৩০ নং আয়াতে আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ “সুতরাং তোমরা বর্জন কর মূর্তি পুজার অপবিত্রতা” এবং সূরাঃ আল-আনআম-এর ১২৫ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,“যারা বিশ্বাস করে না আল্লাহ তাহাদিগকে এইরূপ লজ্জাজনকভাবে লাঞ্ছিত করেন”। সূরাঃ আল-আনআম্ এর ১৪৫ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, “যদি না হয় মরা, বহমান রক্ত অথবা শুকরের মাংশ,কননা এইগুলো অবশ্যই অপবিত্র”। সূরাঃ তওবায় তিনি মুনাফিকদের সম্পর্কে বলেন, “তাদের থেকে দূরে থাক, কারণ তারা মুনাফিক”। নূহ (আঃ) -এর লোকদের সম্পর্কে সূরাঃ আ’রাফের ৭১ নং আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ “নূহ বলিলঃ তোমদের প্রতিপালকের শাস্তি ও ক্রোধ তা তোমদের জন্য নির্ধারিত হইয়াই আছে;”।

হযরত মারিয়াম সম্পর্কে সূরাঃ আলে ইমরানের ৪২ নং আয়াতে যে মন্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে যখন ফেরেশতারা বলে, “হে মারিয়াম, আল্লাহ তোমাকে মনোনীত ও পবিত্র করিয়াছেন এবং বিশ্বের নারীগণ্যর মধ্যে তোমাকে মনোনীত করিয়ছেন” এই আয়াতের তাতহীর” শব্দ –দ্বারা সেই অর্থই বুঝানো হয়েছে। আর এই হাদীসে ‘কিসা’ হচ্ছে “আবার” ন্যায় একটি বহিরাবরণ।

হাদীসসমূহে উপস্থাপিত এই আয়াতের ব্যাখ্যা

সুয়ূতী তার তাফসীরে ইবনে আব্বাসের সূত্রে উল্লেখ করে “মহানবী (সাঃ) বলেছেনঃ সর্বশক্তিমান আল্লাহ তার সৃষ্টিকে দু’ অংশে বিভক্ত করেছেন এবং আমাদেরকে করেছেন তাদের মধ্যে সর্বোত্তম! তারপর তিনি বললেনঃ তিনি গোত্র ও পরিবারে বিভক্ত করলেন এবং আমাদের অবস্থান নির্ধারণ করলেন সর্বোত্তম পরিবারসমূহে। এই আয়াত “হে নবীপরিবার! আল্লাহ তো কেবল চাহেন তোমাদিগ হতে অপবিত্রতা দুর করতে এবং তোমাদিগকে সম্পূর্ণ রূপে পবিত্র করতে” সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা’য়ালা এই বিষয়টিই সুস্পষ্ট করে দিলেন। কাজেই আমি এবং আমার পরিবারবর্গ সকল ধরণের পাপ এবং অপবিত্রতা হতে মুক্ত”। (আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, রাসূলের (সাঃ) -এর চাচাতো ভাই, মদীনায় মহানবীর হিজরতের তিন বছর পূর্বে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ৬৮ বছর বয়সে তা’য়েফে মত্যু বরণ করেন। তার জীবনীর জন্য দেখুন, “আসাদ আল-গাবা”)

সুয়ুতী যাহ্হাক ইবনে মুজাহিম হতে বর্ণনা করেন যে, মহানবী (সাঃ) বলেছেনঃ “আমরা সেই পরিবারের যাদেরকে আল্লাহ তা’য়ালা পূতঃপবিত্র ঘোষণা করেছেন, এবং নবুওয়াতের উৎস এবং কেন্দ্রবিন্দু হতে তিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আমাদের ঘর হলো সেই ঘর যেখানে সদাসর্বদা ফেরেশতাদের আগমন ঘটতো; এই ঘর রহমতের অবস্থানস্থল এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ঝর্ণাধারা”। (আবুল কাসিম বা আবু মুহাম্মদ জাহ্হাক ইবনে মুজাহিম হিলালী। ইবনে হাজার বলেনঃ তিনি হাদীস বর্ণনায় সত্যবাদী ছিলেন এবং সঠিক উৎস হতে সংগ্রহ করে তিনি বহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। জাহ্হাককে পঞ্চম পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ১০০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। “তাহ্জীব আল-তাহ্জীব” গ্রন্থে তার জীবনীর বর্ণনা আছে)

তাবারী (তার তাফসীরে) এবং মুহিব-ই-তাবারী (জাখায়েরূ আল-উকবা) আবু সাঈদ খুদরী হতে উদ্ধৃতি দিয়েছেন যে, মহানবী (সাঃ) বলেছেনঃ “এই আয়াতটি নাজিল হয়েছে পাচঁ ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে,যারা হলো: আমি নিজে, আলী, ফাতেমা, হাসান এবং হুসাইন”। মুশকিল আল-আসার” নামক গ্রন্থে উম্মে সালামা হতে এই বিষয়ে উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে,তিনি বলেছেনঃ “এই আয়াত নাজিল হয়েছিল মহানবী, আলী, ফাতেমা, হাসান এবং হুসাইন (তাদের সকলের উপর শান্তি এবং রহমত বর্ষিত হোক) -কে উদ্দেশ্য করে”।

পূর্ববর্তী হাদীসসমূহে মহানবী (সাঃ) কিভাবে এই আয়াতের ব্যাখ্যা এবং বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন এবং কিভাবে তার বক্তব্য ও আচরণ –দ্বারা এই বিষয়ের উপর আলোকপাত তা স্পষ্টায়ন করা হয়েছে।

সহীহ্ মুসলিমের বর্ণনানুসারে, মহানবী (সাঃ) -এর এক প্রখ্যাত সাহাবী জায়েদ ইবনে আরকামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, মহানবী (সাঃ) -এর পরিবারের সদস্য বলতে কাদেরকে বোঝানো হয়েছে এবং তার স্ত্রীগণও তাদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত কিনা। তিনি জবাবে বললেন। “স্ত্রীগণ পরিবারের অন্তর্ভূক্ত নয়। আল্লাহর কসম! একজন মহিলা তার স্বামীর সাথে কিছু সময় বসবাস করে, অতঃপর তালাক প্রাপ্তা হলে তার পিতা ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের কাছে ফিরে যায়। মহানবী (সাঃ) -এর পরিবারের সদস্য হলেন তারা যাদের সাথে তার পারিবারিক বন্ধন (রক্ত সম্পর্ক) আছে এবং যাদের জন্য সাদকা গ্রহণ নিষিদ্ধ। ” (যায়েদ বিন আরকাম আনসারী খাজরাজী, যাকে তার স্বল্প বয়সের কারণে রাসূল (সাঃ) ওহুদ যুদ্ধে অংশ গ্রহণে অনুমতি দেন নাই, কিন্তু অন্যান্য যুদ্ধে তাকে সাথে নিয়েছেন। তিনি সিফফীনের যুদ্ধে ইমাম আলী (আঃ) – এর পক্ষে অংশগ্রহণ করেন এবং ইমাম হোসাইন (আঃ) -এর শাহাদাতের পর কুফায় ইন্তেকাল করেন। “আসাদ আল-গাবা”-তে তার জীবনী উল্লেখ আছে (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা, ১৯৯)

“মাজমউল-জাওয়ায়েদ” গ্রন্থে হাশেমী বর্ণনা করেছেন যে, আবু সাঈদ খুদরী বলেছেনঃ “মহানবী (সাঃ) -এর পরিবারের সদস্য হলেন তারা যাদেরকে সর্বশক্তিমান আল্লাহ সকল ধরণের পংকিলতা এবং অপবিত্রতা হতে পবিত্র করেছেন এবং তাদেরকে পূতঃপবিত্র ঘাষণা করেছেন”। তারপর আবু সাঈদ খুদরী আঙ্গুল –দ্বারা তাদেরকে গণনা করলেন এবং বললেনঃ তারা হলেন পাচজন, মহানবী, আলী,ফাতেমা, হাসান এবং হুসাইন (তাদের সকলের উপর শান্তি এবং রহমত বর্ষিত হোক)”।

তাবারী তার তাফসীরে বর্ণনা করেন, তাতহীর-এর পবিত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় কাতাদা বলেনঃ৪৫ মহানবী (সাঃ) -এর পরিবারের লোক হলো তারা যাদেরকে মহান আল্লাহ তা’য়ালা সকল পাপ হতে পবিত্র করেছেন এবং যাদের উপর বিশেষ রহমত অবতির্ণ করেছেন। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি আরও বলেন, “ইহাই ইহা এবং অন্য কিছু নয়, আল্লাহর আকাঙ্ক্ষা হলো সকল ধরণের খারাবী এবং গর্হিত বিষয় হতে মহানবী (সাঃ) -এর পরিবারের সদস্যবর্গ(আহলে বাইত)-কে মুক্ত রাখা এবং তাদেরকে সকল ধরণের পাপ-পংকিলতা হতে পবিত্র রাখা”। (চার জন ব্যক্তির নাম “কোতাদা” হিসেবে উল্লেখ আছে, যথাঃ সাদ্দুসী, রিওয়াভী, কায়সী এবং আনসারী। তারা প্রত্যেকেই বিশ্বস্থ। তাদের মধ্যে কোনজনের সূত্রে ইহা বর্ণিত হয়েছে তা জানা যায় নি। তাদের জীবন বৃত্তান্তের জন্য দেখুন “তাহ্জীব আল-তাহ্জীব”)

এই আয়াত নাজিল হওয়ার পর রাসূল (সাঃ) কী করেছিলেন?

“মাজমাউল জাওয়াদ” গ্রন্থে উল্লেখ আছে আবু বাজরা বলেছেনঃ “আমি মহানবী (সাঃ) -এর সাথে সাতমাস ধরে নামায আদায় করছিলাম। তিনি যখন তার ঘর হতে বের হতেন, তিনি হযরত ফাতেমা যাহরা(আলাইহা)-এর ঘরে যেতেন এবং বলতেনঃ “তোমদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! হে নবী পরিবারের লোকেরা! আল্লাহ তো কেবল চাহেন তোমাদিগ হতে অপবিত্রতা দুর করতে এবং তোমাদিগকে সম্পূর্ণ রূপে পবিত্র করতে। ” (আবু বাজরা আসলামী মহানবী (সাঃ) -এর একজন সাহাবী ছিলেন। তিনি ৬০ বা ৬৪ বছর বয়সে কুফায় শেষ নিঃশাস ত্যাগ করেন। “আসাদ আল-গাবা”-য় তার জীবন বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ আছে)

সুয়ূতী তার তাফসীরে ইবনে আব্বাস হতে উল্লেখ করেছেনঃ আমি নয় মাস ধরে লক্ষ্য করেছি যে, প্রতিদিন নামাযের সময় হলে মহানবী (সাঃ) আলী (আঃ) -এর দরজার কাছে যেতেন এবং বলতেনঃ “তোমদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! হে নবীপরিবারের লোকেরা! আল্লাহ তো কেবল চাহেন তোমাদিগ হতে অপবিত্রতা দুর করতে এবং তোমাদিগকে সম্পূর্ণ রূপে পবিত্র করতে। এবং প্রতিদিন পাচবার তিনি ইহা পূনরাবৃত্তি করতেন। ”

সহীহ্ তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ, মুসনাদে তায়লাসি, “মুসতাদরাকে সহীহাইন” “আসাদ আল গাবা” এবং তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে ইবনে কাসির, সুয়ূতীর তাফসীর-এর উদ্ধৃতি মতে, আনাস ইবনে মালিক বলেছেন: (আনাস ইবনে মালিক খাজরাজি। তিনি মহানবী (সাঃ) -এর খেদমতে ১০ বছর অতিক্রান্ত করেছেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি ৯০ বছর বয়সে বসরায় ইন্তেকাল করেন। তাদের জীবন বৃত্তান্তের জন্য দেখুন “আসাদ আল-গাবা”)

যে, ছয় মাস সময় ধরে মহানবী (সাঃ) হযরত ফাতেমা যাহরা (আঃ) -এর দরজার পাশ দিয়ে যেতেন এবং বলতেনঃ “হে নবী পরিবারের লোকেরা, এখন নামাযের সময়। ” তিনি আরও বলতেনঃ “হে আহলুল বাইত! আল্লাহ তো কেবল চাহেন তোমাদিগ হতে অপবিত্রতা দুর করতেএবং তোমাদিগকে সম্পূর্ণ রূপে পবিত্র করতে। ”

“ইসতিয়াব” “আসাদ আল্ গাবা” “মাজমউ জাওয়াদ” “মুশকিল আল-আসার” এবং তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে ইবনে কাসির এবং সুয়ূতীর তাফসীর-এর উদ্ধৃতি মতে, আবু হামারা বলেছেনঃ “আমি মদীনায় থাকাকালে আট মাস সময়কাল ধরে দেখেছি যে ফজরের নামায আদায়ের জন্য যখন মহানবী (সাঃ) বের হতেন তিনি আলী (আঃ) -এর ঘরের কাছে যেতেন এবং দরজার দু’ই পাশে তার হাতগুলো স্থাপন করে বলতেনঃ “সালাত! সালাত! হে নবী পরিবারের লোকেরা! আল্লাহ তো কেবল চাহেন তোমাদিগ হতে অপবিত্রতা দুর করতে এবং তোমাদিগকে সম্পূর্ণ রূপে পবিত্র করতে। ”

উপরোক্ত হাদীসগুলোতে এই সময়কাল উল্লেখিত হয়েছে একটিতে ছয় মাস, অন্যটিতে সাত মাস,তৃতীয়টিতে আট মাস এবং চতুর্থটিতে নয় মাস।

“মাজমাউল জাওয়াদ” ও সুয়ূতী তাফসীর গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরীর সূত্রে শব্দাবলীর ভিন্নতা সহযোগে উদ্ধৃত হয়েছে যে, মহানবী (সাঃ) ফজরের ওয়াক্তে ৪০ দিন হযরত ফাতেমা (সাঃ আঃ)-এর ঘরের নিকটে গিয়েছিলেন এবং বলতেনঃ “তোমদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক হে নবী পরিবারের লোকেরা! নামাজের সময় সমাগত/আসন্ন। ” তৎপর তিনি এই আয়াত তেলাওয়াত করতেনঃ “হে নবী পরিবারের লোকেরা! আল্লাহ তো কেবল চাহেন তোমাদিগ হতে অপবিত্রতা দুর করতে এবং তোমাদিগকে সম্পূর্ণ রূপে পবিত্র করতে”। তারপর তিনি বলতেনঃ আমি তার সাথে যুদ্ধ করি যারা তোমদের সাথে যুদ্ধ করে এবং তার জন্য শান্তি কামনা করি যারা তোমদের জন্য শান্তি কামনা করে। ”

এই পবিত্র আয়াত –দ্বারা সদস্য ঘণের শ্রেষ্ঠত্ব পমাণ করতেন

(ক) ইমাম হাসান (আঃ) :

হাকিম তার মুসতাদরাকে ইমাম হাসান (আঃ) -এর সাফল্য প্রসঙ্গে এবং হাশেমী আহলে বাইত (আঃ) -এর মর্যাদা প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন যে, ইমাম হাসান (আঃ) তার পিতা ইমাম আলী (আঃ) -এর শাহাদাতের পর জনগণ্যর উদ্দেশ্যে প্রদত্ত এক ভাষণে বলেন : হে জনগণ! আপনারা যারা আমাকে চিনেন তারা চিনেন, আর যারা না-চিনেন তাদের জানা উচিৎ যে আমি হচ্ছি হাসান ইবনে আলী। আমি মহানবী (সাঃ) এবং তার উত্তরাধিকারীর (ওসির) সন্তান। আমি তার সন্তান যিনি মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করেছিলেন এবং তাদেরকে দোযখের শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। আমি হচ্ছি প্রোজ্জ্বল আলোকবর্তিকার সন্তান। আমি ঐ পরিবারের অধিভুক্ত যাদের কাছে জীব্রাঈল আগমন করতো এবং সেখান হতে বেহেশতে প্রত্যাবর্তন করতো। আমি ঐ পরিবারের অধিভূক্ত যাদের হতে আল্লাহ তা’য়ালা সকল অপবিত্রতা দুর করেছেন এবং যাদেরকে সম্পূর্ণ রূপে পূতঃপবিত্র করেছেন। ”

মাজমাউল জাওয়াদ এবং তাফসীরে ইবনে কাসিরে বর্ণিত হয়েছে যে, পিতার শাহাদাতের পর ইমাম হাসান (আঃ) খেলাফতে আসীন হন। অতঃপর একদিন নামাযরত অবস্থায় একব্যক্তি তাকে আক্রমণ করে এবং তার উরুতে তরবারি –দ্বারা আঘাত করে। ফলে তিনি ক’য়েক মাস যাবৎ শয্যাশায়ী থাকেন। তারপর তিনি সুস্থ হয়ে একটি খুতবা প্রদান করেন। তিনি বলেনঃ হে ইরাকের জনগণ! আল্লাহকে ভয় কর। আমরা তোমদের আমীর এবং তোমাদের মেহমান এবং সেই পরিবারের অধিভূক্ত, সর্বশক্তিমান আল্লাহ যাদের সম্পর্কে বলেছেনঃ “হে নবী পরিবারের লোকেরা! আল্লাহ তো কেবল চাহেন তোমাদিগ হতে অপবিত্রতা দুর করতে এবং তোমাদিগকে সম্পূর্ণ রূপে পবিত্র করতে। ” ইমাম হাসান (আঃ) এই বিষয়ের উপর এত বেশী জোর দিয়েছিলেন যে, উপস্থিত সকলে ক্রন্দন করতে শুরু করেছিল। ” তিবরানীও এই হাদীস উদ্ধৃত করেছেন এবং বর্ণনাকারীদের সকলেই বিশ্বস্ত ।

(খ) উম্মুল মো’মেনীন হযরত উম্মে সালামাঃ

“মুশকিল আল-আসার” গ্রন্থে তাহাবী উমরা হামদানিয়া হতে উদ্ধৃত করেছেনঃ “আমি উম্মে সালামার নিকটে যেয়ে তাকে সালাম জানালাম। তিনি জানতে চাইলেনঃ আপনি কে?” আমি জবাব দিলামঃ আমি উমরা হামদানিয়া। ” উমরা বলেন,আমি বললাম, হে উম্মুল মো’মেনীন! যাকে আমাদের মধ্যে আজ হত্যা করা হয়েছে সে ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি কিছু বলুন। জনসাধারণের একদল তাকে পছন্দ করে এবং অন্যদল তার প্রতি শত্রু ভাবাপন্ন। (তিনি হযরত আলী (আঃ) -এর কথা বলছিলেন)। উম্মে সালামা বললেনঃ “তুমি কি তাকে পছন্দ কর, অথবা তার প্রতি বিদ্বেষপরায়ন। ” জবাবে বললাম, “আমি তাকে পছন্দও করি না তার প্রতি বিদ্বেষপরায়নতাও রাখি না’। ” এখানে বর্ণনাটি ত্রুটিপূর্ণ , এবং তারপর বর্ণনাটি এই রকম পাওয়া যায়ঃ “আল্লাহ আয়াত নাজিল করলেনঃ “হে নবী পরিবারের লোকেরা! আল্লাহ তো কেবল চাহেন তোমাদিগ হতে অপবিত্রতা দুর করতে এবং তোমাদিগকে সম্পূর্ণ রূপে পূতঃপবিত্র করতে।”

সে সময় সে কক্ষে জীব্রাঈল, মহানবী (সাঃ) আলী, ফাতেমা, হাসান এবং হুসাইন (আঃ) ব্যতীত আর কেউ ছিল না। আমি বললামঃ “হে আল্লাহর নবী! আমিও কি আহলে বাইতের লোকদের একজন? তিনি জবাব দিলেনঃ আল্লাহ তোমাকে পুরস্কৃত করবেন এবং তোমার প্রতিফল প্রদান করবেন ’। আমি আকাঙ্ক্ষা করতে ছিলাম তিনি বলুন ‘হ্যাঁ’ এবং দুনিয়ার অন্য যে কোন কিছুর তুলনায় এর মূল্য হতো অত্যন্ত অধিক। ”

(গ) সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাসঃ

সিনাই তার “খাসাইস”-এ আমির বিন সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস হতে উদ্ধৃত করেছেন। (আমির বিন সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস। “সহীহ” সংকলকগন প্রত্যেকেই তার হাদীস উদ্ধৃত করেছেন। ইবনে হাজার বলেন : তিনি তৃতীয় পুরুষের একজন বিশ্বস্ত /নির্ভর যোগ্য হাদীস বর্ণনাকারী”। তিনি ১০৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। (তাকরিব আল-তাহ্জিন” খণ্ড -১, পৃষ্ঠা – ৩৮৭)

তিনি বলেছেনঃ মুয়াবিয়া সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাসকে বললেনঃ আবু তোরাবকে গালি-গালাজ করা হতে তুমি বিরত থাক কন? সা’দ বললেনঃ “আমি মহানবী (সাঃ) -এর নিকট হতে তিনটি বিষয় শুনেছি,যার কারণে আমি আলী (আঃ) -এর প্রতি গালি-গালাজ করি না। যদি তার একটিও আমার থাকতো তবে আমি দুনিয়ার যে কোন কিছুর চেয়ে তার মূল্য বেশী দিতাম। আমি মহানবী (সাঃ) -এর নিকট হতে শুনেছি,

যখন আলী (আঃ) -কে মদীনায় তার প্রতিনিধি হিসেবে রেখে তিনি যুদ্ধে যাওয়ার জন্য অগসর হলেন, আলী (আঃ) বললেনঃ “আপনি কি আমাকে মদীনায় মহিলা এবং শিশুদের মধ্যে রেখে যাচ্ছেন ?” মহানবী (সাঃ) জবাব দিলেনঃ “তুমি কি তাতে সন্তুষ্ট নও? তোমার সাথে আমার সম্পর্ক/অবস্থান মুসার সাথে যেমন হারুনের সম্পর্ক ছিল (তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। তুমি আমার নিকট সেই মর্যাদার অধিকারী হারুন মুসার নিকট যে মর্যাদার অধিকারী ছিল। ” (তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)।

খায়বারের ভাগ্য নির্ধারনী দিনেও আমি মহানবী (সাঃ) -কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ “আমি আগামীকাল জিহাদের ঝাণ্ডা তার হাতে দিব যিনি আল্লাহ ও তার রাসূলকে ভালবাসেন এবং আল্লাহ ও তার রাসূলও তাকে ভাল বাসেন। ” এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে আমরা সকলেই এই অনুগ্রহ ও সকলের মধ্যে বিশেষ মর্যাদায় অভিষিক্ত হওয়ার জন্য গভীর আগ্রহ সহকারে অপেক্ষা করছিলাম, এবং ঝাণ্ডা আমাদের হাতে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করছিলাম। এই সময়ে রাসূল (সাঃ) বললেনঃ “আলীকে আমার কাছে আন। ” ইমাম আলী (আঃ) উপস্থিত হলেন, কিন্তু তিনি তখন চোখের পীড়ায় আক্রান্ত ছিলেন। মহানবী (সাঃ) তার মুখের থুথু আলী (আঃ) -এর চোখে লাগিয়ে দিলেন এবং ঝাণ্ডাটি তার হাতে দিলেন। অধিকন্ত যখন আয়াতে তাতহীর (হে নবী পরিবারের লোকেরা! আল্লাহ তো কেবল চাহেন তোমাদিগ হতে অপবিত্রতা দুর করতে এবং তোমাদিগকে সম্পূর্ণ রূপে পবিত্র করতে) নাজিল হয়েছিল তখন মহানবী (সাঃ) আলী, ফাতেমা, হাসান এবং হুসাইন (তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক) ডেকে তার নিকটে বসালেন এবং বললেনঃ “হে আল্লাহ ! এরাই আমার আহলে বাইত। ” ইবনে জারীর, ইবনে কাসির, হাকিম (তার মুসতাদরাক”-এ) এবং যাহাবী (তার মুশকিল আল-আসার-এ) সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস হতে উদ্ধৃত করেছেন যে, এই আয়াতটি নাজিলকালে মহানবী (সাঃ) আলী (আঃ) -কে তার দু’ই পুত্র এবং ফাতেমা (আঃ) সহ ডেকে নিলেন এবং তার নিজের চাদর –দ্বারা তাদের জড়িয়ে নিলেন এবং বললেন : “হে আল্লাহ ! এরাই আমার আহলে বাইত। ”

(ঘ) ইবনে আব্বাস

“তারিখে তাবারী” এবং “তারিখে ইবনে আসির”-এ বর্ণিত হয়েছে যে, ইবনে আব্বাসের সাথে এক আলোচনাকালে হযরত উমর বললেনঃ “ঠিক তোমদের! হে বনি হাশিম ! ঈর্ষা, প্রবঞ্চনা-প্রতারনা এবং ঘৃণা ব্যতীত তোমদের অন্তরে আর কিছুই নেই, যা তোমাদের হৃদয় হতে দুর হচ্ছে না এবং তা নিঃশেষও করা হচ্ছে না। ” ইবনে আব্বাস জবাবে বললেনঃ শান্ত হোন হে আমিরুল মো’মেনীন! ঈর্ষার দোষ ঐ সকল অন্তরের উপর আরোপ করবেন না যাদের হতে আল্লাহ তা’য়ালা সকল অপবিত্রতা দুর করে দিয়েছেন এবং তাদেরকে পূতঃপবিত্র করেছেন,কারন মহানবী (সাঃ) -এর অন্তরও বনী হাশেমীদের অন্তরগুলোর অন্যতম। ”

(২) হাম্বলী মাযহাবের ইমাম আহমাদ্ (তার “মুসনাদে”) নেসাঈ (তার “খাসাইস”-এ) মুহিব্বে তিবরী (তার “রিয়াজ আল-নুজরা”) ও হাশেমী (তার “মাজমাউল জাওয়াদে”) আমর বিন মায়মুন হতে বর্ণনা করেছেনঃ (আমর বিন মায়মুন একজন নির্ভরযোগ্য তাবেয়ীন হিসেবে গণ্য । সিহাহ্ সিত্তায় তার হাদীস অন্তর্ভূক্ত আছে। ৭৪ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। “তাকরীব আল-তাহজীব” খণ্ড ২, প্ দ্দা-৮০)

তিনি বলেছেনঃ “আমি ইবনে আব্বাসের সাথে ছিলাম যখন নয় জন ব্যক্তি তার কাছে আসল এবং বললঃ হে আব্বাসের পুত্র! হয় আমাদের সাথে আস অথবা গাপনীয়তার সুযোগ দাও। ” তিনি বললেনঃ “আমি তোমদের সাথে যাব। ” বর্ণনাকারী বলেনঃ “সেই সময়ে ইবনে আব্বাসের চোখ ভাল ছিল এবং তিনি দেখতে পেতেন। ” বর্ণনাকারী বলেনঃ “তাদের পারস্পরিক আলোচনা হলো এবং তারা কি বিষয়ে আলোচনা করলেন সে সম্পর্কে আমি অ-জানা থাকলাম। ” কিছু সময় পরে ইবনে আব্বাস আমাদের কাছে ফিরে আসলেন। তিনি তখন তার জামা ধরে ঝাকাচ্ছিলেনএবং বলতে ছিলেনঃ (সেই সময় কাপড় ঝাকানোকে বিরক্তির চিহ্ন হিসেবে গণ্য করা হতো। সেই ৯ (নয়) ব্যক্তি ইমাম আলী (আঃ) সম্পর্কে অশোভন ভাষা ব্যবহার করার ঘটনায় ইবনে আব্বাস এরূপ উক্তি করেছিলেন)

‘তাদের ধিক্কার জানাই! তারা কিনা সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলে যিনি দশটি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। তার পরের বর্ণনায় ইবনে আব্বাস ইমাম আলী (আঃ) -এর গুণ- বৈশিষ্ট্যসমূহ বিশদ উল্লেখ করতে থাকেন যে পর্যন্ত না তিনি বলেনঃ ‘মহানবী (সাঃ) তার নিজের চাদর –দ্বারা আলী,ফাতেমা, হাসান এবং হুসাইন (তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)-কে জড়িয়ে নিলেন এবং বললেনঃ “হে নবী পরিবারের লোকেরা! আল্লাহ তো কেবল চাহেন তোমাদিগ হতে অপবিত্রতা দুর করতে এবং তোমাদিগকে সম্পূর্ণ রূপে পূতঃপবিত্র করতে। ”

(ঙ) ওয়াসিলাত ইবনে আসকা’আঃ

তাবারী এ আয়াতের তাফসীরে, ইবনে হাম্বল তার “মুসনাদ”-এ,হাকাম তার “মুসতাদরাক”-এ,বায়হাকী তার “সুনান”-এ, তাহাবী তার “মুশকিল আল-আসার”-এ এবং হাশেমী তার মাজমাউল জাওয়াদ”-এ আবু আম্মার-এর সূত্রে উদ্ধৃত করেন তিনি বলেছেনঃ “যখন আলী (আঃ) সম্পর্কে আলোচনা চলছিল এবং লোকেরা তার কুৎসা করছিল তখন আমি ওয়াসিলাত ইবনে আসকা’আ-এর সাথে বসে ছিলাম। যখন তারা যাওয়ার জন্য উঠে দাড়াল তিনি আমাকে বললেনঃ “বসে থাকুন যাতে আমি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু বলতে পারি যার সম্পর্কে তারা কুৎসা করতেছিল। আমি রাসূল (সাঃ) -এর সাথে ছিলাম যখন আলী (আঃ) , ফাতেমা (আঃ) ,হাসান (আঃ) এবং হুসাইন (আঃ) তার নিকট পৌছেছিল এবং রাসূল (সাঃ) তাদের উপর চাদর বিছিয়ে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেনঃ “হে আল্লাহ ! এরাই আমার আহলে বাইত। তাদের থেকে অপবিত্রতা দুর কর এবং তাদেরকে পূতঃপবিত্র করে দাও। ” (আবু আম্মার শিদ্দাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কারশি দামেস্কের অধিবাসী। তিনি চতুর্থ যুগের নির্ভরযোগ্য হাদীস বর্ণনাকারী। সিহাহ সিত্তাহ-এর মধ্যে তার হাদীস সহজলভ্য । “তাকরীব আল-তাহ্জীব” খণ্ড ১, পৃষ্ঠা-৩৪৭)

শিদ্দাদ ইবনে অব্দুল্লাহ -এর সূত্রে “আসাদ আল-গাবায়” উদ্ধৃত করা হয়েছে, তিনি বলেছেনঃ আমি ওয়াসিলাত ইবনে আসকা’আ হতে শুনেছি যে, ইমাম হুসাইন (আঃ) -এর মস্তক যখন আনা হল একজন ইমাম হুসাইন (আঃ) এবং তার পিতার কুৎসা করতেছিল। ওয়াসিলাত দাড়িয়ে গল এবং বললঃ “আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি যে, আমি যখন হতে মহানবী (সাঃ) -কে তাদের সম্পর্কে বলতে শুনেছিঃ হে নবী পরিবারের লোকেরা! আল্লাহ তো কেবল চাহেন তোমাদিগ হতে অপবিত্রতা দুর করতেএবং তোমাদিগকে সম্পূর্ণ রূপে পূতঃপবিত্র করতে। ” আমি সর্বদা আলী, ফাতেমা, হাসান এবং হুসাইন(তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)-কে ভালবেসেছি। ”

উম্মে সালামা বর্ণিত আরেকটি হাদীসঃ

আহমদ তার “মুসনাদ”-এ , তাবারী তার তাফসীরে এবং তাহাবী তার মুশকিল আল-আসার-এ, আসার”-এ শাহর ইবনে হৌসব-এর সূত্রে উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেছেনঃ যখন ইমাম হুসাইন (আঃ) -এর শাহাদাতের খবর (মদীনায়) পৌছালো আমি রাসূল (সাঃ) -এর স্ত্রী উম্মে সালামাকে বলতে শুনলাম, তিনি বলেছেনঃ “তারা হুসাইন (আঃ) কে হত্যা করেছে ! আমি নিজে দেখেছি যে মহানবী (সাঃ) তার খায়বারের চাদর তাদের উপর বিছিয়ে দিলেনএবং বললেনঃ হে আল্লাহ ! এরাই আমার আহলে বাইত! তাদের থেকে অপবিত্রতা দুর কর এবং তাদেরকে পূতঃপবিত্র করে দাও!। ”

(চ) আলী ইবনে হুসাইন (আঃ) :

তাবারী, ইবনে কাসির এবং সুয়ূতী তাদের তাফসীর গ্রন্থে এই আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করেন যে, আলী ইবনে হুসাইন (আঃ) একজন সিরিয়াবাসীকে বললেনঃ “তুমি কি সূরা আহযাবের এই আয়াতটি পড়েছ, হে নবী পরিবারের লোকেরা! আল্লাহ তো কেবল চাহেন তোমাদিগ হতে অপবিত্রতা দুর করতে এবং তোমাদিগকে সম্পূর্ণ রূপে পূতঃপবিত্র করতে। ”

সিরিয়াবাসী লোকটি বললঃ “এই আয়াত আপনার সাথে কি সম্পর্কযুক্ত ?” ইমাম জবাব দিলেন : ‘হ্যাঁ,ইহা আমাদের সাথে সম্পর্কযুক্ত’।

খাওরাজমি তার “মাকতাল” নামক গ্রন্থে এই বর্ণনা নিম্নরূপে উদ্ধৃত করেছেনঃ

“মহানবী (সাঃ) -এর প্রপৌত্র ইমাম হুসাইন (আঃ) -এর শাহাদাতের পর যখন ইমাম সাজ্জাদ (আঃ) ও মহানবী (সাঃ) -এর পরিবারভুক্ত অন্য বন্দীদেরকে দামেস্কে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দামেস্কের জামে মসজিদের পাশে জেলখানায় তাদেরকে রাখা হয়, একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি তাদের কাছে এগিয়ে আসে এবং জিজ্ঞাসা করেঃ “সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি তোমাদেরকে হত্যা করেছেন এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস করেছেন, লোকদেরকে তোমদের হাত হতে রক্ষা করেছেন ও আমিরুল মু’মেনীন ইয়াজিদকে তোমদের উপর কর্তৃত্ব অর্পণ করেছেন’। আলী ইবনে হুসাইন (আঃ) জিজ্ঞাস করলেনঃ “হে বুদ্ধ লোক! আপনি কী কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করেন?” লোকটি জবাব দিলেনঃ হ্যাঁ। অতঃপর ইমাম (আঃ) জিজ্ঞাস করলেনঃ এই আয়াতটি কী তেলাওয়াত করেছেনঃ “আমি আমার নবুওয়াতী কাজের বিনিময়ে তোমদের কাছে আর কিছুই চাইনা, একমাত্র আমার নিকটাত্মীয়ের প্রতি ভালবাসা ছাড়া। ”

বৃদ্ধ লোকটি বললঃ “আমি ইহা তলাওয়াত করেছি। ” ইমাম (আঃ) বললেনঃ এই আয়াতটি কী পড়েছেনঃ “সুতরাং নিকটাত্মীয়কে দিবে তাদের প্রাপ্য অধিকার, এবং অভাবগ্রস্থ ও মুসাফিরকেও (সূরাঃ বনী ইসরাঈল : ২৬)। ইহাই তাহাদের জন্য উত্তম যারা আল্লাহর অনুগ্রহ চায় এবং তাহারাই সফলকাম” এবং কারআনের এই আয়াত, “লোকে তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে; বল, যুদ্ধ লব্ধ সম্পদ আল্লাহ এবং রাসূলের; সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের মধ্যে সদ্ভাব স্থাপন কর, এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য কর, যদি তোমরা মো’মেন হও। (সূরাঃ আনফাল্ : ১)। বৃদ্ধ লোকটি জবাব দিলঃ হ্যাঁ, আমি এই আয়াতসমূহ পড়েছি। ” ইমাম (আঃ) বললেনঃ “আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি যে, নিকটাত্মীয় শব্দ –দ্বারা আমাদেরকে বুঝানো হয়েছে এবং এই আয়াতসমূহ আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে অবতির্ণ (নাজিল) হয়েছে। (ইমাম (আঃ) আরও বললেন : ) কোরআন শরীফের এই আয়াতটি কী তেলাওয়াত করেছেন যেখানে আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেনঃ “হে নবী পরিবারের লোকেরা! আল্লাহ তো কেবল চাহেন তোমাদিগ হতে অপবিত্রতা দুর করতেএবং তোমাদিগকে সম্পূর্ণ রূপে পূতঃপবিত্র করতে।”

বৃদ্ধ লোকটি বললঃ “হ্যাঁ, আমি ইহা তেলাওয়াত করেছি। ” ইমাম (আঃ) বললেনঃ “নবী পরিবারের লোকেরা বলতে কী বুঝানো হয়েছে! আমরা হচ্ছি তারা যাদেরকে আল্লাহ তা’য়ালা বিশেষভাবে আয়াতে তাতহীর” এর সাথে সংযুক্ত করেছেন।

বৃদ্ধ লোকটি বললঃ “সর্বশক্তিমান আল্লাহর শপথ! আপনারা কী একই পরিবারভূক্ত?” ইমাম (আঃ) জবাব দিলেনঃ আমি আমার নানা রাসূলুল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, আমরা একই লোক। ”

বৃদ্ধ লোকটি হতবাক হয়ে গল এবং তার বক্তব্যে ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করল। তারপর তার মাথা আকাশের দিকে উত্তোলন করে বললঃ “হে আল্লাহ! আমি যা বলেছি তার জন্য ক্ষমা চাই এবং এই পরিবারের বিরুদ্ধে শত্রুতা আমি পরিত্যাগ করলাম এবং মুহাম্মদ (সাঃ) -এর পরিবারের শত্রুদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করছি। ” (এই বিষয়ে আরও হাদীস বর্ণিত হয়েছে কিন্তু সেগুলো উদ্ধৃত করা হতে আমরা বিরত থাকলাম। উদাহরণস্বরূপ “আসাদ আল-গাবা” (খণ্ড -৩, পৃষ্ঠা-৪১৩) “আবাসা” (খণ্ড – ২, পৃষ্ঠা- ৪৭৯) এবং “তারিখে-বাগদাদ” (খণ্ড – ১০, পৃষ্ঠা- ২৭৮) – এ “আতিয়া’-র জীবন বৃত্তান্ত সম্পর্কে বর্ণনা, এবং তাফসীরে তাবারী” (খণ্ড – ২২, পৃষ্ঠা -৫), “মুসনাদ আহমাদ” (খণ্ড – ৬, পৃষ্ঠা – ৩০৪), “আসাদ আল-গাবা” (খণ্ড – ২, পৃষ্ঠা – ১২ এবং (খণ্ড – ৪, পৃষ্ঠা – ২৯), “মাজমাউল জাওয়াদ” (খণ্ড – ৯, পৃষ্ঠা – ২০৬ -২০৭) এবং জাখায়েরূল উকবা” (পৃষ্ঠা- ২১) – এ হাকিম বিন সাঈদ এর বর্ণনা রয়েছে)

তথ্যসূত্র: হাদিসের ইতিহাস অনুসন্ধান

মুলঃ আল্লামা সাইয়েদ মুরতাজা আসকারী

অনুবাদঃ মুহাম্মদ মতিউর রহমান